'সহায়ক' -এর ব্লগ

মানুষ সোজা করা এত্ত কঠিন!

সাবেক সচিব আসাফউদ্দৌলার একটা কথা আমার খুব মনে থাকে। মানুষ খুব কঠিন প্রাণী, সহজে বদলায় না। একটা বয়স পার হয়ে যাওয়ার পর তাকে আর চেঞ্জ করা যায় না। কথাটা কত পার্সেন্ট সত্য বলতে পারব না, তবে একবারে মিথ্যে নয়।

আমার এক রিলেটিভ আছে। এক্কেরে পাজির পা ঝাড়া। কারণ ছাড়াই এত নিখুঁতভাবে সে মিথ্যা বলথে পারে, ভাবতেই অবাক লাগে। ওকে অনেক দিন বলেছি, তুমি মোশাররফ করিমের সাথে যোগাযোগ করে অভিনয়ে নামো; ভালো করবা। তার আচরণে বাড়ীর লোকজন অতীষ্ঠ। বাবা মা মাঝে মধ্যেই ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে আমার কাছে পাঠায়, ভাবে এখানে পাঠাইলেই সে ভালো হয়ে যাবে। নিজেকে অনেক করিৎকর্মা ভাবতাম, নাহ! কিছুতেই  কিছু হইতেছে না। সেদিনকে ডেকে আচ্ছা করে ঝাড়ি দিয়েছি। বলেছি, আমরা যদি অভদ্র হতাম; তোমার যে কি দুর্গতি হতো! একটা কাজ দিয়েছি। বলেছি, তুমি এমন একজন ব্যক্তি খুঁজে বের করবে যে তোমাকে ভাল জানে এবং তুমি তার কথা শুনো। তার সাথে পরামর্শ করে ঠিক করবো তোমার ভবিষ্যত কি হবে? সে নিশ্চিত পারবে না, সে নিজেও তা জানে। এক আল্লাহ ছাড়া তাকে ঠিক করার আর কিছু নেই।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

কয়েকদিনের জন্য বিশ্ব হাতড়ে বেড়ানো আর আমার বিসিএস অভিজ্ঞতা

অফিসে একদিন বসেছিলাম, এক ছাত্র ঢাউস সাইজের দুইটা বই (বহন সুবিধাজনক নয়) নিয়ে আমার রুমে প্রবেশ করে সেই বইয়ের গুরুত্ব আদ্যোপান্ত বুঝানোর চেষ্টা করল। একটা হচ্ছে Family Encyclopedia আর অন্যটা Concise ATLAS of the world. ইউরোর হিসাবে প্রথমটার মূল্য ৪০ আর পরেরটা ২৫। আমার কাছে প্রথমটা বিক্রি করতে চাইল টাকার অংকে ২০০০-এ, সাথে পরেরটা ফ্রি। চকচকা বই আর ঝকঝকা ছবি দেখে কিনেই ফেললাম যদিও বাসায় এসে দামের বহর শুনে আমার বোকামীর আরেকগন্ডা হিসাব নেয়া হলো। বই দুইটা কিনেই সারা, কখনও সময় হয়নি খুলে দেখার!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

ভালোবাসা নিয়ে সাদামাটা কিছু লেখা

ভালোবাসা নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়, আমি আর কি লিখব? আর যা হয়ত লিখব তাও খুবই সাধারণ। তারপরও ইচ্ছা হলো, এটা না হয় নিজের জন্যই থাক।

গ্রামে আমাদের বাড়ী। ওখানে দাদা-দাদী, চাচা-চাচীরা থাকেন। নানা বাড়ীও বেশি দুরে নয়। ঐ একই জেলার শহরে থাকেন আব্বা আম্মা। কাজেই একবার সময় করতে পারলে তিন জায়গা থেকেই ঘুরে আসা যায়। মুশকিল হয়, যখন একদিনের জন্য যাওয়া হয়। দিনে দিনেই চলে গেলে দাদা ভীষণ রাগ করেন। আর ঐদিকে আম্মার ঝাড়ি, তোমার এভাবে আসার দরকার কি? ফেরার সময় ঢাকায় আমরা কি খাই না খাই সেই অযুহাতে আব্বা একগাদা বাজার করে দেন। দাদীও দেন আম কাঠাল যা পারেন।

সেইবার দাদী আমাকে ডেকে বলতেছেন। ক্যা! যখন আমি ছেলের বাসায় জিনিস পাঠাইতাম, তোর আম্মা রাগ করে বলত- আম্মা যে কি করে না! আর এখন যখন তোর বাসায় পাঠায় তখন কিছু হয় না? ওই তো বাবা! আমি করলেই সব দোষ! আমি খালি হাসি। এসবের আমি কিছুই বুঝি না।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (7টি রেটিং)

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক

ছাত্ররা কেন যেন মনে করে শিক্ষকরা রাজ্যের সব জানে। মান্যবর শিক্ষকদের কেউ কেউ হয়ত এটারই সুযোগ নিয়ে থাকেন। তাঁকে সব জান্তার অভিনয় করতে হয়! আদৌ কি তার প্রয়োজন আছে?

শিক্ষকদের প্রধান কাজ পড়ানো নয়, হয়ত এটাকে অন্যতম বলা যেতে পারে। তার থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ছাত্রের সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করা, নার্সিং করা; সেটাকে পথ দেখানো। সেই বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ হয় কি?

শিক্ষকতাকে বলা হয় নোবেল প্রফেশন, কারণ সব পথপ্রদর্শকই ছিলেন শিক্ষক। নবীরা যেমন উম্মতের কাছে অনুসরণীয়, শিক্ষকরাও ছাত্রদের কাছে তেমনি। এখানে প্রফেশনের প্রতি প্যাশন অপরিহার্য।

অনেক ছাত্রের কাছেই এটা অসহনীয় যে, শিক্ষকরা ছাত্রদের অনর্থক হয়রাণী করেন। এমনটা আমিও একবার ভেবেছিলাম, যখন সম্মানীয় শিক্ষক একটা অ্যাপ্লিকেশনে সামান্য ভুলের জন্য লাইব্রেরি থেকে ডিকশনারী দেখে শব্দটা ঠিক করে আনতে বললেন। এমনটা কিছুতেই অন্যায় হতে পারে না। ছাত্রের ভুলের গুরুত্ব বুঝানো শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

বন্ধুর গায়ে হলুদে..

সম্পর্কটা অনেক দিনেরই, সময় হয়েছে তাই বিয়েতে বসেছে বন্ধু। আমাকে দাওয়াত করল গায়ে হলুদ, বিয়ে এবং বৌভাত তিনটা অনুষ্ঠানেই থাকতে হবে। সে তো নাছোড়বান্দা, যেতেই হবে। আরেক কাছের বন্ধুও (যার সাথে প্রায় বছর তিনেকের মত দেখা নেই) সেখানে থাকবে এই ভরসায় 'গায়ে হলুদে' গেলাম।

চারিদিকের ইসেন্ট্রিসিটিই যখন নিয়ম হয়ে যায় তখন আমার এই 'আমি'ই হয়ে যাই একটু 'অন্যরকম', 'বেমানান', 'ইসেনট্রিক'। আমাকে বলা হলো.
- পাঞ্জাবী পরে আসতে হবে!
- আরে ভাই, আমার তো পাঞ্জাবী নাই!
- নাই মানে? নামাজ পড়ো না?
- নামাজ পড়তে পাঞ্জাবী লাগে নাকি?
- যাই হোক, পাঞ্জাবী পড়েই আসতে হবে কিন্তুক!
বছর তিনেক দেখা নেই, সেই বন্ধুর এমন অনুরোধে পাশের বাসায় মামার কাছ থেকে পাঞ্জাবী ধার করে গায়ে চড়ালাম। অনেক দিন পর দেখে বন্ধু উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলল, তোমাকে তো জোশ লাগছে!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.8 (4টি রেটিং)

মেজাজ খারাপ হওয়া আরও একটা দিন

আজকেরটা অবশ্য ঢাকা সিটির নিজস্ব সমস্যা না। সমস্যা আমাদের এবং আমার কাছে তা গুরুতরই বটে।

অফিস আওয়ারে বাসে চড়া যে কি ঝক্কি তা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন। বিশেষ করে, কাজীপাড়া বা শেওড়াপাড়ায় যারা থাকেন তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। মিরপরু-১২ থেকে উত্তরাগামী একটা সিটিং সার্ভিস চালু আছে। একটু স্বাচ্ছন্দে যেতে এই সার্ভিস খারাপ না যদিও লম্বা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যেখান থেকে বাসে উঠি, সেখানে সিট পায় প্রতিদিনই পেছনের দিকে। যাতায়াতটা বেশ আরামদায়ক, পড়াশুনা করা যায়। মুশকিল হচ্ছে পিছনের সিটের প্রায় প্রতিটির পিছনে হয় ফোন নাম্বার, অশ্লীল কোন কথা, অথবা অশ্লীল কিছু আঁকা থাকে। মুখের সামনে এগুলি দেখতে ভীষণ বিরক্তি লাগে। আজকে মাত্রাটা বেশি ছিল। অশ্লীলতার শেষ সীমায় পৌঁছলে যা লেখা যায় বা বলা যায় তা-ই লিখে এবং এঁকে রেখেছে। রাগে নিজের শরীর গজ গজ করতে লাগল, পড়ায় মন দিতে পারলাম না। কন্ট্রাক্টর ভাড়া কাটতে আসলে বললাম, আপনার গাড়ীতে তো আর চড়া যাবে না। মালিকের ফোন নাম্বার দেন। ফোন নাম্বার নিলাম। বেশ কয়েকবার ট্রাই করলাম, ফোন কেউ রিসিভ করে না।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.3 (3টি রেটিং)

পঁচে যাওয়া ঢাকা সিটিতে একদিন

ইচ্ছা করেই আজ বেশি সময় ছিলাম অফিসে। তিন কলিগ মাগরিবের নামাজ জামাতে পড়ে ফিরছিলাম বাসায়। টুকটাক রসিকতা চলছিল। আমরা দুইজন অবিবাহিত আর অন্যজন বিবাহিত। বিবাহিত কলিগকে আমাদের সাথের অবিবাহিত জন বললেন... আপনার মিসেস বাসায় নেই বলে আজ এতটা সময় থাকতে পারলেন! বিয়ে করলে মানুষের স্বাধীনতা থাকে না, বুঝলেন! উনি বললেন, বাসায় যখন ফিরি আমাকে দেখে মেয়েটা হাসি দিয়ে মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই দৃশ্যটার আপনি কি বুঝবেন?

প্রচন্ড জ্যাম রাস্তায়। কলিগদের রুট আর আমার রুট এক না। আলাদা হয়ে গেলাম। ১৫ মিনিটের পথ পাক্কা দেড় ঘন্টা লাগল। প্রচন্ড গরম তো আছেই। মানুষ বিরক্ত, একবার উঠে দাঁড়ায়- একবার বসে। আমিও বসে আছি ভাবলেশহীনভাবে আর ভাবছি জানজটে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়। এই সময়ে গাড়ীটা অন্তত ছয়বার আসা যাওয়া করতে পারত। ভাড়া বেশি না নিয়ে কি এদের উপায় আছে? তবুও নিতে পারে না পাবলিকের মারের ভয়ে। সেইটা কিছুটা পুষিয়ে নেয় গাদাগাদি করে লোক নিয়ে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.3 (3টি রেটিং)

সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে গেছে

কিছুদিন আগে জেলা শহরে অবস্থিত বাসা থেকে ঘুরে আসলাম। বিকালে ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে ঘুরছিলাম। একটি বাসা দেখিয়ে সে বলল, কয়েকদিন দিন পূর্বে প্রেমঘটিত জটিলতায় এই বাসার পলিটেকনিকে পড়া একটা ছেলে নিজেকে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্নহত্যা করেছে। আমার জানা ছিল, আত্নহত্যা উইমেনলি ট্রেইট। কিন্তু এটা পুরুষদের মধ্যেও সংক্রমণ হলো কি করে! সামুর ব্লগার ফারজানা মাহবুবার একটা লেখার অংশবিশেষ মনে পড়ছে। সেখানে তিনি এরকম লিখেছিলেন, মেয়েরা একবার ভুল করলে তা আর শোধরায় না, পুরুষরা বারবার করলেও সমস্যা নেই। সেই হিসাবে সহজেই বলা যায়, আমাদের সমাজব্যবস্থার আলোকে আত্নহত্যা উইমেনলি ট্রেইটই হওয়ার কথা! ওয়াও, তাহলে কি সমাজ ব্যবস্থা বদলে গেল! যাই হোক, আমার লেখা অবশ্য সেইদিকে যাচ্ছে না।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)
Syndicate content