'এম এস লায়লা' -এর ব্লগ

শির্কের পরিণতি:

শির্ক হল সবচেয়ে বড় অপরাধ, ঈমান বিনষ্ট কারী, জান্নাত হারামকারী ও জাহান্নাম অপরিহার্যকারী। একজন ঈমানদারের জন্য এর চেয়ে আর কোন বড় পরিণতি হতে পারে না। বিষয়টিকে আরো পরিস্কার করার জন্য কুরআন ও হাদীসের আলোকে সংপ্তিভাবে নিম্নে আলোকপাত করা হলঃ

১। কোন ব্যক্তি শির্কে আকবারে লিপ্ত হলে চূড়ান্ত ভাবে পথ ভ্রষ্ট এবং ঈমান ও ইসলাম হতে বের হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশী স্থাপন করে সে চূড়ান্তভাবে পথভ্রষ্ট গুমরাহ হয়ে যায়। সূরা নিসাঃ ১১৬।

২। শির্কে আকবারের অপরাধ তাওবা ছাড়া কখনও ক্ষমা হয়না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
إِنَّ اللّهَ لاَ يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে অংশী স্থাপনের অপরাধ ক্ষমা করেন না, অবশ্য শির্কের অপরাধ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। সূরা নিসা: ৪৮।

৩। শির্কে আকবারে লিপ্ত হলে যাবতীয় সৎকর্ম বাতিল হয়ে যায়: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

আপনার রেটিং: None

শির্ক

আমরা আমাদের অজান্তে অনেক গুনাহ করে ফেলি। আমরা জানি না বা বুঝতেও পারিনা শির্ক কত বড় গুনাহ যার কারনে আমাদের উপর জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যেতে পারে। আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আমরা না জেনে না বুঝে অগ্যতাবশত অনেক রকমের গুনাহ করতে পারি। তাই জেনে নেই কি কি কথা বা কাজে আমাদের শির্ক হওয়ার সম্ভবনা আছে। মহান আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সকলকে শির্ক ও কুফুরী মুক্ত হায়াতে তয়্যীবাহ্ দান করুন ও ঈমানের সাথে বাঁচিয়ে রাখুন ও ঈমানের সাথে মৃত্যু নসীব করুন।  
বহুল প্রচলিত কয়েকটি শির্ক, আর শির্ক করে তওবাহ না করে
 মারা গেলে নিশ্চিত জাহান্নামঃ-

* শরীরে যেকোন প্রকার তাবিজ ঝুলানো শির্ক [ আহমদ: ১৭৪৫৮, সহিহ হাদিস:৪৯২]

* আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কারো নামে কসম করা শির্ক [আবু দাউদ:৩২৩৬(ইফা)]

* কোন কিছুকে শুভ-অশুভ লক্ষন বা কুলক্ষণ মনে করা শির্ক [বুখারি :৫৩৪৬, আবু দাউদ:৩৯১০]

* আল্লাহর গুণবাচক নামে অন্য কাউকে ডাকা শির্ক (যেমন: কুদ্দুস, রাহমান, রহীম, জাব্বার, সালাম, মুমিন ইত্যাদি) [সুরা ইসরা:১১০, হাশর]

আপনার রেটিং: None

"আসুন একটু পিছনে ফিরে তাকাই"

হজ্জ কর্মসমূহের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

 তাওয়াফ: পবিত্র কুরআনে এসেছে: এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাইলকে (আঃ) দায়িত্ব দিলাম যে তোমরা আমার ঘর পবিত্র করো তাওয়াফকারী ও ইতিকাফকারীদের জন্য।
এ আয়াত থেকে বুঝা যায় তাওয়াফ কা'বা নির্মাণের পর থেকেই শুরু হয়েছে।

  وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ (সূরা আল বাকারা : ১২৫)

 রামল:  রামল শুরু হয় সপ্তম হিজরীতে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ষষ্ঠ ‘হিজরীতে হুদায়বিয়া থেকে ফিরে যান উমরাহ আদায় না করেই। হুদায়বিয়ার চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী বছর তিনি ফিরে আসেন উমরা পালনের উদ্দেশ্যে। সময়টি ছিল  যিলকদ মাস। সাহাবাদের কেউ কেউ জ্বরাক্রান্ত হয়েছিলেন এ বছর। তাই মক্কার মুশরিকরা মুসলমানদেরকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে পরস্পরে বলাবলি করতে লাগল, ‘এমন এক সম্প্রদায় তোমাদের কাছে আসছে ইয়াছরিবের (মদিনার) জ্বর যাদেরকে দূর্বল করে দিয়েছে।

আপনার রেটিং: None

"হে ভাই ও বোন দেখুন জান্নাতী স্বামী স্ত্রীর প্রতিচ্ছবি"

সুমাইয়া ফজরের নামাজের জন্য তার বরকে ডাকতে ডাকতে গলা শুঁকিয়ে আসছে। তবুও সা'দের উঠার নাম নেই। সে বলে আরেকটু পর আরেকটু পর। সাদিয়ার মাথায় এক বুদ্ধি আসলো সে ফটাফট জগ থেকে  হাতে পানি নিয়ে সা'দের দু'চোখের ফেলে বলতে লাগলো ঘুম কিছুটা সময়ের জন্য তুমি ঘুরে এসো আর আমার স্বামীকে সুযোগ দাও আল্লাহ্ তা'য়ালা হুকুম পালন করতে। এই বলেই সুমাইয়া হাসতে থাকে আর হাতটা ঝারতে থাকে। সুমাইয়া বলতে থাকে ওগো প্রাণের স্বামী আমি তোমাকে ছেড়ে একাকি জান্নাতে যেতে চাইনা তাই তুমি ওঠো আর ফজরের সালাত আদায় করে এসো। আমি দুনিয়াতে ও তোমার পাশে থাকতে চাই আর জান্নাতেও। ওঠো আমার দোজাহানের সাথি। সা'দ প্রথমে কিছুটা রাগার চেষ্টা করলেও সা'দ দেখে আসছে সেই বিয়ের প্রথম দিন থেকেই সুমাইয়ার এই আচরণ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

আয়, বোনাস ও আমাদের ধান্ধা ...

আয়, বোনাস ও আমাদের ধান্ধা ... আপনি একটি অফিসে চাকরী করেন। আপনার মাসিক বেতন ৩০,০০০/০০ (ত্রিশ হাজা টাকা)। তাহলে, আপনার দৈনিক বেতন দাঁড়ায় ১,০০০/০০ টাকা, যা আপনি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘন্টা কাজ করে আয় করেন। সেই হারে আপনার প্রতি ঘণ্টায় রুজী ১২৫/০০ টাকা।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

ঈমানের সাথে!

আমি ছিলাম দুনিয়া প্রেমী
ভ্রান্ত পথের পথিক!
আল্লাহ আমায় অনুগ্রহ করে
দেখিয়েছে পথ সঠিক!

পাপে জড়িতো আমি পেলাম
জান্নাতের বাগানে ঠাঁই!
আজীবন এভাবেই রেখো
আর এবাগানেই মৃত্যু চাই!

নরকের কীট ছিলাম, তুলে এনে
দিয়েছো কোরআন হাতে!
হে আল্লাহ; দয়া করে মৃত্যু দিও
ঈমান আমলের সাথে!

ভুল করি গুনাহ করি
ক্ষমা করে দিও!
আখেরাতে ক্ষমা করে
জান্নাতের ফায়সালা করিও!

২১ শে এপ্রিল ২০০৬

আপনার রেটিং: None

"সময় থাকতে কাজে লাগান"

সাদিয়া পপির বিয়ের তিনমাস পরেই স্বামী প্রবাসী হলেন! সাদিয়া পপি ছোট বেলা থেকেই খুব লাজুক প্রকৃতির মেয়ে! বিয়ের পরে যেন লজ্জা আরো বেড়ে গেছে! স্বামী প্রবাসী হবার পর ক্লাস মেট সবাই ওদের বাসায় এসে বলে কিরে পপি তুই কেমন আছিস? পপি বললঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তোরা সবাই কেমন আছিস? ওদের জবাব ভালো। পপিকে ঘরের ভেতর লম্বা হাতার জামা, বড় ওড়না দিয়ে মাথা পেচানো দেখে বলে কি রে পপি তুই দেখি আরো লাজুক হয়েছিস! ভেবে ছিলাম বিয়ের পর তোর লজ্জা কিছুটা কমবে! এখন দেখি উল্টোটা! তুই আরো লজ্জাবতী হয়েছিস! পপি চুপ থাকে! চুপ থেকে একসময় বলে লজ্জা ঈমানের অঙ্গ বা অংশ! যার লজ্জা নেই বুঝতে হবে তার ঈমান নেই! সবার মুখ কালো হয়ে গেল পপির একটি কথায়! পপি দেখি আগের পপি নেই সে এখন অনেক বদলে গেছে! কিরে পপি তোর স্বামী তোকে তিন মাসেই এতকিছু শিখিয়েছে আর সবসময় দেশে থাকলে তো তুই এদেশের ইমাম হয়ে যেতিস! ওরা আরো বলে এখন থেকে পপির সাথে হিসেব করে কথা বলতে হবে! পপি এখন সে আগের পপি নেই! পপি বলে শুনো আমার প্রিয় বোনেরা একসময় ভুল করেছি সময় অপচয় করে আড্ডা দিয়েছি! এখন মনে হয় সবই বৃথা গেছে!

আপনার রেটিং: None

"পশ্চিমাকাশে নতুন হেলাল"

আকাশ পানে তাকিয়ে ভাবছে নাবিলা আলহামদুলিল্লাহ আজ ত্রিশ রোজা পরিপূর্ন হলো। পূর্ণ একমাস সিয়াম সাধনার পর পৃথিবীর আকাশে চিকন বাঁকা চাঁদ উঠে ঈদের সুসংবাদ দিয়ে গেলো সন্ধ্যাতেই। আগামিকাল ঈদুল-ফিতর। চারিদিকে যেন আনন্দের জোয়ার বয়ে চলল সাথে সেমাই পায়েসের মন মাতানো মিষ্টি সু-গন্ধে মৌহিত আশ-পাশ।  ঈদের আয়োজন এখন থেকেই শুরু হয়েছে। নাবিলার মনেও আনন্দের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। সাথে কিছুটা হতাশার মিশ্রন। ঈদের এই আগমনে কি সবাই পুলকিত হতে পারে? সবাই কি এই আনন্দের অংশীদার হতে পারে? কারো না কারো তো এই ঈদের দিনেও বারোমাসের মতোই কষ্ট বিরাজমান তাদের কথা ভেবে নাবিলার সব আনন্দ যেন উবে গেলো। পরোক্ষনেই ভাবতে লাগলো প্রত্যেকেই যদি নিজ নিজ যাকাত ফিতরাহ্ সঠিকভাবে আদায় করতো তবে আর কেউই এই ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকতো না তবে কতই না মজা হতো। নাবিলার মনটা হঠাৎ করেই প্রফুল্লতা বোধ করল এই ভেবে যে, সে নিজে তো সঠিকভাবে যাকাত ও ফিতরাহ্ আদায় করতে পেরেছে আল্লাহ কবুল করুন। সে দু'চোখ বন্ধ করে মনের মাঝে উদয় হওয়া কথার প্রশান্তি যেন অনুভব করতে লাগলো।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

"অপেক্ষার শেষ সময়ে"

রোকেয়া সন্ধ্যার আকাশ পানে তাকিয়ে ভাবছে রমাদ্বানের আর মাত্র সাতদিন বাকি। মনের দু-কূলে উচ্ছাসে আনন্দের জোয়ার। আর সে জোয়ারে যেন টুইটুম্বর হয়ে গেছে হৃদয়। মনে হচ্ছে বহু অপেক্ষার পর বিশালাকাংখিত মাস আসছে। যার জন্য মু'মিন মু'মিনাতেরা অপেক্ষায় থাকে। যে মাসে সওয়াবের পরিমাণ লুফে নিতে প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত হয় নবী (সঃ) এর চরিত্র অবলম্বনকারি উত্তম উম্মতগণেরা। রমাদ্বান মাস নিয়ে রোকেয়ার মনের সকল আনন্দানুভূতি। মু'মিন মু'মিনাত রমাদ্বানের আগমনে সন্তুষ্ট চিত্তে বলেন আলহামদুলিল্লাহ। রোকেয়া ও সেভাবেই বলল আলহামদুলিল্লাহ। অথচ রমাদ্বানের খরচের কোনটাই করা হয়নি। রোকেয়ার স্বামী চাকরীজীবি তাই প্রতি মাসেই তাকে খুব হিসাব কষে চলতে হয়। সৎ চাকুরীজিবি মানেই চাহিদার প্রত্যেক ক্ষেত্রে দরকষা-কষি। মন কোন কিছু চাইলেও হিসাবের বাহিরে কিছু করার শক্তি নেই এই পরিবার গুলোর। সন্তানদের পড়া-শুনার খরচ, শশুর-শাশুড়ীর খরচ, ঔষধ খরচ, পোষাক খরচ বাবদ শুধুমাত্র বাসা ভাড়াটা বাদে সবই করতে হয় বেতনের টাকা থেকেই। রোকেয়া সে জন্য পেরেশান নয়। জীবনের সকল চাহিদাকে একপাশে রেখে সে পেরেশান রোজাকে পরিপূর্ণ ভাবে রাখতে পারবে তো?

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

" এ'তেকাফ ও কিছু কথা"

মু'মিন মু'মিনাত আজ সবাই আনন্দিত! গতরাত থেকেই শুরু হয়েছে ক্বিয়ামুল-লাইল। মসজিদে নববীতে এ'শা তারাওবী ও ক্বিয়ামুল-লাইল পড়া কতযে আনন্দের তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। গতপরশু থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে মসজিদে নববীর ভেতরাংশ (যেখানে বরাদ্ধ করা এ'তেকাফের জন্য) সেখানে উপস্থিত হয়। রাজ-কোষ থেকেই এ'তেকাফকারিদের জন্য সাহরী ও ইফতারির ব্যবস্থা করা হয়। সময় স্বল্পতার কারনে বিষদাকারে লিখতে পারছিনা। তবে মদিনায় রমাদ্বান পালন করে খুবই আনন্দানুভব করছি। এত গরম তার মাঝেও যেন নবী (সঃ) সমজিদে গেলে প্রাণ জুড়িয়ে শীতল হয়ে যায়।

আপনার রেটিং: None
Syndicate content