সত্য বলা, চলা ও প্রচারই হোক বিসর্গের ভাষা...

হারাম রক্ত আলাদা করবেন কিভাবে

একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক শস্য দ্রব্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি শস্য স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন যে, উপরিভাগে শুকনোগুলো  দেখা গেলেও নীচের দিকে রয়েছে ভেজা। তিনি বললেন, ‘ওহে দোকানের মালিক! এটি কি? জওয়াবে দোকানী বলল, হে আল্লাহর রাসুল! বৃষ্টির কারণে এরূপ হয়েছে। এ কথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তুমি ভেজাগুলো ওপরে রাখলে না কেন? তাহলে ক্রেতাগণ এর অবস্থা দেখতে পেত (প্রতারিত হতো না)। যে ধোকা দেয় সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য হবে না। (বুখারী ৩০৯/৪, মুসলিম ১৫১৫, তিরমিযি ১৩০৪, আবু দাউদ ৩৪৩৮ মুল আরবী। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু)

নোট: বৃষ্টি ভেজা শস্য/খেজুর কোন ক্ষতিকারক জিনিস নয়। কিন্তু তথাপি এ অবস্থা দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন যে, “যে মানুষকে ধোকা দেয় সে আমার উম্মাতের দলভুক্ত নয়”। এ যুগের ফরমালিন, কারবাইড, টেষ্টিং সল্ট, সোডিয়াম সাইক্লামেট (যা মানুষকে কষ্ট দিয়ে দিয়ে তিলে তিলে মারে) ইত্যাদি দেখে রাসুল সা: কি বলতেন????

আপনার রেটিং: None

কৃতজ্ঞ হও..

মাতা পিতা সন্তানের জন্যে যে ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেন কোন সন্তানের সাধ্য নেই তার বিনিময় আদায় করে। তারা সন্তানের সুখের জন্যে নিজের সুখ ও আরাম আয়েশকে বিসর্জন দেন। নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। সন্তান জেগে থাকলে তারাও জেগে রাত কাটান। সন্তান বড় হলে তাদের শিক্ষা দীক্ষার জন্যে কত কিছু না করেন, জীবনকালে তারা সন্তানের জন্য আয় করেন এবং মরনের পরেও তাদের জন্য সঞ্চয় করে রেখে যান। আরো কত কি! যার শুমার করা ভার। একারনে আল্লাহ তায়ালা তিনি তার নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশনার সাথে সাথে আদেশ করছেন মানব সন্তানগন যেনো তাদের মাতা পিতার প্রতিও কৃতজ্ঞ হয়। “আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অত:পর কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করো তোমার মাতাপিতার প্রতি . . (সুরা লুকমান ১৪)

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একারনেই বলতেন: কুরআনের তিনটি আয়াত তিনটি জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত করে নাযিল হয়েছে। প্রতি জোড়ার একটি বাদ দিয়ে অন্যটি করা হলে তা কবুল হবেনা। 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

তিনি আল্লাহ...

“তারা কি মাথার উপর উড়ন্ত পাখীগুলোকে ডানা মেলতে ও গুটিয়ে নিতে দেখেনা? রহমান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই যিনি তাদেরকে ধরে রাখেন, তিনিই সকল কিছুর রক্ষক” (সুরা আল মুলক ১৯)

টীকা: অর্থাৎ বাতাসের বুকে ভর করে পাখীদের উড়া – এটি মহান আল্লাহর হিফাজত ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারনে। আল্লাহ তায়ালাই বাতাসকে (Atmosphere) এমন নিয়ম ও ব্যবস্থার অধীন করে দিয়েছেন যে, বাতাসের চেয়ে ভারী বস্তুও এখানে ডানা মেলে উড়তে পারে।  

এ সুরারই ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তিনিই তো সেই মহান সত্তা যিনি ভু-পৃষ্ঠকে তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। তোমরা এর বুকে চলাফেরা কর এবং তার দেয়া রিযিক খাও...”।

অর্থাৎ পৃথিবী নামক এ গ্রহটি আপনা আপনি তোমাদের জন্য তৈরী হয়ে যায়নি। তোমাদের জ্ঞান ও বিবেকের দুয়ারে যদি তালা লেগে না থাকে তাহলে দেখতে পাবে – এ পৃথিবীকে তোমাদের জীবন ধারণের উপযোগী বানাতে, এখানে তোমাদের জন্য রিযিকের অফুরন্ত ভান্ডার তৈরী করতে কেমন জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কুদরাহর প্রয়োজন হয়েছে।

আপনার রেটিং: None

মৃত ব্যক্তির প্রশংসা সম্পর্কে

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একবার আমাদের সামনে দিয়ে  একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হলো , লোকেরা মৃত ব্যক্তিটির প্রশংসা করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়াজিব হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর আরেকটি লাশ এল। লোকেরা তার দুর্ণাম করলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়াজিব হয়ে গেছে। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, কি ওয়াজিব হয়ে গেছে? রাসুল সা: বললেন: যে মৃতের তোমরা প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর যার তোমরা দুর্ণাম গাইলে তাতে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা হচ্ছো দুনিয়াতে আল্লাহর সাক্ষী। (হাদিস নং বুখারী ১৮১/৪, মুসলিম ৯৪৯। মুল আরবী) 

টীকা: এখানে ঐ প্রশংসার কথা বলা হয়েছে যা স্বতস্ফুর্তভাবে সাধারণ মানুষ অন্তর থেকে করে থাকে। ঐ প্রশংসা বা জানাযা নয়, যা কর্তৃত্বশীলদের চাপ, রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা বা সামাজিক স্ট্যাটাস কিংবা পার্থিব স্বার্থের জন্য করা হয়। আর, এটাতো জানা কথা যে, একজন পাপী বা যালিম ব্যক্তির জন্য মানুষ কখনোই অন্তর থেকে প্রশংসা বা দোয়া করেনা।

আপনার রেটিং: None

মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “একে অপরের প্রতি ভালবাসা ও মমত্ববোধ, দয়া, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুমিনরা হচ্ছে একটি দেহের মতো। যার কোন একটি অংগ পীড়িত হয়ে পড়লে তার সমস্ত অংগ জ্বর ও নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে”। (বুখারী ৩৬৭/১০ মুসলিম ২৫৮৬। বর্ণনাকারী: নুমান ইবনু বাশির রা:)

টীকা: রাসুলুল্লাহর (সা) আসহাবগন, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈগন ছিলেন এ হাদিসের বাস্তব নমুনা। মুহাজিরদের জন্য মাদিনার আনসারদের ভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগের ইতিহাস, ইয়ারমুকের যুদ্ধের ঘটনা কোনো বানানো কাহিনী নয়। বলাবাহুল্য, মুমিনদের এ বৈশিষ্টের কারনেই ইসলাম তখন এক বিশ্বজয়ী সভ্যতা ও শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। 

ফিকহী মাসআলায় মতের অনৈক্য থাকলেও তারা সকলে ছিলেন এক প্রাণ, এক দেহের মতো। অথচ বাংলাদেশে এর বিপরীত চিত্র। এখানে ঐক্য ও সহমর্মিতার বদলে কিভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্ধেষ আর কুফরীর ফাতওয়া দিতে হয় তার প্রাকটিস চলে (অবশ্য সবাই এরকম নয়)। আর, এসব দেখে একজন ইংরেজী শিক্ষিত লোক ভাবেন – এই যদি হয় ইসলাম, তাহলেতো কম্যুনিজম এর চেয়ে ঢের ভালো।

আপনার রেটিং: None

আহবায়কের গুনাবলী

আল্লাহর পথে আহবায়কের গুনাবলী: 

ইসলামের দিকে যিনি মানুষকে আহবান করবেন তার জন্য যে গুনগুলো সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় সেগুলো হচ্ছে – তাকে কোমল স্বভাব ও উদার হ্রদয়বত্তার অধিকারী হতে হবে। চরম উত্তেজনাকর অবস্থার মধ্যেও নিজের আচরণে তিনি ভারসাম্য বজায় রাখবেন। অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অপছন্দনীয় কথাগুলো তিনি উদার মনে এড়িয়ে চলবেন। বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাকে যতই কড়া ভাষায় কথা বলা হোক, যতই দোষারোপ ও মনে ব্যথা দেয়া হোক, যতই ববরোচিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হোক – তিনি তাতে সহনশীল থাকবেন। কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা, তিক্ত ও কড়া কথা বলা এবং প্রতিশোধমুলক মানসিক উত্তেজনায় ভোগা এ কাজের জন্য বিষতুল্য। 

আপনার রেটিং: None

যদি কাগজে লিখেও পাঠানো হতো..

যদি কাগজে লিখেও পাঠানো হতো..

“হে নাবী, যদি তোমার নিকট কাগজে লিখা কোনো কিতাবও নাযিল করতাম এবং মানুষ নিজেদের হাত দিয়ে স্পর্শ করেও দেখে নিতো, তাহলেও আজ যারা সত্যকে অস্বীকার করছে তারা বলতো: এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। 

তারা বলে, এ নাবীর কাছে কোন মালাইকা পাঠানো হয়না কেনো?০ যদি মালাইকাই পাঠাতাম, তাহলে এতোদিনে কবেই ফায়সালা হয়ে যেতো, তখন তাদেরকে আর কোন অবকাশই দেয়া হতোনা ০০” (আল কুরআন, সুরা আল আনআম, আয়াত ৭-৮)

টীকা ০ : অর্থাৎ কাফিররা বলতো: যখন এ ব্যক্তিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাবী হিসেবে পাঠানো হয়েছে তখন আকাশ থেকে একজন মালাকও (ফেরেশতা) পাঠানো উচিত ছিলো। এ মালাক লোকদের ডেকে ডেকে বলবে, ইনি আল্লাহর নাবী, এর কথা মেনে চলো, অন্যথায় তোমাদের শাস্তি দেয়া হবে।

আপনার রেটিং: None

লিখা হতে থাকে..

যে ব্যক্তি বা দল কোন পথভ্রষ্টকারী চিন্তা বা কর্মনীতির ভিত রচনা করে সে কেবল নিজের পথভ্রষ্টতার জন্য দায়ী হয়না বরং দুনিয়ায় যতগুলো মানুষ তার দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের সকলের গুনাহের একটি অংশও তার আমলনামায় লিখিত হতে থাকে। যতদিন তার এ গুনাহের প্রভাব বিস্তৃত হয় ততদিন তার আমলনামায় গুনাহ লিখিত হতে থাকে। অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তির নেকী বা গুনাহের দায় দায়িত্ব কেবল তার নিজের উপরই বর্তায়না বরং অন্যান্য লোকদের জীবনে তার নেকী ও গুনাহের কি প্রভাব পড়ে সেজন্যও তাকে জওয়াবদিহী করতে হবে।

এ বিষয়টিই একটি হাদিসে বিবৃত হয়েছে এভাবে:  

আপনার রেটিং: None

সুন্নাত নামায কার জন্য?

সুন্নাত নামায কার জন্য?

এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন – “সুন্নাত নামায ছেড়ে দিলে কি রাসুলের (সা) শাফায়াত পাওয়া যাবে”? 

উত্তর: প্রশ্নটি মুর্খতাপ্রসুত। আমাদের জানা উচিত যে, সব নামাযই একমাত্র আল্লাহর জন্যে। কোনটাই রাসুলের (সা) নয়। আমরা সুন্নাত, নফল ইত্যাদি আদায় করি কারন “কিয়ামাতের দিন ফরয নামাযের ঘাটতি/ত্রুটি বিচ্যুতি সুন্নাত, নফল দিয়ে পুরণ করা হবে”। তাছাড়া ফরয নামাযে যে সমস্ত ছোট খাট ভুল ত্রুটি ঘটে তা সুন্নাত/নফলের মাধ্যমে কাফফারা হয়। 

এ নামাযকে আমরা সুন্নাত নামে অভিহিত করি একারনে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি নিয়মিত আদায় করতেন এবং উম্মাতকে তাকিদ করেছেন।

আপনার রেটিং: None

Story of Dark

আধারের গল্প

আমি কাগজ টির দিকে একবার চোখ বুলালাম। এর পর আরো একবার। এরপর আবার। আমার মনে এখনো ক্ষীন এক চিলতে আশা রয়েছে। আমি হয়ত ভুল দেখছি অথবা এখানেই ভুল লেখা রয়েছে। 

আমি রিপোর্টের ওপরে থাকা নাম্বারে ফোন দিলাম। অপর প্রান্ত থেকে ও বলল। ঐখানে কিচ্ছু ভুল নেই। 

হতাশ ভাবে ফোন রেখে আমি বেডে শুয়ে পড়লাম। কাগজ টা এখনো আমার হাতে ধরা। সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্ত উঠে জালাবার শক্তি টুকু ও পাচ্ছি না৷ 

সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। 

ঘুম যখন ভাঙল তখন বিকাল।  আমি তখন ও সকালের ঐ ড্রেস পরে শুয়ে আছি।  একবার মনে হল রিপোর্টের কথা। পরক্ষণেই ভাবলাম। ঐটা হয়ত স্বপ্ন ছিল। ধুর, ঘুমের জন্য ক্লাস হুদাই মিস দিলাম!!  নিজেকে শাপ শাপান্ত করতে করতে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এলাম। 

আপনার রেটিং: None
Syndicate content