গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজে হামলা : ইসরাইলী যুদ্ধাপরাধের আরেকটি দৃষ্টান্ত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা অভিমুখে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলী সেনাদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা বিশ্ববাসীর সামনে তাদের আগ্রাসী ও বর্ণবাদী চরিত্রের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসরাইলী জঙ্গীবিমান ও হেলিকপ্টারগুলো আজ ভোরে গাজা উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক পানি সীমায় অবস্থানরত ত্রাণবাহী জাহাজ লক্ষ্য গুলি চালালে অন্তত ২০ জন শান্তিকামী নিহত এবং আরো ৫০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া অন্যদেরকে ইসরাইলী সেনারা আটকে রেখেছে। বর্ণবাদী ইসরাইল এই ত্রাণবহরে হামলা চালিয়ে আবারও এটা প্রমাণ করেছে, কোন মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল নয় এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধ, নিরীহ ফিলিস্তিনীদের রক্ত ঝরানো, হত্যা ও গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়া।

ফিলিস্তিনীদের জন্য বহনকারী ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলী হামলার ঘটনা এতটাই হৃদয় বিদারক ছিল যে, পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও বিশেষ করে সিএনএন, বিবিসি ও ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোরও এ সংক্রান্ত খবরাখবর চেপে রাখতে পারেনি। কিন্তু ইসরাইলী গণমাধ্যমগুলো ঐ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর সেন্সর করছে এবং তাদের হামলায় কিছু সংখ্যক লোকের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। তুরস্ক ও গ্রীসসহ আরো কয়েকটি দেশের মোট নয়টি জাহাজে করে অবরুদ্ধ গাজাবাসীদের জন্য হাজার হাজার টন খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এসব জাহাজে ইউরোপের অনেক পার্লামেন্ট সদস্য, সাবেক পশ্চিমা কূটনীতিবিদ এবং অনেক সংবাদ ও মানবাধিকার কর্মীও উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান নবি পিল্লাই গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলী হামলাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি গাজার ওপর ইসরাইলী অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সহিংসতার মাধ্যমে ত্রাণবাহী জাহাজ আটকে দেয়ার খবরে তিনি মর্মাহত হয়েছেন। বিস্তারিত

গাজামুখী ত্রাণবাহী জাহাজে ভয়াবহ ইসরাইলী হামলার প্রতিবাদে ইউরোপের
বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত ইসরাইলী রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। গ্রীসে নিযুক্ত
ইসরাইলী রাষ্ট্রদূতকে আজ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে ঐ জাহাজে
থাকা ৩০ জন গ্রীক নাগরিকের অবস্থা সম্পর্কে অনতিবিলম্বে রিপোর্ট পেশ করার
নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরব দেশগুলো গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলের রক্তক্ষয়ী হামলার
কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। আরব লীগের মহাসচিব আমর মুসা ঐ হামলাকে 'অপরাধ'
হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ২২টি দেশ নিয়ে গঠিত আরব লীগ এ ব্যাপারে 'পরবর্তী পদক্ষেপ' নেয়ার পরিকল্পনা
করছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলী রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলী হামলার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং ইসরাইল ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষও ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আজ শোক দিবস ঘোষণা করেছে। ইসলামী জেহাদ আন্দোলন হামাস ও ফিলিস্তিন মুক্তিফ্রন্টসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনী দলগুলো আলাদা আলাদা বিবৃতিতে ইসরাইলী হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরাইলী অপরাধযজ্ঞের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজ বিশেষ করে পশ্চিমাদের নিরবতা ইসরাইলকে আরো বেপরোয়া করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, ইসরাইল গাজায় নির্বাচিত হামাস সরকারকে উৎখাত করার জন্য ২০০৭ সাল থেকে সেখানে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। এই অবরোধের ফলে গাজায় খাদ্য, ঔষধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রবেশ করতে পারছে না। ইসরাইল গত বছরও গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে ৫০০ নারী ও শিশুসহ অন্তত দেড় হাজার ফিলিস্তিনীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজে ইহুদীবাদী সেনাদের হামলার মাধ্যমে ইসরাইলের পতন শুরু হয়েছে।
জনাব আহমাদিনেজাদ আজ তেহরানে বলেছেন, ঐ হামলার ফলে ইসরাইলের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ইসরাইলীরা মনে করছে, এভাবে তাদের শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। কিন্তু আসলে এর ফলে ইসরাইলের পতনের সূচনা হয়েছে। ইসরাইলের পতনের জন্য এর আগ্রাসী মানসিকতাই যথেষ্ট বলে জনাব আহমাদিনেজাদ মন্তব্য করেন।

আর কতদিন? মুসলমান শাসকদের বিবেকে না হয় পচন ধরেছে। সাধারণ বিশ্ববাসীও কি এ আন্তর্জাতিক ইস্যূটিতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত?

দেশে দেশে বিক্ষোভ দ্বারা হয়ত তা পুরোপুরি সত্য বলা যাবে না, তবে ফলাফলও যে কি হবে সে বিষয়ে আশায় বুক বাঁধতে পারছি না।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

Sad

ওআইসির অবস্থা দেখুন। হামলা হলো এক রোববার আর জরুরী (!)  বৈঠক ডেকেছে আরেক রোববার!

সবাই ইসরাইলের ব্লকেড নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু  আমার জানামতে মিসরও একই কাজ করেছে। তাহলে মিসরকে কেন দোষী করা হচ্ছেনা?

মিশরের অপরাধ আরো বেশী। তারা গাজার সাথে সীমান্ত এবং ট্যানেল করে দিয়ে গাজার লোকজনকে না খাইয়ে মারার ক্ষেত্রে বেশী ভূমিকা রাখছে।  এ যুগের ফেরাউন হোসনী মোবারকের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোন আশা নাই।

এই আরব দেশগুলো যতদিন এক না হবে ততদিন এই হামলা চলবে।
সৌদিআরব 
এই ব্যাপারে কখনো জো ভুমিকা রাখে নাই।
কিন্তু সৌদিয়ারব যদি কটিন কোন জোরালো ভুমিকা রাখতো তবে কিছু একটা হতো এই শালারা সবচেয়ে বড় শয়তান।

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)