'আতাউর রহমান সিকদার' -এর ব্লগ

যাকাতের কিছু অপ্রকাশ্য উৎসমুখ

যাকাতের বিধান, খাত ও এসম্পর্কিত যাবতীয় মাসায়েল একটি ব্যাপক ও জটিল বিষয়। এ ক্ষুদ্র পরিসরে তা তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে অধুনা অর্থ বিনিয়োগ বা লগ্নিকরণের নতুন নতুন খাত সৃষ্টি হওয়ায় যাকাত দাতাদের মধ্যে যে জিজ্ঞাসা ও দ্বিধা-দ্বন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে তা নিয়ে মত বিনিময় করা পূণ্যের কাজ বলে আমি মনে করি।  

যেমন উদাহরণস্বরুপ নাবালেগের নামে বিভিন্ন ফিক্সড ডিপোজিট।

বেশ কয়েকজনের সাথে আমি এ নিয়ে আলোচনা/অনুসন্ধান করেছি। কেউ বলেছেন: “টাকাটিতো নাবালেগের নামে, নাবালেগের কি যাকাত আছে”?

কেউ বলেছেন: “এ টাকার যে যাকাত দিতে হবে তা আমি জানতামনা”।

কেউ প্রশ্ন করেছেন: “শেয়ারেরও যাকাত আছে”?

ইত্যাদি ইত্যাদি।

যাহোক, সম্মানীত পাঠক/পাঠিকাদের সমীপে আলোচিত সে খাতসমুহ (ফকীহদের রায়সহ) আমি তুলে ধরছি:

ইয়াতীমের সম্পদ/নাবালেগ সন্তানের নামে ব্যাংকে এফ ডি আর:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

যাকাত না দিলে নামায কবুল হয়না

যাকাত বান্দার মধ্যে ইসলামের আলামত সমুহের একটি। কেউ যাকাত দিতে অস্বীকৃত হলে তখন সে আর মুসলিম থাকেনা। কুরআন যাকাত না দেয়াকে আখিরাত অস্বীকারকারীদের নিদর্শন বলে অভিহিত করে।

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: কুরআনের তিনটি আয়াত তিনটি জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত করে নাযিল হয়েছে। প্রতি জোড়ার একটি বাদ দিয়ে অন্যটি করা হলে তা কবুল হবেনা। 

এর প্রথমটি হলো: কুরআনের এ আয়াত: “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুলের আনুগত্য কর”।

অতএব যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য না করে শুধু আল্লাহর আনুগত্য করবে তার এ আনুগত্য কবুল করা হবেনা।

দ্বীতিয়টি হলো: কুরআনের এ আয়াত: “তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর”।

সুতরাং যে  যাকাত দিলোনা অথচ নামায কায়েম করলো তার এ নামায কবুল হবেনা।

তৃতীয়টি হলো: কুরআনের এ আয়াত: “তোমরা আমার ও তোমাদের পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ থাক”।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

হতভাগ্য রোজাদার

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করতে পারলোনা, সে ব্যক্তির পানাহার বর্জনে (অর্থাৎ রোজা রাখায়) আল্লাহর কোনই প্রয়োজন নেই” (বুখারী ৪/৯৯। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু)

অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে: “এমন কত রোজাদার আছে যারা রোজা রেখে ক্ষুৎপিপাসার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পায়না। এমন কত নামাযে দন্ডায়মান রাত জাগরণকারী আছে যারা রাত্রি জাগরণের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পায়না”।(বুখারী। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রা) 

অথচ ভুলবশত খেয়ে ফেললেও রোজা ভাঙেনা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি রোজা অবস্থায় কেউ ভুলক্রমে খায় বা পান করে তাহলে সে যেন তার রোজাকে পুর্ণ করে, কারন আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন বা পান করিয়েছেন” (বুখারী ৪/১৩৫, মুসলিম ১১৫৫। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রা)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

মৃত্যু কামনা সম্পর্কে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: দু:খকষ্টে পতিত হয়ে তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। একান্তই যদি তা করতে হয় তাহলে যেন সে বলে: হে আল্লাহ, জীবন আমার জন্য যতক্ষণ কল্যাণকর ততক্ষণ আমাকে জীবিত রেখো। আর, মৃত্যু আমার জন্য যখন কল্যাণকর তখন আমাকে মৃত্যু দান করো। কারন, যদি সে নেককার হয় তাহলে হয়তোবা আরও নেকী অর্জনের সময়কাল সে লাভ করবে। আর যদি গুনাহগার হয় তাহলে হয়তোবা তাওবা করার কোনো সুযোগ সে অর্জন করবে। (বুখারী ১০৯/১০, মুসলিম ২৬৮২ আরবী। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহ)

ব্যাখ্যা: আয়ুস্কাল তথা সময় আদম সন্তানের এক বড়ো নিয়ামাত। মৃত্যু মানেই তার সময়ের সমাপ্তি। আর জীবন মানে, তার হাতে এখনো কিছু সময় বাকী আছে। চাইলে সে সময় নামক এ হীরক টুকরোকে ভালো কাজে লাগিয়ে সফল হয়ে যেতে পারে। 

বলাবাহুল্য, একারনেই ইসলাম আত্নহত্যাকে হারাম ঘোষণা করেছে। 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

আল্লাহ বোঝার তাওফীক দিন

“যে বিশ্ব একেবারে বিশৃংখল, বিধিবিহিন। তেমন একটি বিশ্বকে কোন মুর্খের সৃষ্ট বলে ধরে নেয়া যেতে পারে” – উক্তিটি নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ ষ্টিফেন ওয়াইনবার্গ-এর।

দুবলের উপর শক্তিমানের যুলুম অবিচার, ধনী দরিদ্রের বেদনাদায়ক ব্যবধান, কল্যাণ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাকামীদের অসহায়ত্ব – ইত্যাদি দেখে বোধকরি ওয়ানইনবার্গ উক্তিটি করেছিলেন। শুধু ওয়াইনবার্গ নয়, মনুষ্যজগতের এহেন অরাজগকতা দেখে এ জাতীয় ধারণা লালন করেন এ পৃথিবীর বহু মানুষ। 

তাদের বক্তব্য: এ Universe – এ কোনও গড বা অতি শক্তিধর কেউ থাকলে পৃথিবীব্যাপী এমন হানাহানি ও যুলুম অবিচার চলতে পারতোনা। কোথাও কোন অন্যায় অবিচার হওয়ামাত্রই সেই অতি শক্তিধর গড মাটিতে নেমে এসে অন্যায়কারীকে সাথে সাথে পাথর বানিয়ে ফেলতেন কিংবা নিদেনপক্ষে তার হাত পা অবশ হয়ে যেতো কিংবা এমন ধরণের কিছু। আর সেই গড (যদি সত্যই তিনি অস্তিত্বে থাকেন) এর যিনি দূত হবেন তিনিও হবেন অতি মানব, অতি প্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী। ইত্যাদি ইত্যাদি।   

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

সময়ের সংজ্ঞা

সময়ের সংজ্ঞা দিতে বলা হয়ে থাকে যে, দু’টু ঘটনার মধ্যবর্তী ব্যবধান হচ্ছে ‘সময়’।

কিন্তু ইতিহাস (যা সৃষ্টির সুচনালগ্ন থেকে শুরু হয়েছে) আমাদেরকে ভিন্ন জিনিস নির্দেশ করে। জ্ঞান ও যুক্তি বলে যে, সময় কোনো ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। কিছু ঘটুক আর না ঘটুক সময় (The Time) তার নিজের মতোই বয়ে চলে।

আপনার জীবন সায়াহ্নে আপনি যদি একশো ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে মালাকুল মাওতকে বলেন (যদিও এসুযোগও আপনাকে দেয়া হবেনা) ‘ওগো আল্লাহর দূত, আমাকে আর একটি বছর সময় দাও। তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত: ছয়টি মাস, তা-ও যদি সম্ভব না হয় তাহলে কমপক্ষে একটি মাস’।

আপনার আবেদন মঞ্জুর হবে কি? হবেনা। আপনার জন্য বরাদ্দকৃত সময়টি শেষ হয়ে গেলে মালাকুল মাওত আপনাকে এক সেকেন্ড সময়ও দেবেনা।

একথাগুলোই কুরআন কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বার বার মানুষকে বুঝিয়েছেন। বান্দার চেতনা উদয়ের জন্য তার অন্তিম সময়ের চিত্র মিছাল দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, 

(মৃত্যুর সময়টি উপস্থিত হলে বান্দা কাকুতি মিনতি করে বলবে):

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

মানুষের কল্যাণাকাংখা নিয়ে এ লেখা.

ভেজা তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর গা মুছে দেয়ার যে নিয়ম অধুনা চালু হয়েছে তা ভুল। এক্ষেত্রে সঠিক হচ্ছে তা, যা আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা দিয়ে গেছেন। 

ইতিহাস এবং হাদিসগুলো (যাতে ঠান্ডা পানি দিয়ে জ্বরের চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো রয়েছে) অধ্যয়ন করলে দেখা যায় – সাহাবীগন জ্বরে আক্রান্ত রোগীর মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালতেন অথবা ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে রোগীর কপালে তা ধরে রাখতেন। কিন্তু  ভেজা কাপড় দিয়ে তারা শরীর মাসেহ করতেন এমন কোনো প্রমাণ ইতিহাসে খুজে পাওয়া যায়না।  

চিকিৎসা শাস্ত্রও এমনটাই সাপোর্ট করার কথা। কারন, জ্বর মানেই শরীর তথা জীবনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন দুবল, রোগীর Resistance power কম ।

এসময়ে ঐ পদ্ধতি বা ব্যবস্থাপত্রই সবাধিক উপযোগী যা রোগীকে শারীরিক, মানসিক আরাম দেবে এবং রোগীর Immune System কে কর্মক্ষম করবে।

আপনার রেটিং: None

পংগপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তের আযাব প্রসংগ

কুরআন কারিম থেকে: 

(পংগপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তের আযাব প্রসংগ)

“ফিরআউন ও তার অনুসারীদেরকে আমি কয়েক বছর পযন্ত দুর্ভিক্ষ ও ফসলহানিতে আক্রান্ত করেছি, এ উদ্দেশ্যে যে, হয়তো তাদের চেতনা ফিরে আসবে এবং সতর্ক হবে (১৩০)। তাদের যখন ভালো সময় আসতো, বলতো: এটা আমাদের প্রাপ্য, আমরা নিজেদের যোগ্যতাবলে এসব অর্জন করেছি, আর খারাপ সময় এলে বলতো: মুসা ও তার সাথীরা অপয়া, কুলক্ষুণে। তাদের কারনেই আমরা বিপদে পতিত হয়েছি ..... (১৩২) 

......... অবশেষে আমি তাদের উপর দুযোগ পাঠালাম, পংগপাল ছেড়ে দিলাম, উকুন ছড়িয়ে দিলাম, ব্যাঙের উপদ্রব সৃষ্টি করলাম এবং রক্ত বর্ষণ করলাম। এসব নিদর্শন আলাদা আলাদা করে দেখালাম। কিন্তু তারা অহংকারে মেতে রইলো ..... (১৩৩)।

যখনই তাদের উপর বিপদ আসতো তারা বলতো: হে মুসা, তোমার রবের কাছে তুমি যে মযাদার অধিকারী তার ভিত্তিতে তুমি আমাদের জন্য দোয়া কর। যদি এবার তুমি আমাদের উপর থেকে এ দুযোগ হটিয়ে দাও, তাহলে আমরা তোমার কথা মেনে নেবো এবং বানু ইসরাঈলকে তোমার সাথে পাঠিয়ে দেবো (১৩৪)।

আপনার রেটিং: None

ইসলামে মানত

‘মানত’ এর রয়েছে প্রকারভেদ। ক্ষেত্র ও বিষয়ভেদে কিছু মানত জায়েয, যেমন কেউ তার অতীত জীবন লিপির কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হলো এবং মানত করলো যে, সে সুস্থ হয়ে একমাস রোজা রাখবে বা একশো ওয়াক্ত নফল সালাত আদায় করবে বা একশো মিসকীনকে খাবার খাওয়াবে ইত্যাদি।

আবার কিছু মানত সবতোভাবে হারাম। যেমন কেউ মানত করলো: 

‘আল্লাহ যদি আমার এ মনোবাঞ্চাটি পুর্ণ করেন তাহলে আমি এতো টাকা দান করবো’। ‘আল্লাহ যদি আমাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে আমি এ কাজগুলো করবো’। ‘আল্লাহ যদি আমাকে একটি পুত্র সন্তান দেন তাহলে আমি শাহজালাল এর মাযারে একটি ছাগল দেবো’ (এ ধরণের মানত তো বড়ো শিরক)। ইত্যাদি ইত্যাদি।

অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি শর্তারোপ করা যে, তিনি যদি আমার এ কাজটি করে দেন, তাহলে আমি এটা করবো, ওটা করবো। নচেৎ নয়।

যাহোক, মানত সম্পর্কে ফিকাহ শাস্ত্রের জটিল আলোচনা পরিহার করে আমি এখানে এ বিষয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য উপস্থাপন করাকেই বেশ প্রণিধানযোগ্য মনে করছি:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

কুন দা’য়ীয়ান

আল্লাহ তায়ালা শুধুমাত্র দয়ালু নন, তিনি ইনসাফেরও প্রতিষ্ঠাতা। তার অগাধ জ্ঞান, অসীম কর্তৃত্ব ও ন্যায়বিচারের কাছ থেকে এটা আশা করা যেতে পারেনা যে, মানুষ আল্লাহ তথা হেদায়াতের পথ সম্পর্কে জানতে পারবেনা অথচ সেপথে না চলার দরুন তিনি তাদেরকে ধরে শাস্তি দেবেন। 

কোন বস্তুটি সম্পর্কে জওয়াবদিহী করতে হবে তা মানুষের অজ্ঞাত থাকবে, আর তার নিকট থেকে সে বস্তুটি সম্পর্কেই জওয়াব চাওয়া হবে এটি হতে পারেনা।

আর এজন্যেই তিনি এ দুনিয়ার প্রথম মানুষটিকেই একজন নবীরুপে সৃষ্টি করেন। অত:পর মানবজাতিকে আল্লাহর পথ সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং দুনিয়ায় জীবন যাপনের নির্ভুল পদ্ধতি শেখানোর জন্য যুগে যুগে আরো নাবী পাঠিয়েছেন। তারা মানুষকে এ শিক্ষা দিয়ে গেছেন যে, দেখো – এটি হচ্ছে আল্লাহর পথ। আর, এটি শয়তানের। 

একথাটি আল্লাহ তায়ালা তার সবশেষ কিতাব কুরআনেও অবহিত করেছেন এভাবে:

আপনার রেটিং: None
Syndicate content