সত্য বলা, চলা ও প্রচারই হোক বিসর্গের ভাষা...

আলিম হিসেবে স্বীকৃতি পাবার জন্য

আলিম হিসেবে স্বীকৃতি পাবার জন্য শর্ত:

আরবী আলিম শব্দটির অর্থ জ্ঞানী। এ অর্থে যিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে জ্ঞান অর্জন করেন তাকে عالم في الطب   বা علماء الطب                             যিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে জ্ঞান অর্জন করেন তাকে عالم فلكي বলা হয়। ইত্যাদি ইত্যাদি। 

কিন্তু বাংলাদেশে আলিম শব্দটি এক ভিন্ন অভিধায়, ভিন্ন অর্থ প্রয়োগে ব্যবহৃত হয়। মনে করা হয়, যার কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান আছে কিংবা যিনি দ্বীনি মাদরাসা থেকে টাইটেল নিয়েছেন কেবলমাত্র তিনিই আলিম। কিম্বা তিনি অবশ্যই আলিম।  

সে যাই হোক, আমি বলছিনা, এটি দোষের। দোষের হচ্ছে তখন, যখন

إن العلماء ورثۃ الانبياء  

'আলিমগন নাবীদের উত্তরাধিকারী' - - হাদিসটি আউড়িয়ে আলিম পদবাচ্যে ভূষিত হবার যোগ্য নন, এমন ব্যক্তিকেও আলিম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।  

বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র সামনে রেখে উল্লেখিত এ হাদীস + আলিম শব্দ টি নিয়ে পর্যালোচনা করলে স্বত ই প্রশ্ন জাগে: 

আপনার রেটিং: None

শিখার আছে অনেক কিছু

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবী যায়িদ ইবনুল হারিছার (রাঃ) জীবনের একটি ঘটনা।  যায়িদ (রাঃ) আট বছর বয়সে ছিনতাই হয়ে যান। তাকে বিক্রি করে দেয়া হয় ওকাজের মেলায়। মেলা থেকে হাকিম ইবনু হিযাম ইবনু খুয়াইলিদ তাকে কিনে নিয়ে উম্মুল মু”মীনিন খাদিজা (রাঃ) কে উপহার দেন। খাদিজা (রাঃ) অতঃপর এ বালককে ক্রীতদাসরুপে উপহার স্বরুপ প্রদান করেন রাসুলের (সাঃ) নিকট। 

আল্লাহর রাসুলের সা. ঘরে এ বালক বড় হতে লাগলেন।

ওদিকে যায়িদের পিতা, মাতা পুত্রশোকে ছিলেন অস্থির। অনেক খোজাখুজির পর তারা খবর পেলেন যে তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তান মাক্কায় রাসুলুল্লাহর (সাঃ) বাড়িতে।

যায়িদ তখন কৈশোরে পদার্পন করেছেন। যায়িদের পিতা ও চাচা মুক্তিপণ নিয়ে রাসুলের ঘরে এসে হাজির হলেন।

বললেনঃ ওহে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! আপনারা আল্লাহর ঘরের প্রতিবেশী, অসহায়ের সাহায্যকারী, ক্ষুধার্তকে অন্নদানকারী ও আশ্রয় প্রার্থীকে আশ্রয় দানকারী। আপনার কাছে আমাদের যে ছেলেটি রয়েছে তার ব্যপারে আমরা এসেছি। আমাদের প্রতি অনুগ্রত করুন এবং ইচ্ছামত তার মুক্তিপণ নির্ধারন করুন।

আপনার রেটিং: None

এতো কিছু দেখার পরও..

أَفَرَأَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ

أَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ

"তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো, যে বীজ তোমরা বপন করে থাকো, তা থেকে ফসল উৎপন্ন তোমরা করো, না আমি? 

(সুরা আল ওয়াক্কিয়া, আয়াত ৬৩-৬৪)

টীকা: উপরে উল্লেখিত প্রশ্ন এ সত্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল যে, তোমরা তো আল্লাহ তা'আলার গড়া। তিনি সৃষ্টি করেছেন বলে তোমরা অস্তিস্ত লাভ করছো। এখন এই দ্বিতীয় প্রশ্নটি, দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ সত্যের প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে তা হচ্ছে, যে রিযিকে তোমরা প্রতিপালিত হচ্ছো তাও আল্লাহই সৃষ্টি করে থাকেন। তোমাদের সৃষ্টির ক্ষেত্রে মানুষের কর্তৃত্ব ও প্রচেষ্টা এর অধিক আর কিছুই নয় যে, তোমাদের পিতা তোমাদের মায়ের দেহাভ্যন্তরে এক ফোঁটা শুক্র নিক্ষেপ করে।

আপনার রেটিং: None

ইহা কি কম বিস্ময়কর?

আল্লাহ বলেন: "তোমাদের প্রথমবারের সৃষ্টি সম্মপর্কে তোমরা জান । তবুও কেনো তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর না" (সুরা আল ওয়াক্কিয়া ৬২)

টীকা:

অর্থাৎ কিভাবে তোমাদেরকে প্রথম সৃষ্টি করা হয়েছিল তা তোমরা অবশ্যই জান । কিভাবে একটি অতি ক্ষুদ্র অণু সদৃশ্য কোষের প্রবৃদ্ধি ও বিকাশ সাধন করে এ মন মগজ, এ চোখ কান এবং হাত পা সৃষ্টি করা হয়েছে। কিভাবে, বুদ্ধি ও অনুভুতি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, শিল্পজ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তি, ব্যবস্থাপনা ও অধীনস্ত করে দেয়ার মতো যোগ্যতাসমুহ দান করা হয়েছে তা-ও তোমরা দেখছো। এটা কি মৃতদেরকে জীবিত করে উঠানোর চেয়ে কম বিস্ময়কর? 

তারপরও তোমরা এ থেকে কেনো এ শিক্ষা গ্রহণ করছো না যে, আল্লাহর যে অসীম শক্তিতে দিনরাত এসব মু'জিযা সংঘটিত হচ্ছে তার সে ক্ষমতায়ই মৃত্যুর পরের জীবন, হাশর এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মতো মুজিযাও সংঘটিত হতে পারে?

- আল কুরআনের পয়গাম।    

আপনার রেটিং: None

প্রত্যেকেই তার পরবর্তী জনের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন

শত বিকৃতির পরও কুরআনের পুর্বে আগত প্রতিটি আসমানী কিতাবে এ তথ্যের সন্ধান মিলে যে, প্রতিটি নাবীই তার পরবর্তী নাবীর সুসংবাদ প্রদান করেছেন। একমাত্র মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সা্ল্লাম ছাড়া।

(মুহাম্মাদ সা: থেকে এধরণের কোনো অংগীকার নেয়া হয়েছে এমন কোন কথা কুরআনে বা হাদিসে কোথাও উল্লেখিত হয়নি।অথবা তিনি তার উম্মাতকে পরবর্তীকালে আগমনকারী কোনো নাবীর খবর দিয়ে গেছেন এমন কোন দলিল কোথাও নেই)।

এ সত্যের পুনরুল্লেখ রয়েছে কুরআনেও:

আপনার রেটিং: None

পথ প্রদর্শন না করে...

মানুষের প্রতি আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহের আরও একটি হচ্ছে এই যে, তিনি প্রতি যুগেই, যখনই মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছে - তাদের জন্যে রাসুল পাঠিয়েছেন। এজন্য যে, মানুষ জাতির সামনে যেন আল্লাহর পথ দীবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে উঠে এবং বিচার দিবসে কুফর ও বাতিলকে অনুসরণের শাস্তি থেকে বাচার পথ আকড়ে থাকার কোন ওজর আর অবশিষ্ট না থাকে।  

প্রতিটি কাওমের জন্য রয়েছে পথ প্রদর্শক (সুরা আর-রাদ ৭)

রাসুল না পাঠিয়ে আমি কাউকে শাস্তি দেইনা (সুরা আল ইসরা ১৫)

আল্লাহর এইসব রাসুলগন প্রেরিত হতেন তাদের নিজ নিজ কাওমের প্রতি। বিধানও পাঠান হতো সে সকল কাওমের প্রয়োজন, ধারন ও কাল অনুযায়ী। কিন্তু খাতাম্মুন নাবীয়্যিন (আল আহযাব ৪০) মুহাম্মাদ (সঃ) কে কোন নির্দিষ্ট কাওম বা কালের জন্য প্রেরিত করা হয়নি। তিনি প্রেরিত হয়েছেন গোটা বিশ্বের জন্য এবং চুড়ান্ত ভাবে একমাত্র আদর্শ হিসাবে (সুরা সাবা ২৮)।

আপনার রেটিং: None

গুরুত্বপূর্ণ আয়াত

আল্লাহ বলেন: "যদি আল্লাহ চাইতেন তাহলে এ রাসুলদের পর যারা উজ্জ্বল নিশানীসমুহ দেখেছিল তারা কখনো পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হতো না। কিন্তু (মানুষকে শক্তি প্রয়োগে মতবিরোধ থেকে বিরত রাখা আল্লাহর নীতি নয়, তাই) তারা পরস্পর মতবিরোধ করলো, তারপর তাদের মধ্য থেকে কেউ ঈমান আনল এবং কেউ কুফরীর পথ অবলম্বন করল। হাঁ, আল্লাহ চাইলে তারা কখনো যুদ্ধ লিপ্ত হতোনা, কিন্তু আল্লাহ যা চান তাই করেন" (সুরা আল বাকারা ২৫৩) 

আপনার রেটিং: None

বজ্রপাত ও এর চিকিৎসা

বাংলাদেশে প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের প্রকোপ থাকে বেশি। চলতি সপ্তাহে শুরু থেকে বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু ৬ই জুন ২০২১, রোববারই বজ্রপাতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কোনো ব্যক্তির ওপরে বজ্রপাত হলে তার শরীরের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ বয়ে যায়। ফলে হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায়।

রাস্তায় যেসব বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লাইন থাকে সেগুলো হচ্ছে হাই-ভোল্টেজ তার, যেগুলো এক হাজার ভোল্টেজ কিংবা তার চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে।

ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, বজ্রপাত থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় সেটি আল্ট্রা হাই-ভোল্টেজ। বজ্রপাত দুই ধরনের হয়। কোনো ব্যক্তির ওপর সরাসরি পড়তে পারে অথবা একটি বড় এলাকাজুড়ে বজ্রপাত হতে পারে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে তিনি সাথে সাথে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যান। বজ্রপাতে ভোল্টেজ এতো বেশি যে তা ১০ হাজার থেকে মিলিয়ন পর্যন্ত চলে যায়।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

যে বস্তুর ব্যয় হ্রাস পায় তার উৎপাদনও হ্রাস পায়

আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জীব জন্তুর জন্যে যে সমস্ত ব্যবহায বস্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো যে পযন্ত ব্যয়িত হতে থাকে, সে পযন্ত আল্লাহর পক্ষ হতে সেগুলোর পরিপুরকও সৃষ্টি হতে থাকে। যে বস্তু বেশী ব্যয়িত হয় আল্লাহ তায়ালা তার উৎপাদনও বাড়িয়ে দেন। 

জীব-জানোয়ারের মধ্যে ছাগল ও গরু সবাধিক ব্যয়িত হয়। এগুলো যবেহ করে গোশত খাওয়া হয়। কুরবানী, কাফফারা, আকিকা প্রভৃতিতে যবেহ করা হয়। এগুলো যত বেশী কাজে লাগে আল্লাহ সে অনুপাতে সেগুলোর উৎপাদনও বৃদ্ধি করেন। আমরা সবত্রই এটা প্রত্যক্ষ করি।

সবদা ছুরির নীচে থাকা সত্বেও দুনিয়াতে ছাগলের সংখ্যা বেশী। কুকুর ও বিড়ালের সংখ্যা এত নয়। অথচ এগুলোর সংখ্যাই বেশী হওয়ার কথা ছিল, কারন এরা একই গর্ভ থেকে চার পাচটি পযন্ত বাচ্চা প্রসব করে। গরু ছাগল বেশীর চেয়ে বেশী দু’টি বাচ্চা প্রসব করে। তদুপরি এগুলোকে সবদাই যবেহ করা হয়। পক্ষান্তরে কুকুর বিড়ালকে কেউ হাতও লাগায়না। এতদসত্বেও এটা অনস্বীকায যে, দুনিয়াতে গরু ছাগলের সংখ্যা কুকুর বিড়ালের তুলনায় অনেক বেশী। 

আপনার রেটিং: None

আসহাবু কাহাফের ঘটনা

এ ঘটনাটি এতই প্রসিদ্ধ এবং এর স্বপক্ষে ভুতাত্বিক ও ঐতিহাসিক যুক্তিপ্রমাণ
এতটাই শক্তিশালী ও অখন্ডনীয় যে, কোন স্বাভাবিক, সুস্থ মস্তিস্ক ও নীতিবান লোকের
পক্ষে তা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।   

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)
Syndicate content