শিশুর নাম নির্বাচন : ইসলামী দৃষ্টিকোণ

শিশুর জন্মের পর তার জন্য একটি সুন্দর ইসলামী নাম রাখা প্রত্যেক মুসলিম পিতা-মাতার কর্তব্য। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলমানদের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলমানদের মাঝেও ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে শিশুর নাম নির্বাচন করার আগ্রহ দেখা যায়। এজন্য তাঁরা নবজাতকের নাম নির্বাচনে পরিচিত আলেম-ওলামাদের শরণাপন্ন হন। তবে সত্যি কথা বলতে কী এ বিষয়ে আমাদের পড়াশুনা অতি অপ্রতুল। তাই ইসলামী নাম রাখার আগ্রহ থাকার পরও অজ্ঞতাবশত আমরা এমনসব নাম নির্বাচন করে ফেলি যেগুলো আদৌ ইসলামী নামের আওতাভুক্ত নয়। শব্দটি আরবী অথবা কুরআনের শব্দ হলেই নামটি ইসলামী হবে তাতো নয়। কুরআনে তো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাফেরদের নাম উল্লেখ আছে। ইবলিস, ফেরাউন, হামান, কারুন, আবু লাহাব ইত্যাদি নাম তো কুরআনে উল্লেখ আছে; তাই বলে কী এসব নামে নাম রাখা সমীচীন হবে!? তাই এ বিষয়ে সঠিক নীতিমালা আমাদের জানা প্রয়োজন। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে- “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হচ্ছে- আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) ও আব্দুর রহমান (রহমানের বান্দা)।” এ নামদ্বয় আল্লাহর প্রিয় হওয়ার কারণ হল- এ নামদ্বয়ে আল্লাহর উপাসনার স্বীকৃতি রয়েছে। তাছাড়া আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর দুটি নাম এ নামদ্বয়ের সাথে সমন্ধিত আছে। একই কারণে আল্লাহর অন্যান্য নামের সাথে আরবী ‘আব্দ’ (বান্দা) শব্দটিকে সমন্ধিত করে নাম রাখাও উত্তম। যেমন, যেমন, আব্দুল আযীয (عبد العزيز- পরাক্রমশালীর বান্দা), আব্দুল মালিক (عبد المالك), আব্দুল কারীম (عبد الكريم-সম্মানিতের বান্দা), আব্দুর রহীম (عبد الرحيم-করুণাময়ের বান্দা), আব্দুল আহাদ (عبد الأحد- এক সত্তার বান্দা), আব্দুস সামাদ (عبد الصمد- পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্বের অধিকারীর বান্দা), আব্দুল ওয়াহেদ (عبد الواحد-একক সত্তার বান্দা), আব্দুল কাইয়্যুম (عبد القيوم-অবিনশ্বরের বান্দা), আব্দুস সামী (عبد السميع-সর্বশ্রোতার বান্দা), আব্দুল হাইয়্য (عبد الحي-চিরঞ্জীবের বান্দা), আব্দুল খালেক (عبد الخالق-সৃষ্টিকর্তার বান্দা), আব্দুল বারী (عبد الباري-স্রষ্টার বান্দা), আব্দুল মাজীদ (عبد المجيد-মহিমান্বিত সত্তার বান্দা) ইত্যাদি। পক্ষান্তরে এই ‘আব্দ’ শব্দটিকে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কোন শব্দের সাথে সমন্ধিত করে নাম রাখা হারাম। যেমন, আব্দুল ওজ্জা (ওজ্জার উপাসক), আব্দুশ শামস (সূর্যের উপাসক), আব্দুল কামার (চন্দ্রের উপাসক), আব্দুল কালাম (কথার উপাসক), আব্দুন নবী (নবীর উপাসক), আব্দুল আলী (আলী এর উপাসক), আব্দুল হোসাইন (হোসাইন এর উপাসক)। তবে আমাদের দেশে প্রেক্ষাপটে দেখা যায় নামের মধ্যে ‘আব্দ’ শব্দটা থাকলেও ডাকার সময় ‘আব্দ’ শব্দটা ছাড়া ব্যক্তিকে ডাকা হয়। যেমন আব্দুর রহমানকে ডাকা হয় রহমান বলে। আব্দুর রহীমকে ডাকা হয় রহীম বলে। এটি অনুচিত। যদি দ্বৈত শব্দে গঠিত নাম ডাকা ভাষাভাষীদের কাছে কষ্টকর ঠেকে সেক্ষেত্রে অন্য নাম নির্বাচন করাটাই শ্রেয়। তাছাড়া যে কোন নবীর নামে নাম রাখা ভাল। যেহেতু তাঁরা আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা। নবীকরিম (সাঃ) তাঁর নিজের সন্তানের নাম রেখেছিলেন ইব্রাহিম। কুরআনে কারীমে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ আছে। এর থেকে পছন্দমত যে কোন নাম নবজাতকের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে। যেমন- মুহাম্মদ (محمد), আহমাদ (أحمد), ইব্রাহীম (إبراهيم), মুসা (موسى), ঈসা (عيسى), নূহ (نوح), হুদ (هود), লূত (لوط), শিছ (شيث), হারুন (هارون), শুআইব (شعيب), আদম (آدم) ইত্যাদি। নেককার ব্যক্তিদের নামে নাম রাখাও উত্তম। এর মাধ্যমে নবজাতকের মাঝে সংশ্লিষ্ট নামের অধিকারী ব্যক্তির স্বভাব চরিত্রের প্রভাব পড়ার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া যায়। এ ধরনের আশাবাদ ইসলামে বৈধ। আরবীতে এটাকে তাফাউল বলা হয়। নেককার ব্যক্তিদের শীর্ষস্থানে রয়েছেন রাসূল (সাঃ) এর সাহাবায়ে কেরাম। তারপর তাবেয়ীন। তারপর তাবে তাবেয়ীন। এরপর আলেম সমাজ। বিশিষ্ট সাহাবী যুবাইর ইবনে আওয়াম তার ৯ জন ছেলের নাম রেখেছিলেন বদনের যুদ্ধে শহীদ হওয়া ৯ জন সাহাবীর নামে। তারা হলেন- আব্দুল্লাহ (عبد الله), মুনযির (منذر), উরওয়া (عروة), হামযা (حمزة), জাফর (جعفر), মুসআব (مصعب), উবাইদা (عبيدة), খালেদ (خالد), উমর (عمر)। ।[তাসমিয়াতুল মাওলুদ-বকর আবু যায়দ ১/১৭]  ব্যক্তির নাম তাঁর স্বভাব চরিত্রের উপর ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শাইখ বাকর আবু যায়েদ বলেন, “কাকতালীয়ভাবে দেখা যায় ব্যক্তির নামের সাথে তার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যের মিল থাকে। এটাই আল্লাহর তাআলার হেকমতের দাবী। যে ব্যক্তির নামের অর্থে চপলতা রয়েছে তার চরিত্রেও চপলতা পাওয়া যায়। যার নামের মধ্যে গাম্ভীর্যতা আছে তার চরিত্রের মধ্যে গাম্ভীর্যতা পাওয়া যায়। খারাপ নামের লোকের চরিত্রও খারাপ হয়ে থাকে, আর ভাল নামের লোকের চরিত্রও ভাল হয়ে থাকে।” [তাসমিয়াতুল মাওলুদ-বকর আবু যায়দ ১/১০, তুহফাতুল মাওদুদ-ইবনুল কাইয়্যেম ১/১২১] আমাদের দেশে শিশুর জন্মের পর নাম রাখা নিয়ে আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা দেখা যায়। দাদা এক নাম রাখলে নানা অন্য একটা নাম পছন্দ করেন। বাবা-মা শিশুকে এক নামে ডাকে। খালারা বা ফুফুরা আবার ভিন্ন নামে। এভাবে একটা বিড়ম্বনা প্রায়শঃ দেখা যায়। এ ব্যাপারে শাইখ বাকর আবু যায়দ বলেন, “নাম রাখা নিয়ে পিতা-মাতার মাঝে বিরোধ দেখা দিলে শিশুর পিতাই নাম রাখার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ‘তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত।’[সূরা আহযাব ৩৩:৫]” অতএব শিশুর পিতার অনুমোদন সাপেক্ষে আত্মীয় স্বজন বা অপর কোন ব্যক্তি শিশুর নাম রাখতে পারেন। তবে যে নামটি শিশুর জন্য পছন্দ করা হয় সে নামে শিশুকে ডাকা উচিত। আর বিরোধ দেখা দিলে পিতাই পাবেন অগ্রাধিকার।  ইসলামে যেসব নাম রাখা হারাম 

  • আল্লাহর নাম নয় এমন কোন নামের সাথে গোলাম বা আব্দ (বান্দা) শব্দটিকে সম্বন্ধ করে নাম রাখা হারাম। যেমন, আব্দুল মোত্তালিব (মোত্তালিবের দাস), আব্দুল কালাম (কথার দাস), আব্দুল কাবা (কাবাগৃহের দাস), আব্দুন নবী (নবীর দাস), গোলাম রসূল (রসূলের দাস), গোলাম নবী (নবীর দাস), আব্দুস শামছ (সূর্যের দাস), আব্দুল কামার (চন্দ্রের দাস), আব্দুল আলী (আলীর দাস), আব্দুল হুসাইন (হোসাইনের দাস), আব্দুল আমীর (গর্ভনরের দাস), গোলাম মুহাম্মদ (মুহাম্মদের দাস), গোলাম কাদের (কাদেরের দাস) ইত্যাদি। অনুরূপভাবে যেসব নামকে কেউ কেউ আল্লাহর নাম মনে করে ভুল করেন অথচ সেগুলো আল্লাহর নাম নয় সেসব নামের সাথে আব্দ বা দাস শব্দকে সম্বন্ধিত করে নাম রাখাও হারাম। যেমন- আব্দুল মাবুদ (মাবুদ শব্দটি আল্লহর নাম হিসেব কুরআন ও হাদীছে আসেনি, বরং আল্লাহর বিশেষণ হিসেবে এসেছে) আব্দুল মাওজুদ (মাওজুদ শব্দটি আল্লহর নাম হিসেব কুরআন ও হাদীছে আসেনি)
  • অনুরূপভাবে শাহেনশাহ (জগতের বাদশাহ) নাম রাখা হারাম।[মুসলিম] মালিকুল মুলক (রাজাধিরাজ) নাম রাখা হারাম। সাইয়্যেদুন নাস (মানবজাতির নেতা) নাম রাখা হারাম।[তুহফাতুল মাওলুদ ১/১১৫]
  • সরাসরি আল্লাহর নামে নাম রাখা হারাম। যেমন-  আর-রাহমান, আর-রহীম, আল-আহাদ, আস-সামাদ, আল-খালেক, আর-রাজেক, আল- আওয়াল, আল-আখের ইত্যাদি।

 যেসব নাম রাখা মাকরুহ ·     যেসব নামের মধ্যে আত্মস্তুতি আছে সেসব নাম রাখা মাকরুহ। যেমন, মুবারক (বরকতময়) যেন সে ব্যক্তি নিজে দাবী করছেন যে তিনি বরকতময়, হতে পারে প্রকৃত অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো। অনুরূপভাবে বাররা (পূন্যবতী)।·         শয়তানের নামে নাম রাখা। যেমন- ইবলিস, ওয়ালহান, আজদা, খিনজিব, হাব্বাব ইত্যাদি।·         ফেরাউনদের নামে নাম রাখা। যেমন- ফেরাউন, হামান, কারুন, ওয়ালিদ।[তুহফাতুল মাওদুদ ১/১১৮]·         বিশুদ্ধ মতে ফেরেশতাদের নামে নাম রাখা মাকরুহ। যেমন- জিব্রাইল, মিকাইল, ইস্রাফিল।·         যে সকল নামের অর্থ মন্দ। মানুষ যে অর্থকে ঘৃণা করে এমন অর্থবোধক কোন নাম রাখা। যেমন, কালব (কুকুর) মুররা (তিক্ত) হারব (যুদ্ধ)।·     একদল আলেম কুরআন শরীফের নামে নাম রাখাকে অপছন্দ করেছেন। যেমন- ত্বহা, ইয়াসীন, হামীম ইত্যাদি।[ তাসমিয়াতুল মাওলুদ-বকর আবু যায়দ ১/২৭]·     ইসলাম বা উদ্দীন শব্দের সাথে সম্বন্ধিত করে নাম রাখা মাকরূহ। ইসলাম ও দ্বীন শব্দদ্বয়ের সুমহান মর্যাদার কারণে।[ তাসমিয়াতুল মাওলুদ-বকর আবু যায়দ ১/২৫, তুহফাতুল মাওদুদ ১/১৩৬]·     দ্বৈতশব্দে নাম রাখাকে শায়খ বকর আবু যায়দ মাকরুহ বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- মোহাম্মদ আহমাদ, মোহাম্মদ সাঈদ। অনুরূপভাবে আল্লাহর সাথে আব্দ (দাস) শব্দ বাদে অন্য কোন শব্দকে সম্বন্ধিত করা। যেমন- রহমত উল্ল্যাহ (আল্লাহর রহমত)। শায়খ বকর আবু যায়দের মতে রাসূল শব্দের সাথে কোন শব্দকে সম্বন্ধিত করে নাম রাখাও মাকরূহ। যেমন- গোলাম রাসূল (গোলাম শব্দটিকে যদি আরবী শব্দ হিসেবে ধরা হয় এর অর্থ হবে রাসূলের চাকর বা বাছা তখন এটি মাকরূহ। আর যেসব ভাষায় গোলাম শব্দটি দাস অর্থে ব্যবহৃত হয় সেসব ভাষার শব্দ হিসেবে নাম রাখা হয় তখন এ ধরনের নাম রাখা হারাম যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।) নির্বাচিত আরো কিছু সুন্দর নাম উসামা (أسامة-সিংহ), আফীফ (عفيف-পুতপবিত্র), হামদান (প্রশংসাকারী), লাবীব (لبيب-বুদ্ধিমান), রাযীন (رزين-গাম্ভীর্যশীল), রাইয়্যান (ريَّان-জান্নাতের দরজা বিশেষ), মামদুহ (ممدوح-প্রশংসিত), নাবহান (نبهان- খ্যাতিমান), নাবীল (نبيل-শ্রেষ্ঠ), নাদীম (نديم-অন্তরঙ্গ বন্ধু), আব্দুল ইলাহ (عبد الإله- উপাস্যের বান্দা), ইমাদ (عماد- সুদৃঢ়স্তম্ভ), মাকহুল (مكحول-সুরমাচোখ), মাইমূন (ميمون- সৌভাগ্যবান), তামীম (تميم), হুসাম (حُسَام-ধারালো তরবারি), (بدر-পূর্ণিমার চাঁদ), হাম্মাদ (حماد-অধিক প্রশংসাকারী), হামদান (حمدان-প্রশংসাকারী), সাফওয়ান (صفوان-স্বচ্ছ শিলা), গানেম (غانم-গাজী, বিজয়ী), খাত্তাব (خطاب-সুবক্তা), সাবেত (ثابت-অবিচল), জারীর (جرير), খালাফ (خلف), জুনাদা (جنادة), ইয়াদ (إياد), ইয়াস (إياس), যুবাইর (زبير), শাকের (شاكر-কৃতজ্ঞ), আব্দুল মাওলা (عبد المولى- মাওলার বান্দা), আব্দুল মুজিব (عبد المجيب- উত্তরদাতার বান্দা), আব্দুল মুমিন (عبد المؤمن- নিরাপত্তাদাতার বান্দা), কুদামা (قدامة), সুহাইব (صهيب) ইত্যাদি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.3 (6টি রেটিং)

আগে শাদী মুবারক সম্পন্ন করেন। তারপর এমন লেখা লিখেন। এমন লেখা শাদী হওয়া ছাড়া নিষিদ্ধ।

-

স্বপ্নই দেখি! বাস্তব হয় না।

যারা শাদী মুবারক সম্পন্ন করে আরো একধাপ এগুতে পেরেছেন তাদের আনন্দের মুহূর্তের সাথে অনন্ত কিছু একটা শেয়ার করা গেলো। আর যারা এখনো শাদী মুবারক সম্পন্ন করতে পারেননি তাদের জন্য দোয়া করা যায়।

স্বপ্ন ভাইয়ের সুরে গান গাইছি-

স্বপ্ন ভাই বোধ হয় তীরটা আপনার দিকেই ছুঁড়েছেন, তাই নিজের জন্য দো'আ এবং দাওয়া দু'টো নিয়েই লেগে পড়ুন। আমাদেরকেও ডাকতে পারেন, অকাতরে দু'হাত তুলে "আমীন"-এর তুফান বইয়ে দেব Laughing out loud

আমার একমাত্র বড় ছেলের নাম রাখতে গিয়ে নামের তিন/চারটা বই কতবার যে পড়েছি তার হিসেব নেই। ভাল,আনকমন ও আকর্ষণীয় নাম বাছাই সত্যিই কঠিন।

নামের একটা চমৎকার বই বাসায় আছে, নাম - "ইসলামে নামকরণের পদ্ধতি", লিখেছেন বাশীর বিন মুহাম্মদ আল-মা'সূমী। বইটা বাসায় কীভাবে এসেছে কেউ জানে না, কিন্তু গতবার বাংলাদেশে গিয়ে অনেক খুঁজেও পেলাম না।

বাবার নামের সাথে নাম রাখতে গিয়ে এখানে আরবদের মধ্যে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্রাকটিস দেখলাম। অনেকে মিডল নেম হিসেবে বাবার নাম রাখেন, ইবন/বিন উহ্য রেখে। আমি মিশরী একজনকে চিনতাম, নাম ছিল মুহাম্মাদ নাবীল আল-বিশবীশি। ওনার বাবার নাম নাবিল এবং আল-বিশবীশি ওনার ফ্যামিলি নেম।

ইমরান ভাই, "বইটা বাসায় কীভাবে এসেছে কেউ জানে না" -আপনার এ কথায় একটা মন্তব্য করতে পারি। তা হলো- বইটি সম্ভবত: আপনার বাবামা কিংবা আপনি হজ্জের সফরে সাথে করে ফিরেছেন। বইটির লেখক থাকেন মক্কায়, অরিজিন ইন্ডিয়ান বাঙ্গালী।

আমি অবশ্য http://www.lahaonline.com/index-babies.php -এই সাইট থেকেই বেশী সহযোগিতা নিয়ে থাকি এ ব্যাপারে।

দ্বৈতশব্দে নাম রাখার ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না। শাইখ বকর আবু যায়দ কি কারণ হিসেবে কিছু উল্লেখ করেছেন?

আরেকটা প্রশ্ন, 'আযীযুর রহমান', 'মুজীবুর রহমান' - এ ধরনের নামে ব্যাপারে আপনার মতমত কি?

দ্বৈতশব্দে নাম রাখা বলতে পূর্ণার্থের দুইটি শব্দ যা ভিন্ন ভিন্ন দুটি নাম হতে পারে এমন শব্দকে একজনের নাম হিসেবে নির্বাচন করা বুঝাতে চেয়েছি। যেমন- মুহাম্মদ বেলাল, সাঈদ আহমদ, আলী আহমদ ইত্যাদি। কারণ মুহাম্মদ শব্দটিই একটা নামের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ শব্দ। অনুরূপভাবে বেলাল শব্দটিও। কিন্তু এ ধরনের দুটো শব্দকে যদি একব্যক্তির নাম হিসেবে নির্বাচন করা হয় সেক্ষেত্র শাইখ বকর আবু যায়দ বলেন- "এতে সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া সলফে সালেহীনদের নিকট এটি প্রচলিত প্রথা ছিল না। এগুলো নব্য শতাব্দীর উদ্ভব" তিনি সংশয় বলে এদিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন- যেহেতু নামের প্রথম অংশকে ব্যক্তির নিজের নাম, দ্বিতীয় অংশকে পিতার নাম, তৃতীয় অংশকে দাদার নাম হিসেবে বিবেচনা করার প্রথা অতি আগ থেকে মুসলমানদের মাঝে প্রচলিত আছে। সলফে সালেহীন বলে সাধারণতঃ সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনদের বুঝানো হয়। আযীযুর রহমান (রহমানের প্রিয়) ও মুজিবুর রহমান (রহমানকে সাড়াদানকারী) নামদ্বয়ের প্রত্যেকটি আরবী দুটো শব্দযোগে গঠিত। কিন্তু শব্দদ্বয়ের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে সম্বন্ধবাচক। যারা আরবীভাষী বা আরবী জানেন তারা "আযীযুর" বা "মুজিবুর" শোনা মাত্রই বুঝতে পারেন শব্দটির আরেকটি অংশ আছে। যেমন আমরা বাংলাভাষীরা "রহমানের" বা "রহমানকে" শুনার পরও "প্রিয়" ও "সাড়াদানকারী" শব্দটি শুনার জন্য কান খাড়া রেখে থাকি। এ নামদ্বয় সুন্দর এবং অর্থও সুন্দর।

নাম একজন মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পিতামাতার উচিত এ বিষয়টা মাথায় রেখে শিশুর নামকরণ করা।
ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

সুন্দর এবং অর্থবোধক একটা নাম রাখার দায়িত্ব একমাত্র মা-বাবা'র।

"নিশ্চয় তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন তোমাদের নাম এবং তোমাদের পিতার নামে ডাকা হবে। অতএব তোমরা নিজেদের নামকে সুন্দর করে রাখবে" -আবু দাউদ (আমার কাছে লেখা ছিল বলে তুলে ধরতে পেরেছি!)

 ডাক নাম/ সারনেম (surname)ঃ লাস্ট নেম/ ফ্যামেলি নেম। সারনেমটা সাধারনত বাপের নাম হইয়া থাকে।

আরো কিছু বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সময় নাই এ মুহুর্তে।

আপনার কাছ থেকে আর লেখা পাই না কেন?

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

amar nam md:kawsar khan atar mane ke doya  kore ke jana ben

রাসূল (সাঃ) হাশরের দিন যে কূপ থেকে ঈমানদারদেরকে পানি পান করাবেন সে কূপটির নাম- কাওছার। কুরআনে কারীমে এ নামে একটি সূরার নামকরণ করা হয়েছে। সে সূরাটির প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে- " নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউছার দান করেছি।"

আর খান শব্দটি খুব সম্ভব উর্দূ ভাষার শব্দ। শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আমার জানা নেই। উর্দু জানেন এমন কোন ব্লগার এ বিষয়টি আমাদেরকে জানাতে পারেন।

Sir.

Asslamualikum, we want nice name for female child against Islam. pls urgently.

Best regards
Rasel mahmud

Sorry, My brother I could not able to help you. I was off line on this webpage for long time.

সুন্দর একটা লিখা।
ধন্যবাদ লেখাটা শেয়ার করার জন্য।
লেখাটা কপি করে সংগ্রহে রেখে দিলাম কিন্তু, আর ফেসবুকেও শেয়ার করলাম।

পড়ার জন্য ও শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। দোয়া করবেন যেন ভাল কিছু লিখতে পারি।

সালাম

 

আমার  এক  আত্মীয় জানতে চান - মাহির  তাজওয়ার  আনাস মুহাম্মদ  - এই  নাম  ছেলে  সন্তানের জন্য  কেমন হবে  ?

-

মাহির তাজওয়ার@ বেশ মনে হচ্ছে। কিন্তু আনাস মুহাম্মাদ দ্বৈত হয়ে যাচ্ছে। কী বলেন? আমার নামও দ্বৈত... চিন্তায় আছি!!!

প্রথমে দুঃখ প্রকাশ করছি দেরীতে জবাব দেয়ার জন্য। একটা দীর্ঘসময় এ পোষ্টটি দেখা হয়নি। দেরী হলেও আপনার প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেষ্টা করছি। আরবী মাহির (দক্ষ)- নামটি সুন্দর। বর্তমানে মসজিদে হারামের একজন ইমামের নাম হচ্ছে- মাহির মুআইকিলি। তাজওয়ার- শব্দটির গঠন থেকে মনে হচ্ছে এটি আরবী শব্দ নয়। অন্য ভাষার ভাল অর্থবোধক শব্দ হলে নাম রাখতে কোন অসুবিধা নেই। আরবী আনাস- রাসূল (সাঃ) এর একজন প্রখ্যাত সাহাবীর নাম। অবশ্যই ভাল নাম। মুহাম্মদ- আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল, আমাদের প্রিয় নবীর নাম। অবশ্যই ভাল নাম। তবে এই শব্দগুলো প্রত্যেকটি আলাদাভাবে একজনের নাম হতে পারে। একাধিক শব্দ একজনের নামের জন্য নির্বাচন না করাই ভাল।

ইদিতা রশিদ এই নাম টি আমার মেয়ের জন্য রাখতে চাইতেছি। অর্থ জানলে মতামত দিন।

দুঃখিত, ভাই। ইদিতা নামটি কোন ভাষার শব্দ তা আমার কাছে পরিস্কার নয়। আরবী অভিধান ও নামের ওয়েব সাইটগুলো খুজে কিছু পেলাম না।

ধন্যবাদ

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.3 (6টি রেটিং)