'এম এস লায়লা' -এর ব্লগ

আত্মার খোরাক (১৯)(মাহে রমাদ্বানে আলোচনা)

ঈর্ষা বা (হাসাদ) সম্পর্কিত হাদীসঃ-

হযরত
আবু হোরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই
ঈর্ষা হতে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখবে। কেননা অগ্নি যেভাবে কাঠকে জ্বালিয়ে
ভষ্ম করে দেয়, অনুরুপভাবে ঈর্ষা ও মানুষের নেক আমলকে নষ্ট করে দেয়।"

(আবু দাউদ)

ব্যাখ্যাঃ-
অন্যের নেয়ামতের ধ্বংস কামনাকে বলা হয় ঈর্ষা। সমাজে কিছু লোক দেখা যায়
যারা অপরের স্বচ্ছলতা কর্মকুশলতা, পদমর্যাদা ও ধন-সম্পদ দেখে নিদারুণ
অন্তর্জ্বালা অনুভব করে এবং মনে মনে তার ধ্বংস কামনা করে নিজে অনুরুপ
নেয়ামত হাসিলের প্রচেষ্টা দোষণীয় নয়। তাকে হাসাদ বা পরশ্রীকাতরতাও বলা যায়
না।

দ্বিমুখীপনা সম্পর্কে হাদীসঃ

হযরত আবু হোরায়রা (রাযিঃ)
হতে বর্ণিত, নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তোমরা দ্বিমুখী লোকটিকেই
সবচেয়ে জঘন্য অবস্থায় পাবে। (দুনিয়ায়) সে কারো কাছে একরুপে আবির্ভুত হয়েছে

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

আত্মার খোরাক (১৮)(মাহে রমাদ্বানে আলোচনা)

অহংকার সম্পর্কিত বিষয়ে হাদীসঃ-

হযরত
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ যার
অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক
ব্যক্তি বললো হুযুর (সঃ)! কেহ যদি তার লেবাসে-পোষাকে ও জুতা উত্তম হওয়া
পছন্দ করে? (তাহলে সেটাও কি অহংকার?) হুযুর (সঃ) জবাব দিলেনঃ অবশ্যই আল্লাহ
সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। প্রকৃত পক্ষে অহঙ্কার হলো আল্লাহর
গোলামী হতে বেপরোয়া হওয়া এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।"

(বুখারী)

ব্যাখ্যাঃ-
যে সমস্ত চরিত্রগত ত্রুটি মানুষকে মানবতাহীন করে, তার মধ্যে আত্মাভিমান বা
অহঙ্কার হলো অন্যতম। মানুষ সৃষ্টিকর্তার মুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়াও পৃথিবীতে
সে পদে পদে অন্যের মুখাপেক্ষী। সুতরাং যে নিয়তই অন্যের মুখাপেক্ষী বা
মোহতাজ, তার পক্ষে আত্মাভিমানী বা অহংকারী হওয়া আদৌ শোভা পায় না। অহঙ্কারী

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

আত্মার খোরাক (১৭)(মাহে রমাদ্বানে আলোচনা)

চোগলখোরী সম্পর্কিত হাদীসঃ-

হযরত হোযায়ফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সঃ) বলেছেন চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা।"

হযরত
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম (সঃ) চোগলখোরী করতে নিষেধ
করেছেন, অনুরুপভাবে তিনি গীবত বলাকে ও গীবত শুনা থেকেও লোকদেরকে নিষেধ
করেছেন।"

(বুখারী, মুসলিম)

ব্যাখ্যাঃ- চোগলখোরী বলা হয় একের
কথা অপরকে বলে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি করা ও ঝগড়া লাগিয়ে দেয়া।
সমাজের বেশীর ভাগ ঝগড়া-ফাসাদ চোগলখোরী বা কূটকথার কারণেই সৃষ্টি হয়ে থাকে।
ইসলামের দৃষ্টিতে এটা মারাত্মক পাপ। কেননা ইসলাম যে ধরনের আদর্শ ও
শান্তিপূর্ণ সমাজ কামনা করে, তাতে চোগলখোরের অস্তিত্ব অকল্পনীয়। এ জন্যই
আল্লাহর রাসূল (সঃ) মুসলমানদেরকে এ জঘন্য পাপটি পরিহার করার নির্দেশ
দিয়েছেন এবং চোগলখোর যে আল্লাহর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এ সাবধান

আপনার রেটিং: None

আত্মার খোরাক(১৬)(মাহে রমাদ্বানের আলোচনায়)

গীবত সম্পর্কিত হাদীস সমূহঃ-

আসুন
এই রমাদ্বানে কয়েকটি হাদীস পড়ি ও নিজেকে গীবতের গুনাহ থেকে বাঁচাই! আমরা
সকলে চেষ্টা করি যেন আমাদের রোজাটা হয় আল্লাহর খুশি মোতাবেক! কারন এর
প্রতিদান আল্লাহ ছাড়া অন্যকেউ দেবেনা! এই রোজার প্রতিদান দেবেন একমাত্র
প্রতিপালক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন! মহান আল্লাহ আমাদেরকে সুন্দর ও সঠিক
ভাবে রোজা রাখার তৌফিক দিন! এবং কবুল করে নিন আমাদের সকল আমলগুলোকে!

হযরত
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, একদা নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ তোমরা কি
জানো গীবত কাকে বলে? সাহাবী (রাযি..আনহুম) জবাব দিলেন, আল্লাহ এবং তার
রাসূল (সঃ) ই সবচেয়ে ভালো জানেন। ( এ ছিলো সাহাবায়ে কেরামের একটি বিনয় সূচক
বাক্য, যা দ্বারা তারা রাসূল (সঃ) এর কাছে নিজেদের অজ্ঞতা প্রকাশ করতেন।)
হুযুর (সঃ) বললেনঃ গীবত হলো তুমি তোমার মুসলমান ভাইয়ের বর্ণনা ( তার

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

"আসুন এই রমাদ্বানে নিজেকে সাজাই"

ত্বাকওয়া
অর্জন ও নিজেকে গুনাহ থেকে পবিত্র করার এ মোবারক মাস আমরা যারা পেয়েছি
তারা সকলেই অন্তরের অন্তস্থল থেকে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি এবং বলি
সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর যিনি আমাদের নসীবে এই পবিত্র মাহে রমাদ্বান
রেখেছেন! এই পবিত্র মাহে রমাদ্বানে সকল মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচার বিশাল
সুযোগ দেয়া হয়েছে! এই মাহে রমাদ্বানে রয়েছে নেকী বৃদ্ধি করার সূবর্ণ সুযোগ!
অল্প আমল করেও বেশী নেকী অর্জন করা যায় এই রহমতের মাসে!

আসুন এই
রহমতের মাসে নিজেকে সাজাই! কিভাবে? শ্রেষ্ঠ মানব রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে
থেকে উত্তম আদর্শের বীজ তুলে আমাদের জীবনে বোপন করে নেই! এবং সেই
জীবনাদর্শকে বাস্তবে ফলপ্রসূ করতে সচেষ্ট হই মহান আল্লাহর কাছে রমাদ্বানের
হক্ব সঠিক ভাবে আদায়ের তৌফিক চাই! দেখে নেই রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনী থেকে
তিনি কোন কোন কাজ রমাদ্বানের রোজা ছাড়া ও বেশী বেশী করতেন এবং সকলকে উৎসাহ

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

ভাল বন্ধু হয়ে!! (১৬ তম পর্ব)

কত আনন্দের ছিলো সেদিনগুলো? ভাবনায় সেদিন গুলো অনুভব করা ছাড়া এখন
আর কিছুই নেই! সবকিছুই যেন এখন স্মৃতি! কিন্তু এবার কি থেকে কি হয়ে গেলো?
পরশ হঠাৎ একদিন জানতে পারলো রোকেয়া ভাবি পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশীর মেয়ের
বিয়েতে দাওয়াত খেতে এসেছে একেবারে বেপর্দা হয়ে! পরশদের বাড়িওয়ালি বলছে কি
লাভ হলো এতদিন পর্দা করে?

বিয়ের দাওয়াতে এসে তো একেবারে একবছরের
সবকিছুই খুইয়ে গেলো! আমরা পর্দা করিনা তাতে কি? আমাদের ঈমান আছে! একেকবার
একেকবেশ ধরিনা! সবসময়ই একরকম! এতদিন নামাজ পড়ে আর পর্দা করে কি অর্জন করলো?
পরশ একেবারে নিশ্চুপ বনে গেলো! সে যেন রোকেয়া ভাবির ব্যপারে এই কথা
বিশ্বাসই করতে পারছেনা! সেই বাড়িওয়ালি চাচি আরো বলল,

পরশ তুই না
তাকে কতকিছু শিখালি, কতকিছু করে গোবরে পদ্ম ফুল ফোটাতে চাইলি, কত লোকের কথা
নিজেও শুনলি আর তোর বাবামাকেও শুনালি! ভালোই করেছিস আর ওর সাথে মিলা-মিশা
বন্ধ করে দিয়ে নয়তো আজকে তোকেও অনেকের অনেক কটূকথা হজম করতে হতো! জানিস
পরশঃ সেই বিয়েতে ভিডিও হয়েছে, আর রোকেয়া সেই বিয়েতে এসেছে একেবারে জর্জেটের

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

ভাল বন্ধু হয়ে!! (১৫ পর্ব)

পরশ রোকেয়া ভাবির ঘরে যাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ করে
দিয়েছে বললে ভুল হবে। মানুষ রুপী কিছু শয়তানের অপবাদের কারনে বন্ধ করতে
বাধ্য হয়েছে রোকেয়া ভাবির ঘরে যাওয়া থেকে! পৃথিবীতে মহান স্রষ্টা মানুষকে
সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিলেও মানুষ দিন দিন সর্ব শ্রেষ্ঠ থেকে সর্ব নিকৃষ্ট
হয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মের মাধ্যমে! চরিত্রের অবনতির মাধ্যমে! পরশ ভাবতে
পারেনা মানুষ কেন এমন করে?

অথচ এসব করার কারনে তার বাহ্যিক বা
আন্তরিক কোনই লাভ হচ্ছেনা! শুধুমাত্র আল্লাহর ও তার নবী (সঃ) ও সকল মানুষের
কাছে খারাপই হচ্ছে! আর এই খারাবীর কারনে উপযুক্ত হচ্ছে জাহান্নামের
ইন্দ্রন হিসেবে! কবে যে সবার বোধদয় হবে? পরশ আর ভাবতে পারেনা! পরশ আগের মতই
আছে! মাঝখানে কিছুটা কষ্ট নিয়ে দিনাতিপাত করেছে! এখন অনেকটা স্বাভাবিক
হয়েছে!

তারপরও যখন রোকেয়া ভাবির কথা মনে করে তখন পরশ কান্নায় ভেঙে
পড়ে! কিছু মানুষের অপবাদের কারনে একজন মানুষকে কষ্ট দিতে হচ্ছে পরশের! পরশ
চায়নি এভাবে রোকেয়া ভাবিকে কষ্ট দিতে কিন্তু কষ্ট তো পেয়েই গেলো ভাবি! কি

আপনার রেটিং: None

জন্মের আগে মৃত্যু!!

সুন্দর পৃথিবীতে আগমণের পর সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে কঠিন সত্য হলো
মৃত্যু! জন্ম যখন হয়েছে তখন মৃত্যুও অবশ্যাম্বী। কিন্তু গতকাল জানতে পারলাম
জন্মের আগেও মানুষ মৃত্যু বরণ করে। কেমনে? পাশের এলাকায় এক বাঙালি
প্রতিবেশি ভাবির একটি ছেলে সন্তান পৃথিবীতে আগমণের আগেই মায়ের পেটে মৃত্যু
বরণ করেছে। "(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজীউন)"। এরপর এই মায়ের
সিমাহীন কষ্টের পর এই সন্তান পৃথিবীতে আগমণ করেছে। আমার প্রিয় ব্লগের প্রিয়
সকল ব্লগারের কাছে দোয়া চাই এই ভাবি ও তার পরিবারের সবাই যেন উত্তম
ধৈর্যধারণ করতে পারে আপনারা সকলে দোয়া করবেন।

প্রত্যেক জীবকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।

আল-কোরআন

বিষয়: বিবিধ

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

"অনুভূতি ও বিশ্বাসের দ্বিতীয় পাঠ"

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর তা'য়ালার জন্য যিনি সারা জাহানের স্রষ্টা ও প্রতিপালক, যিনি আমাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন এবং সে পথে চলার জন্য অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন অন্তরে আর সকল মানুষকে তিনিই উত্তম হিদায়াত নসীব করেন! আর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানব জাতির শিক্ষক ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের উপরও!

ঈমান বা আল্লাহ ও তার প্রিয় রাসূল (সঃ) এর উপর বিশ্বাসের পরেই আসে নামাজ বা ইবাদতের স্থান! আমরা সবাই মনে করি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে, রমাদ্বন মাসে সিয়াম পালন করলে আর বছরে একবার যাকাত আদায় করলে, ও জীবনে একবার হজ্জ করলেই ইবাদত পূর্ণ হয়ে যায়। আসলেই কি ইবাদত পূর্ণ হয়ে যায়? আমাদের মনে কি একবারও আসে মহান আল্লাহ আমাদেরকে কেন সৃষ্টি করেছেন? আল্লাহ কি আমাদেরকে শুধু দুনিয়াদারি করার জন্যই পাঠিয়েছেন? নাকি ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য আছে সেটা কি কখনো জানার চেষ্টা করেছি? নাকি হেলা-খেলায় সময় পাড় করছি! একটু সময় নিয়ে চিন্তা-ফিকির করলেই আমরা বুঝতে পারবো মহান আল্লাহ আমাদেরকে কেন সৃষ্টি করেছেন? আর কি কাজ দিয়ে পাঠিয়েছেন? 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2 (2টি রেটিং)

"একটি ফজর ও রহষ্যময় পিঁপড়া"

মানুষ
ভুল ও গুনাহের ঊর্ধে নয়। মানুষের যে কোন কাজে, কথায় যে কোন ধরণের ভূল হতে
পারে। আবার অনুরুপ ভাবে গুনাহ ও হতে পারে। হতে পারে সৎ পথ থেকে বিচ্যুত।
তারপরও মানুষ তোঃ আল্লাহর অপার অনুগ্রহ আর হেদায়াতের নুর তাকে বারংবার
নুরান্বিন করে। এভাবে নুরান্বিত করেই চলে অহরহ। তবে কেউ কেউ সহসাই ভুলের
সংশোধন করতে পারে। আর কেউ কেউ মরনের পূর্ব পর্যন্ত ভুলের কোন সংশোধনই করতে
পারেনা। আর গুনাহ থেকেও নিজেকে মুক্ত করতে পারেনা।

সেই প্রজ্ঞাময়
মহা প্রতিপালক আমাদেরকে সমস্ত ভুল ও সমস্ত গুনাহ থেকে সবসময় মুক্ত রাখুন।
আর তার হেদায়াতের আলোয় আমাদের হৃদয়কে আলোকিত করুন সবসময়। রাতে বেশী দেরী
করে বিছানায় যাওয়া ও এক ধরণের ভূল কাজ। অনেকেই এই কাজটি বিনাবাক্যে করে
ফেলে। আর মনে করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেবেন তিনি। আসলেই
মহান আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম হলো গফ্ফার তিনি ছোট বড় সকল গুনাহেরই
ক্ষমাকারী।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)
Syndicate content