ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সীনার ব্যাপারে আইন প্রতিমন্ত্রীর বেআইনী দাবি

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বেশ কিছুদিন যাবত ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সীনার বিরুদ্ধে ওঠেপড়ে লেগেছেন। ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনা ট্রাস্টকে সরকারী নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কথা বলে তিনি এমন ভাব দেখাচ্ছেন যে অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও বোধ হয় তিনি পেয়ে গেছেন।  তার অসংলগ্ন আচার আচরণ কথা বার্তায় মনে হয় তিনি আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের উগ্রবাদী কর্মীই আছেন এখনো। আইনের সর্বোচ্চ রক্ষকের দায়িত্ব পেয়ে তিনি নিজেই আইন বহির্ভূত কথা বলছেন।  দায়িত্বশীল সরকারী পদে থেকে অসংলগ্ন একটি কথায় দেশের কি ক্ষতি হতে পারে তা ভেবে চিন্তেই বলা উচিত। উল্লেখিত দুইটি প্রতিষ্ঠানই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অধিভুক্ত। দেশের সর্ব স্তরের মানুষের অর্থ এখানে জড়িত। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বেশী বিনিয়োগ রয়েছে ইসলামী ব্যাংকে। প্রতিমন্ত্রীর এহেন দায়িত্বহীন বক্তব্য দেশের বিনিয়োগের খরাকে আরো করুণ পরিণতির দিকে নিতে পারে। দেশের অর্থনীতিবিদ ও আইনজ্ঞরা প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে দায়িত্বহীন ও আত্মঘাতী বলে অভিহিত করেছেন।

আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম গত শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনা ট্রাস্টের বিরুদ্ধে জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনেছেন। প্রতিষ্ঠান দুটিকে তিনি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের আয়ের উৎস অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রীর এই অভিযোগ ইতোপূর্বে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও উঠেছিল। ঐ সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তদন্ত করেছে। তদন্তে জঙ্গি লেনদেনের সাথে ইসলামী ব্যাংকের কোন সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর ইবনে সিনা ট্রাস্ট জনগণের সেবায় নিয়োজিত। ইবনে সিনা হাসপাতাল ফার্মাসিউটিক্যালসসহ সব কিছুর আয়-ব্যয় শেষে যা কিছু লাভ হয় তা আর্ত-মানবতার সেবায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। এই দুইটি প্রতিষ্ঠানই ঢাকার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত যার শেয়ার প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে। সাধারণ জনগণ প্রতিদিন এর শেয়ার কিনছেন-বিক্রি করছেন। ইসলামী ব্যাংকের সর্বাধিক বিনিয়োগ প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে এসেছে। দেশ যখন দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের খরায় ভুগছে তখন বিনিয়োগ আছে এমন প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এহেন দায়িত্বহীন বক্তব্য দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের পথকে আরো বাধাগ্রস্ত করবে। জঙ্গি লেনদেনের অভিযোগ অন্যান্য ব্যাংকের বিরুদ্ধে আছে। তবে তদন্তে প্রমাণ হয়েছে কোন ব্যাংকই প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোন প্রকার জঙ্গি লেনদেনের সাথে জড়িত নয়। দেশের নাগরিক হিসেবে যে কেউই ব্যাংকের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। পরবর্তীতে কেউ যদি জঙ্গি বলে ধরা পড়ে তদন্তে প্রমাণিত হয় তবে তার জন্য কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঐ জঙ্গি লেনদেনের সাথে জড়িত প্রমাণ হয় না। এটা অসতর্কতা কোন কোন ক্ষেত্রে হতে পারে যা সব ব্যাংকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে রাজনীতিকে জড়ানো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইন প্রতিমন্ত্রী একজন বোধজ্ঞানহীন মানুষ। কথা বেশী বলেন, বেশীরভাগই বলেন না বুঝে। শুধু দু'টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অসংলগ্ন কথাই নয়- তিনি প্রায়ই দায়িত্ব-জ্ঞানহীন উক্তি করে থাকেন যা মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে। তিনি পেশাদার আইনজীবী না হলেও নামের সাথে এডভোকেট আছে। তাই একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি যদি ভবিষ্যতে একটু আইন কানুন দেখে বুঝে শুনে কথা বলেন তা হলে আমি নিজে একজন আইনজীবী হিসেবে আমাদের মান সম্মানও থাকতো। তিনি সব জায়গায় নাক গলান। এটা তার অভ্যাস। তবে মন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পর উচিত ছিল তার অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা। তবে ব্যক্তি হিসেবে তিনি একজন ভাল মানুষ।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিল্প ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু আহমদ বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রাইভেট সেক্টরের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এটা কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান নয়। এটা চলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম কানুনের মধ্যে। এর সব টাকাই জনগণের টাকা। ইসলামী ব্যাংক এবং ইবনে সিনার শেয়ার পুঁজিবাজারে রয়েছে। প্রতিদিন এর শেয়ার কেনা-বেচা হচ্ছে। সুতরাং এই দু'টি প্রতিষ্ঠানেরই মালিক জনগণ। হিন্দু, খৃস্টান, বৌদ্ধসহ অমুসলিমরাও রয়েছেন এর মালিকানায়। এমনকি যে প্রতিমন্ত্রী এই দু'টি প্রতিষ্ঠানকে সরকারের মালিকানায় নেয়ার কথা বলেছেন। তার নিকটাত্মীয়রাও এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য শেয়ারের মালিক। সুতরাং প্রতিমন্ত্রীর কথা বলার সময় ভেবে চিন্তেই বলা উচিত। দেশের স্বার্থ তার মাথায় থাকা উচিত।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.3 (3টি রেটিং)

প্রতিষ্ঠান দুটির জনপ্রিয়তা যে হারে বেড়েছে তাতে সরকারের এহেন পদক্ষেপ সরকারের বিরুদ্ধে এর গ্রাহকদের ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে।

আমাদের যেন এখন অপেক্ষার পালা-

এ যালিম সরকারকে কে দেবে উচিত শিক্ষা? স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা নিজেই দেবেন না কি গণমানুষের হাতে দেয়াবেন?

-

দৃষ্টি আমার অপার সৃষ্টি ওগো.... ! @ www.fazleelahi.com

ওদের পরিণতি দেখার অপেক্ষায় আছি।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.3 (3টি রেটিং)