জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যদি আওয়ামী লীগে যোগ দিতেন !

‘দেশে যুদ্ধাপরাধী নেই’ বলে জামায়াত নেতা মুজাহিদের একটি বক্তব্য মিডিয়াতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। ১৯৭২ সালে দালাল আইনে অভিযুক্ত ৭৫২ জনের মধ্যে জামায়াতের কোনো নেতা ছিলেন না দাবি করে মুজাহিদ বলেছিলেন, "'৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আওতায় ওইসব অভিযুক্ত মুক্তি পায়। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনয় জামায়াতের কোনো লোকই জড়িত ছিলেন না।" তিনি বলেন, "একাত্তরের যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৯৫ জনকে তৎকালীন আওয়ামী সরকার তদন্তের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলো। তারা সবাই ছিলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা। তখন তদন্তে আর কাউকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। "স্বাধীনতার স্থপতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল তাদের (পাকিস্তানি সৈন্য) ক্ষমা করে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।"

তার এসব বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ নেতারা পারলে তখনই তাকে বিনা বিচারে ফাঁসি দিয়ে বসে! কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফ বললেন, সরকার  যুদ্ধপরাধের বিচারের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিচার করা হবে না। এটি হবে
প্রতিকী বিচার। এরপর আইনমন্ত্রী বললেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয়, সরকার মানবতা বিরোধীদের বিচার করবে। কিন্তু যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আওয়ামী নেতাদের নামে মামলা হলো এবং আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবী উঠতে থাকলো তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, দেশে কোন রাজাকার নেই
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে না, শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী সরকার রাজাকারদের বিচারও করবে না। কারণ এদের নিরপেক্ষ বিচার করতে গেলে শেখ হাসিনা, শেখ সেলিমসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী ফেঁসে যাবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার তাহলে কাদের বিচার করবে? জায়ামাত নেতাদের? তাদের বিরুদ্ধে কোন মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তো খোদ শেখ মুজিবই পাননি? তাহলে শেখ হাসিনা সরকার কিভাবে তাদের বিচার করবেন? নাকি বিচারের নামে ক্যাঙ্গারু কোর্টে কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করা হবে?

আওয়ামী লীগ একদিনে জামায়াত নেতাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে অন্যদিকে তাদের দলে আশ্রয় নেয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে। এসব দেখে আমার মনে একটা প্রশ্ন জেগেছে। জামায়াতের যেসব নেতার বিরুদ্ধে এখন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হচ্ছে,তারা যদি আওয়ামী লীগে যোগ দিতেন তাহলে তাদের অবস্থান কোথায় থাকতো? নিশ্চয়ই তারা শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভার বড় বড় পদ অলঙ্কৃত করতেন ! তাদের নামেও দেশের প্রধান প্রধান সড়ক, স্টেডিয়াম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হতো। আর কী কী হতো তা এই মুহুর্তে ভাবতে পারছি না। আপনারা ভাবুন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (8টি রেটিং)

ওয়ার ক্রাইম
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. এমএ হাসান বলেছেন,  ৯৫ ভাগ যুদ্ধাপরাধীই পাকিস্তানের। আর পাঁচ ভাগ এদেশের। যারা ওই সময় আলবদরসহ
বিভিন্ন বাহিনীতে ছিল। এ যুদ্ধাপরাধীরা বর্তমানে বিভিন্ন দলের শীর্ষ
পর্যায়ে রয়েছে।
কিন্তু তারপরও পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে না। আওয়ামী যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার হবে না।!

কেউ একজন বলেছিলেন অনেক আগে যে, হাসিনার সবচেয়ে বড় শত্রু  হচ্ছে তার "মুখ"।

একদিন হাসিনাকে পরাজিত করে দেবে হয়ত তার এ "মুখ"। কারণ "মুখ যে মনের কথা বলে..." চোখে চোখে অভিনয় না হয় চললই...।

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

আসলে তার হেডঅফিসে গন্ডগোল। আদালত এ জন্যই তাকে রংহেডেড পারসন উপাধি দিয়েছিল।

sohomot

জামাত বিএনপি সঙ্গ ছেড়ে যদি লীগের সাথে চলে যায় তবে দেশে প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা বেড়ে যাবে।

-

dr

আপনার মন্তব্য আমার পছন্দ হইছে। ধন্যবাদ।

"জামাত বিএনপি সঙ্গ ছেড়ে যদি লীগের সাথে চলে যায় তবে দেশে প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা বেড়ে যাবে।"

মন্তব্যটা আমারো পছন্দ হয়েছে। Smiling

জামায়াতের নেতারা আওয়ামী লীগে যোগ না দেয়ার কারণেই তো যত সমস্যা। এতগুলো বছর পর এখন আওয়ামী লীগকে ভুয়া কাগজপত্র, সাক্ষী এসব বানাতে হচ্ছে-যুদ্ধাপরাধের কথিত বিচারের জন্য। তারা যদি আওয়ামী লীগে যোগ দিতে তাহলে খন্দকার মোশাররফ, মাওলানা নূরুল ইসলাম, ফয়জুল হকসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতার মত তারাও আওয়ামী লীগে পুজনীয় হয়ে থাকতেন। কিন্তু জামায়াত নেতারা তা হতে দিলেন কই?

জামায়াত নেতারা হয়তো নিজেদের নীতিকে বিসর্জন দিতে পছন্দ করে না।

জামাতের নেতারা আওমিলিগ এ যোগ দিলে তো আর যুদ্ধপরাধী ইসু নিয়ে কোনো কথাই উঠতোনা|

আওয়ামীলীগ হয়ত তখন জামায়াত নেতাদেরকে বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত করত।

-

বজ্রকণ্ঠ থেকে বজ্রপাত হয় না, চিৎকার-চেঁচামেচি হয়; অধিকাংশ সময় যা হয় উপেক্ষিত।

আওয়ামী লীগ হচ্ছে রাজাকারদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

আওয়ামী লীগ নেত্রী পাগলী এবং হিন্দী ফিল্মের বহুমুখী অভিনেত্রী...... সব ধরনের অভিনয় করে দাদা বাবুর মন রাখতে চায়।

এখন শোনা যাচ্ছে তদন্ত কমিটির প্রধানও না কি শিবির তথা সংঘের লোক। শিবির দেখছি লীগের রগে রগে হাঁটছে। বেহুদা রগকাটা অস্ত্র দিয়ে কেন যে লীগ শিবির দমনের ফন্দি করে বুঝিনা।

-

বজ্রকণ্ঠ থেকে বজ্রপাত হয় না, চিৎকার-চেঁচামেচি হয়; অধিকাংশ সময় যা হয় উপেক্ষিত।

তদন্ত সংস্থার প্রধানকে দিয়ে আওয়ামী লীগ চেয়েছিল নিজেদের ইচ্ছামত তদন্ত রিপোর্ট বের করতে। কিন্তু তাকে দিয়ে তা সম্ভব না হওয়ায় তাকে ছাত্রসংঘের নেতা বানিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করেছে।

কী আর হতো? বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা আর অপূর্ণ থাকত না!

যুদ্ধাপরাধের ইস্যুটা শেখ মুজিব নিজেই শেষ করে গেছেন ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা, এ দেশীয় দালালদের ক্ষমা করার মধ্য দিয়ে। আর এজন্যই আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে আমরা ঘরে ঘরে আগুন জ্বালাতে চাই না।

আসলেই তাই

true voice

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (8টি রেটিং)