হিরোশিমা দিবস : আমেরিকার মাথা হেঁট হবার দিন

আজ ভয়াল ৬ আগস্ট। এ দিনটিতে মনে পড়ে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্টের কথা। সেদিন সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে জাপানের হিরোশিমা নগরীর আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ হয়ে যায় ‘লিটল বয়’ নামের পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে। ঘুম থেকে জেগে ওঠা প্রায় ৭০ হাজার মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পোড়া লাশে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে নিহত এক লাখ ৪০ হাজার মানব সন্তানের স্মৃতি বুকে নিয়ে হিরোশিমা ফেলে এসেছে ৬৫টি বছর। আজ শান্তিকামী বিশ্ব পালন করছে হিরোশিমা দিবস।
সেই ৬ আগস্ট সকালে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উপরে ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় আমেরিকা। প্রশান্ত মহাসাগরের তিনিয়ান ঘাঁটি থেকে উড়ে আসা যুদ্ধ বিমান ‘বি-২৯ সুপার কোর্টেস’ (এনোলা গে নামে পরিচিত) থেকে ফেলা চার হাজার কেজির বোমাটি বিস্ফোরণ কেন্দ্রের তিন মাইলের মধ্যে ১৩ কিলোটন টিএনটি সমপরিমাণ ক্ষমতাসম্পন্ন ধ্বংস সাধন করে। এই বিস্ফোরণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল এক বর্গমাইল পর্যন্ত। মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যায় হিরোশিমার ৯০ ভাগ স্থাপনা। এর ঠিক তিন দিন পর নাগাসাকি শহরে ‘ফ্যাটম্যান’ নামে সাড়ে চার হাজার কেজির আরেকটি বোমা ৪০ হাজার মানুষকে তাত্ক্ষণিক লাশে পরিণত করে। শহর দু’টির মানুষ দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে নানাভাবে বয়ে বেড়াচ্ছে তেজস্ক্রিয়তার অভিশাপ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যুদ্ধের দুই পক্ষ একে অন্যকে ঘায়েল করতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তত্পরতার চেয়ে বীভত্সতা আর প্রতিহিংসায় বেশি করে মেতে উঠেছিল। জার্মানি-ইতালি অক্ষশক্তির পরাজয় যখন অনেকটা নিশ্চিত, ঠিক তখনই এই জোটের তৃতীয় সদস্য জাপানের ওপর পারমাণবিক বোমা ফেলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের নির্দেশে। এর ফলে যুদ্ধে মিত্রশক্তির বিজয় সূচিত হলেও এ ঘটনা ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হয়। দীর্ঘ ৬৫ বছর পর এবারই প্রথম হিরোশিমায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে আমেরিকা। হিরোশিমা দিবসের এবারের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন জাতিসংঘের কোনো মহাসচিব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার সহযোগী ব্রিটেন ও ফ্রান্সও প্রথমবারের মতো দিনটি স্মরণ করতে কূটনৈতিক দল পাঠাচ্ছে জাপানে। চলমান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর এসব প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, সেটাই প্রশ্ন।
এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বিশ্বব্যাপী শীতল যুদ্ধ জিইয়ে রাখতে বিভিন্ন দেশে মজুতকৃত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা এখন কয়েক হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বশান্তির প্রতি হুমকি সৃষ্টির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর উপাদান এসব অস্ত্র। আমেরিকাসহ প্রথম সারির পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো এ মারণাস্ত্র হ্রাসের যত চেষ্টাই করুক না কেন, বাস্তবে তার কোনো সুফল দেখা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়া ও ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তাদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। ইসরাইল এখন পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। এরই মধ্যে উপমহাদেশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানও পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়েছে। কাজেই নিজেরা বোমা মজুত রেখে বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার প্রয়াস কতটা সফল হবে সে প্রশ্ন দিন দিন বড় হয়ে উঠছে।
এবারের হিরোশিমা দিবসে পারমাণবিক বিশ্ব গড়ার আহ্বান আরো জোরালো হয়ে উঠবে সন্দেহ নেই। তবে এই আহ্বানকে বাস্তবে রূপ দিতে সম্মুখসারির পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস না করে অন্যদের অস্ত্রমুক্ত হওয়ার কথা যে অকার্যকর ও উদ্দেশ্যমূলক, সেটা সবাই বোঝে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)

চোরের মার না কি বড় গলা। আমেরিকা কি সে বোধ প্রকাশের মত কৌলিণ্যতা ধারণ করে?

ভালো লেখা।

 

আমেরিকা কি কখনো এর জন্য ক্ষমা চেয়েছে? জানেন কেউ?

হয়তো এর মাঝেও আছে কোন নতুন উদ্দেশ্য!!

ভাল লাগলো।

''সাদামেঘ''

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (4টি রেটিং)