'মোহভঙ্গ' -এর ব্লগ

আমাদের সমাজের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা কটকটিদেরকে চিনে রাখুন

রাক্ষসী রাণী কটকটি— জনপ্রিয় এক টিভি সিরিয়ালের প্রধান কুখ্যাত খল চরিত্রের নাম। বস্তুত: রাক্ষস বলে তো আর আলাদা কোন মাখলুকাত নেই; এখানে কটকটি হচ্ছে মূলত: মানুষরূপী শয়তানদেরই প্রতিভূ মাত্র। অশুভ শক্তির মূর্ত প্রতীক এই কটকটিরা সাধারণত সম্মুখ সমরে শুভ শক্তির সাথে পেরে ওঠে না। তাই এদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে থাকে ছলনা, কূটকৌশল ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। এই কটকটিদেরকে চিনে রাখার জন্য এদের কিছু প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য ও অভিন্ন কর্মকাণ্ড একনজর দেখে নেয়া যাক:-

১। স্বামীকে জোরপূর্বক বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া এবং তারপর শূন্যস্থান পূরণ ও বাক্য রচনা করা।
২। চোগলখুরী ও অন্যান্য কারসাজির মাধ্যমে পরিবারের ছোট-বড় সকলের মধ্যে বিভেদ ও মনোমালিন্য সৃষ্টি করা।
৩। ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের পরিবারের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করা— পরিকল্পিতভাবে নিজের স্বামীকে দেউলিয়া বানানো।
৪। ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অসামাজিক কাজ প্রকাশ্যে সম্পাদন করা।
৫। নিজের ছেলের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া— বেআইনীভাবে হোক বা আইনীভাবে হোক।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

লেখাপড়া কি জীবনের চেয়েও বড়?

সম্প্রতি এক শিক্ষিত নামধারী গণ্ডমূর্খ বেকুব মা তার সন্তানদের লেখাপড়ার পারফরমেন্স নিজের কাঙ্ক্ষিত মানের মনে না হওয়ায় হতাশ ও অতীষ্ঠ হয়ে গলাটিপে চিরতরে শেষ করে দিয়েছে দুটি ফুটফুটে বাচ্চাকেই। যা ঘটেছে, এটাকে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ভাবার সুযোগ নেই। বরং এটা আমাদের এক সামাজিক ব্যাধিরই বহি:প্রকাশ মাত্র। যেই এলার্জি বা চুলকানি রোগটা আর সবার ক্ষেত্রে চামড়ার নিচে থেকে গেছে এবং মাঝেমধ্যে উপর দিয়ে এক-আধটু চুলকাতে দেখা যাচ্ছে, সেই রোগটাই এই মহিলার ক্ষেত্রে চামড়ার বাইরে বিষফোড়া আকারে দৃশ্যমান হয়েছে। অর্থাৎ, সমাজের আর দশজন অভিভাবকের সাথে এই মহিলার পার্থক্য হল, তার ক্ষেত্রে ভিতরের এলার্জিটা বাইরে বেরিয়ে এসেছে, আর অন্যদেরটা এখনো চামড়ার তলে চাপা পড়ে আছে। অতএব, এই একজনের উসিলায় যেই রোগটা প্রকাশ পেয়েছে, সবার ভিতর থেকে সেই রোগটা সারানোর আশু পদক্ষেপ জরুরী।
ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

ব্লগ পোস্টে সমস্যা

দু'দিন ধরে ব্লগ পোস্ট করতে সমস্যা হচ্ছে- সার্ভার এরর ৫০০ বা এ জাতীয় অন্যান্য এরর দেখাচ্ছে। এটা কি সকলেরই হচ্ছে, নাকি শুধু ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল থাকার কারণে হচ্ছে? বিশেষ করে পুরাতন পোস্ট এডিট করতে গেলেই এ সমস্যাটি দেখা যাচ্ছে। যেকোন পোস্টের এডিট অপশনে প্রবেশ করা যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেভ করার সময় সমস্যা করছে।
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

প্রতারক চেনার উপায়

মানুষ প্রতারণা করে থাকে সাধারণত কোন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কিংবা কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে। স্বার্থ বলতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ, মান-মর্যাদা ও প্রতিপত্তি লাভের স্বার্থ কিংবা ক্ষমতা লাভের স্বার্থ। আর কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য বা প্রতিহিংসাটা ব্যক্তিগত স্বার্থহানির জন্যও হতে পারে; আবার ধর্মীয়, জাতিগত বা রাজনৈতিক কারণেও হতে পারে। তবে যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন, প্রতারকদের কিছু কমন আচরণগত আলামত ও বৈশিষ্ট্য থাকে; যা চেনা থাকলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় যেকোন পর্যায়েই প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকা যাবে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অর্থ হারানো থেকেও বাঁচা যাবে, দ্বীন হারানো থেকেও বাঁচা যাবে, কারো প্ররোচনায় কোন নিরপরাধ আপনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পরে অনুতপ্ত হওয়ার আশংকা থেকেও নিরাপদ থাকা যাবে এবং সর্বোপরি নিজের ও পরিবারের শরীর ও জীবনের ক্ষতিও এড়ানো যাবে।
(১) বেশি কথা বলা
(২) নিজের সততা ও সত্যবাদিতা জাহির করা
(৩) বেশি বেশি শপথ করা
(৪) অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক কথাবার্তা
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

মডারেটরের দৃষ্টি আকর্ষণ: এক লেখকের একাধিক লেখা মূল পৃষ্ঠায় থাকা প্রসঙ্গে

আমাদের এ ব্লগে অনেক ব্লগার আছেন, যারা একই সাথে দুই বা ততোধিক লেখা পোস্ট করে থাকেন। আবার কেউ কেউ অনেক লম্বা কবিতা পোস্ট করে পেজের বিরাট অংশ দখল করে থাকেন। অনেকের আবার ইনপুট ফরমেট নির্বাচনে অসতর্কতার জন্য গদ্য লেখাও পদ্যের মত লম্বালম্বিভাবে প্রকাশিত হয়। এসব কারণে অন্যান্য ব্লগারের লেখাগুলো দ্রুত নিচে পড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে ভিতরের পৃষ্ঠার দিকে অস্তমিত হয়ে যায়। বিশেষত মাঝে মাঝে দু'একজন ব্লগারের পোস্টের আধিক্য দেখে মনে হয়, ব্লগটি যেন কারো ব্যক্তিগত পেজে পরিণত হয়েছে। বিষয়টির প্রতি ব্লগ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একই লেখকের একাধিক লেখা মূল পেজে থাকা কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি দীর্ঘ সময়ে অন্যান্য লেখকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোস্ট না পড়ে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য পেজে পর্যাপ্ত স্থান পাওয়া যায়। অথবা, একাধিক লেখা পোস্ট করার সুযোগ বর্তমান রেখেও যাদের লেখা নিচে পড়ে গেল তাদের লেখা একটি নির্দিষ্ট সময়কাল অতিক্রম হবার পর মূল পেজে রিপোস্ট করবার option রাখা যেতে পারে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের বিরতির শর্তসাপেক্ষে একজনকে একাধিক পোস্ট মূল পেজে পোস্ট করার সুযোগ দেয়া যেতে পারে; যেমন-
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

সবচেয়ে বহুল প্রচলিত চারটি বেদআত

মুসলিম সমাজে বেদআত বলে প্রচলিত যেসব জিনিস আছে; যথা- মাজার পুজা, আগুন পুজা ইত্যাদি, সেগুলো আমার এ প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় নয়। কারণ, সেগুলো ইতিমধ্যে (already) সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণ ও মূলধারার ওলামায়ে কেরাম দ্বারা প্রত্যাখ্যাত এবং বিদআত বলে চিহ্নিত ও সাব্যস্ত। ওসব বেদআতের অনুসারীরা মুসলিম সমাজে এখনো সংখ্যালঘু হিসেবেই পড়ে আছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনজীবনে কোন গুরুতর (major) হুমকি সৃষ্টি করতে পারেনি। কিন্তু এখানে আমি সেই সব বিদআতের কথা উল্লেখ করতে চাই, যেগুলোকে কেউ বিদআত বলে ধরতেই পারেননি এবং যেগুলো জনগণের মাঝে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত ও সমাদৃত অবস্থায় আছে।
আমার মতে, মুসলমানদের মাঝে সবচাইতে প্রতিষ্ঠিত ও সর্বাধিক প্রচলিত বেদআতগুলো হলো:-
(১) মাযহাব
(২) গণতন্ত্র
(৩) বোরখা
(৪) লেখাপড়া

ঘাবড়ে যাবেন না বা আঁতকে উঠবেন না। বেদআতের সংজ্ঞা এবং তার আলোকে আমাদের সমাজব্যবস্থা, আচরণ ও কীর্তিকলাপ পর্যালোচনা করলেই দেখতে পারবেন, আমার এ পর্যবেক্ষণ ঠিক আছে কিনা। নিচে এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেখুন:-

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

হজ্জে দুর্ঘটনার জন্য কি ধর্মের বিধান দায়ী?

একশ্রেণির মানুষ সমাজের যেকোন ফেতনা ও অপকর্মের জন্যই ধর্মকে দোষ দেয়। এমনকি কোন ধর্মীয় কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলেও সেজন্য ধর্মকে দায়ী করে বসে। তারা এমন ভাব দেখায়, দেখ এটা কতবড় মানবতাবিরোধী ধর্ম, এত মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করে পায়ের তলে পিষে মরতে প্ররোচিত করে!
আপনার রেটিং: None

সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও উম্মতের বিভক্তি

নবীর (সা:) সাহাবীগণের মর্যাদা নিয়ে নবীর উম্মতেরা দু' দলে ভাগ হয়ে গেছে। একটি দল খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে প্রথম তিনজনকে অভিশপ্ত মনে করে প্রত্যাখ্যান করে ও শেষের জনকে খোদার আসনে বসিয়ে পূজা করে; আরেকটি দল নবীর সাক্ষাত লাভকারী ও মুসলিম পরিচয় দানকারী সকলকেই সাহাবী হিসেবে গণ্য করে এবং যাদের দ্বারা ইসলামের উপকারের চাইতে দৃশ্যত: ক্ষতিই বেশি হয়েছে এমন বিতর্কিত ব্যক্তি মুয়াবিয়া ও আমর ইবনে আস প্রমুখকেও সমালোচনার ঊর্ধ্বে মনে করে, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনকি ইয়াজিদকেও ধার্মিক ও পরহেজগার সোনার ছেলে হিসেবে গণ্য করে। কোরআন-হাদীসের আলোকে এ বিষয়টার মীমাংসা করা কিংবা মীমাংসা করতে না পারলেও পারতপক্ষে মীমাংসার পথে কিছু চিন্তার খোরাক বের করা এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

জালেম হতে চাই

মজলুম হতে চাই না আমি
জালেম হতে চাই-
জালেম ছাড়া এই জগতে
নাই যে কারো ঠাঁই;
এই দুনিয়ায় মজলুমের
কোন বন্ধু নাই।

জালেমের ঐ লাথি-গুতা
সবই যেন আশীর্বাদ;
মজলুমের তা চোখ তুলে
চেয়ে দেখাও অপরাধ।

হোক না যত গালিগালাজ,
চিল্লাচিল্লি তিরস্কার-
উৎপীড়কের সবকিছুই
করতে হবে নমস্কার।

ব্যথিতের ঐ ক্রন্দন
আর একটু আর্তচিৎকার;
এই ধরাতে কুড়ায় কেবল
লাঞ্ছনা আর ধিক্কার।

জালেমের ঐ আস্ফালন
আর ছলচাতুরী হুঙ্কার-
আদায় করে সব মানুষের
সালাম আদাব নমস্কার।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

শক্তি দিয়ে কি যুক্তিকে দমন করা যায়?

ইসলামবিরোধী ব্লগাররা সবাই যে জেনেশুনে অসৎ উদ্দেশ্যে ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে শত্রুতা করছে, তা কিন্তু নয়। মতলববাজ হওয়া বা অসৎ উদ্দেশ্য থাকার জন্য দুটি আলামতের মধ্যে কমপক্ষে যেকোন একটি থাকতে হয়। এর একটি হল মুনাফেকী বা দ্বিমুখী নীতি তথা একেক জায়গায় একেক রকম ভূমিকা বা আচরণ থাকা। অপরটি হল কথা ও কাজে অশ্লীলতা ও নোংরামি থাকা এবং বেয়াদবির চরম সীমা অতিক্রম করা। কিন্তু ব্লগারদের মধ্যে মুনাফেকীর দোষটা খুব কমই দেখা যায়। আর বেয়াদবি জিনিসটা কারো কারো মধ্যে দেখা গেলেও সবাই তো এমন নয়। অশালীনতা আর যুক্তিবাদিতা দুটোকে এক পাল্লায় মেপে সবাইকে একরকম শত্রুজ্ঞান করাটা সমীচীন বলে মনে হচ্ছে না।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)
Syndicate content