'এম এস লায়লা' -এর ব্লগ

"সেই প্রথম অনুভূতি"

বাবার দেয়া প্রথম উপহার ও আমার অনুভূতি

পৃথিবীর সন্তানের জন্মের শুরুলগ্ন থেকেই বাবা মা থেকে উপহার পেতে থাকেন। বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন শুরু হয় সন্তান ভূমিষ্ঠের পূর্ব থেকেই। আর প্রত্যেক বাবা-মা-ই সন্তানের মুখে হাসি দেখতে ভালোবাসে নিজে সিমাহীন কষ্ট সহ্য করেও। নিজেরা কষ্ট করে হলেও সন্তানের আবদার পূরনে তাদের পূর্ণ খেয়াল রাখেন। তারা নিজেরা না খেয়ে, না পরে হলেও সন্তানকে পরিপূর্ণতা দিতে চান, দেন। বাবা-মায়ের ভালোবাসাই এমনই হয়। কোন বাবা-মাকেই তাদের সন্তানের ভালোবাসা থেকে আলাদা করা যায়না কোন বিনিময় ছাড়াই তারা সন্তানের সকল আবদার পূরন করেন। কোন বিনিময় ছাড়াই সন্তানকে ভালোবেসে যান আজীবন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

ফেব্রুয়ারী এলেই!!

ফেব্রুয়ারী এলেই দেশকে ভালোবাসির শ্লোগানে মুখোরিত করি চারিদিক! আবহাওয়া ভারী হয় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারীর গানে! মনে হয় যেন আমরাই পৃথিবীতে দেশকে ভালোবাসির দলের একমাত্র সৈনিক! ফেব্রুয়ারী এলেই অমর একুশের বই মেলায় ভীর জমাই যেন বই কেনাতেই জীবনের সবকিছু আছে! বই মেলাতে ভীর জমিয়ে বই কিনলেই যেন দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি সব দায়-দায়িত্ব সব কর্তব্য পূরন  হয়ে যায়!
দেশ প্রেমীক দলের সৈনিকেরা বছরে একবারই বই মেলাতে ভীর করে বই কিনেই যেন মনে করে বই কিনেই সব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে ফেলেছে! আসলে আমরা কতজনে এই বইমেলার বই গুলো পড়ে শেষ করি? নাকি বই কিনে কিনে বইয়ের সেলফ বোঝাই করি? একাকি নিরব নিভৃতে ভাবলেই নিজের জবাব নিজেই পাওয়া যাবে। বই কিনে কিনে বইয়ের তা'ক বোঝাই করা এরপর যখন ধূলো-বালি পড়ে পুরোনো হয় তখন সে বই হয় ভাঙারীর দোকানের সদাই, অবশেষে এই মহামূল্যবান বইয়ের পরিণতি হয় সদাই বহনের থোঙ্গায়, যার মূল্য মাল বহনের পরেই কমে যায়।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

স্বপ্নই কষ্ট!!

সে বেলায় হতাশিত দু'চোখে স্বপ্ন দেখিয়েছিলো প্রবাসী বেলাল রুবিয়াকে।
প্রসস্থ করেছিলো সহযোগীতার হাতকে রুবিয়ার সহজ সরল বিশ্বাসকে হাত করে।
রুবিয়া ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারেনি বেলালের মনের গোপনতাকে। রুবিয়া সহজ মনে
সবকিছু মেনে নিলেও বেলালের গুরো গম্ভীর অন্তরের চাহাস মেনে নিতে পারেনি
পৃথিবীর কেউই পারবেনা।

রুবিয়ার মাকে মোবাইলে বেলাল নানাভাবে বুঝিয়ে
সহযোগীতা করে কিন্তু রুবিয়া সে টাকা নিতে রাজি হয়না। পরিশেষে মায়ের কথায়
সে সহযোগীতা নিলেও সে বলেছিলো সে যদি কোন বিনিময় দাবী করে মা তখন সে কথা
বললে বেলাল বলেছিলো দান করে কি কেউ প্রতিদান চায়? আমি ও চাইনা আমি প্রতিদান
চাই আল্লাহর কাছে। অবশেষে রুবিয়ার কথাই ঠিক হলো।

মাত্র একটি বছর
বাকি এখন পড়া-লেখাটা ছাড়তে রাজি নয় রুবিয়া সে মায়ের কাছে কান্নাকাটি করে।
মাদ্রাসার শিক্ষিকাদের কাছে কান্নাকাটি করে মনের কষ্ট ব্যক্ত করে। তারা
আশ্বাস দেন, তারা সাহস দেন, আল্লাহই উত্তম ব্যবস্থাকারি তিনি তোমার ব্যপারে
উত্তম ফায়সালা করবেন ইনশা-আল্লাহ তুমি ভেবোনা।

সেই সুযোগটাকে

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

আত্মার খোরাক (৫)

বিবাহ বিষয়ে হাদীসঃ-

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)
বলেন, একদা নবী করীম (সঃ) (যুবকদের লক্ষ করে) বললেনঃ হে নওজোয়ানেরা!
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতা রাখে, তাদের উচিৎ
বিবাহ করা। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর
যে বিবাহের দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতা রাখে না, তার উচিৎ (কামভাব দমনের
জন্যে) রোযা রাখা।"

(বুখারী, মুসলিম)

হযরত আবু হুরায়রাহ
(রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ মেয়েদের সাধারণতঃ চারটি বিষয় দেখে
বিয়ে করা হয়। তার সম্পদ দেখে, বংশ মর্যাদা দেখে, রুপ ও সৌন্দর্য দেখে এবং
তার দ্বীনদারী দেখে। তবে তোমরা দ্বীনদারী মেয়ে লাভ করার চেষ্টা কর, তোমাদের
কল্যাণ হবে।

"(বুখারী, মুসলিম)"

হাদীসের ব্যাখ্যাঃ- বর্ণিত
হাদীসটির মর্ম এই যে, বিয়ের ব্যাপারে সাধারণতঃ লোকেরা পাত্রীর ধন-সম্পদ,
বংশ-মর্যাদা, ও রুপ-লাবণ্য দেখে থাকে। আবার কেউ পাত্রীর তাকওয়া পরহেজগারীর

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

অনুভুতি!!

এই তুমি কি দেখছো এমন করে? প্রশ্ন শুনার পরও কোন জবাব না দিয়ে লিটন সাহেব কি যেন দেখছেন অবাক নেত্রে তাকিয়ে। বারংবার পিছনে ফিরে ফিরে কি যে দেখছে লিটন আজকে তার স্ত্রী বুঝতে না পেরে আবারও প্রশ্ন ছুঁড়ে মারলেন লিটন সাহেবের দিকে কি দেখছো? কি বুঝছো? লিটন সাহেব তার স্ত্রীর প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এড়িয়ে গিয়ে বলছেন বেশী বেশি দোয়া করো আল্লাহ যেন আমাদের জন্য যা কিছু কল্যাণকর তাই করেন। স্ত্রী বললো ফি আমানিল্লাহ।

লিটন সাহেব স্ত্রীকে আরো বলেন ধৈর্য রাখো আর কেঁদোনা। এসময় তোমার কান্না করা ঠিক নয়। এতে করে তোমার সমস্যা আরো জটিল আকার ধারণ করবে। যতটা পারো ধৈর্য রেখে দোয়া করো। আল্লাহ না করুন এসময় জোরে কান্নাকাটি তোমার সেলাইয়ের ব্যথা বাড়িয়ে দেবে। শুধু প্রান ভরে দোয়া করো মহান আল্লাহ যেন আমাদের কলিজার টুকরোকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দিয়ে, নেক হায়াত দিয়ে আমাদের জন্য দুনিয়া আখেরাতের কল্যাণ বানিয়ে আমাদের কোলে দেন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)

ভাল বন্ধু হয়ে!!

ভাবি মনে অনেক কষ্ট পেল পরশ যায়না ভাবির ঘরে তাই। ভাবি ভাবতে লাগলো
কোন কথায় হয়তো কষ্ট পেয়েছে পরশ কিন্তু খুজে পেলনা কোন উত্তর! মনে পড়লো
ভাবির পরশের একটি কথা পরশ একদিন বলেছিল আমি আল্লাহর জন্য আপনার সাথে
সম্পর্ক করবো আর তারই জন্য ভাঙবো। পরশ আরো বলেছিলো আমি ততক্ষন সময়ই ওখানে
অবস্থান করি যতক্ষন সময় ওখানে আমার সম্মান থাকে এরপর যখন আমার সম্মানে আঘাত
আসার কোন সম্ভবনা থাকে বা ভয় করি আমি সেখানে আর থাকিনা।

এবং আপনি
যতসময় আমাকে ভাল ভাববেন ততসময়ই আপনার সাথি হবো কোন কারনে খারাপ ভাবলে আর
আমি তা জানতে পারলে আমি নিরবে সরে যাবো ভাবি! তবে আমাদের সম্পর্ক থাকবে
দুরবর্তী হয়ে সেদিন যদি আপনার মনে কষ্ট আসে তো আমার ক্ষমা করে দেবেন! সেদিন
পরশ একথা গুলো বলেছিল হাসতে হাসতে আর ভাবিও হেসেই বলেছিল তোর বর আসলেও
আমার থেকে অনুমতি নিয়ে তোকে নিতে হবে! তোর বরেরও সাহস হবেনা আমার পরশকে
আমার অনুমতি ছাড়া নিয়ে যায়!

রোকেয়া ভাবলো এমনি কিছু হয়েছে হয়তো কোন
কারনে পরশ মনে কষ্ট পেয়েছে! ভাবি পরশের জন্য কয়েকবার আসল দিনের বেলা

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

প্রবীন বিদায়!

পৃথিবীতে অনেক লেখক ও কবি আছেন যারা পরিচিত পাঠক মহলে। আর অনেক মেধা
সম্পন্ন ব্যক্তিও অপরিচিত। তাদেরকে কেউ চিনেনা, জানেনা এবং তাদের লেখাও
প্রকাশিত হয়না খবরের কাগজ বা কোন মিডিয়াতে। এই সকল জ্ঞানী ব্যক্তিদের মেধা
লুকিয়ে আছে তাদের জীবনের ডায়রীতে বা কোন পান্ডুলিপিতে। কখনো কখনো সময়ের
ব্যবধানে কোউ কেউ তাদের মেধাকে বই আকারে প্রকাশ করতে পেরেছেন। আর কেউ কেউ
তা ও করতে পারেন নি। তাদের লেখার মেধা সিমাবদ্ধ রয়েছে ডায়রীর পাতা বা
পান্ডুলিপিতে।

তাই আমি ব্লগের সকল ভাই ও বোনদেরকে অনুরোধ করবো
আপনার সাথে পরিচিত বা আত্মীয়-স্বজন বা বয়ষে বড় অনেকেই হয়তো এমন আছেন যাদের
লেখার মেধা আছে কিন্তু প্রকাশ করতে পারছেন না বা নেট চালাতে পারেন না অথবা
অনেক লেখা জমে আছে কিন্তু চোখে ভালো দেখেন না বলে টাইপ করতে পারেন না
তাদেরকে আমরা যারা টাইপ করতে পারি বা এখনো সময় আছে অনেক লেখালেখি করার তারা
যদি একটু সহানুভুতির হাতকে বাড়িয়ে দিয়ে তাদের লেখা গুলো ব্লগে উঠিয়ে দেই
তবে আমার মনে হয় খারাপ হবেনা।

আমার একখালামনি খুবই ভালো লেখেন

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)

আত্মার খোরাক (৪)

হাদীস পড়ে পড়ে আত্মার খোরাক যোগাই সবে।

"হযরত আনাস (রাযিঃ)
হতে বর্ণিত, নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওয়ারিছকে তার মীরাছ হতে
বঞ্চিত করবে আল্লাহ কিয়ামতেরদিন তাকে জান্নাতের মীরাছ হতে বঞ্চিত করবেন।"

(ইবনে মাযাহঃ)

"হযরত
আওস ইবনে সুরাহবীল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (সঃ) কে বলতে
শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি যালিমকে যালিম বলে জানার সত্ত্বেও তাকে শক্তিশালি করার
উদ্দেশ্যে অগ্রসর হবে, সে ইসলাম হতে বের হয়ে যাবে।"

(বায়হাকী)

হাদীসের
ব্যাখ্যাঃ- যালিমকে বাঁধা দান এবং মযলুমকে সাহায্য করা হলো মুসলামানদের
পবিত্র দায়িত্ব। উক্ত দায়িত্ব পালন না করে বরং যে এর বিপরীত করে, অর্থ্যাৎ
মযলুমের কোন সাহায্য না করে যালেমেরই সাহায্য করে, সে ইসলামের নিয়ামত হতে
বঞ্চিত হবে।

"হযরত ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ তোমরা মজুরের শরীরের ঘাম শুকাবার আগেই তার মজুরী দিয়ে দিবে।"

হাদীসের

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

ভাল বন্ধু হয়ে!! (৪)

পরশের থেকে জেনে ভাবি অনেক অনেক কিছু বুঝতে পেরেছে, বুঝতে পেরেছে
জীবনের মানে, বুঝতে পেরেছে দুনিয়ার জীবনের পরেও আরেক জীবন আছে সেখানে থাকতে
হবে অনন্তকাল! দুনিয়ার আসবাব দুনিয়াতেই থাকবে আর সাথে যাবে সুন্দর আখলাক
এসব জেনে জেনে রোকেয়া ভাবি তার জীবনের গতিই পাল্টে ফেলল!

যে রোকেয়া
জর্জেটের শাড়ি পরতো নাভীর নিচে সেই রোকেয়া আজকে হাতে পায়ে মোজা পরে বাহিরে
যায়! যে রোকেয়া পার্লার থেকে সেজে বিয়ের দাওয়াতে যেতো সেই রোকেয়া এখন
জ্ঞানার্জনে সময় ব্যায় করে! যে রোকেয়া আড্ডা বাজি করে সময় অপচয় করতো সেই
রোকেয়া আজ বুঝেছে সময়ের মূল্য! বুঝেছে জীবনের দাম!

রোকেয়া ভাবি যার
সহযোগীতায় আল্লাহকে চিনতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে নিজের জীবনের লক্ষ ও
উদ্দেশ্য, প্রার্থনার সময় মন ভরে দোয়া করে সেই আপন মানুষটির জন্য সে
মানুষটি আর কেউ নয় পরশ। পরশের জন্য দোয়া হে আল্লাহ পরশের কারনে আমি তোমাকে
চিনতে পেরেছি আমি তো পরশকে কিছু দিতে পারবোনা তুমিই তাকে উত্তম প্রতিদান
দিও দো-জাহানে!

ওর জন্য উত্তম বরের ব্যবস্থা করে দিও ওর মনের মত

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

ভাল বন্ধু হয়ে!! (৩)

পরশদের বাসার উপর দিয়েই যাচ্ছিলো রোকেয়া! অন্য একজনের বাসায় আড্ডা
দেয়ার জন্য! তখনই জানতে পারে এবাসায় চুরি হয়েছে! আশেপাশের মহিলারা বলাবলি
করছে মেয়েটা এমনি বাসায় থাকেনা ছুটিতে বাসায় আসছে কালকে আর রাতেই তার
কাপড়ের ব্যাগ চুরি গেছে! শুনে রোকেয়া মনে মনে ভাবল মেয়েটার নাম অনেক শুনেছি
কিন্তু কখনো দেখিনি আজকে দেখা করে যাই! পরশদের ঘরে গেল রোকেয়া! পরশ খুব
লজ্জা পাচ্ছিল বড়দের কাপড় পরে আছে বলে! রোকেয়া ঘরে ঢুকেই বলছে পরশ নাম
শুনতে শুনতে চুল পেকে যাচ্ছে কিন্তু এখনো দেখলাম না! চাচি ও চাচি তোমার পরশ
কই? আইতে কওনা সামনে! পরশ এসেই সালাম দেয় আস-সালামু আলাইকুম! রোকেয়া বলে
আমাকে সালাম দেয়ার দরকার নেই আমি এখনো বুড়ো হইনি! পরশ বলে সালাম তো ছোট বড়
সবাই সবাইকে দিতে পারে ছোট আর বুড়ো নেই! বসেন; পরশ চুপি চুপি ওর মাকে বলে
মা! উনাকে কি বলে ডাকবো? মা বলে দেয় ওর স্বামী তো আমাকে চাচি ডাকে তুই ওকে
ভাবি বলে ডাক! পরশ ভাবি বলেই ডাকে কথা বলে নানা রকম বিষয়ে! রোকেয়ার পরশের
কথাগুলো খুব ভাললাগে! পরশ তুমি এসো আমাদের বাসায় এই তো তোমাদের পাশেই বাসা!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)
Syndicate content