'আতাউর রহমান সিকদার' -এর ব্লগ

সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে ওয়াইনবার্গের মন্তব্য ও কিছু কথা

“যে বিশ্ব একেবারে বিশৃঙ্খল, বিধিবিহীন, তেমন একটি বিশ্বকে কোন মুর্খের সৃষ্ট বলে ধরে নেয়া যেতে পারে” - উক্তিটি নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ ষ্টিফেন ওয়াইনবার্গ-এর। মানুষে মানুষে নির্দয় হানাহানী, দুর্বলের উপর শক্তিমানের যুলুম অবিচার ও শোষণ নিপীড়ন, ধনী দরিদ্রের বেদনাদায়ক ব্যবধান, কল্যাণ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাকামীদের অসহায়ত্ব, মাযলুমের উপর যালিমের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্ব ও সীমাহীন যুলুম -  ইত্যাদি দর্শন করে হয়তো তিনি এ উক্তিটি করেছেন। শুধু ওয়াইনবার্গ নয় মনুষ্যজগতে এমনি ধরনের অরাজকতা দেখে এ জাতীয় ধারণা পোষণ করেন এ পৃথিবীর বহু মানুষ।
তাদের প্রত্যাশা বা দাবী - এখানে এ বিশ্বে কোনও গড বা অতি শক্তিধর কেউ থাকলে পৃথিবীব্যাপী এমন হানাহানী ও অবিচার চলতে পারতো না, কোথাও অন্যায় অবিচার হওয়ামাত্র সেই গড মাটিতে নেমে এসে অন্যায়কারীকে সাথে সাথে পাথর বানিয়ে ফেলতেন কিংবা নিদেনপক্ষে অন্যায়কারীর হাত পা অবশ হয়ে যেতো .... ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনার রেটিং: None

হাসান আল বাসরীর পত্রাবলী থেকে

হাসান আল বাসরীর পত্রাবলী থেকে....

হাসান আল বাসরীর সাথে ইসলামের পঞ্চম খলীফা উমার ইবনু আবদিল আযিযের ছিল গভীর ভ্রাতৃত্ব ও অন্তরংগতা। ইতিহাস ও সীরাতের  গ্রন্থাবলীতে তাদের সুসম্পর্কের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। উমার ইবনু আবদিল আযিয (রহ:) খিলাফাতের দায়িত্ব গ্রহনের পর ন্যায়পরায়ন শাসকের গুনাবলী কি তা জানতে চেয়ে হাসান আল বাসরীকে (রহ) একটি পত্র লিখেন। জওয়াবে হাসান আল বাসরী (রহ) লিখেন:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

হাসান আল বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ)

হাসান আল বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ)
জন্ম এবং শৈশবকাল: হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) এর পুবপুরুষ ইরাকের অধিবাসী ছিলেন। পিতার নাম পিরোয। বার হিজরীতে ইরাক বিজিত হলে পিরোয বন্দী হয়ে মাদীনায় আসেন ও ইসলাম গ্রহন করেন এবং পরবর্তীতে উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার দাসী খাইরার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২১ হিজরীতে এ দম্পতিরই ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহন করেন হাসান। ভুমিষ্ট হবার পর হাসানকে উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি বললেন: শিশুটি দেখতে বেশ সুন্দর হয়েছে, তোমরা এর নাম রেখো হাসান।
এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইনতেকালের ৯ বছর (মতান্তরে ১০) পরের ঘটনা। যৌবনে পদার্পন করার পর হাসান ইরাকের বাসরায় গমন করেন এবং অত:পর জীবনের বাকী অংশ সেখানেই কাটান, একারনে লোকমুখে তিনি হাসান আল বাসরীরুপে পরিচিত হন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

ইসলামের পঞ্চম খলিফা

উমার ইবনু আবদিল আযিয (রাহিমাহুল্লাহ):
বংশ পরিচয়: উমার ইবনু আবদিল আযিয (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন ইতিহাসে বহুল আলোচিত ও নিন্দিত মারওয়ানের দৌহিত্র (Grandson)। তবে উমারের মাতুল বংশ এ পৃথিবীর সবোত্তম মানুষদের একজন উমার উবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সম্পর্কিত। সে সম্পর্কের শুরুর কাহিনীটা বোধকরি এখানে বলে নিলে ভাল হবে।
উমার উবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন ইসলামী জাহানের দ্বিতীয় খালিফা। প্রতিদিনের অভ্যাসমত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রাতের আধারে প্রজাদের অবস্থাদি দর্শনে বেরিয়েছেন। হঠাৎ এক কুড়েঘর থেকে শুনলেন নিম্পরুপ কথোপকথন:
এক মা তার কন্যাকে বলছে: এখন কেউ কোথাও নেই, দুধে কিছু পানি মিশিয়ে নাও মা।
কন্যা উত্তর দিচ্ছে: এ আপনি কি বলছেন আম্মা! আমাদের খালিফা দুধে পানি মিশাতে নিষেধ করেছেন আপনি কি তা শোনেননি?
মা উত্তর দিচ্ছে: উমারের লোকেরাতো এখন নেই।
কন্যা বলছে: উমারের লোকেরা নেই বটে, কিন্তু আল্লাহতো আছেন। তিনি কি দেখছেননা? আমি কখোনোই দুধে পানি মিশাবোনা।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

নারীদের নিকাব প্রসংগ

নারীদের নিকাব প্রসংগ

(আমার এ লেখাটি ঐসকল কিশোরী, যুবতী, বধু মাতাদের জন্য যারা নারীদের নিকাব বিতর্কে ও আলিম সমাজের মতভেদের দ্বন্ধে দিশাহারা এবং ভাবছেন যে, চেহারা খোলা রাখা জায়েয হয়ে থাকতে পারে। আমি মনে করি, মহা বিভীষিকাময় সে দিনটি এসে যাবার আগে প্রকৃত সত্যটি অবহিত হয়ে পথ চলা উচিত যেন তখন অনুশোচনার কোন কারন না ঘটে)।

ইতিহাসের নিরিখে নিকাব প্রসংগ:-
ব্যাপার এরকম ছিলনা যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কোন কোন নারী চেহারা অনাবৃত অবস্থায় চলাফেরা করতো এবং  রাসুলুল্লাহ (সা) তা অপছন্দ করলেও অনুমতি দিয়েছিলেন। বরং ইতিহাস এর বিপরীত কথা বলে। রাসুল (সা) এর মুখ থেকে কখনো এ কথা উচ্চারিত হয়েছে বলে কোন দলিল খুজে পাওয়া যায়না যে, সুরা আন নুরের ৩১ নাম্বার আয়াতের  الا ما ظهر منها (যা আপনা আপনি প্রকাশিত হয়ে পড়ে) ব্যাখ্যায় তিনি চেহারাকেও বুঝিয়েছিলেন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব চৌদ্দ

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব চৌদ্দ

ধণাঢ্যতা, প্রাকৃতিক সম্পদের আধিক্য ইত্যাদিও পরীক্ষার বস্তু:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব তের।

পরীক্ষার ধরণ প্রকৃতি (পুর্ব প্রকাশিতের পর)

পরীক্ষা (সেটা ভাল দিয়ে হোক বা মন্দ) প্রতিটি আদাম সন্তানের জন্য অবধারিত একথা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আলকুরআনুল কারিমে বার বার অবহিত করেছেন, এবং সেই সাথে অতীত হয়ে যাওয়া নাবীদের ইতিহাসও বর্ণনা করা হয়েছে আর সেটা শুরু হয়েছে এ পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও নাবী আদাম আলাইহিস সালাম এর পরীক্ষার কথাগুলো বর্ণনার মাধ্যমে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এসকল কথা মানবজাতীকে কিচ্ছা শুনানোর উদ্দেশ্যে বিবৃত করেননি, এসব দৃষ্টান্ত তিনি উল্লেখ করেছেন মানুষকে এটা অবহিত করার নিমিত্ত যে, দেখো – তোমাদের পুর্বে যারা অতিক্রান্ত হয়েছে তাদের সবাইকে একটা পরীক্ষার দরিয়া অতিক্রম করতে হয়েছে, তোমাদেরকেও তা করতে হবে।

কুরআন কারিমে পরীক্ষা সংক্রান্ত সে ঘোষণাগুলো এসেছে এভাবে:

"আর অবশ্যই আমি ভীতি, অনাহার, প্রাণ, সম্পদ, ফল ফসলাদির ক্ষতির মাধ্যমে এবং উপার্জন ও আমদানী হ্রাস করে তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো" (সুরা আল বাকারা 155)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব বার

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব 12

অতীতের আসমানী কিতাবগুলোর মত এ গ্রন্থও যাতে বিকৃতির শিকার না হয়ে পড়ে তার জন্য আল্লাহ তায়ালার গৃহীত ব্যবস্থাবলী তাক লাগিয়ে দেয়ার মত। কুরআন নাযিলের পর থেকে অদ্যাপি পযন্ত ইসলাম ও ইসলামী উম্মাহর বিরুদ্ধে দিন রাত চতুর্মুখী প্রচারণা, কুরআনকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে দেয়ার বিশ্বব্যাপী অপতৎপরতা ও অপচেষ্ঠা সত্বেও এ কুরআন রয়েছে অবিকৃত। এ এমন এক মোজেযা যার তুলনা মেলা ভার, বর্ননার অতীত।
যে কুরআন আল্লাহ তায়ালা আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর পুবে নাযিল করেছিলেন সেই একই কুরআন আমাদের মাঝে রয়েছে বর্তমান। একটি যের, যবরের হের ফের কিংবা নোকতার পরিবর্তনও তাতে ঘটেনি। সুরা আল হিজর এর 9 নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন: “আর এ বাণী, একে তো আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক”৷ আল্লাহর এ ঘোষণা কুরআনের যথাযথ গ্রন্থাবদ্ধকরন সম্পর্কে সংশয়বাদীদের যাবতীয় সন্দেহের সংশয়ের সমস্ত ভিত্তিকে উপড়ে ফেলে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব এগার

সর্বশেষ মু'জিযা
পৃথিবীর ইতিহাস ও নাবী রাসুলদের আগমনের ধারাবাহিকতা অধ্যয়ন করলে প্রতীয়মান হয় যে, এ পৃথিবী যতক্ষণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের এমনসব উপায় উপকরন সৃষ্টি করতে পারেনি যা গোটা পৃথিবীকে একজন মাত্র নাবীর আহবানে সাড়া দেয়ার জন্য একত্র করতে পারে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতিটি জাতীর নিকট স্বতন্ত্রভাবে নাবী রাসুল প্রেরণ অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু যখন নাবীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ফল পৃথিবীর প্রায় সকল জনপদ ও জাতীসমুহকে এমন পর্যায়ে পৌছে দিল যে, এখন তারা একটি বিশ্বব্যাপক জীবন ব্যবস্থার অধীনে জীবন যাপন করতে পারবে এবং একই সাথে বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত উপায় উপাদানেরও এতটা উন্নতি হল যে, একজন মাত্র নাবীর আহবান অল্পায়াসেই গোটা পৃথিবীতে পৌছে যেতে পারে তখন আল কুরআনুল কারিম সহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নাবী করে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির অভুতপুর্ব কল্যাণে পৃথিবীর ছোট হয়ে আসা অন্তত: তা-ই প্রমাণ করছে বলে মনে হয় (প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট)। বস্তুত: এতেও এক দিক নির্দেশনা রয়েছে পরীক্ষার্থী তথা মানবকুলের জন্যে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.4 (5টি রেটিং)

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব দশ

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব দশ:
যুক্তির নিরীখে আসহাবু কাহাফ:
১- এ কাহিনী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বতপ্রবৃত্ত হয়ে কুরআনে উল্লেখ করেননি বরং মাক্কার কাফিরদের প্রশ্নের জওয়াবে এ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে (দ্রষ্টব্য: তাফহীমুল কুরআন, সুরা আল কাহাফ নাযিলের পটভুমি)। যদি আল্লাহ এখবর না জানাতেন এ ইতিহাস মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানার কথা ছিলনা। অবিশ্বাসীদের কথানুসারে যদি ধরে নেই যে, আসহাবু কাহাফের ঘটনা বানানো, মুহাম্মাদ সা: নিজে তা রচনা করেছেন তাহলে তা-ও গ্রহনযোগ্য হয়না, কারন মুহাম্মাদ সা: এর আগমনের অনেক পুর্ব থেকে ইসায়ী অ-ইসায়ীসহ সকল ঐতিহাসিকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ ইতিহাস শ্রুত ছিল। তাছাড়া মিথ্যা ইতিহাস রচনার অপবাদ মুহাম্মাদ সা: এর উপর খাটেওনা, কারন তার শত্রুরাও সাক্ষ্য দিত যে, মুহাম্মাদ সা: জীবনে একবারও মিথ্যা কথা বলেননি।  

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)
Syndicate content