এটি একটি শিক্ষণীয় গল্প..দয়া করে এডিয়ে যাবেন না..বি:দ্র: এটি সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা অবলম্বিত গল্প...

-স্বপ্ন, এই স্বপ্ন... -হুউউউম... (ঘুমে মাখা ছোট্ট গলায় বলে স্বপ্ন) -সকাল হয়ে গেছে...তারাতারি উঠো... -হুম মা.. . ছোট্ট বিছানা থেকে উঠে স্বপ্ন..সে যেমন ছোট মেয়ে,তার পৃথিবীটাও তেমন ছোট.. একটি ছোট শহরে অন্য সব বাচ্চাদের মতই বাবা-মায়ের সাথে থাকে সে... তবে সে অন্য সব বাচ্চাদের মতো চঞ্চল না... বেশ অন্য রকম- শান্ত আর চুপ- চাপ.. মুখটা মায়ায় ভরা আর সাথে মিষ্টি এক হাসি.. . কেউ প্রশ্ন করলে খুব সহজ আর সাবলীল ভাবেই উত্তর দিত,যেন সবকিছুর উত্তর তার কাছে আগে থেকেই ঠিক করা.. . তার ছোট্ট এই সাজানো পৃথিবীর সবটুকু জুরেই তার বাবা-মা..খুব বুদ্ধিমতী আর ভালো স্টুডেন্ট হওয়ায় স্কুলের সব শিক্ষকের প্রিয় সে.. মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলেও মা-বাবার কাছে তার কোনো চাওয়া অপূর্ণ থাকে না.. কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা যেন ছোট থেকেই একরকম পরিবারের অবস্থা বুঝতে পারে.. স্বপ্ন ঠিক সেরকমই..অতিরিক্ত কোনো বায়না করে না..সবকিছুতেই মুখে হাসি.. . মা-বাবার আদর আর ভালোবাসায় সে নিজেই মনে মনে বড হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে.. ভাবে যে ডাক্তার হয়ে সে সবার সেবা করবে.. পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বকুনি দিবে,অষুধ দিবে ইত্যাদি.. তার জীবনে বাবা আদর্শ আর মা প্রেরণা.. কিন্তু এই জগতে কোনোকিছুই যেন বিধাতা স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবে পাঠায় নি.. . স্বপ্নের বাবা-মা প্রায়ই তার সামনে ঝগড়া করে..আর তাতে খুব ভয় ও কষ্ট পায় সে.. বাবা-মা ছাড়া আর তো কেউ নেই তার,তাই কাউকেই বলতে পারে না..কষ্টটা মনে চেপে রেখেই হাসি মুখে থাকে সে.. . স্বপ্ন দিনে দিনে বড হচ্ছে আর তার সাথে সাথে মা-বাবার ঝগড়া খুব খারাপ ভাবে প্রভাব ফেলছে তার ওপর.. খুব বেশি মানসিক চাপে সবসময় ঢাকা থাকে ছোট্ট স্বপ্নের হাসিমাখা মুখটি.. আর এর মধ্যেই বাবা- মায়ের ঝগড়ার পরীনতি ডিভোর্স এর সিদ্ধান্তে পৌছায়... . হঠাত একদিন তার মা তার সামনেই গলায় গলায় দডি দিতে যায়। প্রচন্ড ভয়ে আঁতকে উঠে সে.. তার মনে এখন একটাই প্রশ্ন,"কেন বাবা মাকে একটুও ভালোবাসে না?? আচ্ছা সব বাবাই কি এরকম?? বাবা মাকে ছেড়ে গেলে আমার কি হবে?? কার কাছে থাকবো আমি?? মায়ের কাছে?? কিন্তু বাবাকে ছেড়ে থাকবো কিভাবে?" . স্বপ্ন এখন একা থাকতে ভয় পায়..সবসময় মনের মাঝে একটা আতংক নিয়ে থাকে.. মাঝে মাঝে একা একা খুব কাদে..আস্তে আস্তে এক গম্ভীরতা তাকে ঘিরে নেয়.. . স্বপ্ন এখন কারো সাথে কথা বলে না.. কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় না আর সব সময় চুপ-চাপ থাকে.. খেতে পারে না ঠিকমত আর মনের মধ্যে ভিষন অভিমান তৈরী হয় মা- বাবার প্রতি.. মাঝে মাঝে তার মাথায় অনেক যন্ত্রণা হতে শুরু করে..বাবা- মায়ের এই অবস্থায় কাউকে কিছু না বলে সব সহ্য করে নেয় সে.. . তারপর অনেকখানি সময় পেরিয়ে গেছে,অনেক পরিবর্তনন এসেছে স্বপ্নের পরিবারে.. নষ্ট হয়ে গেছে সাজানো সংসার আর সাথে স্বপ্নের ডাক্তার হওয়ার আশাও.. . বাবা-মা দুজনেই হাসপাতালের কেবিনের মাঝের ছোট্ট বেডের দুপাশে দাঁড়িয়ে। হুম,আজ স্বপ্ন অনেক অসুস্থ.. তার মাথার কিছু কিছু ভাইন(VAIN) অকেজো হয়ে গেছে.. তার ফলে মাঝে মাঝে শরীরে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়! এটা খুব অল্প সময় অবস্থান করে। আর এসময় তার মাথায় প্রচুর যন্ত্রণা শুরু হয়.. এসময় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে ওই পিচ্চি একটা শরীরের.. ডাক্তার বলেছেন,প্রচন্ড মানসিক চাপের ফলে এরকম হয়েছে..এবং এর কোনো চিকিৎসা নেই.. স্বপ্ন আর কতদিন বাঁচবে সেটাও নির্দিষ্ট নয় তবে যতদিন বাঁচবে,তাকে এই যন্ত্রণা সহ্য করে বাঁচতে হবে.. আজ স্বপ্ন মেঘের দেশে থাকে... ওর ডাক্তার হওয়া হলো না!! স্বপ্ন এখনো কাদে,আর বলে- আব্বু,আন্মু তোমারা প্লিজ আর ঝগড়া করিও না.. আমার খুব ভয় লাগে,খুব কষ্ট পাই.. তোমাদের দুজনকেই যে আমি ভিষন ভালোবাসি.. . শেষ কথাঃ বাবা মায়েরা প্রায়ই তাদের জীবনের অপূর্ন হিসেব নিকেষ কষতে শুরু করে দেন..শুরু হয় সাংসারিক কলহ..যার মাঝে অসহায় অবস্থায় পড়ে যায় বাচ্চারা..বাবা মায়ের ব্যক্তিগত লড়াই যেমন একটি বাচ্চার মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে,তেমনি একটি বাচ্চার মৃত্যুও ঘটাতে পারে..তাই প্রতিটি বাবা মায়ের দায়িত্ব সচেতন থেকে তাদের সন্তানদের স্বার্থে এসব ব্যক্তিগত লড়াই না করা,কমপক্ষে তাদের সন্তানদের সামনে..এবং একটি সুস্থ পরিবেশ সন্তানদের উপহার দেয়া.

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (2টি রেটিং)