মরুর আকাশ মেঘলা এখন

মরুর আকাশ কিছুদিন থেকে সত্যিই মেঘলা। হঠাৎ বড় বড় ফোটায় প্রবল বৃষ্টি, আবার থেমে থেমে ইলশাগুঁড়ি তো আবার হেসে উঠে শিশুবেলার সূর্যিমামা।মরুর বাসিন্দা আমরা, 'মামা'কে নিয়েই থাকতে হয়, 'মেঘলা' খালা বছরে দু'একবার বেড়াতে আসেন আমাদের উষ্ণ পল্লীতে। তিনি এলে কি যে আনন্দ হয় আমাদের, তখন ভাষা দাদু চলে যান পাশের গাঁয়ে। আর আমরা নির্বাক হয়ে আনন্দে মেতে উঠি, নেচে উঠি বৃষ্টির প্রতিটি ফোটার সাথে সাথে। মরুচারী হয়ে এগার বছরে এগার কিংবা তারও কিছু বেশী হবে হয়তো, বৃষ্টি দেখেছি। প্রথম বৃষ্টি ভড়কে দিল, বন্যায়-বানে ছিল যার সখ্যতা, সে তো শুষ্ক বালুর বুকে ঢল বইতে দেখলে ভড়কাবেই। গাড়ীগুলো ডুবে গেল, ঘরের দুয়ারে হাঁটু পানি। তবে বেশীক্ষণ থাকেনি, ঘন্টা কয়েক পরেই পাশের লোহিত সাগর চুষে খেল সবটুকু মরু-নির্যাস। তারপরের বছর দেখলাম বৃষ্টিভেজা বেদুঈন বালা আর শিশুদের আনন্দ, বৃষ্টিমুখর দেশে শৈশব থেকে যৌবনে এসেও যা কখনো দেখিনি। বালা-কনেরা বোরখা জড়িয়ে টিলা-পাহাড়ে উঠে বৃষ্টির মায়া নিল, আর শিশুরা নেচে-গেয়ে কাদা-জলের সাথে পরিচিত হলো কেউ, কেউ সাক্ষাত নিল জীবনে প্রথম। তারপর বৃষ্টিকে মনে পড়ে যখন কর্মব্যস্ত বিকেল।
ক্রিং কিং .... যত কর্মব্যস্তই হই, উত্তর দিতে বাধ্য।
হ্যালো।
মুজাহিদ ভাই, বৃষ্টি পড়ছে, কবিতা লিখুন।
লিখবো ।
বাইরে তাকিয়ে দেখি, আমার কাব্য-প্রেরণা হয়ে সত্যিই তিনি এসে হাজির। কাব্য হলো। এভাবেই মরুর জীবনে বৃষ্টি-আনন্দ। ক'বছর থেকে মদীনায় বৃষ্টি নেই তেমন। মেঘলা মেঘলা দিন স্মৃতি জাগায়, মন ভারী করে, কিন্তুরুক্ষ দিন মেজাজ খারাপ করে। তাই ক'দিনের মেঘলা আকাশ, প্রবল বৃষ্টি, ইললাগুঁড়ি সবকিছু কেমন যেন জীবনের পাওনা বলে মনে হচ্ছে। না পাওয়াকে পাওয়া, কত না পাওয়াতেই তো আমাদের জীবন ভরে আছে। ক'টারই বা আর নালিশ করতে পারি, শুনেই বা কে? নালিশ নয়, একটু ভাললাগা ভাগাভাগি করলাম পাঠকের সাথে, অবশ্য যদি কেউ পড়ে....।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)