'এম এস লায়লা' -এর ব্লগ

প্রবাসীর বউ (তিন পর্ব গল্পের শেষ পর্ব)

নতুন জীবনে লোপা সুখেই আছে! গত কষ্টের জীবনের তুলনায় এ যেন জান্নাতের সুখ! তার নতুন স্বামী কখনোই কথার ছলে বা দুষ্টোমির ছলে লোপাকে আগের কোন কথা তুলে কষ্ট দেয়না! বরং লোপার মন খারাপ দেখলে নানা রকম ভাবে শান্তনার কথা বলে! আরো বলে তাকদ্বীরে এভাবে ছিল তাই এমনটি হয়েছে তুমি মন খারাপ করনা বরং আমাকে তুমি তোমার জীবন সাথির পাশাপাশি বন্ধু মনে করো তাহলে আর কোন সমস্যাই থাকবেনা! আর লোপার মেয়ে জুঁইকে আপন পিতার স্নেহে লালন করেন! আর জুঁই ও যেন এই প্রথম তার বাবাকেই খুজে পেয়েছেন! কয়েকদিন থাকার পর জুঁই ওর নানীর কাছে যেতে বায়না ধরেছে কারন শহরে ঘর বন্দি হয়ে থাকতে জুঁইয়ের ভালো লাগেনা! লোপা অনেক বুঝিয়েছে ছয় সাত বছরের ছোট মেয়েটাকে কিন্তু সে এখানে থাকবেনা নানু আপার কাছে থাকবে বলে কান্না শুরু করেছিল এক পর্যায়ে জুঁইকে লোপার বড় ভাই এসে নিয়ে যায় গ্রামেই স্কুলে ভর্তি করে দেয়! মামাই জুঁইকে দেখাশুনা করে! লোপার নতুন সংসারে আবারো নতুন মেহমান এলো এভাবে চলতে থাকল লোপার জীবন গাড়ি! চলতে চলতে লোপা আরো দুই কন্যা ও তিন পূত্রের জননী হলেন! লোপার আগের কথা ভাববার সময় এখন আর নেই! তবুও অতীত যে জীবনেরই একটি অংশ!

আপনার রেটিং: None

প্রবাসীর বউ (তিন পর্বের গল্পের ২য় পর্ব)

লোপা নিজের মা বাবার সাথে এক রকমের কঠিন কথা বলে থেকে গেল শশুরালয়ে!
লোপার শশুর কিছুটা নমনীয় ব্যবহার করেছে লোপার সাথে আর বাকিরা সবাই ওকে এমন
কষ্ট দিচ্ছে যে, সংসার ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়! যেই মানুষটা লোপার প্রতি
মমতার ব্যবহার করেছে সেই মানুষটা হঠাৎ করেই চলে গেলো না ফেরার দেশে! লোপা
আরো একাকি হয়ে গেলো! আর এই পরিবারে কোন চাহিদার কথা প্রকাশ করা তো দুরের
কথা একটি মাত্র কন্যা সন্তান তার জন্যেও কোন আবদার করতে পারেনা! কাকে বলবে
মনের কষ্টের কথা গুলো? সব কষ্ট বুকে নিয়ে থেকে গেলেও থাকতে পারবেনা হয়তো
এখানে! কারন সবকিছুর কষ্ট করা যায় কিন্তু স্বামী নামক সেই সম্মানিত
ব্যক্তির সম্মানের দিকে যদি কেউ হাত বাড়ায় তো সেখানে কিছুতেই থাকা যায়না!
আত্ম সম্মান বাচিঁয়ে থাকা বড়ই কঠিন আর যেখানে লোপার স্বামীই ঠিকমত খোজ খবর
রাখেনা! সেখানে বাকি সবার কথা তো বাদই! লোপাকে যখন ভাতে, কাপড়ে, তেলে,
সাবানে কষ্ট দিয়েও তাড়াতে পারলো না! তখন ননদের জামাইরা সুযোগ খুজে তাকে
মানুষের চোখে অপমানিত করার চেষ্টা করে! দুই ভাসুরের মধ্যে বড়জন মোটামুটি

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

প্রবাসীর বউ! (তিন পর্বের ছোট গল্পের ১ম পর্ব)

হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলা শিশুর মত মানুষের জীবনের শৈশবকালটাও এক
সময় পা রাখে যৌবনে! ঢেউয়ের তালে তালে গড়িয়ে যাওয়া সময় একসময় যৌবন এনে দেয়
জীবনে! এনে দেয় যৌবন বসন্তকাল! ঋতুর পূর্ণতা যেমন বসন্তে জীবনের পূর্ণতা
তেমনী যৌবনে! একটা সময় সামান্য কিছু জানার বা পাওয়ার জন্য প্রত্যেকটা
মানুষই ব্যকুল থাকে বা মানুষের মাঝে থাকে আকুল আকর্শন! বয়ষের চাপে কখনো
কখনো সেটাতে আর আকর্শন থাকেনা! কারন হাতিয়ে দেখলে পাওয়া যাবে আবেগের জন্যই
একসময় সবকিছু ভালোলাগে পেতে ইচ্ছে করে! বয়ষ বাড়ার সাথে সাথে বিবেগটাও যখন
বুঝতে শিখে তখন আর সেই আবেগের মূল্যায়ন থাকেনা! সজাগ বিবেগ আবেগকে শোধরিয়ে
নেয়! যারাই আবেগের আবেগী থেকে সময়মত বাঁচতে পেরেছে তারাই জীবনে সুখের খোজ
পেয়েছে! আবেগ ক্ষনিকের এবং বিবেগের কাছে আবেগ সবসময়ই মূল্যহীন! অনেকেই
বিবেগকে মূল্যায়ন করে আবেগকে বশ করে জীবনে সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়েছেন! আর
যারাই আবেগের বর্শবর্তী হয়ে বিবেগকে বোকা বানিয়ে সামনে যেতে চেয়েছেন বা
গিয়েছেন তারাই ধরা খেয়েছেন!

লোপা পূর্ণ বয়ষে বাবা মায়ের সম্মতিতেই

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

"অতীত স্মৃতি থেকে একটিদিন"

"অতীত স্মৃতি থেকে একটিদিন"

পড়ন্ত বিকেল! সূর্য ডুবতে আরো কিছুক্ষন বাকি! সকালেই জানানো হয়েছে ছেলে পক্ষ তোমাকে বিকেলে দেখতে আসবে! তুমি রেডি থেকো! সেদিন সবাই খুব চোখে চোখে রাখছে আমাকে! আমার মুখে একটু দাঁগ লাগাটাও যেন সবাই খেয়াল করছে! ফুফুরা জানতে চাইছে থ্রী পিজ কোনটা পরবো? চাচি এনে গয়না সাধছে পরার জন্য! আমি মাকে বলেছি! ওরা নতুন লোক নয়! আর ওরা এখনো আমার মাহরাম হয়নি! বারটি ছিল বুধবার! আগেই জানানো হয়েছিল ছেলের আপন কোন বোন নেই তবে পালিত বোন একজন আছে তিনি আসবেন তার দুই ছেলে আর ছেলের মা! ছেলের মা-ই সবকিছুর হর্তা কর্তা! ছেলের বাবা চুপচাপ মহিলা যা বলে তাই মেনে নেয় বিনা বাক্যে! এটা জানা হয়েছে আরো কয়েকবার এসেছিল সেভাবেই!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.3 (3টি রেটিং)

"সোনাপরি"

"সোনা পরি"

একটি দু'টি তিনটি করে চারটি বছর হলো
হাসি আর গানের কত স্মৃতি রয়ে গেলো!
যেদিন মোদের ঘরে এলো এইনা ফুলের কলি
সেদিন থেকেই অনেক ব্যথা গেলাম মোরা ভুলি!

আনন্দ আর হাসি গানে দিন যে গেলো চুপে
আমার আঁধার ঘরটা রশ্মি হলো সোনা পরির রুপে!
সোনাপরির কেমন করে চারটি বছর হলো?
হাসি আর আনন্দেতে চারটি বছর গেলো!

পিতা মাতার কত খুশি কেউ তো জানেনা
যেদির মোদের সোনাপরি বললো কালেমা!
পিতা মাতার প্রার্থনা সদাই আল্লাহরই তরে
সোনাপরি হয় যেন এধরাতে বড় আলেমা!

সকাল বিকাল প্রার্থনাতে একটি কথাই বলি
হে আল্লাহ তোমার পথে কবুল করো আমার বুকের কলি!
হয় যেন সে এই ধরাতে অনেক জ্ঞানী গুণি
তোমার খাতায় নাম লিখে দাও মস্ত বড় অলি!

সোনাপরিকে শান্ত করো তোমার কালাম দিয়ে
সে যেন দ্বীনের দায়ী হয় তোমার অনুগ্রহ নিয়ে!
দ্বারে দ্বারে পৌছবে সে তোমার নবী (সঃ) এর দাওয়াত
ভুল করলেও ক্ষমা করে দিও আবার হিদায়াত!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

তোমরা যারা অলংকারকে দামী মনে করো

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কঃ- পৃথিবীতে এক একজনের সম্পর্ক একেক রকমের হয়! পিতা মাতার সাথে এক রকম! ভাই বোনের সাথে  একরকম! আর  স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক এমন মধুর যে পৃথিবীর আর কোন কিছুর সাথে তাদের তুলনা হয়না! স্বামী স্ত্রী এমন এক জুটি যাদের সম্পর্কের কাছে, ভালোবাসার কাছে বাকি সব সম্পর্ক তুচ্ছ বা ম্লান! তবে স্বামী স্ত্রী হলেও অনেক সময় বিপরীত সম্পর্ক ও হয়! একজন একজনকে না বুঝার কারনে! মূল্যায়ন না করার কারনে! আমি সেদিকে যাচ্ছিনা! কারন সব বস্তুরই এপিঠ ওপিঠ আছে! ভালো মন্দ আছে! আমরা যদি মন্দটাকে ভালো ব্যবহার আর ভালোবাসা দিয়ে বুঝাতে পারি তবে সেই মন্দও ভালো হয়ে যায়! সুগন্ধী ফুল হয়ে সুবাস ছড়ায়!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (3টি রেটিং)

নুসাইবা্হ এর প্রথম স্কুল

৩ রা আগষ্ট রবিবার সকালে নুসাইবাহ্ কে স্কুলে ভর্তি
করিয়েছি! গতপরশু প্রথম ক্লাস করেছে! আর গতকালকে প্রথম স্কুলে তিন পৃষ্ঠা
ইংরেজী, বাংলা, অংক হাতের লেখা লিখেছে! আজকে তো পুরোপুরিই ক্লাস করেছে
আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের একমাত্র সন্তান নুসাইবাহ্ এর জন্য দোয়া করবেন! সে
যেন বড় হয়ে মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দিদের একজন হয়! এবং আম্মু ও আব্বুর পক্ষ
থেকে নুসাইবাহ্ এর জন্য সকল কল্যানের প্রার্থনা মহান স্রষ্টার কাছে তিনি
যেন আমাদের কলিজার টুকরা নুসাইবাহ্ কে জীবনের সবটুকুন সময় তার নির্দেশিত
পথেই পরিচালিত করেন ও সম্মানের সাথে রাখেন এথা ওথা! এবং পৃথিবীর সকল
সন্তানের জন্যও কল্যানের প্রার্থনা!

বিষয়: সাহিত্য

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

(রমাদ্বান আলোচনাঃ) মদিনায় রমাদ্বানের শেষ দশক

জীবনের বাঁকে বাঁকে কত শত কথা!

কখনো তা গুছিয়ে লিখলে হয় কবিতা!

কখনো গল্প হয় তা!

কখনো জীবনের পাতায় স্মৃতি হয় তা!

কখনো কষ্টানুভুতির বৃষ্টি হয়ে ঝরে তা!

কখনো মনের আনন্দ হয়ে প্রকাশিত হয় তা!

জীবনের স্মৃতি মনের আয়নার মাঝে কখনো কখনো ভেসে ওঠে!

কখনো মনের বাগানে ফুল হয়ে ফোটে!

কখনো আনন্দের দোলা দেয় মনে!

কখনো বারি ঝরায় নয়নে!

তবুও স্মৃতিকে মানুষ রাখে মনে!

স্বরন করে ভালোবাসার আলিঙ্গনে!

মদিনার
শেষ দশকের অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করছি! মদিনাতে রমাদ্বানের শেষ দশকে
ক্বিয়ামুল লাইল পালিত হয়! মসজিদে নব্বীতে এ'তেকাফের জন্য অনেক অনেক দেশ
থেকে লোকজন আসেন এবং এ'তেকাফ করেন! সারাদিন রোজা রাখেন ও সন্ধ্যারাতে
তারাবীহ পড়েন, আর রাত একটা থেকে তাহাজ্জুদে শামিল হোন সবাই! অনেকে আবার
সাহরী সাথে করে নিয়ে আসেন রাতে ক্বিয়ামুল লাইল শেষ করে মসজিদে নব্বীতেই
সাহরী খান ও ফজর পড়ে বাসায় গিয়ে ঘুমান! মদিনাতে সাধারনত রাতে কেউই ঘুমায়

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (4টি রেটিং)

" (রমাদ্বান আলোচনা) উত্তম প্রতিবেশী"

উত্তম প্রতিবেশী পার্থিব জীবনে বিরাট এক নেয়ামত! উত্তম প্রতিবেশী
ভালো থাকার মাধ্যম! উত্তম প্রতিবেশী বিপদে আপদে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়!
উত্তম প্রতিবেশী সবসময়ের বন্ধু হয়ে থাকে! প্রতিবেশীর আচরণে প্রতিবেশী
জানতে পারে প্রতিবেশীর ভাল-মন্দ! বিধায় আচরনেই প্রমানিত হয়ে যায় মন্দ বা সৎ
ও উত্তম প্রতিবেশী কারা? এর প্রমান সহীহ হাদীস শরীফের মধ্যেই পাওয়া যায়।


নবী
(সঃ) বলেন,"আল্লাহর নিকট সেই সাথী উত্তম যে নিজ সাথীদের নিকট উত্তম।
আল্লাহর নিকট সেই প্রতিবেশী উত্তম যে নিজ প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।

" -বুখারী আদাবুল মুফরাদ।

ইবন
মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ " এক ব্যক্তি নবী (সঃ) এর নিকট বললোঃ
হে আল্লাহর রাসুল (সঃ) আমি ভালো করছি না মন্দ করছি তা কি করে জানবো? নবী
(সঃ) বললেনঃ যখন তোমার প্রতিবেশীদের বলতে শুনবে যে, তুমি ভালো করেছো, তবে
প্রকৃতই ভালো করেছো, আর যখন প্রতিবেশী বলবে তুমি মন্দ করেছো তবে মনে করবে

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2 (টি রেটিং)

"আমি ভালবাসি"

আমি আলোকে ভালবাসি অন্ধকার নয়

ফুলকে ভালবাসি ভুলকে নয়!

আমি দুঃখের অনলে পুঁড়তে ভালবাসি

কাউকে পোঁড়াতে নয়!

আমি বিজয় ভালবাসি পরাজয়কে নয়

সত্য ও সততাকে ভালবাসি মিথ্যাকে নয়!

আমি সুন্দরকে ভালবাসি অসুন্দরকে নয়

বড়দেরকে সম্মান করতে ভালবাসি অসম্মান নয়!

ছোটদেরকে আদর করতে ভালবাসি কাঁদাতে নয়

আমি রোগীকে সেবা করতে ভালবাসি অবহেলা করতে নয়!

জিহাদের ময়দানে লড়াই ভালবাসি পলায়ন করতে নয়

আমি দরিদ্র থাকতে ভালবাসি জালেম বাদশাহ হতে নয়!

সবার মুখের হাসি ভালবাসি একাকি নিজে হাসতে নয়

আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে ভালবাসি কাউকে কাঁদাতে নয়!

মাহবুবাহ্

২৮ শে জুলাই ২০০৫

বিষয়: সাহিত্য

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)
Syndicate content