লেখাপড়া কি জীবনের চেয়েও বড়?

সম্প্রতি এক শিক্ষিত নামধারী গণ্ডমূর্খ বেকুব মা তার সন্তানদের লেখাপড়ার পারফরমেন্স নিজের কাঙ্ক্ষিত মানের মনে না হওয়ায় হতাশ ও অতীষ্ঠ হয়ে গলাটিপে চিরতরে শেষ করে দিয়েছে দুটি ফুটফুটে বাচ্চাকেই। যা ঘটেছে, এটাকে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ভাবার সুযোগ নেই। বরং এটা আমাদের এক সামাজিক ব্যাধিরই বহি:প্রকাশ মাত্র। যেই এলার্জি বা চুলকানি রোগটা আর সবার ক্ষেত্রে চামড়ার নিচে থেকে গেছে এবং মাঝেমধ্যে উপর দিয়ে এক-আধটু চুলকাতে দেখা যাচ্ছে, সেই রোগটাই এই মহিলার ক্ষেত্রে চামড়ার বাইরে বিষফোড়া আকারে দৃশ্যমান হয়েছে। অর্থাৎ, সমাজের আর দশজন অভিভাবকের সাথে এই মহিলার পার্থক্য হল, তার ক্ষেত্রে ভিতরের এলার্জিটা বাইরে বেরিয়ে এসেছে, আর অন্যদেরটা এখনো চামড়ার তলে চাপা পড়ে আছে। অতএব, এই একজনের উসিলায় যেই রোগটা প্রকাশ পেয়েছে, সবার ভিতর থেকে সেই রোগটা সারানোর আশু পদক্ষেপ জরুরী।
মানুষের সবচেয়ে বেশি মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচনে ভুল করাটাই এসব মানসিক ব্যাধি ও বিপর্যয়মূলক ঘটনার কারণ। মানুষের জন্য এক নম্বর গুরুত্বপূর্ণ হল ঈমান, আর দুই নম্বর গুরুত্বপূর্ণ হল জীবন। অন্য কোন বস্তু যখন এই দুটির কোন একটির স্থান দখল করবে, তখনই তা মানুষকে অমানুষ বানিয়ে দেবে। মানুষের কাছে সামাজিকতা, আনুষ্ঠানিকতা, ফরমালিটি, শৌখিনতা, লেখাপড়া, ক্যারিয়ার, শিল্পকলা, সংস্কৃতি, নাচ-গান ইত্যাদি যখন প্রধান বিষয় হয়ে দাড়ায়, তখন ঈমান ও জীবনের অবস্থানটা নিচে নেমে যায়। ক্লাসের পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়া, গানের স্কেলটা বিশুদ্ধ করা, ইংরেজি বলাটা একটু fluent করা, হাতের লেখা একটু সোজা করা, ড্রয়িংএর কালারটা নিখুঁত করা এগুলোই তখন বেশি জরুরী হয়ে ওঠে; ঈমান রক্ষা ও জীবন রক্ষা করাটা তখন ঐচ্ছিক তথা optional বিষয়ে পরিণত হয়। আমাদের আলোচ্য দুই বাচ্চার খুনী মহিলার কাছেও ধর্ম ও মানবতা প্রাধান্য পায়নি। ধর্ম বলতে হয়তো সে কেবল হিজাবকেই যথেষ্ট মনে করেছে। কিন্তু বাচ্চাদের প্রতি দয়াশীল হওয়াটাও যে ধর্মেরই কাজ, এ বোধটা তার হয়নি। কেবল হিজাব পরিধান করেই সে ধর্মের দায়িত্ব শেষ করেছে; আর ডিগ্রী ও ক্যারিয়ারকে জীবনের লক্ষ্য বানিয়েছে। অথচ একজন মুসলমান তো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকেই জীবনের মূল লক্ষ্যরূপে বেছে নেবে। আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়াশীলতাই হবে তার কাজ। অথচ এখনকার অভিভাবকরা মানুষের সন্তুষ্টি ও মানুষের কাছে সম্মান লাভ করাকেই মূল লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছে এবং এই বাসনা পূরণের জন্য নিজেদের সন্তানদেরকে উৎসর্গ করছে। কিন্তু কোরআনের ভাষায় সম্মানের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আর আল্লাহর বান্দা যদি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে (এবং এর জন্য আল্লাহর বন্দেগি ও আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়ামায়া সব জলাঞ্জলি দেয়), তবে তা তো পরিস্কার শিরক। কোরআন মজীদের বর্ণনা অনুযায়ী এক নম্বর পাপ হচ্ছে শিরক এবং দুই নম্বর পাপ হচ্ছে হত্যা। এক নম্বর পাপটাতে যে লিপ্ত হবে, তার দ্বারা দুই নম্বর পাপটা ঘটতেই পারে। প্রথমটার সাথে দ্বিতীয়টা ফ্রি চলে আসতেই পারে। গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মত শেরেকী ও বেদআতী চিন্তাধারা যেমন মানুষকে মানুষ পোড়ানোর মত বীভৎস কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত করে, ঠিক তেমনি আল্লাহর ইবাদতের পরিবর্তে ডিগ্রী ও ক্যারিয়ারকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণের প্রবণতা মানুষকে নিজের বাচ্চাকে গলাটিপে মারতে প্ররোচিত করে। এদের কর্মকাণ্ড দেখে কোরআনের এই আয়াতটিই মনে পড়ে, "তাদের দেব-দেবীরা তাদের চোখে সন্তান হত্যাকে শোভনীয় করেছে।"
বর্তমানে মাদকাসক্তি ও পরকীয়ার চাইতেও অধিক বিপর্যয় সৃষ্টিকারী বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে এই ডিগ্রীআসক্তি। শুধু খুনের বদলে ফাঁসি দিয়ে এইরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে না; বরং কোন্‌ জিনিসের ঝোঁক বা কোন্‌ ধরনের প্রবণতা মানুষকে ক্রমে খুন-খারাবীর দিকে ধাবিত করে, সেই জিনিসগুলোর নেশার ভয়ঙ্কর পরিণতির ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করা এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে সম্পদ ও খ্যাতির মোহ এবং বাচ্চাদের নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবার এ ভয়ংকর জুয়াখেলার কুফল সম্পর্কে ইমাম সাহেবদের জুমার খুতবাতেও আলোচনা করতে হবে। আল্লাহর দ্বীন, আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব অর্থাৎ আল্লাহ মানুষকে কি উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন এবং পরকালের তুলনায় এসব পার্থিব মেকী বিষয়ের অসারতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। ক্লাসের পরীক্ষায় টপ পজিশন লাভ করাটা এমন কী জরুরী বিষয় হল, যার জন্য প্রাণাধিক প্রিয় শিশু সন্তানদেরকে কোরবানী দিতে হবে- এই অযৌক্তিক পাগলামিটার স্বরূপ সকলের সামনে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি স্কুলগুলোকেও এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কারিকুলাম থেকে অপ্রয়োজনীয় অনাবশ্যক বাড়তি পড়ার চাপ হ্রাস করতে হবে, রোল নম্বর মেধাক্রমের পরিবর্তে অন্যভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং পরীক্ষার নম্বরও গোপন রাখতে হবে। নম্বর শুধু শিক্ষকদের হাতেই থাকবে শিক্ষার্থীর শিখনফল যাচাইয়ের জন্য। এ নম্বরশিট অভিভাবকদের হাতে গিয়ে বাচ্চাদের সংশোধন ও উন্নয়নের পরিবর্তে যদি বাচ্চার জীবন বিনাশের কারণ ঘটায়, তাহলে এ নম্বরশিট দরকার কী?
নামকরা স্কুলগুলোতে সন্তান ভর্তি করানোর জন্য যারা ভর্তিযুদ্ধে নামেন, তাদের প্রায় সবাই এই কোয়ালিটির অভিভাবক। অর্থাৎ, তাদের চিন্তা-চেতনা ও প্রবণতা এই দুই শিশুর হত্যাকারী মায়ের মতই। তবে সবাই হয়তো প্রাকটিক্যালি এতটা চরম পর্যায়ে যায়নি, তাই খুন-খারাবির ঘটনা ওভাবে ঘটছে না। কিন্তু সবাই ঐ দুই হতভাগা শিশুর মত নিজ মায়ের হাতে নিহত না হলেও কমবেশি শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে কিন্তু দিনাতিপাত করে শহরের স্কুলগামী সব শিশুই।
একদিক দিয়ে বলতে গেলে বাচ্চা দুটো একপ্রকার মরে বেঁচেছে। কারণ, যে মহিলা ক্লাসের লেখাপড়ার জন্য বাচ্চাদেরকে হত্যা করতে পারে, বাচ্চারা জীবিত থাকলেও সেই মহিলা ওদেরকে একাডেমিক পড়ালেখা ছাড়া আর কিছু করার সুযোগ দিত না। পড়ার চাপে বাচ্চারা ধর্মকর্ম শেখা ও এবাদত-বন্দেগি করবার সময় পেত না। ফলে আখেরাতটাও বরবাদ হয়ে যেত। যাক, তবু ইহজীবনটার উপর দিয়ে গেছে, পরকালটা তো রক্ষা পেয়েছে!
আলোচ্য ঘটনায় অনেকেই বিশেষত খুনী মহিলার ভাই-বোনেরা প্রশ্ন তুলেছেন ঘটনাটির সম্ভাব্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। তাদের বক্তব্য হল, তাদের বোনই যে কাজটি করেছেন এবং শুধু লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে করেছেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিন্তু রেজাল্টপাগল অভিভাবকদের psychology ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের আগ্রাসী প্রবণতা সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল আছেন, তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, সম্পদলোভী যেমন তার সম্পদ নিয়ে কখনো সন্তুষ্ট হয় না [রসূলুল্লাহ (সা:) এক হাদীসে বলেছেন, তোমাদের কাউকে ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দেয়া হলেও সে এরকম দুটি পাহাড় চাইবে। আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া কিছু দিয়ে ভরবে না।], কামলোভী নারী-পুরুষ যেমন বিপরীত লিঙ্গের হাজারো সঙ্গীকে পেলেও তৃপ্ত হয় না, ক্ষমতালোভী যেমন শুধু একটি দেশের ক্ষমতা পেয়েই সন্তুষ্ট হয় না বরং আরো দেশ দখল করে নিজের সাম্রাজ্য বাড়াতে চায়, ঠিক তেমনি বাচ্চার রেজাল্ট নিয়ে ফুটানি মারা ও সুনাম কুড়ানি জুয়াড়ী অভিভাবকরা বাচ্চার লেখাপড়া ও রেজাল্ট যতই সন্তোষজনক হোক না কেন, তা নিয়ে তুষ্ট থাকতে পারে না। বাচ্চা যখন পরীক্ষায় ফার্স্ট না হয়ে সেকেন্ড হয়, তখনই এসব গার্জিয়ানের মাথায় রক্ত উঠে যায়। পরীক্ষায় ৮০০ নম্বরের মধ্যে ৭৯৯ পেলেও হাউমাউ করে বুক চাপড়ে বিলাপ জুড়ে দেয়। রোল নম্বর ও পজিশন এক ঘর নিচে নামা বা স্কোর এক নম্বর কম পাওয়াটা তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। অতএব, এসব মাতাল বদ্ধ উন্মাদদের দ্বারা যেকোন বিশ্রী ঘটনাই ঘটা সম্ভব। মূলত: লেখাপড়া নিয়ে অনাবশ্যক খুঁতখুঁতেপনা এবং ডিগ্রী ও ক্যারিয়ার নিয়ে অভিভাবকদের অতিরিক্ত নেশা ও অস্থিরতাই যে এসব মাতলামির কারণ, এ নিয়ে কোনরূপ সন্দেহের অবকাশ নেই।
খুনী মহিলার বোন নিজের বোনকে নির্দোষ প্রমাণের/ভাবার জন্য বলছেন, "তিনি আমাকেও বলতেন বাচ্চার পজিশন দ্বিতীয়র জায়গায় চতুর্থ হওয়া নিয়ে টেনশন করো না, বাচ্চাকে অযথা চাপ দিও না; সেখানে তিনি নিজের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এমন কাজ করবেন এটা কী করে সম্ভব?" এক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, অনেক মানুষ আছে অন্যকে সদুপদেশ দিতে পারলেও নিজের বেলায় ধৈর্য্য ধারণ করতে পারে না। কারণ, যেকোন ক্ষেত্রেই অন্যকে নসীহত করা সহজ, কিন্তু নিজে ঠিক থাকা কঠিন।
খুনী মহিলা এখন আবার ভোল পাল্টে তার পূর্বের বক্তব্য (অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে সন্তানদের রেজাল্ট ও ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা) থেকে সরে এসে স্বামীর পরকীয়া নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে এবং পরকীয়াকারী স্বামীকে শায়েস্তা করবার জন্যই বাচ্চাদের হত্যার দাবি করছে। কিন্তু একথা সত্যি হয়ে থাকলে সে পূর্বে বলেনি কেন? আসল কথা হল, স্বামীর প্রতি তার ক্ষোভ কথিত পরকীয়ার কারণে নয়, বরং স্বামীও কেন তার মত বাচ্চাদের কথিত লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার নিয়ে সমানভাবে দুশ্চিন্তা ও মাতলামি করেনি, কেন আর সব কাজ বাদ দিয়ে বাচ্চাদের পুঁথি মুখস্থ করানোতে বসে পড়েনি, এটাই ক্ষোভের প্রকৃত কারণ।
কেউ কেউ আবার মহিলাকে মানসিক রোগী সাজিয়ে তার অপরাধকে হালকা করার চেষ্টা করছেন এবং তার এই মানসিক বিকার ও বিকারজনিত দুর্ঘটনাটির জন্য মহিলার স্বামীকে দায়ী করছেন। ঐ মহিলার স্বামী কেমন ছিল আমরা জানি না। কিন্তু শুধু অক্ষম, অযোগ্য ও দায়িত্বহীন স্বামীদের স্ত্রীরাই যে সন্তানদের সাথে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা ও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে থাকে তাই নয়; বরং সৎ, যোগ্য, সক্ষম, প্রতিষ্ঠিত এবং স্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ভালবাসা ও সহানুভূতিশীল স্বামীর স্ত্রীকেও দেখেছি হাতের লেখায় একটু পান থেকে চুন খসতে প্লাস্টিকের পাখার আঘাতে (এমনকি যে আঘাতের চোটে খোদ প্লাস্টিকের পাখাটিও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়) পাঁচ বছরের বাচ্চার পাছার ছাল তুলে দিতে।  শতভাগ সুখী, সফল ও সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকেও দেখা গেছে তিন-চার বছরের বাচ্চার লেখাপড়ার খুত-খাত নিয়ে আজাইরা অস্বস্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে এবং নিজেকে অসুখী হিসেবে প্রকাশ করতে। নিজে মাতলামি ও আগ্রাসী আচার-আচরণের দ্বারা মাসুম বাচ্চার জীবনকে অশান্তিময় করে তুললেও বাচ্চার লেখাপড়ায় সামান্য কথিত ভুল-ত্রুটি দেখিয়ে সে বাচ্চাকে নিয়ে কতটা অশান্তিতে আছে তা জাহির করে বেড়ায়। তার কৃত্রিম দীর্ঘশ্বাস দেখে মনে হবে, যেন মাকে কষ্ট দিয়ে মায়ের অভিশাপে বাচ্চাটা পরকাল খোয়ানোর মত বিরাট অপরাধ করে ফেলল! মূলত: নেশাগ্রস্থ ব্যক্তিরা নিজ জীবনসঙ্গী সৎ, আন্তরিক ও যোগ্য হলেও নিজ নেশা ও অভিলাষ পূরণার্থে এবং আপন গরজ বাস্তবায়নে আপোষহীনতার পরিচয় দেয়। মদ, জেনা ও সম্পদের নেশা ইত্যাদি অন্যান্য নেশার ন্যায় বাচ্চার লেখাপড়া ও পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়ে নিজের নাম-যশ কামানোর নেশায় আক্রান্ত মোহগ্রস্ত ব্যক্তিরাও তাদরে নেশার বস্তু লাভের ক্ষেত্রে কাউকে কোনরূপ ছাড় দেয় না- তার স্বামী বা স্ত্রী যতই দায়িত্ববান ও যত্নবান হোক না কেন, সন্তান যতই বাধ্য ও অনুগত হোক না কেন। এ ধরনের মাতাল, উন্মাদ ও নাশোকর ব্যক্তিরা সুখে থাকলেও তাদেরকে ভুতে কিলায়।
কোন কোন অনুসন্ধানী সাংবাদিক গবেষণা করতে শুরু করে দিয়েছেন, যে কারণে যার দ্বারা খুনের খবর প্রকাশিত হয়েছে সেটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য, নিহত শিশুদ্বয়ের মা নেপথ্যের অন্য কোন ব্যক্তিকে কিংবা অন্য কোন আসল কারণকে আড়াল করতে চাচ্ছেন কিনা ইত্যাদি। আসলে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার ক্ষেত্রে কোন অদৃশ্য প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের হাত থাকার খবর বের করতে পারালে সাংবাদিক ও সংবাদ পাঠকরা অধিক চাঞ্চল্য অনুভব করে থাকেন বলেই হয়তো এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে চোখের সামনে আসা ব্যক্তি ও কারণকে বাদ দিয়ে অদৃশ্য শক্তি বা অদৃশ্য কারণ নিয়ে ঘাটাঘাটি করাতে মানুষকে বেশী উৎসাহী দেখা যায়। কিন্তু আমার  মতে, অদৃশ্য কারণ নিয়ে ঘাটাঘাটি করে সময় নষ্ট না করে দৃশ্যমান ও প্রকাশিত কারণটির মাঝেই শিক্ষণীয় কিছু আছে কিনা এবং তা আমাদের জন্য কোন সুদূরপ্রসারী সতর্কবার্তা বহন করছে কিনা, সেটা প্রথমে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ, এখানে যে কারণটি প্রকাশিত হয়েছে, সেটাই সর্বাপেক্ষা অধিক বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। বর্তমান যুগে বাংলাদেশে শিশু হত্যার জন্য এই একটা কারণই (অর্থাৎ বাচ্চার লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা) যথেষ্ট।
লেখাপড়ায় সবার টপে থাকতে না পারলে তাকে বাঁচিয়ে রেখে লাভ নেই— এই মানসিকতা পোষণ করেন শতকরা ৬০ ভাগ অভিভাবক। বিশ্বাস না হলে প্রত্যেকে নিজ নিজ মা-বোনদের মাঝে জরিপ করে দেখতে পারেন। আমি কিন্তু আমার চোখের সামনে একাধারে তিনটি প্রজন্মকে দেখেছি এই একই জাহেলী দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ ও পোষণ করতে।
লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশার কারণে নিজের সন্তানকে হত্যার ইচ্ছা জীবনে একবারের জন্যও প্রকাশ করেননি- এমন মা কয়জন আছেন? সবাই যদি চায়, আমার বাচ্চাকেই শ্রেণিতে প্রথম হতে হবে, তাহলে তো ৫০ জনের মধ্যে ৪৯ জনেরই পাছার ছাল যাবে। সবাই যদি শর্ত দেয়, বাচ্চাকে বেঁচে থাকতে হলে লেখাপড়ায় আর সবার চেয়ে উপরে থাকতে হবে, তবে তো বাংলাদেশ জনশূন্য হয়ে যাবে।Embarassed
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। উগ্র গার্জিয়ানদের খামখেয়ালীপনা ও মাতলামির শিকার হয়ে শিশুদের জীবন ও প্রতিভা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত অন্ধকার। সুতরাং এই সামাজিক ব্যাধি ও অসুস্থ মানসিকতা এখনই থামিয়ে দেয়া জরুরী।
লেখাপড়ার বাতিক আজকাল এমন রূপ ধারণ করেছে যে, দু'আড়াই বছরের বাচ্চার মাকেও বকতে শোনা যায়, "লেখা নাই, পড়া নাই- সারাদিন শুধু খেলা আর খেলা।" আরে বাবা, ওর তো এখন খেলারই সময়! ও খেলবে না তো কি আপনি খেলবেন?
বাংলার মাটিতে সংক্রমিত সবচাইতে সর্বনাশা ও সর্বগ্রাসী ভাইরাসটির নাম হলো এই ক্যারিয়ারবাতিকগ্রস্ততা। ক্যারিয়ার নিয়ে আগাম উদ্বেগের কারণে সন্তানদের শৈশব থেকে জীবন বিষিয়ে তোলার এ প্রবণতা নি:সন্দেহে এক মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। জনগণ যখন এমন একটি মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত, তখন এ ধরনের সামাজিক সমস্যার দিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে বা একজনকে গদি থেকে নামিয়ে আরেকজনকে বসিয়ে দেশের সমস্যার সমাধান যারা করতে চান তারা ভুলের মধ্যে আছেন।
আমরা গুরুজনদের কাছে শুনতাম, লেখাপড়া না করাটা হচ্ছে শয়তানের দাগা। কিন্তু লেখাপড়া না করাটা শয়তানের দাগা, নাকি লেখাপড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি ও পাগলামি করাটা শয়তানের দাগা, তা তো এখন পরিস্কার হয়ে গেল। মানুষের প্রকাশ্য শত্রু ইবলীস শয়তান কতটা সুচতর ও সুনিপুণভাবে লেখাপড়া নামক ব্রাহ্মাস্ত্র ও ট্রাম্পকার্ডটিকে ব্যবহার করে মানুষের জীবন, পারিপারিক শান্তি ও সম্প্রীতি এবং দ্বীন-ধর্ম সব লাটে উঠিয়ে দিচ্ছে, তা কি আপনারা টের পাচ্ছেন না? প্রচলিত লেখাপড়ার পক্ষে যারা ধর্মের দোহাই দেন, তাদেরকে বলি, কোরআনে 'ইকরা' বলতে কি সেই লেখাপড়ার কথা বলা হয়েছে, যার জন্য মা শিশুকে গলাটিপে মারে? হাদীসে 'ত্বলাবুল এলেম' বলতে কি সেই এলেম তলব করার কথা বলা হয়েছে, যেই এলেম চর্চা করতে গিয়ে সূরা ফাতেহাটাও শেখার কথা ভুলে যেতে হয়? আমাদের সমাজে প্রচলিত সংস্কারগুলোর মধ্যে কোন্‌টা ধর্ম, আর কোন্‌টা অধর্ম- তা কোরআন-হাদীস ও বাস্তবতার আলোকে নতুন করে পুনর্বিবেচনা করে দেখার সময় এসেছে। আমাদের সমাজে প্রচলিত লেখাপড়া সম্পর্কে বরং "যাবতীয় নেশার বস্তু হারাম"- এ হাদীসটাই অধিক প্রযোজ্য বলে মনে হয়। শিশুদের বিদ্যা নিয়ে অভিভাবকদের এসব অবিদ্যা আর কতকাল আমাদের দেখতে হবে?
ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)
লেখাপড়াটা মূলত এক জুয়াখেলায় পরিণত হয়েছে। কিছু অভিভাবক আছেন যারা বাচ্চাদেরকে উটের জকি ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেন না। এ জুয়াখেলায় হেরে যাওয়ার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আর জিতলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড!Embarassed তবে ভাগ্য ভাল থাকলে জেলের ভিতর ডিভিশন পাওয়া যেতে পারে।
লেখাপড়া ও রেজাল্টের প্রতি অতিরিক্ত মোহ ও নেশা অভিভাবকদেরকে আল্লাহর প্রতিও অবিশ্বাসী করে তোলে, নিজ বাচ্চাদের প্রতিও অবিশ্বাসী করে তোলে। আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের নিদর্শনটা হল, আল্লাহ যে সম্মান ও রিজিকের মালিক, এই বিষয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং ক্যারিয়ারের বিষয়ে অতিরিক্ত অস্থিরতা তাদেরকে শিশুসন্তান হত্যার দিকে ধাবিত করে। আর বাচ্চাদের প্রতি অবিশ্বাসের স্বরূপটা হল, লেখাপড়া নিয়ে অভিভাবকরা বাচ্চাদের সাথে চোর-পুলিশ খেলায় মত্ত হয়। লেখাপড়ায় ফাঁকি মারাটাই যেন বাচ্চাদের একমাত্র কাজ ও চিন্তা- এমন একটা ধ্যান-ধারণা ও বিশ্বাস অভিভাবকদের মনে বদ্ধমূল হয়ে ওঠে। ফলে বাচ্চাদের কোন কথাই বিশ্বাস করতে চায় না, কোন ওজরই মানতে চায় না। বাচ্চা অসুস্থ হোক, ক্ষুধা লাগুক, টয়লেটের প্রয়োজন হোক, এমনকি অসুস্থ হয়ে মরে মরে অবস্থা হোক; পিতামাতা ভাববে, এসব লেখাপড়ায় ফাঁকি দেবার বাহানা বৈ আর কিছু নয়। পড়ার মধ্যে আযান শুনে বাচ্চা যদি পড়ার টেবিল থেকে উঠে নামায পড়ে আসতে চায়, তাহলে তো সাক্ষাৎ একে পড়ায় ফাঁকি দেয়ার উছিলা হিসেবেই গণ্য করা হবে! কোন কন্যা সন্তান যদি কোন পুরুষ প্রাইভেট শিক্ষকের অসদাচরণের কারণে নিজেকে নিরাপত্তাহীন বোধ করায় তার কাছে পড়তে যেতে অনীহা প্রকাশ করে, তাহলেও অতিচালাক ও অতিসচেতন অভিভাবকরা এটাকে লেখাপড়ায় ফাকি দেবার মতলব হিসেবেই দেখে। আমার মতে, এ ধরনের কোন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অপরাধীর বিচারের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ভিকটিমের অভিভাবকের বিচারটা আগে হওয়া উচিত।
দেখুন! লেখাপড়া নিয়ে অভিভাবকদের অস্থিরতা ও মাতলামি কিভাবে শিশুদের ধর্ম, সম্ভ্রম ও জীবন সবই মাটি করে দিচ্ছে। লেখাপড়া কি তবে শয়তানের ফাঁদ?
লেখাপড়া জিনিসটা যে কোন কোন সময় শয়তানের উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার হতে পারে, তা আমি সর্বপ্রথম খানিকটা টের পেয়েছিলাম আজ থেকে ১৮ বছর আগে; যখন আমাদের আত্মীয়ের মধ্যে এক ধর্মদ্রোহী দুরাচারী মহিলা নিজ শিশুপুত্রকে ধর্মশিক্ষা ও ধর্মপালন থেকে দূরে রাখার কৌশল হিসেবে লেখাপড়াকে systematically বাহানারূপে ব্যবহার করেছিল। শিশুটি যেহেতু সকাল বেলা ঘরে বসে সেপাড়া পড়তো এবং বিকাল বেলা বাইরে গিয়ে বেড়ানোর ছলে মুখে মুখে সূরা-কেরাত মুখস্থ করে আসতো, তাই আল্লাহদ্রোহী ও শিশুটির অকল্যাণকামী শয়তান মহিলা শিশুটিকে স্কুলে ভর্তি করে দিল। উদ্দেশ্য, স্কুলের টাইম সকালে হওয়ায় সকালের সেপাড়া পড়তে বসাটাও ঠেকানো গেল এবং স্কুলের পড়া ও বাড়ির কাজ অসমাপ্ত থাকার অযুহাত দিয়ে বিকালেও বাইরে যাওয়াটা আটকে দেবার মওকা পাওয়া গেল। শুধু তাই নয়, সূরা-কেরাত ও নামায শেখার পর যখন মসজিদে যাওয়া শুরু হল, তখন সেই মসজিদে গমনে বিধি-নিষেধ আরোপের ক্ষেত্রেও অন্যান্য অযুহাতের পাশাপাশি লেখাপড়াকেও সফলভাবে ব্যবহার করতে পেরেছে সেই মতলববাজ ব্যক্তি।
আর পাঁচজন অভিভাবকের মতো সন্তানের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করা বা সন্তানের পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়ে সুনাম কামানোর মত কোন সস্তা উদ্দেশ্য ঐ ব্যক্তির ছিল না। সে লেখাপড়াকে ব্যবহার করেছে নিছক শারীরিক নির্যাতনের অযুহাত হিসেবে এবং ধর্মকর্ম ঠেকানোর মাধ্যম হিসেবে। সেক্ষেত্রে যেহেতু লেখাপড়াটা একটা বাহানা মাত্র ছিল, আর খলের যেহেতু ছলের অভাব হয় না, তাই আমি সেই সময় প্রচলিত লেখাপড়াকে শিশুদের জীবনের জন্য বা ধর্মের জন্য হুমকিরূপে গণ্য করিনি। কিন্তু দেড় দশক পার করে এসে যখন দেখতে পেলাম, এটা নিছক একজন মানুষ শয়তানের খাস কৌশল ছিল না, বরং স্বয়ং মূল আজাজিল জিন শয়তানই এই জিনিসটাকে মানুষের ধর্ম ও জীবনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্ররূপে আমভাবে কাজে লাগাচ্ছে, তখন আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ক্যারিয়ার নামক টোপ আর লেখাপড়া নামক বশীকরণ মন্ত্র দিয়ে শয়তান যে সাধারণ মানুষকে এতটা বোকা বানিয়ে ফেলবে যে; ধর্ম, মানবতা, শিষ্টাচার, ঐক্য, শান্তি-শৃঙ্খলা সবই মানুষ জলাঞ্জলি দিয়ে বসবে; তা আমি তখন বুঝিনি।
অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যার কাছে পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করাটা সবচেয়ে জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ, তার কাছে ধর্মের কাজটা সবচেয়ে ফালতু ও অপ্রয়োজনীয়। এর ব্যতিক্রম কেউ দেখে থাকলে জানাবেন। বাচ্চার জীবনের নিরাপত্তা ও শারীরিক সুস্থতাকেও সে ড্যামকেয়ার করে। এরা কেউ বাচ্চার দুনিয়ার জীবনকে আর কেউ আখেরাতের জীবনকে গলাটিপে হত্যা করে। এসব জাহেল মাতাল অভিভাবকদের গোঁড়ামি ও মাতলামির কবল থেকে আল্লাহ আমাদের শিশুদের রক্ষা করুন।

যেসব অভিভাবক বা শিক্ষক লেখাপড়ার জন্য শারীরিক শাস্তি প্রদান করাকে বৈধ বা জরুরী মনে করেন, তারা দু' ধরনের হয়ে থাকেন। একদল হচ্ছেন স্বার্থপর ও হৃদয়হীন, আর আরেকদল হচ্ছেন বিভ্রান্ত ও ভ্রান্ত চিন্তার অধিকারী। স্বার্থপরতার মধ্যে আবার দুটি দিক আছে:- খ্যাতির লোভ তথা রিয়াকারিতা, আর অর্থলোভ। অভিভাবকদের মধ্যে যারা নিজেদের সুনাম কামানো ও সামাজিকভাবে ফুটানি মারাকে জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে থাকেন, কিংবা শিক্ষকদের মধ্যে যারা নিজ নিজ শ্রেণি, শাখা বা বিদ্যালয়ের জিপিএর হার বা পাশের হারকে নিজের সুনামের মাপকাঠিরূপে গণ্য করে যেকোন মূল্যে তা অর্জনে সচেষ্ট থাকেন, তারা হলেন সুনামের কাঙ্গাল। আবার অভিভাবকদের মধ্যে যারা ভবিষ্যতে সন্তানের কামাই খাওয়া বা পারতপক্ষে বৃত্তি-টৃত্তি পাইয়ে সন্তানের লেখাপড়া বাবদ খরচতব্য টাকার সাশ্রয় করাতে উৎসাহী থাকেন, কিংবা শিক্ষকদের মধ্যে যারা কোচিংয়ে বাধ্য করার জন্য চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষার্থী নির্যাতন করে থাকেন বা পারতপক্ষে নিজের চাকুরী রক্ষা বা স্কেল ও পদের উন্নতির জন্য শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট ভালো করানোর চাপে থাকেন বিধায় নির্যাতন করে হলেও তা অর্জনে সচেষ্ট থাকেন, তারা হলেন টাকার পোকা।

আবার কোন কোন অভিভাবক ও শিক্ষক আছেন, যারা সন্তান বা শিক্ষার্থীর জন্য ভালো মনে করেই শারীরিক শাস্তি প্রদান করে থাকেন বা একে অনুমোদন করে থাকেন। এর পিছনে আবার দুই ধরনের চিন্তা কাজ করে থাকে। একটি হলো সন্তান বা শিক্ষার্থীর অর্থনৈতিক চিন্তা, অর্থাৎ সন্তান বা শিক্ষার্থী ভবিষ্যত জীবনে অর্থ উপার্জন করে ভালোভাবে খেয়ে পরে বাঁচুক এই হিতাকাঙ্ক্ষা। আরেকটি হলো লেখাপড়াকে নৈতিকতার মানদণ্ডরূপে গণ্য করা এবং লেখাপড়ায় ব্যর্থতা বা গাফলতিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ মনে করা। এই চিন্তাধারাসম্পন্ন অভিভাবক বা শিক্ষকগণকে সেই সমস্ত বিভ্রান্ত উগ্রপন্থী দলের সাথে তুলনা করা যায়, যারা ভালো নিয়তে সন্ত্রাস চালায়, নিরপরাধ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)