সংবাদ মাধ্যমের দলন নিপীড়নে আওয়ামী ঐতিহ্য-১

গত ২৭ এপ্রিল ঠুকনো অজুহাতে জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়ার পর অনেকে বিস্মিত হয়ে পড়েন! কিন্তু আওয়ামী লীগের কাছে এটা একটা মামুলী ব্যাপার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও কয়েকটি পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। মূলত সংবাদপত্র দলন ও ভিন্নমতের কণ্ঠরোধে আওয়ামী লীগের কখনো জুড়ি ছিল না। মুখে গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বললেও কার্যত এই দলটি তার জন্মলগ্ন থেকেই ফ্যাসিবাদে বিশ্বাসী এবং সমালোচকদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ও রূঢ় এবং অসহনশীল। স্বাধীনতার আগে তারা যেমন এর পরিচয় দিয়েছে তেমনি স্বাধীনতার পরও এর নিকৃষ্টতম প্রমাণ তারা দিয়েছে। তাদের এই অসহনশীল আচরণে অতীষ্ঠ হয়ে ১৯৭২ সালে স্বয়ং মওলানা ভাসানী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট লেখা এক খোলা চিঠিতে আক্ষেপ করে বলেছিলেন,

 ‘‘স্বাধীন বাংলাদেশে যদি পত্রিকা প্রকাশনার সাধারণ অধিকারটুকুও না থাকে তবে আমি এদেশে থাকতে চাই না। হয় পত্রিকা প্রকাশনার অনুমতি দানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দাও নয়ত আমাকে এদেশ থেকে বহিষ্কার কর, যাতে অন্যকোন সত্যিকারের স্বাধীন দেশে গিয়ে বসবাস করতে পারি এবং বর্তমান মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি।’’

সামছুল হক সম্পাদিত বাংলা সাময়িকপত্র ১৯৭২-৮১তে আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের অসংখ্য প্রমাণ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। দলটির অপশাসন ও অপকর্মের সমালোচনা করায় স্বাধীনতার বারো মাসের মধ্যেই তারা ‘গণশক্তি', ‘হক কথা', ‘লাল পতাকা', ‘মুখপত্র', ‘বাংলার মুখ', ‘স্পোকসম্যান' প্রভৃতি সাপ্তাহিক পত্রিকা বন্ধ করে দেয়। পত্রিকাগুলো নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং সম্পাদকরা কারান্তরালে নিক্ষিপ্ত হন। 

১৯৭২ সালে দলটি রাজনৈতিক কারণে ১০টি সংবাদপত্রের প্রকাশনা স্থগিত ও একটি পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করে। ১৯৭৩ সালে এর সাথে যুক্ত হয় যথাক্রমে আরো ১০২টি ও ৬টি পত্র-পত্রিকা। ১৯৭৩ সালে যে সব পত্রিকা বন্ধ করা হয় তার মধ্যে ছিল ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক গণকণ্ঠ এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশবাংলা। ১৯৭৩ সালের মার্চ ও আগস্ট মাসে যথাক্রমে ঢাকার দৈনিক গণকণ্ঠ ও চট্টগ্রামের দৈনিক দেশবাংলার প্রকাশনা বাতিল করা হয় এবং পত্রিকা দুটির সম্পাদক ও তাদের সহযোগীদের জেলখানায় নিক্ষেপ করা হয়।

 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (4টি রেটিং)

১৯৭২ সালে স্বয়ং মওলানা ভাসানী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট লেখা এক খোলা চিঠিতে আক্ষেপ করে বলেছিলেন,

 ‘‘স্বাধীন বাংলাদেশে যদি পত্রিকা প্রকাশনার সাধারণ অধিকারটুকুও না থাকে তবে আমি এদেশে থাকতে চাই না। হয় পত্রিকা প্রকাশনার অনুমতি দানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দাও নয়ত আমাকে এদেশ থেকে বহিষ্কার কর, যাতে অন্যকোন সত্যিকারের স্বাধীন দেশে গিয়ে বসবাস করতে পারি এবং বর্তমান মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি।’’

আজ দরকার ঘরে ঘরে মাওলানা ভাসানীর। কারণ তখন মুজিব ছিল একটি, এখন নাকি ঘরে ঘরে মুজিব হয়ে গেছে। পাড়ায় পাড়ায় মুজিবদের জন্য সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা। জানিনা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সাধারণ মানুষদের জন্য আরো কত ভোগান্তি অপেক্ষা করছে।

প্রতিমাসের ৭ তারিখে মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করলেই তো টিভি বন্ধ হয় না।

সুধাসদন থেকে একটা ভাল টিপস্ এসেছে Laughing out loud

৭ মার্চের ভাষণ প্রতি ৭ তারিখে প্রচার করে আপনার টিভি চ্যানেলকে রক্ষা করুন রক্ষীবাহিনীর নতুন ভার্সনের হাত থেকে।

টিপসটা আরও আগে দরকার ছিল।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (4টি রেটিং)