'আতাউর রহমান সিকদার' -এর ব্লগ

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৯

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৯
আরও কতিপয় চারিত্রিক সুষমা:

১-  সর্বাবস্থায় ন্যায়ের উপর অটল থাকা:
ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর পথের এ পথিক সম্পর্কে তার জানের শত্রুরাও এ নিশ্চয়তা পোষণ করবে যে, এ ব্যক্তি যাই বলুক, যাই করুক ন্যায় ও ইনসাফের পথ থেকে কখনো সে বিচ্যুত হবেনা। তার চরম বিরুদ্ধবাদীরাও এ স্বাক্ষ্য প্রদান করবে যে এ ব্যক্তি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ, হটকারিতা, প্রতিশোধস্পৃহা কিংবা বন্ধুত্ব বা স্বজনপ্রীতিকে নিজের অন্তরে স্থান দেবেনা।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (6টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৮

পর্ব ৮
ক্ষমা, উদারতা, সহনশীলতা ও রাগ সংবরণ – বাকী অংশ

ইসলাম আল্লাহর পথের দায়ীকে এসকল গুনাবলী অর্জনের তাকিদ প্রদান করেই বিষয়ের সমাপ্তি টানেনি, সাথে সাথে এর পুরস্কারের সুসংবাদও প্রদান করেছে। সংগত কারনে সে সুসংবাদগুলোর খানিক দৃষ্টান্তও এখানে উপস্থাপন করা জরুরী মনে করছি। আল্লাহ বলেন:
"এরা ক্রোধকে সংবরণ করে (প্রতিশোধ নেয়না) এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। আর আল্লাহ এই ধরনের মু'মিনদেরই ভালবাসেন। (আলে ইমরান 134)
আল্লাহ আরও বলেন:
''সদাচারের প্রতিদান সদাচার ছাড়া আর কি হতে পারে''(সুরা আর রাহমান 60)
রাসুল সা: বলেছেন:
"এমন কখনোই হয়না যে, বান্দা আল্লাহরই জন্য ক্ষমা ও বিনয়ের নীতি অবলম্বন করেছে আর আল্লাহ তার মর্যাদা ও সম্মান বাড়িয়ে দেননি। (মুসলিম, তিরমিযি)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৭

পর্ব ৭
ক্ষমা, উদারতা, সহনশীলতা ও রাগ সংবরণ  
ক্ষমা, উদারতা, সহনশীলতা ও রাগ সংবরণের এতসব নযীর নাবী রাসুলদের জীবনে বর্তমান যে, তা লিখতে গেলে শত শত পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে যাবে। হামেশা এগুলো আমরা পড়ি, বলি এবং লিখি। কিন্তু আমাদের কারোর কারোর (সকলে নয়) ঘরের খবর শুনলে মনে হয় উন্নত এসব চারিত্রিক গুনাবলীগুলো যেন শুধুই বৃক্তৃতা ভাষনে বলার জন্য, নিজেদের আপন আপন স্বামী, স্ত্রী, ভাই বোন, সন্তানাদি, পিতা মাতার জন্য নয়। নিজেদের ঘরসংসারে অনুশীলন করার জন্য আল্লাহ বোধ হয় এসব কথা বলেননি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৬

সময়জ্ঞান। পর্ব – ৬
আরবীতে একটা প্রবাদ আছে, الوقت كالسيف إن لم تقطعه قطعك
অর্থাত "সময় হচ্ছে তলোয়ারের ন্যায় যদি তুমি তাকে না কাটতে পার তাহলে সে তোমাকে কাটবে"। প্রবাদটি বুঝার জন্য একটি উদাহরণ পেশ করা যেতে পারে:
মনে করুন আপনার একাউন্টে প্রত্যহ সকাল ৬টায় 720 ডলার জমা হয়, আপনি যদি এ 720 ডলার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে না উঠাতে পারেন তাহলে তা আর পাবেন না। সন্ধ্যা ৬টা বাজার সাথে সাথে আপনার একাউন্ট খালি হয়ে যাবে।
এ পৃথিবীতে মানুষের জীবনও ঠিক তেমনি। যে সময় আপনাকে প্রদান করা হয়েছে আপনি যদি তার যথাযথ ব্যবহার করতে, সঠিক পথে ব্যয় করতে ব্যর্থ হন তাহলে তা আর কখনো ফেরত পাবেননা। যে সময় আজ আপনার নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছে আগামীকাল তা আর আপনার জীবনে আসবেনা। কারন সময় ব্যাংকে জমা রাখা যায়না। সময় টাকা পয়সার বিনিময়ে খরিদ করা যায়না।
জনৈক কবির ভাষায়:
''সময় হইলে গত কিন্তু একবার,
পার কি কিনতে কেহ ক্ষণ মাত্র তার?
রাশি রাশি ধন দাও অমূল্য সময়,
একবার গেলে আর আসিবার নয় ।
নিতান্ত নির্বোধ শুধু সেই জন,
অমুল্য সময় করে বৃথায় যাপন''।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৫ (সংশোধিত)

৫- জিহবার নিয়ন্ত্রণ
মানবদেহের এই অতি সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপুর্ণ অংগটি নিয়ে বহু প্রবাদ, কথা, ও কাহিনী রয়েছে প্রাচীন আরবী সাহিত্যে। যার কতক হচ্ছে এরকম:
اجتمع قيس بن ساعدة وأكثم بن صيفي ، فقال أحدهما لصاحبه: كم وجدت في ابن آدم من العيوب؟ قال : هي أكثر من أن تحصى، وقد وجدت خصلة إن استعملها الإنسان سترت عيوبه. فقال ما هي؟ قال: حفظ اللسان.

"কাইস ইবনু সায়িদাহ এবং আকছাম ইবনু ছইফি (প্রাচীন আরব পন্ডিত) একদিন এক বৈঠকে একে অপরকে সুধালেন: আদম সন্তানদের দোষ ত্রুটির সংখ্যা কত হতে পারে বলে তুমি মনে কর?
ওহ‍! এর সংখ্যা এত যে, শুমার করা মুশকিল। তবে একটি গুণ তাদেরকে প্রদান করা হয়েছে। যদি তা আদম সন্তানেরা প্রয়োগ করে তাহলে তার সমুদয় দোষ ত্রুটি ঢাকা পড়ে যাবে।
কি সেটি?
জিহবার নিয়ন্ত্রণ।

জিহবা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
"এমন কোন শব্দ তার মুখ থেকে বের হয় না যা সংরক্ষিত করার জন্য একজন সদা প্রস্তুত রক্ষক উপস্থিত থাকে না৷" (সুরা ক্কাফ 18)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.3 (3টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৪

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৪
৪-(ক)বিরোধীদের গালি না দেয়া। (খ)দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমাত অবলম্বন করা:

আল কুরআনুল কারিম আল্লাহর পথে মানুষকে আহবান জানানোর যে পদ্ধতি ও বিধিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছে তার আরও একটি হচ্ছে এই যে, বিরোধীদের গালি দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অনুরুপভাবে এমন তর্ক থেকেও দুরে থাকতে হবে যা প্রতিপক্ষকে কাছে টানার বদলে দুরে সরিয়ে দেয়। বলা আবশ্যক, তর্কযুদ্ধে সাময়িক জয়লাভ করা যায় বটে কিন্তু এতে প্রতিপক্ষের মনোজগতে দীর্ঘদিনের লালিত আদর্শ ও বিশ্বাসের কোন পরিবর্তন ঘটানো যায়না। আল্লাহ বলেন: আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা অন্যদেরকে ডাকে তাদেরকে গালি দিয়োনা, যদি এটা কর তাহলে তারা মূর্খতা ও শত্রুতার বশবর্তী হয়ে আল্লাহকেও গালি দেবে। (সুরা আল আনআম 108)
ফিরআউনের আল্লাহদ্রোহিতা সর্বজনবিদিত। অপরাধ ও অবাধ্যতার চরম সীমায় পৌছে গিয়েছিল সে, কিন্তু তথাপিও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসা এবং হারুন আলাইহিমাস সালামকে ফিরআউনের নিকট পাঠাবার প্রাক্কালে বললেন: "তার সাথে কোমলভাবে কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে" (সুরা ত্বহা ৪৪)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৩

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ৩
৩- জ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্টত্ব অর্জন।
একজন দায়ী ইলাল্লাহ তথা আল্লাহর পথে আহবানকারীকে অবশ্যই জ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্টত্ব অর্জন করতে হবে। যাতে করে দুনিয়ার অন্যান্য বাতিল মতবাদগুলোর মোকাবেলায় ইসলামের শ্রেষ্টত্ব প্রমান করা যায়। যেন মানুষের সামনে এই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, মানুষের রচিত মতবাদের চেয়ে আল­াহর প্রেরিত বিধান ও তার রাসুলের আদর্শ অতীব উত্তম এবং এটাই মুক্তির পথ। প্রবৃত্তি পুজারীদের আবিস্কৃত সকল মতবাদ সম্পর্কে
বিস্তারিত জ্ঞানই শুধু নয় এ সকল মতবাদ সমাজে ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত থাকার কারনে মানবগোষ্ঠী কি কি সমস্যার সম্মুখীন তা বোঝাবার মত পান্ডিত্য অবশ্যই আল­াহর পথের দা’য়ীকে অর্জন করতে হবে।  

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.7 (3টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ২

২- তিনি হবেন উত্তম চরিত্রের মডেল
শেষ নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এ ধরাপৃষ্টে আগমন করেন তখন সমরশক্তি ও অন্যান্য বস্ত্তগত জাগতিক উপকরনে সমৃদ্ধ ছিল রোম এবং পারস্য। কিন্তু তথাপিও ইসলামী বাহিনী, যাদের না ছিল বিপুল সৈন্য সমৃদ্ধ কোন সমর শক্তি, না ছিল যুদ্ধ করে রোম, পারস্যকে পরাস্ত করার মত যুদ্ধাস্ত্র --তাদেরকে পরাভূত করে ফেলে। সকলেই জানে, এটা সম্ভব হয় অভূতপূর্ব এক চরিত্রশক্তির কারনে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, চরিত্রমাহাতব্য এমন এক অস্ত্র যে, বস্ত্তগত উপায়-উপকরন যত সমৃদ্ধই হোক এ জিনিসটির কাছে সবই নিস্ফল।
সুতরাং সংগত কারনেই ইসলাম তার পতাকাবাহীর নিকট এই দাবী করে যে, তারা উত্তম চারিত্রিক অস্ত্রেই নিজেদেরকে আগে সজ্জিত করবে।
দুনিয়ার মানুষ যেন ইসলামী আদর্শের মৌখিক চর্চাই কেবল আমাদের কাছ থেকে শুনতে না পায়, বরং তারা যেন স্বচক্ষে ইসলামী আদর্শের সৌন্দর্য্য ও কল্যাণকারীতা আমাদের জীবনে প্রত্যক্ষ করতে পারে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

দায়ী ইলাল্লাহর গুনাবলী। পর্ব ১

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

যে মো'জিযা বর্ণনার অতীত

২- কুরআনে উল্লেখিত কতিপয় নাম ও শব্দাবলী:

আল কুরআনুল কারিমে রয়েছে এমন বহু প্রশ্নবোধক ও অপরিচিত নাম যা, যে কোন সন্দিগ্ন ও সংশয়বাদী পাঠকের মনে এ ধারণা উদ্রেক করে দিতে পারে যে, কুরআনের হাফিজগন (কুরআন সংকলনের সময় যারা এটি মুখস্থ শুনিয়ে সহযোগিতা করেছেন) ভুল মুখস্থ করেছিলেন কিনা। যেমন উদাহরণস্বরুপ “বাক্কা” শব্দটির উল্লেখ করা যায়। কুরআনে মাক্কা নগরীকে এক জায়গায় “বাক্কা” বলা হয়েছে (দ্রস্টব্য: সুরা আলে ইমরান 96)। অথচ মাক্কা নগরীর আলোচনা প্রসংগে অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তায়ালা “মাক্কা” শব্দটিও ব্যবহার করেছেন। (দ্রষ্টব্য: সুরা আল ফাতহ 24)
ইতিহাসের কোথাও এমন কোন প্রমাণ খুজে পাওয়া যায়না কিংবা এমন কোন হাদীসও নেই যে সাহাবীগন কুরআন সংকলনের সময় এরুপ কথা বলেছেন যে, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হয়তো এ সাহাবীগন মাক্কার বদলে বাক্বা শুনেছেন, আল্লাহ মাক্কাকে বাক্কা কেন বলবেন, আসুন আমরা এখানে বাক্কার বদলে মাক্কা লিখে দেই”।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)
Syndicate content