সত্য বলা, চলা ও প্রচারই হোক বিসর্গের ভাষা...

সময়ের সংজ্ঞা

সময়ের সংজ্ঞা দিতে বলা হয়ে থাকে যে, দু’টু ঘটনার মধ্যবর্তী ব্যবধান হচ্ছে ‘সময়’।

কিন্তু ইতিহাস (যা সৃষ্টির সুচনালগ্ন থেকে শুরু হয়েছে) আমাদেরকে ভিন্ন জিনিস নির্দেশ করে। জ্ঞান ও যুক্তি বলে যে, সময় কোনো ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। কিছু ঘটুক আর না ঘটুক সময় (The Time) তার নিজের মতোই বয়ে চলে।

আপনার জীবন সায়াহ্নে আপনি যদি একশো ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে মালাকুল মাওতকে বলেন (যদিও এসুযোগও আপনাকে দেয়া হবেনা) ‘ওগো আল্লাহর দূত, আমাকে আর একটি বছর সময় দাও। তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত: ছয়টি মাস, তা-ও যদি সম্ভব না হয় তাহলে কমপক্ষে একটি মাস’।

আপনার আবেদন মঞ্জুর হবে কি? হবেনা। আপনার জন্য বরাদ্দকৃত সময়টি শেষ হয়ে গেলে মালাকুল মাওত আপনাকে এক সেকেন্ড সময়ও দেবেনা।

একথাগুলোই কুরআন কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বার বার মানুষকে বুঝিয়েছেন। বান্দার চেতনা উদয়ের জন্য তার অন্তিম সময়ের চিত্র মিছাল দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, 

(মৃত্যুর সময়টি উপস্থিত হলে বান্দা কাকুতি মিনতি করে বলবে):

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

মানুষের কল্যাণাকাংখা নিয়ে এ লেখা.

ভেজা তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর গা মুছে দেয়ার যে নিয়ম অধুনা চালু হয়েছে তা ভুল। এক্ষেত্রে সঠিক হচ্ছে তা, যা আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা দিয়ে গেছেন। 

ইতিহাস এবং হাদিসগুলো (যাতে ঠান্ডা পানি দিয়ে জ্বরের চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো রয়েছে) অধ্যয়ন করলে দেখা যায় – সাহাবীগন জ্বরে আক্রান্ত রোগীর মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালতেন অথবা ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে রোগীর কপালে তা ধরে রাখতেন। কিন্তু  ভেজা কাপড় দিয়ে তারা শরীর মাসেহ করতেন এমন কোনো প্রমাণ ইতিহাসে খুজে পাওয়া যায়না।  

চিকিৎসা শাস্ত্রও এমনটাই সাপোর্ট করার কথা। কারন, জ্বর মানেই শরীর তথা জীবনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন দুবল, রোগীর Resistance power কম ।

এসময়ে ঐ পদ্ধতি বা ব্যবস্থাপত্রই সবাধিক উপযোগী যা রোগীকে শারীরিক, মানসিক আরাম দেবে এবং রোগীর Immune System কে কর্মক্ষম করবে।

আপনার রেটিং: None

পংগপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তের আযাব প্রসংগ

কুরআন কারিম থেকে: 

(পংগপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তের আযাব প্রসংগ)

“ফিরআউন ও তার অনুসারীদেরকে আমি কয়েক বছর পযন্ত দুর্ভিক্ষ ও ফসলহানিতে আক্রান্ত করেছি, এ উদ্দেশ্যে যে, হয়তো তাদের চেতনা ফিরে আসবে এবং সতর্ক হবে (১৩০)। তাদের যখন ভালো সময় আসতো, বলতো: এটা আমাদের প্রাপ্য, আমরা নিজেদের যোগ্যতাবলে এসব অর্জন করেছি, আর খারাপ সময় এলে বলতো: মুসা ও তার সাথীরা অপয়া, কুলক্ষুণে। তাদের কারনেই আমরা বিপদে পতিত হয়েছি ..... (১৩২) 

......... অবশেষে আমি তাদের উপর দুযোগ পাঠালাম, পংগপাল ছেড়ে দিলাম, উকুন ছড়িয়ে দিলাম, ব্যাঙের উপদ্রব সৃষ্টি করলাম এবং রক্ত বর্ষণ করলাম। এসব নিদর্শন আলাদা আলাদা করে দেখালাম। কিন্তু তারা অহংকারে মেতে রইলো ..... (১৩৩)।

যখনই তাদের উপর বিপদ আসতো তারা বলতো: হে মুসা, তোমার রবের কাছে তুমি যে মযাদার অধিকারী তার ভিত্তিতে তুমি আমাদের জন্য দোয়া কর। যদি এবার তুমি আমাদের উপর থেকে এ দুযোগ হটিয়ে দাও, তাহলে আমরা তোমার কথা মেনে নেবো এবং বানু ইসরাঈলকে তোমার সাথে পাঠিয়ে দেবো (১৩৪)।

আপনার রেটিং: None

ইসলামে মানত

‘মানত’ এর রয়েছে প্রকারভেদ। ক্ষেত্র ও বিষয়ভেদে কিছু মানত জায়েয, যেমন কেউ তার অতীত জীবন লিপির কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হলো এবং মানত করলো যে, সে সুস্থ হয়ে একমাস রোজা রাখবে বা একশো ওয়াক্ত নফল সালাত আদায় করবে বা একশো মিসকীনকে খাবার খাওয়াবে ইত্যাদি।

আবার কিছু মানত সবতোভাবে হারাম। যেমন কেউ মানত করলো: 

‘আল্লাহ যদি আমার এ মনোবাঞ্চাটি পুর্ণ করেন তাহলে আমি এতো টাকা দান করবো’। ‘আল্লাহ যদি আমাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে আমি এ কাজগুলো করবো’। ‘আল্লাহ যদি আমাকে একটি পুত্র সন্তান দেন তাহলে আমি শাহজালাল এর মাযারে একটি ছাগল দেবো’ (এ ধরণের মানত তো বড়ো শিরক)। ইত্যাদি ইত্যাদি।

অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি শর্তারোপ করা যে, তিনি যদি আমার এ কাজটি করে দেন, তাহলে আমি এটা করবো, ওটা করবো। নচেৎ নয়।

যাহোক, মানত সম্পর্কে ফিকাহ শাস্ত্রের জটিল আলোচনা পরিহার করে আমি এখানে এ বিষয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য উপস্থাপন করাকেই বেশ প্রণিধানযোগ্য মনে করছি:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

কুন দা’য়ীয়ান

আল্লাহ তায়ালা শুধুমাত্র দয়ালু নন, তিনি ইনসাফেরও প্রতিষ্ঠাতা। তার অগাধ জ্ঞান, অসীম কর্তৃত্ব ও ন্যায়বিচারের কাছ থেকে এটা আশা করা যেতে পারেনা যে, মানুষ আল্লাহ তথা হেদায়াতের পথ সম্পর্কে জানতে পারবেনা অথচ সেপথে না চলার দরুন তিনি তাদেরকে ধরে শাস্তি দেবেন। 

কোন বস্তুটি সম্পর্কে জওয়াবদিহী করতে হবে তা মানুষের অজ্ঞাত থাকবে, আর তার নিকট থেকে সে বস্তুটি সম্পর্কেই জওয়াব চাওয়া হবে এটি হতে পারেনা।

আর এজন্যেই তিনি এ দুনিয়ার প্রথম মানুষটিকেই একজন নবীরুপে সৃষ্টি করেন। অত:পর মানবজাতিকে আল্লাহর পথ সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং দুনিয়ায় জীবন যাপনের নির্ভুল পদ্ধতি শেখানোর জন্য যুগে যুগে আরো নাবী পাঠিয়েছেন। তারা মানুষকে এ শিক্ষা দিয়ে গেছেন যে, দেখো – এটি হচ্ছে আল্লাহর পথ। আর, এটি শয়তানের। 

একথাটি আল্লাহ তায়ালা তার সবশেষ কিতাব কুরআনেও অবহিত করেছেন এভাবে:

আপনার রেটিং: None

এখানে যুক্তি, বুদ্ধি বিরোধী কথা নেই

আপনি যদি সহীহ উৎস থেকে কুরআন, সুন্নাহর কথাগুলো অধ্যয়ন করেন, তাহলে দেখবেন,  যুক্তি ও আকল সমর্থন করেনা – এমন কোনো আদেশ নিষেধ এতে নেই। কিন্তু মানুষ বুঝতে ভুল করে। নীচে এরই কিছু উদাহরণ আমি পেশ করছি:

এক:

একবার আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) জানতে পারলেন যে, আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লোকদেরকে বলছেন: ‘নামাযের মধ্যে পুরুষের সামনে দিয়ে যদি কোনো মহিলা, গাধা এবং কুকুর অতিক্রম করে তাহলে নামায নষ্ট হয়ে যাবে’। এ কথা শুনে তিনি খুব রেগে গেলেন এবং বললেন: তোমরা আমাদের নারীদেরকে কুকুর আর গাধার সমান করে দিলে? আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে পা ছড়িয়ে শুয়ে থাকতাম, ঘুমিয়ে থাকতাম (ঘরে পযাপ্ত জায়গা না থাকার কারনে) আর তিনি নামায পড়তে থাকতেন। যখন সিজদায় যেতেন, হাত দিয়ে টোকা দিতেন আর আমি পা সরিয়ে নিতাম। তিনি উঠে গেলে আবার পা ছড়িয়ে দিতাম (বুখারী, ৬ষ্ট খন্ড, পৃ: ৭৩) অনেক সময় প্রয়োজন হলে শরীর কাত করে সামনে দিয়ে বের হয়ে যেতাম (বুখারী, বাব আস সারীর)

(সুত্র: সীরাতে আয়িশা রা: পৃ: ২৯১, সাইয়েদ সুলাইমান নদভী রহ)

দুই:

আপনার রেটিং: None

মনের চোর

পরপুরুষ বা পরনারীর সৌন্দয অবলোকনে তৃপ্তিলাভ, কন্ঠস্বর শুনে কর্ণকুহরে আনন্দ উপভোগ, মিষ্টিস্বরে কথোপকথন, পুন: পূন: দৃষ্টি – মানব রচিত আইন আদালতের চোখ এসবকে কোনো অপরাধ গণ্য না করলেও ইসলামে তা বড়ো ধরণের গর্হিত কাজ। কারণ এহেন মনের চুরির ফলশ্রুতিতেই মানব সমাজ পরকীয়া, দাম্পত্য জীবনে অশান্তি এবং ঘর ভাংগার মতো বিপদের সম্মুখীন হয়। 

একটি হাদিসে বলা হয়েছে:

“চক্ষুদ্বয় ব্যভিচার করে, দৃষ্টি ব্যভিচার করে, হস্তদ্বয় ব্যভিচার করে এবং স্পর্শ এ দু’অংগের ব্যভিচার, পদদ্বয় ব্যভিচার করে, এ পথে হেটে যাওয়া এ দু’অংগের ব্যভিচার, কথোপকথন জিহবার ব্যভিচার, কামনা বাসনা মনের ব্যভিচার। অবশেষে যৌনাংগ এইসকলের সত্যতা বা অসত্যতা প্রমাণ করে”।

(বুখারী ৬১৫৯, মুসলিম, আবু দাউদ ২১৪৯)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

নামকরণে পরামর্শ – পব চার।

নামকরণে পরামর্শ – পব চার।

৭৪- সাবের (সোয়াদ+আলিফ+বা+রা) অর্থ: ধৈযশীল। আইয়ুব আ: এর লাকব।

৭৫- সাদেক (সোয়াদ+আলিফ+দাল+ক্কাফ) অর্থ: সত্যবাদী

৭৬- সালেহ (সোয়াদ+আলিফ+লাম+হা)অর্থ: ন্যায়পরায়ণ

৭৭- সালাহ (সোয়াদ+লামআলিফ+হা) অর্থ: সততা

৭৮- সুহাইব (সোয়াদ+হা+ইয়া+বা) অর্থ: লালচে রং

৭৯- আদেল। অর্থ: ন্যায়পরায়ণ

৮০- আতেফ। অর্থ: স্নেহশীল, দয়ালু

৮১- আসেম। (আইন+আলিফ+সোয়াদ+মীম) অর্থ: রক্ষক, অভিভাবক

৮২- আযযাম। অর্থ: দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি

৮৩- আফিফ। অর্থ: পূণ্যবান

৮৪- আলা (আইন+লামআলিফ+হামযা আলাস সতর) উন্নত।

৮৫- গালিব। অর্থ: জয়ী

৮৬- ফাতেহ। অর্থ: বিজয়ী

৮৭- ফায়েয। অর্থ: কৃতকায।

৮৮- ফাইয়াদ (ফা+ইয়া+আলিফ+ধোয়াদ)অর্থ: উদার

৮৯- ফয়সল। (ফা+ইয়া+সোয়াদ+লাম) অর্থ: মধ্যস্থতাকারী

৯০- নায়েফ। অর্থ: উন্নত

৯১- নাবিল। অর্থ: মহানুভব

আপনার রেটিং: None

নামকরণে পরামর্শ – পব তিন।

যাহোক, আমরা জানলাম যে, সন্তানের জন্যে একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম কতটা জরুরী। 

এবার সম্মানীত পাঠক/পাঠিকাদের অনুরোধ রক্ষার্থে নীচে আমি কতিপয় বিশুদ্ধ আরবী নামের একটি তালিকা পেশ করছি। বাংলার পাশে আরবী লিখে সাজাতে গেলে প্রচুর সময়ের প্রয়োজন। তাই শুধু বাংলাটি লিখলাম। তবে কেউ কোনো নামের আরবী বানান জানতে চাইলে দেয়া হবে।

ছেলেদের নাম:

১- মুহাম্মাদ । অর্থ: প্রশংসিত, খ্যাতিমান।

২- আহমাদ । অর্থ: অত্যন্ত প্রশংসনীয়, প্রশংসাকারী।                          

নোট: আমাদের দেশে কেউ কেউ বিকৃত করে ‘আহমেদ’ বা ‘আহম্মেদ’ লিখে। এভাবে লিখা ভুল। কারন, কুরআনে এ শব্দটি ‘আহমাদ’ উচ্চারণে এসেছে। (সুরা সফ ৬) ইচ্ছে করে বিকৃত করা মোটেই ভালো আচরণ নয়।

৩- আবদুল আযিয। অর্থ: মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর দাস বা বান্দা

৪- আবদুর রাহমান। অর্থ: পরম করুণাময় আল্লাহর দাস বা বান্দা

৫- আবদুর রাহীম। অর্থ: পরম কৃপাশীল আল্লাহর দাস বা বান্দা

৬- আবদুল মালিক। অর্থ: মহা অধিপতি আল্লাহর দাস বা বান্দা

আপনার রেটিং: None

নামকরণে পরামর্শ – পব দুই।

আর এক বাংলাদেশী বন্ধু (মাক্কায়) তার মেয়ের নাম রেখেছন ‘আশারা মুবাশ্বিরা’। আশারাহ মুবাশ্বিরাহ অর্থ ‘সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন’। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দশজন সাহাবীকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, তাদেরকে একত্রে আশারাহ মুবাশ্বিরাহ বলা হয়। যাহোক একবার তিনি তার এ মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান এবং সিরিয়ালে নাম লিখিয়ে বসে রইলেন। ডাক্তার এর এসিস্টেন্ট আশারাহ মুবাশ্বিরাহ বুঝতে না পেরে (অর্থাৎ তার ধারণায়ও আসেনি যে, এটি কারোর নাম হতে পারে) শুধু মুবাশ্বিরাহ লিখে ওয়েটিং – এ থাকতে বলেন। তিন ঘন্টা পার হয়েছে, তার মেয়েকে ডাকা হয়না। অনেক কষ্টে তিনি এসিস্টেন্ট এর কাছে গেলেন। এসিস্টেন্ট রাগত স্বরে বললেন: ইয়া গাবি, নাদাইতুল ইসম সিত্তাহ মাররাত। খালাছ। ইনতাহা আদদাওয়াম (ওহে মুর্খ বোকা, তোমার মেয়ের নাম ধরে আমি ডেকেছি ছয়বার, আজকের মতো ডিউটি শেষ)।

মুবাশ্বিরা মুবাশ্বিরা বলে ছয়বার ডাকা হয়েছিল কথাটি মিথ্যা নয়। কিন্তু আমার বন্ধুটি বুঝতে পারেননি, তিনি তিন ঘ্ন্টা ধরে কান উৎকর্ণ করে ছিলেন – কখন ডাকা হবে আশারা মুবাশ্বিরা।  

আপনার রেটিং: None
Syndicate content