০০১. হে আল্লাহ্!

["লা-তাহযান" আরবী ভাষার একটি বহুল আলোচিত ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থ। বইটির বাংলা অনুবাদ দেখে বিসর্গ ব্লগের পাঠকদের জন্য পর্যায়ক্রমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। বইটির অনুবাদ ও অনলাইন তথ্যসূত্র: www.hadithbd.com আল্লাহ্ বইটির লেখক, প্রকাশক, অনুবাদক, প্রচারকসহ যারা যেভাবে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন; তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। -তথ্য ভাণ্ডারী]

গ্রন্থঃ লা-তাহযান [হতাশ হবেন না]  | রচনা/অনুবাদ/সংকলনঃ ড. আয়িদ আল করনী

১. হে আল্লাহ!

يَسْأَلُهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ

“আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। প্রতি মুহুর্তে তিনি কাজে রত।” (৫৫-সূরা আর রাহমান: আয়াত-২৯)

(যেমন কাউকে সম্মান দান করা, কাউকে অপমানিত করা, নবসৃষ্টির মাধ্যমে কাউকে জীবন দান করা, কাউকেবা মৃত্যু দান করা ইত্যাদি কাজে রত)।

যখন বিক্ষুব্ধ ঝঞা বায়ুতে সমুদ্র উত্তাল-তরঙ্গায়িত থাকে, তখন নৌকার আরোহীগণ আর্তনাদ করে বলে, “হে আল্লাহ!”

যখন মরুভূমিতে উট চালক ও কাফেলা পথ হারিয়ে ফেলে তখন তারা আর্তচিৎকার করে বলে, “হে আল্লাহ!"

যখন বিপর্যয় ও দুর্যোগ দেখা দেয় তখন দুর্দশাগ্রস্তরা বলে উঠে, “হে আল্লাহ!"

দরজা দিয়ে যখন কেউ প্রবেশ করতে চায় আর তার সামনেই দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অভাবীদের সামনে যখন বাধার প্রাচীর নির্মাণ করা হয় তখন তারা চিৎকার দিয়ে বলে, “হে আল্লাহ!"

যখন সকল পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, সকল আশা ভঙ্গ হয়ে যায় এবং পথ সংকীর্ণ হয়ে যায় তখন ডাক পড়ে, “হে আল্লাহ!"

বিশাল, বিস্তীর্ণ ও প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী যখন আপনার কাছে সংকীর্ণ মনে হয়, নিজেকে সংকুচিত ভাবতে পরিস্থিতি বাধ্য করে তখন আপনি ডাক দিয়ে বলুন, “হে আল্লাহ!"

সকল ভালো কথা, একান্ত অনুনয়-বিনয়, নিরপরাধীর আঁখিজল এবং বিপদগ্রস্তের সাহায্য প্রার্থনা-সবই আল্লাহর দরবারে পৌছে। অভাব-অনটন এবং বিপদাপদের সময় দু’হাত ও দু’চোখ তার দিকেই প্রসারিত হয়। জিহ্বা তার নাম সুমধুর কণ্ঠে জপে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কতই না উত্তম ও উৎকৃষ্ট! কতই না মহান যখন আমরা তাকে স্মরণ করি তখন হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে, আত্মা স্থিরতা লাভ করে, স্নায়ু বিশ্রাম নেয় আর বোধশক্তি জেগে উঠে।

“আল্লাহ নাম হলো সুন্দরতম নাম, বিশুদ্ধতম বর্ণ-সংযোজন এবং সর্বাধিক মূল্যবান শব্দ।

هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا

“তুমি কি এমন কিছু জান বা চেন যা তার অনুরূপ।” (সূরা-১৯ মারইয়াম: আয়াত-৬৫)

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

তার মতো কিছু নেই, আর তিনি হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা।" (৪২-সূরা-শুরা: আয়াত-১১)

যখন পরম সমৃদ্ধি, শক্তি সত্তা, মর্যাদা ও প্রজ্ঞার কথা মনে আসে তখন ‘আল্লাহ' নাম মনে হয়।

لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ

আজ রাজত্ব কার? (আল্লাহ নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিবেন)। আল্লাহর-যিনি একক, মহাপরাক্রমশালী!” (৪০-সূরা আল মু’মিন: আয়াত-১৬)

যখন দয়া, যত্ন, সাহায্য, স্নেহ-মমতা ও অনুকম্পার কথা মনে আসে তখন ‘আল্লাহ' নাম মনে পড়ে।

وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ

“আর তোমাদের নিকট যত নিয়ামত রয়েছে সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে।” - (১৬-সূরা আন নাহল: আয়াত-৫৩)

আল্লাহ হলেন মর্যাদা, মাহাত্ম্য ও শক্তিমত্তায় অধিকারী। হে আল্লাহ! আরাম-আয়েশকে দুঃখ-কষ্টের স্থান দখল করতে দিন ।

হে আল্লাহ্ ঈমানের শীতলতা দ্বারা হৃদয়ের জ্বালা নিবারণ করুন।

হে আমাদের প্রভু! বিনিদ্র রজনী যাপনকারীকে সুখনিদ্রা দান করুন এবং অসুখী আত্মাকে শান্তি প্রদান করুন।

হে আমাদের প্রতিপালক বিভ্রান্তদেরকে আপনার আলোর এবং পথভ্রষ্টদেরকে আপনার হেদায়েতের পথে পরিচালিত করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহ হতে কুমন্ত্রণা দূর করে দিন এবং আমাদের অন্তরসমূহকে আলো দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিন, মিথ্যাকে সত্য দ্বারা ধ্বংস করে দিন এবং শয়তানের কুচক্রকে আপনার ফেরেশতা বাহিনী দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে দিন। হে আল্লাহ আমাদের থেকে দারিদ্র্যতা, ক্লেশ ও উদ্বেগ চিরতরে দূর করে দিন। আপনাকে ব্যতীত অন্যকে ভয় করা, আপনাকে ছাড়া অন্যের উপর ভরসা করা, আপনাকে বাদ দিয়ে অন্যের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা স্থাপন করা এবং আপনি ছাড়া অন্যের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা থেকে আমরা আপনার নিকট আশ্রয় চাই। আপনি হলেন সর্বোৎকৃষ্ট পৃষ্ঠপোষক ও পরমোৎকৃষ্ট পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা।

(ক্রমশ...)

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

ভালো উদ্যোগ। প্রায় তো তিনশ'র উপরে পোস্ট হয়ে যাবে Laughing

-

"প্রচার কর আমার পক্ষ হতে, যদি একটি কথাও (জানা) থাকে।" -আল হাদীস

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)