'আতাউর রহমান সিকদার' -এর ব্লগ

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব দুই

বার্ডেন অফ প্রুফ । পর্ব দু্ই
 
যে শিক্ষা বা দিক নির্দেশনাগুলো আমরা উপরের কাহিনী এবং এতদসংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা থেকে পাই তা হচ্ছে:

১- যিনি পরীক্ষা নেবেন তাকে অবশ্যই লুকায়িত থাকতে হবে অথবা অন্য কোন উপায়ে নিরপেক্ষ পরীক্ষানীতির শর্তাবলী পুরণ করতে হবে।
২- পরীক্ষকের অবাধ্যতা বা বিরোধীতা করার সাথে সাথে যদি পরীক্ষক তাকে পাকড়াও করেন বা মেরে ফেলেন তাহলে তা হবে নীতিবিরোধী কাজ যা পরীক্ষানীতির সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। এধরণের কাজকে কোন যুক্তিতেই পরীক্ষা বলা যাবেনা।
৩- কোন কাজকে পরীক্ষা বলা যাবে তখন, যখন পরীক্ষার্থীকে নিম্নোক্ত স্বাধীনতাগুলো প্রদান করা হবে:
(ক) পরীক্ষা দেবার জন্য যতটুকু সময় পরীক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ সেই সময়টুকুতে তাকে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা দেবার সুযোগ দিতে হবে, অর্থাত সে যদি ঐ সময়ে সারাক্ষণ বসে থাকে তাহলে পরীক্ষক তাকে পরীক্ষা হল থেকে বহিস্কার করতে পারবেননা, সে যদি ঐ পুরো সময়ব্যাপী পরীক্ষকে গালাগাল করতে থাকে বা পরীক্ষার খাতায় হিজিবিজি আকতে থাকে তাহলেও পরীক্ষক তার এ কর্ম থেকে তাকে বিরত রাখতে কোন ব্যবস্থা নিতে পারবেননা।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)

বার্ডেন অফ প্রুফ। পর্ব এক

এক: কেন তিনি লুকায়িত:

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ মুনষ্যজগতের সমুদয় ব্যবস্থাপনা, জন্ম ও মৃত্যু এবং তাদের প্রতিপালনসহ ইত্যাদি যা কিছুই করেন একান্ত অলক্ষে, অগোচরে এবং লুকায়িত থেকেই তা করেন, নিজে মাটিতে নেমে এসে দেখা দিয়ে করেননা। রিসালাতের সংবাদ তথা রাসুল প্রেরণের কথাও তিনি তার রাসূলদের মুখ দিয়েই বলিয়েছেন, নিজে আকাশ থেকে ডাক দিয়ে বলেননি যে, অমুক ব্যক্তি আমার রাসুল। বাণীসমুহ তথা কিতাব প্রেরণ করেও তা রাসুলদের মুখ দিয়েই উচ্চারণ করিয়েছেন, আকাশ থেকে গুরু গম্ভীর স্বরে তা তিলাওয়াত করা হয়নি। তিনি তার নিজের পরিচয়ও রাসুলদের মাধ্যমেই মানবজাতীকে অবহিত করেছেন অতি প্রাকৃতিক কোন পথ পদ্ধতি তাতে অবলম্বিত হয়নি। তার যে রয়েছে অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা ও একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও আধিপত্য একথাও তিনি তার রাসুলদের মুখ দিয়েই বলান নিজে আকাশ থেকে আওয়াজ দিয়ে বলেননা।
বোধকরি এই বিষয়গুলোই সংশয়বাদীদেরকে সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে ভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করেছে, ঠেলে দিয়েছে কুফরের পথে।  যে জন্যে তারা বলতো:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ১০

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ১০

৪- তাকওয়ার পথ আকড়ে থাকা:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৯

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৯
আরও কতিপয় চারিত্রিক সুষমা:

১-  সর্বাবস্থায় ন্যায়ের উপর অটল থাকা:
ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর পথের এ পথিক সম্পর্কে তার জানের শত্রুরাও এ নিশ্চয়তা পোষণ করবে যে, এ ব্যক্তি যাই বলুক, যাই করুক ন্যায় ও ইনসাফের পথ থেকে কখনো সে বিচ্যুত হবেনা। তার চরম বিরুদ্ধবাদীরাও এ স্বাক্ষ্য প্রদান করবে যে এ ব্যক্তি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ, হটকারিতা, প্রতিশোধস্পৃহা কিংবা বন্ধুত্ব বা স্বজনপ্রীতিকে নিজের অন্তরে স্থান দেবেনা।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (6টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৮

পর্ব ৮
ক্ষমা, উদারতা, সহনশীলতা ও রাগ সংবরণ – বাকী অংশ

ইসলাম আল্লাহর পথের দায়ীকে এসকল গুনাবলী অর্জনের তাকিদ প্রদান করেই বিষয়ের সমাপ্তি টানেনি, সাথে সাথে এর পুরস্কারের সুসংবাদও প্রদান করেছে। সংগত কারনে সে সুসংবাদগুলোর খানিক দৃষ্টান্তও এখানে উপস্থাপন করা জরুরী মনে করছি। আল্লাহ বলেন:
"এরা ক্রোধকে সংবরণ করে (প্রতিশোধ নেয়না) এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। আর আল্লাহ এই ধরনের মু'মিনদেরই ভালবাসেন। (আলে ইমরান 134)
আল্লাহ আরও বলেন:
''সদাচারের প্রতিদান সদাচার ছাড়া আর কি হতে পারে''(সুরা আর রাহমান 60)
রাসুল সা: বলেছেন:
"এমন কখনোই হয়না যে, বান্দা আল্লাহরই জন্য ক্ষমা ও বিনয়ের নীতি অবলম্বন করেছে আর আল্লাহ তার মর্যাদা ও সম্মান বাড়িয়ে দেননি। (মুসলিম, তিরমিযি)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৭

পর্ব ৭
ক্ষমা, উদারতা, সহনশীলতা ও রাগ সংবরণ  
ক্ষমা, উদারতা, সহনশীলতা ও রাগ সংবরণের এতসব নযীর নাবী রাসুলদের জীবনে বর্তমান যে, তা লিখতে গেলে শত শত পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে যাবে। হামেশা এগুলো আমরা পড়ি, বলি এবং লিখি। কিন্তু আমাদের কারোর কারোর (সকলে নয়) ঘরের খবর শুনলে মনে হয় উন্নত এসব চারিত্রিক গুনাবলীগুলো যেন শুধুই বৃক্তৃতা ভাষনে বলার জন্য, নিজেদের আপন আপন স্বামী, স্ত্রী, ভাই বোন, সন্তানাদি, পিতা মাতার জন্য নয়। নিজেদের ঘরসংসারে অনুশীলন করার জন্য আল্লাহ বোধ হয় এসব কথা বলেননি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৬

সময়জ্ঞান। পর্ব – ৬
আরবীতে একটা প্রবাদ আছে, الوقت كالسيف إن لم تقطعه قطعك
অর্থাত "সময় হচ্ছে তলোয়ারের ন্যায় যদি তুমি তাকে না কাটতে পার তাহলে সে তোমাকে কাটবে"। প্রবাদটি বুঝার জন্য একটি উদাহরণ পেশ করা যেতে পারে:
মনে করুন আপনার একাউন্টে প্রত্যহ সকাল ৬টায় 720 ডলার জমা হয়, আপনি যদি এ 720 ডলার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে না উঠাতে পারেন তাহলে তা আর পাবেন না। সন্ধ্যা ৬টা বাজার সাথে সাথে আপনার একাউন্ট খালি হয়ে যাবে।
এ পৃথিবীতে মানুষের জীবনও ঠিক তেমনি। যে সময় আপনাকে প্রদান করা হয়েছে আপনি যদি তার যথাযথ ব্যবহার করতে, সঠিক পথে ব্যয় করতে ব্যর্থ হন তাহলে তা আর কখনো ফেরত পাবেননা। যে সময় আজ আপনার নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছে আগামীকাল তা আর আপনার জীবনে আসবেনা। কারন সময় ব্যাংকে জমা রাখা যায়না। সময় টাকা পয়সার বিনিময়ে খরিদ করা যায়না।
জনৈক কবির ভাষায়:
''সময় হইলে গত কিন্তু একবার,
পার কি কিনতে কেহ ক্ষণ মাত্র তার?
রাশি রাশি ধন দাও অমূল্য সময়,
একবার গেলে আর আসিবার নয় ।
নিতান্ত নির্বোধ শুধু সেই জন,
অমুল্য সময় করে বৃথায় যাপন''।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৫ (সংশোধিত)

৫- জিহবার নিয়ন্ত্রণ
মানবদেহের এই অতি সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপুর্ণ অংগটি নিয়ে বহু প্রবাদ, কথা, ও কাহিনী রয়েছে প্রাচীন আরবী সাহিত্যে। যার কতক হচ্ছে এরকম:
اجتمع قيس بن ساعدة وأكثم بن صيفي ، فقال أحدهما لصاحبه: كم وجدت في ابن آدم من العيوب؟ قال : هي أكثر من أن تحصى، وقد وجدت خصلة إن استعملها الإنسان سترت عيوبه. فقال ما هي؟ قال: حفظ اللسان.

"কাইস ইবনু সায়িদাহ এবং আকছাম ইবনু ছইফি (প্রাচীন আরব পন্ডিত) একদিন এক বৈঠকে একে অপরকে সুধালেন: আদম সন্তানদের দোষ ত্রুটির সংখ্যা কত হতে পারে বলে তুমি মনে কর?
ওহ‍! এর সংখ্যা এত যে, শুমার করা মুশকিল। তবে একটি গুণ তাদেরকে প্রদান করা হয়েছে। যদি তা আদম সন্তানেরা প্রয়োগ করে তাহলে তার সমুদয় দোষ ত্রুটি ঢাকা পড়ে যাবে।
কি সেটি?
জিহবার নিয়ন্ত্রণ।

জিহবা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
"এমন কোন শব্দ তার মুখ থেকে বের হয় না যা সংরক্ষিত করার জন্য একজন সদা প্রস্তুত রক্ষক উপস্থিত থাকে না৷" (সুরা ক্কাফ 18)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.3 (3টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৪

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৪
৪-(ক)বিরোধীদের গালি না দেয়া। (খ)দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমাত অবলম্বন করা:

আল কুরআনুল কারিম আল্লাহর পথে মানুষকে আহবান জানানোর যে পদ্ধতি ও বিধিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছে তার আরও একটি হচ্ছে এই যে, বিরোধীদের গালি দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অনুরুপভাবে এমন তর্ক থেকেও দুরে থাকতে হবে যা প্রতিপক্ষকে কাছে টানার বদলে দুরে সরিয়ে দেয়। বলা আবশ্যক, তর্কযুদ্ধে সাময়িক জয়লাভ করা যায় বটে কিন্তু এতে প্রতিপক্ষের মনোজগতে দীর্ঘদিনের লালিত আদর্শ ও বিশ্বাসের কোন পরিবর্তন ঘটানো যায়না। আল্লাহ বলেন: আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা অন্যদেরকে ডাকে তাদেরকে গালি দিয়োনা, যদি এটা কর তাহলে তারা মূর্খতা ও শত্রুতার বশবর্তী হয়ে আল্লাহকেও গালি দেবে। (সুরা আল আনআম 108)
ফিরআউনের আল্লাহদ্রোহিতা সর্বজনবিদিত। অপরাধ ও অবাধ্যতার চরম সীমায় পৌছে গিয়েছিল সে, কিন্তু তথাপিও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসা এবং হারুন আলাইহিমাস সালামকে ফিরআউনের নিকট পাঠাবার প্রাক্কালে বললেন: "তার সাথে কোমলভাবে কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে" (সুরা ত্বহা ৪৪)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৩

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৩
৩- জ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্টত্ব অর্জন।
একজন দায়ী ইলাল্লাহ তথা আল্লাহর পথে আহবানকারীকে অবশ্যই জ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্টত্ব অর্জন করতে হবে। যাতে করে দুনিয়ার অন্যান্য বাতিল মতবাদগুলোর মোকাবেলায় ইসলামের শ্রেষ্টত্ব প্রমান করা যায়। যেন মানুষের সামনে এই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, মানুষের রচিত মতবাদের চেয়ে আল­াহর প্রেরিত বিধান ও তার রাসুলের আদর্শ অতীব উত্তম এবং এটাই মুক্তির পথ। প্রবৃত্তি পুজারীদের আবিস্কৃত সকল মতবাদ সম্পর্কে
বিস্তারিত জ্ঞানই শুধু নয় এ সকল মতবাদ সমাজে ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত থাকার কারনে মানবগোষ্ঠী কি কি সমস্যার সম্মুখীন তা বোঝাবার মত পান্ডিত্য অবশ্যই আল­াহর পথের দা’য়ীকে অর্জন করতে হবে।  

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)
Syndicate content