বাংলাদেশ আর ভারতীয় মিডিয়ার মধ্যে পার্থক্য

অন্যের দোষ দিয়া লাভ নাই নিজেরাই নিজেদের কবর খুরছে বাংলাদেশী মিডিয়া।ভারতীয় চ্যানেল তাদের ধর্ম সংস্কৃতি রীতিনীতি নাটক সিনেমার মাধ্যমে সুন্দর ভাবে ফুটাইয়া তুলে।ইন্ডিয়ান সিনেমা সিরিয়ালে পূজা হিন্দু ধার্মিকতা ইতিবাচক অর্থে দেখায় ধার্মিক ব্যাক্তি সমাজে ভালোর প্রতিনিধিত্ব করে।চরিত্রে ধর্ম পালন প্রতি মুহুর্তে অভিনেতা অভিনেত্রীর জীবনে গুরুত্বপূর্ন অংশ অন্যদিকে বাংলাদেশি চ্যানেল ধর্ম নীতিবাচক অর্থে দেখায় ধার্মিক মানেই রাজাকার জঙ্গি ফতোয়াবাজ সমাজ বিরোধী লোক।নাটক সিনেমায় ধার্মিক টুপিওয়ালা চরিত্র ঠাট্টা উপহাসের পাত্র সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিষ্ঠাকারী ব্যাক্তি নাটক সিনেমায় দেখানো হয় সমাজের প্রভাবশালী মোড়ল তারা খারাপের প্রতিক।মাঝে মধ্যে পত্রিকায় দেখি সমালোচনামূলক রিপোর্ট যে ভারতীয় সিরিয়ালে শুধু পূজা হিন্দু আচার আচরন দেখায় হ্যাঁ অবশ্যই দেখায় তাদের দিক দিয়ে দেখলে এটা তাদের জন্য একদম ঠিক, আমরা আমাদের স্বার্থ দেখবো তারা তাদের স্বার্থ দেখবে এটাই স্বাভাবিক এতে দোষের কিছু নাই কিন্তু আমরা আমাদের স্বার্থ দেখাইতে ব্যর্থ সিরিয়ালে দেব দেবীর কাহিনি ধর্মীয় রীতিনীতি সুন্দর ভাবে তুইলা ধরে বাংলাদেশি মিডিয়া উল্টাটা করে এসব করে ভারত অন্য সমাজে অন্য দেশে প্রভাব সৃষ্টি করতে চায় বাজার তৈরী করতে চায় কিন্তু বাংলাদেশী মিডিয়া কি ঠিক মত দায়িত্ব পালন করছি অবশ্যই না।ইন্ডিয়ান মিডিয়ার সাথে বাংলাদেশী মিডিয়ার পার্থক্য হল, তারা তাদের সমাজের সংখ্যাগুরু লোকের চিন্তা চেতনা প্রচার করে আর আমাদের চ্যানেল সমাজের সংখ্যালগু অংশের চিন্তা চেতনা প্রচার করি।তারা নাটক সিনেমায় হিন্দু ধর্ম ইতিবাচত দেখায় আর আমরা ইসলাম ধর্ম নীতিবাচক খারাপ অর্থে দেখাই তারা পুজা পার্বণে চ্যানেলে দেবদেবীর কাহিনি দেখায় আর আমরা ঈদে ইসলাম ধর্ম শিক্ষামূলক কিছুই দেখায় না তারা দর্শকের কথা চিন্তা করে কম বিঞ্জাপন দেয় আর আমরা দর্শকের কথা চিন্তা না করে বেশি বিঞ্জাপন দেই

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

একটি বানান ভুল আছে। নীতিবাচক হবে না, হবে নেতিবাচক।
শেষের লাইনে দুই বাক্যের মাঝখানে একটি বিরাম চিহ্ন (দাড়ি) বাদ পড়েছে।
প্রত্যেক বিরাম চিহ্নের পড়ে স্পেস দিলে পড়তে সুবিধা হবে।

সালাম

সুন্দর   লিখেছেন  ভাই  ।  বাংলাদেশের   মিডিয়া  কারা  নিয়ন্ত্রণ  করছে  ,  এসব  নিয়ে  আমাদের   ভাবা  দরকার ।  ইসলাম  বিরোধী  মনোভাব  আর  অশালীনতার  প্রচার   -  এগুলিই  দেশী   গণমাধ্যমের   মূল  কাজ  হয়ে  গিয়েছে  ।    

শুধু ধর্মীয় ব্যাপারে নয়, সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারে এবং রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টিতেও তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে। তাদের মিডিয়া কোন উদ্দেশ্যহীন অনুষ্ঠান বা নাটক প্রচার করে না, কিংবা নিছক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও পরিচালিত হয় না।
স্টার জলসার "টাপুর টুপুর" সিরিয়ালে দেখেছি, শ্বাশুড়ী পুত্রবধুকে নাচ থেকে ফিরানোর জন্য কত রকম কূটকৌশল অবলম্বন করছে, আর সেই কূটচালকে মোকাবেলা করে নিজের লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য কত রকম পাল্টা কৌশল অবলম্বন করতে হয়। নাচে আপত্তি প্রকাশকারীকে কুটনী হিসেবে এবং নাচকে প্রমোটকারীদের নির্দোষ ও মজলুম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই সাথে নৃত্যশিল্পী ওরফে নর্তকী পুত্রবধুর তরফ থেকে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, "নৃত্য হচ্ছে একটি কলা!"
জি বাংলায় শিশুদের জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ "বাটুল দ্য গ্রেট" এর একটি পর্বে সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনা দেখানো হয়েছিল। সিরিয়ালের নায়ক বাটুল কিভাবে অসম্ভব বীরত্বের সাথে সীমান্তে শত্রুদেশের আগ্রাসন রুখে দিয়েছে, সেই চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সীমান্ত যুদ্ধের জন্য কোন্‌ পক্ষ দায়ী, কোন্‌ পক্ষ প্রতিবেশীসুলভ শান্তি অফার করে, আর কোন্‌ পক্ষ তা অগ্রাহ্য করে অশান্তি সৃষ্টি করে, আর সেই অশান্তি সৃষ্টিকারী প্রতিবেশী কিভাবে পাল্টা প্রতিরোধে জব্দ হয়, তা দেখিয়ে শিশুদেরকে দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক সচেতনতায় উজ্জীবিত করা হয়েছে এ পর্বে।
"বাটুল দ্য গ্রেট"-এর আরেক পর্বে এক ভয়ঙ্কর যাদুকরকে দেখানো হয়েছে, যে কিনা শিশুদেরকে অপহরণ করে এবং যাদুশক্তি ও সম্মোহনী ক্ষমতার দ্বারা বশীভূত করে তাদেরকে নিয়ে নিজ সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চায়। তার লক্ষ্য এমন একটা দল গড়ে তোলা, যারা তার কথায় জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকবে। শিশুদের মন যেহেতু কোমল থাকে, তাই শিশুদেরকেই সে এ মিশনের জন্য বেছে নিয়েছে। তাদেরকে নিয়ে ঐ যাদুকর সারা পৃথিবী শাসন করা এবং পৃথিবীতে নিজের কাঙ্ক্ষিত রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখে।
আপনারা কি বলতে পারেন, এখানে যাদুকরের ঐ যাদুশক্তি বলতে কোন্‌ জিনিসটাকে বোঝানো হয়েছে? কোন্‌ যাদুটাকে ওরা এত ভয় করে? কার্টুন সিরিয়ালে ব্যক্তি বিশেষের উচ্চাভিলাষকে এই যাদুর উৎপত্তি হিসেবে তুলে ধরা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের ঐ আতঙ্কের উৎস খল চরিত্রের কোন ক্ষমতালোভী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, বরং ইসলামী চেতনা বিশেষত জিহাদী চেতনাই তাদের কাছে প্রধান সমস্যা। যারা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়, আল্লাহ ও রসূলের (সা:) আদর্শ এবং কোরআনের চেতনায় দীক্ষিত হয়, কোরআনের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়, তারা যেকোন অন্যায় ও অধর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে পারে, আল্লাহর পথে ধর্মের জন্য ও মানবতার জন্য জীবন দিতেও পিছপা হয় না। কোরআনের যে যাদুকরী শক্তি রয়েছে, কোরআন যে মানুষকে কতটা প্রভাবিত ও উদ্বুদ্ধ করতে পারে, তা সম্পর্কে ইসলামের শত্রুরা অনবহিত ও উদাসীন নয়। নবীজীর সময়ও কোরআনকে যাদু ও মুহাম্মাদ (সা:)-কে যাদুকর বলে তাঁর থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখার কোশেশ হয়েছে। আজও ইসলামের শত্রুরা জানে যে, ইসলামের বিপ্লবী চেতনা থেকে মুসলমানদের দূরে সরিয়ে রাখতে পারলেই দাবিয়ে রাখা যাবে।
বাটুলের আলোচ্য পর্বের শেষে উক্ত যাদুকরের কবল থেকে শিশুদের উদ্ধার এবং যাদুর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চিত্র দেখানো হয়েছে। আর বাস্তব ক্ষেত্রে বিধর্মীরা মুসলিম শিশুদেরকে ইসলাম ও কোরআনের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে অনেকাংশেই সফল হয়েছে। তারা এটা সাধন করেছে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মীয় শিক্ষাকে সংকোচনের মাধ্যমে এবং অপ্রয়োজনীয় শিক্ষার বাহুল্য ও নানারকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত করে রাখার মাধ্যমে। আর ধর্মীয় শিক্ষাকেও নিজেদের নকশামাফিক ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে। কোরআন ও হাদীসের আলোকে শত বছরের প্রতিষ্ঠিত বিষয়গুলোকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে উপস্থাপনের দ্বারা নতুন আঙ্গিকে পাঠ্যপুস্তক রচনার মাধ্যমে ইসলামের মূল  প্রাণশক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এভাবে তারা এটা নিশ্চিত করেছে যে, মুসলমানদের নতুন প্রজন্ম আর এমন কোন যাদুকরী শক্তির দ্বারা উজ্জীবিত হবে না, যারা ধর্মের প্রয়োজনে জাতির প্রয়োজনে জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। এককথায়, মুসলমানদের নিবীর্যকরণ প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে।
অবশ্য একথাও ঠিক, ধর্মের নামে ব্যক্তিস্বার্থ ও অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থকারী এবং এ উদ্দেশ্যে শিশু-কিশোরদের ব্রেনওয়াশ করে ব্যবহারকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীও রয়েছে দুনিয়ায়। তাদের থেকে সতর্ক থাকবার প্রয়োজন আমরাও অস্বীকার করতে পারি না। কেবল সেদিক থেকে ব্যাখ্যা করলে অবশ্য বাটুলের আলোচ্য পর্বটিকে নেতিবাচক অর্থে দেখা ঠিক হবে না।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)