রাজনীতিবিদরা আল্লাহর এক বিচিত্র সৃষ্টি!

রাজনীতিবিদরা আল্লাহতাআলার এক বড় বিচিত্র ও অদ্ভুত সৃষ্টি। এরা ঠাণ্ডা মাথায় হুকুম দিয়ে নৃশংসভাবে নিয়মিত মানুষ হত্যা করাতে পারে। এদের চোখের সামনে প্রতিদিন ডজন ডজন মানুষ জীবন্ত পুড়ে মরলেও এদের মাঝে কোনরূপ বিকার বা ভাবান্তর লক্ষ্য করা যায় না। তখন এনাদের হাবভাব দেখলে মনে হয়, যেন কিছুই হয়নি। যেগুলো পুড়ছে ওগুলো যেন আদৌ কোন প্রাণীই নয়, বরং ঝরে পড়া শুকনো পাতা। অথচ এরাই আবার যখন কোন দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের প্রাণহানি ঘটে, তখন ঠিকই শোক প্রকাশে ও সহানুভূতি প্রদর্শনে কার্পণ্য করে না। প্রয়োজনে দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়ে দু:খী মানুষের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মানবদরদী বনে যায়। দুর্ঘটনার পিছনে কারো দায়িত্বহীনতা বা অবহেলা ছিল কিনা সেটা নিয়েও তদন্ত শুরু করে দেয়। সুবহানাল্লাহ! সত্যিই মাবুদ, তোমার সৃষ্টি কতই বিচিত্র ও বিস্ময়কর! فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
ফরিদপুরের দুর্ঘটনাটির কথাই ধরুন। নিহত ২৫ জন বাসযাত্রী যদি গাছের ধাক্কায় না মরে পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে মরত, তাহলে আল্লাহর কসম, ওরা একটা শোকবাণীও পেত না। জানি আপনারা এসব কাজ শখ করে করছেন না, নিরূপায় হয়েই করছেন। নাহয় বুঝলাম, আপনারা কোন অসৎ উদ্দেশ্যে নয়, বরং মহৎ উদ্দেশ্যেই কাজ করছেন। অথবা মানলাম, আপনারা আদৌ কোন জ্বালাও-পোড়াওয়ের কাজ করছেন না, বরং আপনাদের বদনাম করবার জন্য আপনাদের শত্রুপক্ষই এসব করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু ভিকটিমদের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশে আপনাদের এত অনীহা কেন, সেটা বুঝতে পারছি না। এমন তো নয় যে, শোক প্রকাশের সময়ই পান না। আপনাদের অবস্থা তো এতটা বিপন্ন নয় যে, শোক প্রকাশের এনার্জি বা ফুরসত নেই। শোক প্রকাশের ট্রাডিশন যে আপনাদের একেবারে নেই তা তো নয়। আপনাদের ভাণ্ডারে যে শোকের স্টক আছে তা তো আমরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই। তাহলে দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা একটু কাঁদলে ক্ষতি কি?
রাজনীতিবিদদের চরিত্রের আরো একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হল, এরা একজন আরেকজনের সাথে রাগ করে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মারে, কিন্তু নিজেরা ঠিকই আবার একে অপরকে ঈদকার্ড উপহার দেয়, নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়। এদের যে শত্রুতা কার সাথে, সখ্যতাই বা কার সাথে, আর শত্রুতা বা সখ্যতার মানদণ্ডই বা কি- বোঝা কঠিন।
সাধারণ মানুষ যেখানে নিজের গাড়ির চাপায় কারো মৃত্যু হলে সেজন্য রাতে ঘুমাতে পারে না, সেখানে রাজনীতিবিদরা শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেও নির্বিকার ও প্রশান্তচিত্ত থাকে। সাধারণ মানুষ কেউ রাগের মাথায় নিজের বউকে খুন করে ফেললে পরে দু'হাত দিয়ে সর্বক্ষণ নিজের মুখ ঢেকে রাখবার চেষ্টা করে। আর রাজনীতিবিদদের আত্মায় মাশাআল্লাহ এতটাই জোর যে, এতগুলো নারকীয় ঘটনা ঘটানোর পরও পহেলা বৈশাখের শাড়ি পরে মানুষের সামনে হাজির হয়। যারা কিনা মনের দু:খে হতাশ ও নিরূপায় হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজগুলো করতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের মন থেকে যে আনন্দ জিনিসটাও একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি, তা দেখে অবাকই হতে হয়।
আসলে বাংলাদেশের জনগণ বর্তমানে ঘোরের মধ্যে রয়েছে। তাই রাজনীতিবিদদের এসব নিষ্ঠুর তামাশা ও প্রহসনমূলক আচরণ এবং যাচ্ছেতাই মার্কা কাজকারবার সয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই ঘোর যখন কেটে যাবে, তখন রাজনীতিবিদ নামধারী এইসব ভণ্ড অমানুষ দুর্বৃত্তগুলোকে টয়লেট টিস্যুর মত ছুঁড়ে ফেলে দেবে। সর্বস্ব হারানো এক প্রতারিত প্রেমিকা সম্বিত ফিরে পেয়ে বাস্তব জগতে ফিরে আসার পর সর্বনাশকারী প্রতারক প্রেমিকের সাথে যে আচরণ করে, ভবিষ্যতে ভুক্তভোগী জনগণের কাছে কেবল সেই আচরণই আশা করতে পারে রাজনীতির নামে জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই নরপশুরা।
বাংলার জনগণও কম আজব নয়। দু'দিন আগে যাদের তাণ্ডবে গাড়ি পুড়ল, মানুষ পুড়ল, তাদেরকে আবার ঠিকই গাড়ি ভাড়া দেয়।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None