রক্তপান (২) (পরবর্তী অংশ)

এটাকে যদি পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় তাহলে বিশ্ব থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার লোক এই চরে বেড়াতে আসবে।

অবন্তি— যখন এরকম ভাবছিল তখন হাঁটার শব্দ শুনতে পেল। রাতের অন্ধকারে এরকম হাঁটার শব্দ শুনতে পেয়ে সত্যিই ভয় পেয়ে গেল। খুব সতর্কতার সাথে হাঁটার শব্দের উৎসস্থল খোঁজতে লাগল।

অল্প কিছুক্ষণ বাদেই একটি সুদর্শন যুবককে দেখতে পেল। এটাই হয়ত ট্টমি হবে। সে মানুষের রক্ত খাবে কেন। এত সুন্দর ছেলেকে দেখেই অবন্তীর ইচ্ছা হল ছেলেটির সাথে পরিচয় হতে। ডাক দিতে যাবে এমন সময় মনে হল সে না রহস্য সমাধান করতে এসেছে।

সুতরাং ট্টমির দিকে নজর রাখতে লাগল। ট্টমি ঘুরছে, বসছে, চিন্তা করছে।

অবন্তি—ও ট্টমিকে অনুসরণ করছে। এভাবে সাত আট ঘন্টা কেঁটে গেল। অবন্তি— ট্টমিকে দেখে অন্য কিছু মনে হয় নি। তাকে স্বাভাবিক সুস্থ মানুষই মনে হচ্ছে। রাতের বেলায় হয়ত ট্টমি ঘুমায় না। এটা হতেই পারে। অনেক মানুষই আছে যারা রাতে ঘুমায় না। পাখির মত জেগে থাকে।

অবন্তি— ফিরে আসতে যাবে এমন সময় সে একটা নৌকা আসতে দেখল। নৌকাটিতে ছোট্ট একটি ছেলে বসা। চারদিকে ঘিরে আছে র্যা বের মত পোশাক পরা চার পাঁচটি সুঠাম দেখের ব্যক্তি। তাদের দেখেই মনে হচ্ছে তারা বাচ্চাটাকে কিডনাপ করে এনেছে।

নৌকা থেকে বাচ্চাটাকে নামিয়েই লোকগুলি চিৎকার করতে লাগল। কি বলছে কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। হাত নড়ে কি যেন ইশারা করছে। অবন্তি— ভয় পেয়ে গেল। কারণ তাকে মনে হয় দেখে ফেলেছে তাই তারা তাকে ধরার জন্য এরকম করছে।

অবন্তি— কাঁশফুল বনে লোকাতে চেষ্টা করল। একটি গর্ত দেখে গর্তের মধ্যে লুকালো। লোকগুলি অস্ত্র তাক করে এদিক ওদিক দেখতে লাগল। অবন্তীর পায়ের নিচে হঠাৎ করে শব্দ করে উঠল।

অবন্তির ভয়ে গলা শুকিয়ে আসল। মনে হচ্ছে এখনই তাকে ধরে ফেলবে। পায়ের নিচে তাকাতেই দেখতে পেল, গর্তের মধ্যে কোন মাটি নেই। অনেকটা ম্যানখুলের ঢাকনার মত কি যেন দেওয়া। লোকগুলিকে দেখা যাচ্ছে। লোকগুলি ছেলেটাকে বেঁধে রেখেছে। অল্প কিছুক্ষণ পরেই দেখা গেল দশ বারজন লোককেও বেঁধে আনা হয়েছে। অস্ত্রধারী লোকগুলি বেঁধে আনা লোকগুলি ইশারা করছে।

বেঁধে আনা লোকগুলি ইশারা অনুযায়ী কাজ করতে অসম্মতি জানাচ্ছে। অস্ত্রধারী লোকগুলি হাতে পায়ে গুলি করত বেঁধে আনা লোকগুলি কুঁকড়াতে লাগল। এর মধ্যেই দেখা গেল কয়েকজন মারা গেছে। যারা বেঁচে আছে তাদের পায়ে হাতেও গুলি লাগা। তাদের কি যেন ইশারা করছে। তারা বারবার অসম্মতি জানাচ্ছে। অসম্মতি জানানোর সাথে সাথেই গুলি করে মেরে ফেলছে।

এরকম ভয়াবহ দৃশ্য অবন্তি— জীবনে কখনো দেখি নি। অবন্তির মনে হচ্ছে এখনই সে চিৎকার করবে। কিন্তু কিছুই করল না। কিছু করলেই জীবটাকে দিয়ে দিতে হবে।

সুতরাং যে করেই হোক রহস্য সমাধান করতেই হবে। বেঁধে আনা লোকগুলিকে গুলি দেওয়ার সাথে সাথে মারাত্তক অত্যাচার করছে। এদের চিৎকারে আকাশ পাতাল ভারি হয়ে যাচ্ছে। নদীর ঘর্জন শুনা না গেলেও লোকগুলির চিৎকার শুনা যাচ্ছে।

এভাবে একে একে করে সবাইকেই মেরে ফেলল। মেরে ফেলা লোকগুলিকে বায় ভরে আরেকটি নৌকা যুগে কোথায় যেন পাঠিয়ে দেওয়া হল।

এরপর আরেক দল লোককে বেঁধে আনা হল। তাদের দেখেই মনে হচ্ছে অনেক নির্যাতন করে আনা হয়েছে। লোকগুলিকে আবার আগের মতই ইশারা করতে লাগল। একটা লোক এগিয়ে গেল। বেঁধে রাখা ছেলেটার গলায় কামড় বসিয়ে দিল। ছেলেটা আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেল।

_____চলবে

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)