আমাদের সমাজের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা কটকটিদেরকে চিনে রাখুন

রাক্ষসী রাণী কটকটি— জনপ্রিয় এক টিভি সিরিয়ালের প্রধান কুখ্যাত খল চরিত্রের নাম। বস্তুত: রাক্ষস বলে তো আর আলাদা কোন মাখলুকাত নেই; এখানে কটকটি হচ্ছে মূলত: মানুষরূপী শয়তানদেরই প্রতিভূ মাত্র। অশুভ শক্তির মূর্ত প্রতীক এই কটকটিরা সাধারণত সম্মুখ সমরে শুভ শক্তির সাথে পেরে ওঠে না। তাই এদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে থাকে ছলনা, কূটকৌশল ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। এই কটকটিদেরকে চিনে রাখার জন্য এদের কিছু প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য ও অভিন্ন কর্মকাণ্ড একনজর দেখে নেয়া যাক:-

১। স্বামীকে জোরপূর্বক বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া এবং তারপর শূন্যস্থান পূরণ ও বাক্য রচনা করা।
২। চোগলখুরী ও অন্যান্য কারসাজির মাধ্যমে পরিবারের ছোট-বড় সকলের মধ্যে বিভেদ ও মনোমালিন্য সৃষ্টি করা।
৩। ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের পরিবারের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করা— পরিকল্পিতভাবে নিজের স্বামীকে দেউলিয়া বানানো।
৪। ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অসামাজিক কাজ প্রকাশ্যে সম্পাদন করা।
৫। নিজের ছেলের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া— বেআইনীভাবে হোক বা আইনীভাবে হোক।

এবার প্রতিটা পয়েন্ট একটু ব্যাখ্যা করে ভেঙে বলা যাক। পুরোটা পড়বার জন্য প্রয়োজনে মূল পোস্টের শিরোনামে ক্লিক করুন।

১। এ শ্রেণির মহিলারা ছলে-বলে-কৌশলে ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে হোক, বা ছলনা ও প্ররোচনার দ্বারা হোক, স্বামীকে বিদেশে চলে যেতে বাধ্য করে। বিশেষত বাচ্চা যখন পেটে থাকে, তখন গর্ভস্থ শিশুর প্রাণে বাঁচাটা পুরোপুরি গর্ভধারিণীর দয়ার উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এরূপ পরিস্থিতিতে সন্তানবৎসল পিতা নীরবে নি:শব্দে স্ত্রীর ইচ্ছার অনুগামী হতে বাধ্য হয়। উপরন্তু শিশুর জন্মের মাত্র একমাস আগে এভাবে  চলে যাওয়াতে শিশুর পিতাই পরিবারে ও সমাজে তার এহেন 'দায়িত্বহীনতা' ও 'ফাঁকিবাজির' জন্য সমালোচিত হয় এবং বাচ্চা জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় নিজের অসুস্থ শরীর নিয়ে বাচ্চার মলমূত্র পরিস্কার করবার জন্য মানুষের কাছে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা লাভ করে। আর বোনাস হিসেবে এমন আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাচ্চার উপর নির্যাতন চালানো ও হুকুম জারি করবার নিরঙ্কুশ অধিকারটাও পেয়ে যায়।
অভিজ্ঞ বা সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন যে, এ ধরনের মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বামীর বনবাসের পর বিছানায় স্বামীর জায়গাটা এক রাতও খালি থাকে না। বরং স্বামীকে নিরুদ্দেশ করবার সিদ্ধান্তের পূর্বেই বিছানার সাড়ে তিন হাত প্লটটি বুকিং হয়ে গিয়ে থাকে।

২। কুটনী বুড়িদের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে চোগলখুরী অর্থাৎ একের কথা অন্যের কাছে লাগানো। এ ধরনের মহিলারা একই ফ্লাটের সবগুলো ফ্লোরে ঘুরে ঘুরে সত্য-মিথ্যা নানারকম উষ্কানীমূলক প্ররোচনা ও প্রচারণার দ্বারা একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের মনকে বিষিয়ে তোলে। এদের মধ্যে আবার কিছু কিছু জাঁদরেল মহিলা এমন আছে, যারা কেবল সাধারণ মাত্রার প্রচলিত চোগলখুরী করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং বিভেদ সৃষ্টির আরো কঠিন জটিল সব পন্থা প্রয়োগ করে থাকে। সাধারণ মাত্রার চোগলখুরি বলতে আমরা বুঝি রহিমের কাছে করিমের বদনাম, আর করিমের কাছে রহিমের বদনাম। আর বিশেষ ধরনের চোগলখুরী, যাকে একপ্রকার স্যাবোটাজই বলা চলে, তা হচ্ছে করিমের কাছে রহিমের ভক্ত সেজে করিমের সাথে ঝগড়া করা, আবার রহিমের কাছে করিমের ভক্ত সেজে রহিমের সাথে ঝগড়া করা। Simple চোগলখোরদের তুলনায় এই Complex মাত্রার চোগলখোররাই অধিক ভয়ানক ও বিপজ্জনক হয়ে থাকে। বিশেষ করে কোন মহিলা যখন নিজের স্বামীর ভক্ত সেজে ননদ-দেবর-ভাসুরদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, কিংবা নিজের ছেলের দরদী সেজে অন্য কারো দিকে চোখ রাঙায়, অথবা স্বামীর ব্যবসায়িক পার্টনার ভাতিজাকে দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়; তখন সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা বোঝা সম্ভব হয় না যে, সে কি আসলেই নিজের স্বামী-সন্তানের প্রতি ভালোবাসার কারণে এমনটা করছে, নাকি স্বামী ও সন্তানদেরকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করবার জন্য, আপনজনদের কাছে ঘৃণা ও বিরক্তির পাত্র বানানোর উদ্দেশ্যে করছে। সাধারণ মানুষের বাহ্যিক সরল দৃষ্টিতে বরং এটাই মনে হবে যে, ঐ মহিলা তার স্বামী-সন্তানের হয়েই বুঝি এসব করছে। কাজেই এমতাবস্থায় মানুষ ঐ কুটনী বুড়ির পাতা ফাঁদেই পা দেবে। বিশেষ করে যখন ঐ কটকটি মহিলা তার স্বামী-সন্তানকে খানিকটা বশ করে নিজের আজ্ঞাবহ করতে সমর্থ হবে, তখন তার এই চোগলখুরীর ঔষধটা দশগুণ অধিক ক্রিয়াশীল হবে।
এই Complex চোগলখোররা আবার এতটাই জঘন্য ও কুৎসিত স্বভাবের হয় যে, তাদের ফাসাদ সৃষ্টির তৎপরতা থেকে অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশুরাও বাদ যায় না। এরূপ শয়তান মহিলা একটা বাচ্চাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সেই লাঠিটা আবার নির্যাতিত শিশুটির সামনেই রেখে যায়। তারপর যখন অন্য কোন শিশু আসে, তখন সেই নির্যাতিত শিশুটি নিজের মার খাওয়ার জ্বালা মেটানোর জন্য সেই আগন্তুক শিশুটিকেই আঘাত করে বসে নিজের হাতের কাছে থাকা লাঠিটা দিয়ে। এরপর আবার সেই খবীস নারী ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয় এবং দ্বিতীয় শিশুটিকে মারার দায়ে প্রথম শিশুটিকে কঠোর শাস্তি প্রদান করে। ফলে প্রথম শিশুটির মনে "তোর কারণেই আমি মার খাচ্ছি"- এই টাইপের মনোভাব সৃষ্টি হয় দ্বিতীয় শিশুটির প্রতি এবং মারামারি ও হানাহানির ভাবটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
স্বামী ও সন্তানদেরকে আত্মীয়-স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার কাজে এরা সর্বদা সচেষ্ট থাকে। কোন সন্তান যখন অসুস্থ ও অচল দাদীকে দেখতে যেতে চায়, তখন তাকে বলা হয়, "ওখানে গিয়ে তোর কী লাভ হবে? ওরা কি তোকে ভাত-মাছ দেবে?" কটকটির এই সমস্ত ছলনা ও চাপের মুখে পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চাদের যখন এমন অবস্থা হয় যে, নিজে থেকে যেচে যাওয়া তো দূরের কথা, চাচা-ফুপু তথা মুরুব্বীরা ডেকে পাঠালেও কাছে যায় না; তখন তাদের এই 'বেয়াদবি' ও 'অসামাজিক আচরণের' জন্য চাচা-ফুপুদের কাছে বিরক্তি ও তিরস্কারের সম্মুখীন হয়। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, যেই কটকটি ছলে-বলে-কৌশলে স্বামী-সন্তানদেরকে আপনজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টায় কোন ত্রুটি করছে না, সেই কটকটির বশীভূত স্বামী বোকা রাজা বিজয় বরং স্ত্রীকে নিয়ে এই মর্মে গর্ব অনুভব করছে যে, আমার বউটাই আমার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার কাজটি করে দিচ্ছে, আমি আপনজনদের সাথে যোগাযোগ রাখার সময় না পেলেও আমার স্ত্রীই আমার পক্ষ থেকে এ দায়িত্বটা পালন করে দিচ্ছে! ভাতিজাদেরকেও এই বলে আশীর্বাদ করে যে, আমার বউয়ের মত সামাজিক বউ যেন তোমরাও পাও!Embarassed

৩। সাধারণত মানুষ নিজের পরিবারের অর্থনৈতিক ক্ষতি কামনা করে না। কারণ, নিজের রিযিকটাও যে নিজের পরিবারের রিযিকের সাথে জড়িত। কাজেই স্বামী-স্ত্রী আর সব ব্যাপার নিয়ে নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকলেও পরিবারের স্বচ্ছলতা ও সমৃদ্ধির ব্যাপারে নেতিবাচক চিন্তা করে না। কিন্তু খচ্চর টাইপের কিছু মহিলা আছে এর ব্যতিক্রম। কারণ, যে স্বামীর সংসারকে নিজের সংসার মনে করে না, যার ষোলআনা আসক্তিই পরপুরুষদের প্রতি, সে কখনোই স্বামীর সংসারের আয়-উন্নতি বাড়ুক বা রুজি-রোজগারে বরকত হোক তা চাইতে পারে না। স্বামী-সন্তানকে যতটা পারে নিংড়ে নিয়ে নিজের ও নিজের পরকীয়া শয্যাসঙ্গীদের ভোগ-বিলাস ও সুখ-সম্ভোগে কাজে লাগাবে, আর বাকিটা খালে ফেলে দেবে। স্বামী ও সন্তানদের কল্যাণে একটা পয়সাও সঞ্চিত থাকুক, তা হতে দেবে না কখনোই।
এ ধরনের মহিলারা অর্থনৈতিক সংকটের দোহাই দিয়ে, অর্থ উপার্জনের নাম করে, সন্তানের মুখে আহার যোগানোর বাহানা দিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠালেও সংসারের উন্নতি বা সন্তান পালন যেহেতু আদৌ তাদের উদ্দেশ্য নয়; সেহেতু তারা সবরকম চেষ্টা করবে স্বামীকে যথাসম্ভব নি:স্ব ও দেউলে করে রাখার। কেননা, স্বামীকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও শারীরিকভাবে অক্ষম অথর্ব করে রাখতে পারলেই তো যখন যেখানে ইচ্ছা যেখান থেকে ইচ্ছা নিজের ইন্দ্রিয়সুখ মেটানো যাবে। স্বামীকে ঘরে-বাইরে সর্বক্ষণ পেরেশানীর মধ্যে রাখতে পারলেই তো সন্তানদের উপর যাচ্ছে তাই আচরণ করা যাবে, যা খুশী তাই শেখানো যাবে। সর্বোপরি স্বামী-সন্তানদেরকে অভাবে অনাহারে নিপতিত করতে না পারলে তো "সবাই আমাদেরকে ঠকাচ্ছে, আমরা সবার চেয়ে অবহেলিত, আমাদেরকে কেউ দেখছে না"- এসব প্রচারণাও হালে পানি পাবে না, "সবার ছেলেরা আলালের ঘরে দুলাল হয়ে বড় হচ্ছে, আর আমার ছেলেরা রহিমুদ্দি কলিমুদ্দির মতন পড়ে থাকবে?"- এমন উষ্কানীও জমবে না। দারিদ্রের অযুহাতে পিতাকে যেমন নির্বাসন দিয়ে প্রথম সন্তানের মুখদর্শন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং শিশুটির শৈশবের শান্তি ও নিরাপত্তাকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল, দারিদ্রকে জিইয়ে রাখতে পারলে তেমনি সন্তানগুলোকেও কোন না কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঠিয়ে বিপদে ফেলার যৌক্তিকতা বহাল থাকবে। অভাব না থাকলে তো আর হতাশা ও অসন্তোষ পয়দা করা যায় না, সন্তানদেরকে মিসগাইড করে বিপথে বা বে-লাইনে ধাবিত করবার সুযোগ আসে না। এছাড়া মানুষকে দুরবস্থায় ফেলতে না পারলে তো আর ঐ ভোগান্তির দায়টা অন্য কারো উপর চাপিয়ে ফেতনা সৃষ্টি করবারও মওকা পাওয়া যায় না। যেমন- অর্থ শেষ হয়ে যাবার কারণ হিসেবে বাড়িওয়ালী ননদের নামে কয়েক লাখ টাকা অগ্রিম ভাড়া একবারে আদায় করবার মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করে স্বামী ও সন্তানদেরকে সকলের কাছে বিরক্তির পাত্র বানানোর লক্ষ্যটা সহজেই হাসিল হয়। এমনকি এ ধরনের কোন কুচক্রী মহিলা যখন স্বামীর অর্থ-সম্পদ গায়েব করবার (আত্মসাৎ করার বা ধ্বংস করার) উদ্দেশ্যে সংসারের কেনাকাটা ও বাজার করার দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করে, তার জন্যও তার স্বামী-সন্তানরাই অলসতা ও দায়িত্বহীনতার দায়ে সমালোচিত হয়। আর সে নিজে কেবল সবার কাছে প্রশংসা ও বাহবাই লাভ করে। স্বামীর সংসারে বড় রকমের অর্থনৈতিক অঘটন ঘটানোর কাজটা সে কেবল তখনই করবে, যখন স্বামীর সাথে তৃতীয় কারো ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকে এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দায়টা সম্পূর্ণ সেই তৃতীয় পক্ষের উপরই পতিত হবার জোরালো নিশ্চয়তা থাকে। কারণ, এরূপ ক্ষেত্রে যেকোন অস্বাভাবিক পতন বা দেউলিয়াত্বের ঘটনা ঘটলে সবাই ধরে নেবে, নিশ্চয়ই অমুকের পাল্লায় পড়ে অমুক ব্যবসায় জড়িয়ে সব খুইয়ে বসেছে। ফলে এতে করে এক ঢিলে বাড়তি বোনাস হিসেবে অতিরিক্ত কিছু পাখি মারাও হবে, আর এ বিপর্যয়ের দায় থেকে নিজেকেও আড়ালে রাখা যাবে। কিরণমালার দর্শক মাত্রই জানেন, কটকটিরা হিসাব-নিকাশ না করে কোন পদক্ষেপ নেয় না, ঝোপ না বুঝে কোন কোপ মারে না। কিন্তু এক্ষেত্রে একটা কথা ভেবে দেখলেই তো হয়, কটকটি যেখানে অনেক আগে থেকেই একটা ছেলেকে আর্মিতে দেবার জন্য উঠেপড়ে লেগে আছে, সেখানে রাজা বিজয়কে দেউলিয়া করবার প্রয়োজনটা তো তারই বেশি ছিল। কারণ, বাপ যতক্ষণ ভাত দিতে পারছে, অতক্ষণ তো বাপের কোন বেটাকে কোন কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় ঢুকানো যাবে না, মৃত্যুমুখেও ঠেলে দেয়া যাবে না। এছাড়া অতীতে স্বামীর প্রবাস জীবনে একমাত্র শিশুপুত্রটিকে অনাহারে অর্ধাহারে মানুষ করা সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতক স্ত্রীর কারসাজি ও উদ্দেশ্যমূলক বিলাসিতার সৌজন্যে প্রতি মাসে কি পরিমাণ টাকা ঝুড়ির তলা দিয়ে বেরিয়ে যেত, সেই খবর নিলেও কি এটা বোঝা যায় না যে, রাজা বিজয়ের টাকার টাকশাল ফুরিয়ে যাবার জন্য রাণী কটকটির দৈনন্দিন সাংসারিক খরচই যথেষ্ট? এরপরও কি অন্য কোন কারবার নিয়ে গবেষণা করা ও এ ব্যাপারে অন্য কাউকে দায়ী করবার প্রয়োজন থাকে?
আমি মনে করি, কোন অশুভ শক্তির প্রভাব ও কারসাজি (manipulation) না থাকলে নিয়মিত উপার্জনহীন একটি মধ্যবিত্ত একক পরিবারের সঞ্চিত ১৯ লাখ টাকা এক বছরে ফুরিয়ে যেতে পারে না- পরিবারের কর্তা যতই বেহিসাবী অপব্যয়ী হোক না কেন। অবশ্য আল্লাহ যদি নিজ ইচ্ছায় কোন আমীরকে ফকীর করে থাকেন, সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু যে ঘরে এমন কোন চিহ্নিত চক্রান্তকারী ব্যক্তির অস্তিত্ব বহাল আছে, যার অনিষ্টকামনা ও অনিষ্টকারী তৎপরতার কথা কোরআন-হাদীস ও বাস্তব অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রমাণিত; সে ঘরে অর্থনৈতিক বা যেকোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে বা উপেক্ষা করে অন্য কাউকে বা অন্য কিছুকে নিয়ে তদন্ত করার কোন মানেই দেখি না। মনে প্রশ্ন জাগে, যে সংসারের গিন্নী এতটাই 'হিসেবী' যে, বাচ্চার বমিটাও ফেলে না, বরং 'কাজে লাগিয়ে' দেয়, সে সংসারে অর্থনৈতিক অপচয় ঘটে কি করে? এমন 'সাশ্রয়ী গৃহলক্ষ্মী' থাকতে মাসে লাখ টাকা তো দূরের কথা, হাজার টাকাও ঘর থেকে বাইরে বেরোতে পারার কথা নয়।
স্বামীর টাকা হাতিয়ে নেয়া বা বিনষ্ট করার কাজটা সাধারণত হয়ে থাকে স্বামীর কোন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে। একজন বিবাহিত পুরুষ মানুষের দুর্বলতা প্রধানত দুই জায়গায় হতে পারে। এক, সন্তানকে নিয়ে। বাচ্চার উপর কোন ধরনের হুমকি বা ক্ষতির আশংকা পিতাকে দুর্বল করে দেয়। দুই, নিজের শারীরিক অক্ষমতা। এইরূপ অবস্থায় একজন পুরুষ চাহিবা মাত্র সহায়-সম্পত্তি সব স্ত্রীর হাতে তুলিয়া দিতে বাধ্য থাকিবে। কখনো সন্তানের জান আবার কখনো নিজের মান হারানোর ভয়ে রাজা বিজয়কে (ছদ্মনাম) একদিকে কলুর বলদের মত খেটে মরতে হয়, অপরদিকে নিজের কষ্টার্জিত ও রক্ত পানি করা টাকা বেঘোরে খালে ঢালতে হয়। আর সত্যি কথা বলতে কি, রাক্ষসীদের কাছে স্বামীর দুর্বলতা ছেলের বেকারত্বের মতই নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত, যার সুযোগ নিয়ে সংসারে অশান্তি ও ফেতনার দাবানল জ্বালিয়ে দেয়া যায়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়েও স্বামীকে ফতুর করে দেয়া হয়।
অস্বাভাবিক রকম আর্থিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে আত্মীয়-স্বজনরা ভাল-মন্দ নানা রকম কথা শোনাবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এটাই হচ্ছে কুচক্রী মতলববাজ কটকটি মহিলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুবর্ণ সুযোগ। কারণ, এমনিতেই পিতা-মাতার নামে কোন নেতিবাচক কথা শুনলে সন্তানদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। তার উপর যদি উপযুক্তরূপে ব্রেন ওয়াশ করা হয়ে থাকে, তাহলে পিতামাতার সমালোচনার অযুহাতে সন্তানদেরকে বংশের সবার বিরুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষেপিয়ে তোলা সম্ভব হয়। বলাবাহুল্য, এ ব্যাপারে পরিবারের মুরুব্বীদের সমালোচনা মূলত: আর্থিক দেউলিয়াত্বের শিকার 'রাজা বিজয়কে' (ছদ্মনাম) কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে, 'রাজা বিজয়ের' অযোগ্যতা ও বোকামিই হয়ে থাকে সমালোচনার বিষয়বস্তু; আর 'রাক্ষসী রানী কটকটির' নামে সমালোচনা বড়জোর তার ব্যর্থতা ও উদাসীনতা নিয়েই হয়ে থাকে, 'বিজয়কে' কেন সে অপচয় ও দারিদ্র থেকে বিরত রাখতে পারল না শুধু এ পয়েন্টের ভিত্তিতেই তিরস্কারটা পরিচালিত হয়ে থাকে, আসল বিষয় অর্থাৎ কটকটির পরিকল্পিত কারসাজি ও নাশকতার বিষয়টার কোন উল্লেখই থাকে না; তারপরও এ খণ্ডিত ও একপেশে সমালোচনাই বংশের মুরুব্বীদের বিরুদ্ধে সন্তানদেরকে উত্তেজিত করবার জন্য যথেষ্ট। মূলত: স্বামীর পরিবারে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করাটাই সন্তানদেরকে চাচা-ফুপুদের মুখোমুখি করে দেবার মোক্ষম হাতিয়ার। কারণ, এরূপ দুরবস্থার সময় আপনজনদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাহায্য-সহযোগিতা না পেলেও সম্পর্ক খারাপ হবার অবকাশ থাকে, আবার সাহায্যকারীরা অর্থ ব্যয়-অপব্যয়ের হিসাব চাইতে গেলেও বা কোন উপদেশ দিতে গেলেও সেটাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করে পিতামাতার প্রতি (অর্থাৎ নিজের স্বামীর প্রতি ও নিজের প্রতি) সন্তানদের দুর্বলতা ও সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে পানি ঘোলা করার সুযোগ থাকে। এছাড়া পিতার অভাবী ও নি:স্ব অবস্থা সন্তানদেরকেও পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভেদ-হানাহানিতে লিপ্ত করবার জন্য উপযোগী। কারণ, বাচ্চাদের মধ্যে একজন যদি কোনমতে দু'পয়সা কামাই করতে সক্ষম হয়, তখন তার প্রতি অন্য ভাইদেরও দাবি তৈরি হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় উপার্জনকারী ভাই অন্য ভাইদের ভরণ-পোষণার্থে নিজের সমস্ত উপার্জন যদি সংসারের কর্ত্রী ঐ কুচক্রী মায়ের হাতে তুলে দিতে না পারে, তখন ভাইদের প্রতি অবহেলা এবং স্বার্থপরতা ও কিপটেমির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে ভাইদের অনুযোগ ও আক্রোশের শিকার হবে ঐ খান্নাস মহিলার প্ররোচনায়। অপরদিকে উপার্জনকারী ভাইটি যদি নিজের ভবিষ্যতকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জন তাৎক্ষণিকভাবে সব ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে যদি ভাইদের কাছে উপযুক্ত ইতিবাচক কোন প্রতিদান না পায় (বলাবাহুল্য, কুচক্রী কটকটি মায়ের দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় কোন ভাইয়ের পক্ষে অপর ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সহানুভূতি জানানোর মানসিকতা তৈরি হওয়াও খুবই কঠিন ব্যাপার), তখন নিজের এ দুরবস্থার জন্য ভাইদেরকেই দায়ী মনে হবে এবং ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা জাগ্রত হবে। কাজেই সব মিলিয়ে একটি পরিবারে অশান্তি ও ফেতনার দুয়ার উন্মোচন করবার জন্য দারিদ্র ও অনটন সৃষ্টি করাকেই সবচেয়ে মোক্ষম ফর্মুলা হিসেবে বেছে নিয়েছে মানুষরূপী রাক্ষসী ডাইনী।

৪। স্বামী যখন সুস্থ-স্বাভাবিক থাকে, তখন এরা স্বামীকে ফাঁকি দিয়ে ডুব দিয়ে অন্য ঘাটের জল খায়। আর স্বামী যখন কোন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন এরা নষ্টামিটা প্রকাশ্যেই করতে শুরু করে। ঐরূপ অবস্থায় স্বামী বেচারার 'মর্দামি দেখানোর' ধৃষ্টতাকে কোনভাবেই allow করা হয় না। বলাবাহুল্য, কটকটির এই প্রকাশ্য অনাচার নিছক জৈবিক কামনা পূরণার্থে নয়, বরং এক পরিকল্পিত প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ (provocative action) মাত্র। অশ্লীল কাজ আগের মত রাতের আঁধারে না করে প্রকাশ্য দিবালোকে করার উদ্দেশ্য ত্রিবিধ:- প্রথমত, সন্তানদের নৈতিকতা বিনষ্ট করা। কারণ, ছেলেপেলেরা যখন পিতামাতার কাউকে মন্দকর্মে লিপ্ত দেখে, তখন ঐ কাজকে তাদের কাছে হালকা মনে হবে। বড়রাই যখন করছে, তখন আমরা করলে আর ক্ষতি কী- এমন ধারণা পয়দা হতে পারে। এককথায়, বড়দেরকে প্রকাশ্য পাপে লিপ্ত দেখলে ছোটদের কাছে আর ঐ পাপকে অতটা গুরুতর বা সিরিয়াস বলে মনে হবে না। দ্বিতীয়ত, স্বামী বেচারাকে মানসিকভাবে টর্চার করা, হৃদরোগী বানানো। তৃতীয়ত, উষ্কানী দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ক্ষেপিয়ে হঠকারী পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করা। স্বামী যদি বিরক্ত ও অতীষ্ঠ হয়ে রাগের মাথায় তালাক দিয়ে বসে, তাহলে মামলা করে জরিমানা খসানো যাবে। আর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনেরা যদি কটকটির আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজা বিজয়কে সপরিবারে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়, তাহলে স্বামী-সন্তানদেরকে আত্মীয়-স্বজনের শত্রু বানিয়ে দেয়া যাবে।
কটকটির এ প্রকাশ্য অনাচারের উদ্দেশ্য হল, সন্তানরা যখন দেখবে, মানুষ তাদের মাকে ব্যভিচারী ও পিতাকে দাইয়ুস হিসেবে গণ্য করছে (মূলত: রাজা বিজয় আদৌ দাইয়ুস নন, বরং পরিস্থিতির শিকার এক অসহায় পুরুষ মাত্র), তখন তা তাদের মনে হতাশা ও হীনমন্যতার জন্ম দেবে। যদিও এতে করে নিজের খারাবিটা সন্তানদের সামনে প্রকাশ পায়, তথাপি পিতামাতার প্রতি সন্তানদের স্বাভাবিক দুর্বলতা এবং সেই সাথে নিজের তরফ থেকে যুক্ত উষ্কানীমূলক প্ররোচনা সন্তানদেরকেও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ক্ষুব্ধ করে তুলবে। পরিবারের সদস্যরা অযাচিতভাবে নাক গলাচ্ছে বা অনধিকার চর্চা করছে, তাদের পিতামাতাকে অপমান করছে- এমন একটা ভাব তাদের মাঝে জাগিয়ে তোলা হয়। অপরদিকে স্বামী ও সন্তানদের নাকের ডগায় এমন অনাচার কিভাবে হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে আত্মীয়-স্বজনরাও যখন রাজা বিজয় ও তার পুত্রদের শোকজ করবে, তখন পরিবারের মধ্যে সৃষ্ট এই মনোমালিন্য কটকটির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন অধ্যায়ের জন্ম দেবে। রাক্ষসী কটকটি তখন স্বামী ও সন্তানদের আত্মসম্মানবোধে যথাক্রমে এই বলে নাড়া দেবে যে, তুমি কেমন পুরুষ যে, তোমার স্ত্রীকে নিয়ে মানুষ যাচ্ছেতাই বলে; তোমরা কেমন পুত্র যে, মানুষ তোমাদের মায়ের নাং ধরতে আসে? তোমাদের মেরুদণ্ড যদি সোজা থাকত, তোমাদের হাতে যদি অস্ত্র থাকত, তাহলে কি তোমাদের মায়ের চরিত্র নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারত? অবশ্য এ ধরনের উষ্কানী ও মোটিভেশনটা সন্তানদেরকে অস্ত্রসজ্জিত করবার আগেও হতে পারে, আবার পরেও হতে পারে। কটকটির চক্রান্তের আরো একটি দিক হল, নিজে পরিকল্পিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দ্বারা স্বামীকে হৃদরোগী বানালেও এই অসুস্থতার জন্য তাদের মুরব্বীদের শাসন ও তিরস্কারকেই দায়ী করবে এবং সন্তানদের পিতার দুর্ভোগের দায়টা পুরোপুরি বাচ্চাদের চাচা-ফুপুদের উপর চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করবে। আল্লাহ না করুন, হৃদরোগের কারণে পিতার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে সন্তানদেরকে পিতৃকূলের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার একটি বড় ট্র্যাম্পকার্ড হাতে পেয়ে যাবে কুচক্রী খান্নাস মহিলা। তখন এক ঢিলে যে কত পাখি মেরে নেবে, তা আমরা হয়তো আন্দাজও করতে পারি না। নিজের সৃষ্ট পরিকল্পিত দুর্যোগের দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে ফাসাদ সৃষ্টি করাটাই রাক্ষসী শয়তানদের চিরাচরিত অভ্যাস।
দুরাচারী কটকটির অভিসন্ধি পূরণের কাজটা তখনই ত্বরান্বিত হবে, যখন তার অনাচারে এবং তার অনাচার প্রতিরোধে স্বামী ও সন্তানদের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ির মানুষেরা গোটা পরিবারকে ঘর থেকে বহিষ্কার করবে। কটকটি ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজা বিজয় ও তার সন্তানদের নিয়ে নৌকায় থাকা অবস্থায় প্ররোচনামূলক আচরণের দ্বারা অন্যদেরকে নৌকাটি ডুবিয়ে দিতে প্ররোচিত করে। কারণ, এতে তার কোনই ক্ষতি হবে না, যেহেতু সে সাঁতার জানে। সে ঠিকই সাঁতরে পার হয়ে যাবে, আর বেঘোরে মারা পড়বে রাজা বিজয় ও তার সন্তানেরা। যাহোক, রাজা বিজয়কে পরিবারশুদ্ধ ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়ার কোন সিদ্ধান্ত হলে তা সন্তানদেরকে বিপথে ও বেলাইনে পরিচালিত করার রাক্ষসী পরিকল্পনাকে সুবর্ণ সুযোগ দান করবে। আর এই সুযোগের প্রতীক্ষাতেই তো কটকটি রাতের কাজ দিনে করতে শুরু করেছে।

৫। চোগলখুরির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক মনোমালিন্য সৃষ্টি এবং পরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত সাংসারিক খরচ বা অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করাটা ছিল কুচক্রী মহিলার মহাপরিকল্পনার (master plan) ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুধু মানসিক মনকষাকষি সৃষ্টি করাটাকেই সে যথেষ্ট মনে করবে না, বরং এ পারস্পরিক ক্ষোভ ও রেষারেষিকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং পরিবারের মানুষগুলোর মধ্যে হানাহানি ও রক্তপাত সৃষ্টি করতে সে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবে। আর পরিবারের মধ্যে গৃহযুদ্ধ লাগাতে হলে প্রয়োজন পরিবারের মানুষগুলোকে সশস্ত্র করা। আর যেহেতু নিজের ছেলেদের উপর সরাসরি প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থাকে, তাই নিজের কোন ছেলেকে দিয়ে এ ফেতনার সূত্রপাত করাটাই মতলববাজ ব্যক্তির পক্ষে সবচাইতে সহজ। নিজের ছেলের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার জন্য এ ধরনের দুরাচারী মহিলারা দুই ধরনের পন্থা গ্রহণ করতে পারে। এর একটি হল, ছেলেকে কোন সন্ত্রাসী দলে দেয়া; আরেকটি হল, সেনাবাহিনীতে দেয়া। সন্ত্রাসী হলে অবৈধ অস্ত্রের অধিকারী হয়, আর সেনাবাহিনীতে গেলে বৈধ অস্ত্র লাভ করে। সেনাবাহিনী যদিও রাষ্ট্রীয় আইনের অধীন এবং সেনাবাহিনীর পেশায় যোগদান করাটা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে সর্বজন স্বীকৃত একটি বৈধ পেশা; তারপরও কোন ব্যক্তি চাইলে রাষ্ট্রীয় আইন লংঘন করে রাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হয়েও নিজের ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করতে পারে। যাহোক, কোন পরিবারের মাঝে হত্যাযজ্ঞ ও রক্তপাত ঘটাতে ইচ্ছুক মতলববাজ ব্যক্তির পক্ষে এ ফেতনার সূত্রপাতের জন্য দরকার প্রথমে পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যকে অস্ত্রসজ্জিত করা; আর এ কাজটি সে কাউকে সন্ত্রাসী বানিয়েও করতে পারে, আবার পুলিশ-মিলিটারী বানিয়েও করতে পারে।
নিজের ছেলেকে সন্ত্রাসী বানানোর জন্য প্ররোচনা ও উৎসাহটা যেভাবে দেয়া হয় তাহলো: "হয় ভালোর শীর্ষ হবি, নয়তো খারাপের শীর্ষ হবি। একটা কিছু তো হওয়া লাগবে। নইলে খাবি কি করে?" আরো প্রলোভন দেখানো হয়, "তুই যদি আমাকে এক হাজার টাকা কামাই করে এনে দিতে পারিস, তাহলে আমি তোকে দুই হাজার টাকা দেব।" তবে এই সমস্ত শয়তান রাক্ষসীদের মধ্যে যারা একটু বেশি সেয়ানা, তারা ছেলেকে কোন বেআইনী দলে দেবার পরিবর্তে আইনী বাহিনীতে যোগদানের ব্যাপারেই উৎসাহিত করে থাকে, যাতে নিজের পিঠটা বাঁচানো যায়, পরিবারের সদস্যরা খুনোখুনি করে মরলেও নিজের কাঁধে কোন দায়ভার না আসে, নিজে অন্তত আইনগতভাবে নিরাপদ থাকা যায়। সেক্ষেত্রে মোটিভেশনটা সম্ভবত এভাবে করা হয় যে, "এ চাকরিতে গেলে জীবনে কোন অভাব থাকবে না, পায়ের উপর পা তুলে রাজার হালে খেতে পারবে। তোমাকে আর কারো মুখের দিকে তাকাতে হবে না, কারো পায়ে তেল মালিশ করবার প্রয়োজন হবে না।" নিজের অসৎ অভিলাষ চরিতার্থকরণ তথা পরিবারের মাঝে ফেতনা ও হানাহানি সৃষ্টির উদ্দেশ্যটা প্রাথমিক পর্যায়ে ওভাবে প্রকাশ করা হয় না। তবে যখন স্বামী ও সন্তানদের মধ্যে এমন একটা ধারণা বদ্ধমূল করে দেয়া যায় যে, সবাই মিলে আমাদেরকে ঠকাচ্ছে, আমাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করছে, আমাদেরকে অবহেলা করছে, আমাদেরকে কোণঠাসা করে রেখেছে; তখন এই মর্মে কানের কাছে ফিসফিস করে উষ্কানী দেয়া হয় যে, আমার ছেলেরা কেউ যদি শীর্ষ সন্ত্রাসী বা আর্মির মেজর একটা কিছু হতে পারে, তাহলে কেউ আর আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না, আমাদের দিকে চোখ রাঙাতে পারবে না। যাহোক, যেকোন ভাবে যেকোন প্রকারে ছেলেপেলেকে ক্ষেপিয়ে যদি ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত করা যায় এবং সেই ক্রোধ মেটানোর সরঞ্জাম তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া যায়, তাহলে ছেলেকে দিয়েই ছেলের পিতা ও পিতৃকূলকে শায়েস্তা করানো যাবে— এমন একটা ধান্ধাই কাজ করে মতলববাজ দুরাচারীর মনে। কটকটি ভাল করেই জানে, এক পক্ষ উল্টাপাল্টা কিছু করলে আরেক পক্ষও বসে থাকবে না। ফলে পরিবারের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নিজে হয় চম্পট দেবে ও নিরাপদ স্থানে সটকে পড়বে; অথবা এমন আবহ সৃষ্টি করবে যে তাকে সন্দেহ করবার বা তার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করবার কোন scop-ই রাখবে না, বরং সবাই নিজেরা একে অপরেরই মুণ্ডুপাত করবে, তার দিকে কেউ ফিরে তাকাবে না।
বলাবাহুল্য, রাক্ষসী শয়তানদের মায়া-দয়া বলতে কিছু থাকে না। মাতৃস্নেহ নামক কোন শব্দ তাদের ডিকশনারীতে নেই। নিজের ছেলেপেলেকে নিছক নিজের অশুভ উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহার করে মাত্র। খান্নাস তাগূতী মহিলা মনেপ্রাণে কামনা করবে, তার প্ররোচনায় ছেলেটি বংশের অন্যদের বিরুদ্ধে চড়াও হবার পর তাদের পাল্টা ক্রোধের শিকার হয়ে নিজেও নিপাত হয়ে যাক। কিন্তু যদি ছেলেকে দিয়ে ছেলের পিতা ও পিতৃকূলকে শায়েস্তা করবার কাজটি সম্পন্ন হয় এবং তারপরও ছেলেটি টিকে যায়, তাহলে নিজের কাজ হাসিল হয়ে যাবার পর ছেলেকেও যে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে কুচক্রী মা— এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। যারা মানুষকে মন্দ কর্ম, বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্ররোচনা দেয় এবং তারপর তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, এ সমস্ত শকুনী মামাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তারা হচ্ছে শয়তানের মত, যে মানুষকে কুফরী করতে বলে। তারপর যখন সে কুফরী করে, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি।" (সূরা হাশর: ১৬) অতএব, এই কটকটির আজ্ঞা পালন করতে গিয়ে কিংবা তার প্ররোচনা ও উষ্কানীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার স্বামী-সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি কোনরূপ অপ্রীতিকর ঘটনায় বা কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ে এবং তারপর যদি পরিবারের কাছে বা আইনের কাছে ধরা নাও পড়ে, তারপরও এই ধরিয়ে দেবার আইনী দায়িত্বটি স্বয়ং সকল নাটের গুরু সেই কুচক্রী মহিলাই পালন করবে। ছেলে কোন অবাঞ্ছিত কর্মকাণ্ড যদি সন্ত্রাসী হয়ে করে থাকে, তাহলে তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেবে; আর যদি সেনা সদস্য হয়ে আইন বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে থাকে, তাহলে তাকে সেনা কর্তৃপক্ষের হাতেই ধরিয়ে দিয়ে কোট মার্শালের সম্মুখীন করবে। পত্রিকার পাতায় হয়তো শিরোনাম দেখবেন: "সন্ত্রাসী ছেলেকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে ন্যায়পরায়ণ নীতিবান মা!" ইস! ঐ দিনটা আসার আগেই যদি খান্নাস রাক্ষসী মহিলার মুখোশটা পরিবারের সামনে ও দেশবাসীর সামনে খুলে দিতে পারতাম! কিন্তু ঐ শয়তানটার স্বরূপ প্রকাশ আমি করব কিভাবে? আমার হাতে তো কোন চাক্ষুস প্রমাণ নেই কেবল পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছাড়া। অতএব, "দেখি বেটা কী করে" ছাড়া আমার হয়তো কিছুই করার নেই।

কটকটিদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যটি হল তাদের ছদ্মবেশী চরিত্র। রাক্ষস ও জিন-ভূতেরা তো আক্ষরিক অর্থে তাদের চেহারাই পাল্টাতে পারে, স্থান-কাল-পাত্রভেদে বিভিন্ন রকম রূপ ধারণ করতে পারে। তবে মানুষের মধ্যে যারা শয়তানী ও রাক্ষসী স্বভাবের, তারা দৈহিক চেহারা ও আকৃতি বদলাতে না পারলেও তারা যেটাকে লুকাতে বা ভিন্নরূপে দেখাতে পারে তা হল তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য। তারা তাদের আসল পরিচয় ও আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ না করে ভেজা বেড়াল সেজে থাকে এবং মানুষের কল্যাণকামী ও হিতাকাঙ্ক্ষী সেজে অনিষ্ট ও অমঙ্গল সাধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে থাকে। খারাপ মানুষ ভালো সেজে থাকা, অনিষ্টকামী শত্রু হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু সেজে থাকা কোন রাক্ষসী বা ডাইনীর মানুষরূপ ধারণ করার চাইতে কোন অংশে কম বিভ্রান্তিকর নয়। বলাবাহুল্য, কোন পরিবারে অনুপ্রবেশকারী বা ঘাপটি মেরে থাকা একজন রাক্ষসী যখন ছদ্মবেশে অবস্থান করে, তখন তার রাক্ষসী চেহারা কারো চোখেই ধরা পড়ে না, কিংবা বড়জোর একজন বা দু'জনের চোখে ধরা পারে, যা অন্য কাউকে বিশ্বাস করানো বা কারো কাছে প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। বরং ছদ্মবেশী কটকটিকে রাক্ষসী সাব্যস্ত করতে গেলে উল্টো কিভাবে অপদস্থ হতে হয়, কোণঠাসা অবস্থায় পড়তে হয়, তার বাস্তব চিত্র "কিরণমালা" সিরিয়ালের সৌজন্যে আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়েছে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)
দুষ্ট দুর্বৃত্ত কুচক্রী ব্যক্তিদেরকে পরিহার করে চলাই সমাজে ও পরিবারে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার একমাত্র উপায়। তাই আল্লাহ স্পষ্টভাবে আমাদেরকে সতর্ক করেছেন সমাজবিরোধী ও মানবতাবিরোধী এসব দুষ্ট দুরাচারী ব্যক্তিদের থেকে এবং এসব লোকের (বা মেয়েলোকের) কোন আদেশ-নিষেধ পালন করতে বা এদের কোনরূপ প্ররোচনা ও উষ্কানীর দ্বারা প্রভাবিত হতে কঠোরভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরছি:-

وَلاَ تُطِعْ كُلَّ حَلاَّفٍ مَّهِينٍ - هَمَّازٍ مَّشَّآءِ بِنَمِيمٍ - مَّنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ - عُتُلٍّ بَعْدَ ذٰلِكَ زَنِيمٍ

অর্থ: তার আনুগত্য করবে না, যে কথায় কথায় শপথ করে; ইতর ও নীচ। গালিগালাজ করে, চোগলখুরী করে বেড়ায়। ভাল কাজে নিষেধ করে; সীমালঙ্ঘনকারী, পাপিষ্ঠ। নিষ্ঠুর, সর্বোপরি জারজ। (সূরা কলম: ১০ - ১৩)   

রাক্ষসী শয়তানরা মানুষের কাছে ধরা না পড়ার পিছনে কারণ হল, হয় তাদের কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা মানুষের চোখে না পড়া, কিংবা চোখে পড়লেও সেগুলোকে হালকা করে দেখার প্রবণতা। আমাদের মনে রাখতে হবে, এরা কোন কিছুই উদ্দেশ্যহীনভাবে বা তুচ্ছ কোন উদ্দেশ্যে করে না। তাদের চোগলখুরী নিছক মানুষের কাছে নিজে ভালো সাজা ও বাহবা পাওয়ার জন্য নয়। স্বামীর অর্থ-সম্পদ ফুরিয়ে দেবার ক্ষেত্রেও সে অর্থগুলো আত্মসাৎ বা পাচার করে থাকলেও নিছক চুরির উদ্দেশ্যে করেনি, খরচ করে থাকলেও নিছক ভোগের জন্য করেনি। বাড়িওয়ালী ননদের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মিথ্যা প্রচারণাটিও নিছক মানুষের কাছে সহানুভূতি ও সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে তৈরি করেনি। ছেলেপেলেকে বেআইনী বা আইনী কোন উপায়ে অস্ত্রের অধিকারী হতে প্ররোচিত করাটাও নিছক জীবিকা হাসিলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয়। এমনকি তার নিজের ব্যক্তিগত কুকর্মটিও নিছক জৈবিক তৃপ্তি লাভের নিমিত্তে সম্পাদিত নয়। বরং তার ছোট-বড় প্রতিটা পদক্ষেপ তার বৃহত্তর নীলনকশারই (blue print) অংশ মাত্র।
বাচ্চাদের উপর কটকটির ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত একতরফা অনিষ্ট ও নাশকতার ফলাফল (result) ও অর্জন (achievement)-কে নিছক 'পিতা-মাতার মধ্যকার সম্পর্ক ভাল না থাকার' ফল বলে চালিয়ে দিয়ে 'শাক দিয়ে মাছ ঢেকে' দেবার মত একনিষ্ঠ বিশ্বস্ত অনুচর যে সমাজের ভিতর রয়েছে, তা কটকটি ভাল করেই জানে। আর জানে বলেই সে নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে তার মিশনগুলো চালিয়ে যেতে পারে এবং সফলতাগুলো অর্জন (achieve) করে নিতে সক্ষম হয়। কটকটিকে তার অশুভ কার্য সম্পাদনের সময় সে তা ভালোর জন্যই (অর্থাৎ সন্তানদের মঙ্গলের জন্যই) করছে বলে তাকে সমর্থন (support) ও ছত্রছায়া (protection) দেয়া, আর অবস্থা বেগতিক দেখলে বা কার্য সম্পাদন হয়ে গেলে পরে তাকে বাঁচিয়ে দেবার জন্য পাগল বা মানসিক রোগীর সার্টিফিকেট প্রদানের মত সেয়ানা পাগল এই সংসারে আছে বলেই কটকটিরা টিকে থাকতে পারে পূর্ণ দাপটে।
কবি বলেছেন, "রাজার ছেলেরে পাষাণ করিতে ডাইনী কি করে ছল।" আমরা টিভি সিরিয়ালেও একই কাহিনী দেখতে পাই। বিভিন্ন সময় কুমারকে কখনো পাথর বা কাঠের পুতুল, কখনো পশু, কখনো বরফ আবার কখনো বা কায়া মানব বানিয়ে রাখতে দেখেছি। এগুলো রূপকথার গল্প হলেও সমাজে ও পরিবারে সংঘটিত ঘটনাবলী এবং রাক্ষসী শয়তানদের কর্মপদ্ধতি ও কলাকৌশলের সাথে তুলনা করলে রূপক অর্থে এগুলোর বাস্তবতা পাওয়া যায়।
কাউকে পাথর, মূর্তি বা কাঠের পুতুল বানিয়ে রাখাটা হল তাকে অক্ষম, অপারগ ও নিষ্ক্রিয় করে রাখার প্রতীক। এটা শারীরিকভাবেও হতে পারে, আবার পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা প্রতিকূল করে দিয়ে  চাপের মধ্যে ফেলার দ্বারাও হতে পারে। যেমন, আপনার বিরুদ্ধে আপনার গুরুজনদের কাছে নালিশ ও লবিং করে আপনার গতিবিধির উপর নিষেধাজ্ঞা ও restriction আরোপ করা হল, যাতে আপনি মজলুম ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে যেতে না পারেন। এমতাবস্থায় সবকিছু দেখেশুনেও, মজলুমের আর্তচিৎকার ও জালেম কর্তৃক সংঘটিতব্য নিশ্চিত সর্বনাশের কথা জেনেও নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য হবেন। এটা আপনার জন্য কাঠের পুতুলে পরিণত হওয়া বৈকি।
কাউকে হিংস্র পশু বানিয়ে দেয়াটা হল তার স্বভাব থেকে মনুষ্যত্বকে কেড়ে নেয়া, এমনকি সম্ভব হলে তার সত্ত্বাকেও অপবিত্র করে দেয়া। এটা কুমন্ত্রণা বা উষ্কানী প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে, আবার শারীরিক গঠন ও কাঠামো পরিবর্তন করে দেয়ার মাধ্যমেও হতে পারে। যেমন- কোন শিশুর আল্লাহ প্রদত্ত পবিত্র রক্ত-মাংসকে শুষে নিয়ে প্রথমে তাকে হাড্ডিসার ও কংকাল বানিয়ে ফেলা এবং তারপর সেই স্থান বমি বা অন্য কোন নাপাক জিনিসের দ্বারা পূরণ করে দিয়ে তাকে মোটাতাজা বানানো। এই পশুকরণ প্রক্রিয়াটি আপনার চোখের সামনে ঘটলেও আপনার কিছুই করার থাকে না, কারণ ইতিমধ্যেই আপনাকে কাঠের পুতুল বানিয়ে দেয়া হয়েছে।
পশুতে পরিণত হওয়া ব্যক্তিকে পুনরায় মানব আকৃতিতে ফিরিয়ে আনার উপায় হিসেবে টিভি সিরিয়ালে দেখানো হয়েছে হৃদয়ে 'ভালবাসার তীর' নিক্ষেপ করা। এটাও প্রতীকী অর্থে সত্য বৈকি। পশুকরণের কাজটি যদি শুধু কুমন্ত্রণা বা মিসগাইড করার মাধ্যমে হয়ে থাকে, তাহলে ভালবাসার তীর তাকে পুনরায় মানুষের স্বভাবে ফিরিয়ে আনতে পারে। এ প্রসঙ্গে কোরআনেও বলা হয়েছে, "মন্দের জবাবে ভালো কর। তাহলে তোমার শত্রুও পরম বন্ধুতে পরিণত হবে।" কিন্তু পশুকরণের কাজটি যদি পরিকল্পিতভাবে শরীর অপবিত্রকরণের মাধ্যমে করা হয়, একটা শিশুর গোটা শরীরের সমস্ত রক্ত-মাংস, প্রতিটা কোষ ও রক্তকণিকাকে যদি বমির দ্বারা পুনর্গঠন করা হয়, তাহলে তার চিকিৎসা আমার জানা নেই। তবে এমনটি ঘটার আগে প্রতিরোধযোগ্য ছিল। যেহেতু Prevention is Better than Cure. অর্থাৎ, সময়মত রাক্ষসীর মাথাটা কেটে দিতে পারলেই এই মহাসর্বনাশটি এড়ানো যেত। অবশ্য আইন হাতে তুলে নেয়াটা বাস্তবসম্মত নয়। দেশে যেহেতু আইনের শাসন আছে, সেই আইনে শিশু নির্যাতনের শাস্তিও নির্দিষ্ট আছে, তাই সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে পুরোপুরি প্রাপ্য শাস্তি দিতে না পারলেও অন্তত তাকে আর further জুলুম করা থেকে বিরত রাখার একটা বন্দোবস্ত আইনের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
এবার বরফ মানব সম্পর্কে ধারণা নেয়া যাক। বরফ হচ্ছে ভঙ্গুরতা, গলনীয়তা ও স্পর্শকাতরতার প্রতীক। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন একটা শিশুকে হতাশ, বিষণ্ন ও খিটখিটে মেজাজের করে তোলে। ফলে তাকে একদিকে যেমন অন্য সবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যায়, অপরদিকে তেমনি তাকে তিলে তিলে ধ্বংস ও বিনাশের দিকে ঠেলে দেয়া যায়। টিভি সিরিয়ালের সংলাপে বরফে পরিণত কুমার প্রসঙ্গে শোনা গেছে, যেহেতু রাক্ষসীরা তাকে বরফ বানিয়েছে, সেহেতু তারাই কেবল কুমারকে স্থানান্তর করতে পারে; আমরা অন্য কেউ তাকে এখান থেকে অন্যত্র সরাতে গেলে কুমারের বরফ হৃদয় ভেঙ্গে যেতে পারে। এই একই অবস্থা প্রযোজ্য মানুষরূপী রাক্ষসীর দ্বারা আক্রান্ত মানবশিশুটির বেলায়। যার কারসাজি ও নির্যাতনের দ্বারা শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তার কাছে অন্য কেউ আসলে তার হৃদয় ভেঙ্গে গিয়ে মনোমালিন্য ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারে, কিন্তু যেই ব্যক্তি তার এমন দশা বানালো তার সাথে ঠিকই স্বাভাবিক থাকে, তার আনুগত্য ও বশ্যতা ঠিকই তার উপর চলে এবং সে তাকে যেখানে ইচ্ছা সেখানে নিয়ে যেতে পারে।
'কায়া মানব' অর্থ হল যেই মানবের নিজস্ব কোন অনুভূতি, ইচ্ছাশক্তি ও চিন্তাশক্তি নেই। যাদুকরের লাঠির ইঙ্গিতে সে ওঠানামা করে। তাকে যেভাবে নাচানো হবে, সেভাবেই নাচবে। মাটিতে ফেলে রাখলে মাটিতেই পড়ে থাকবে। মানুষকে কায়া মানব বানানোর প্রবণতা ও প্রয়োজন মানুষরূপী রাক্ষসীদেরও হয়ে থাকে। একটা পরিবারের সবাইকে কায়া মানব বানিয়ে রাখতে না পারলে তাদের সকলের চোখের সামনে নাকের ডগায় একটা শিশুকে পশু বানানোর প্রক্রিয়া চালানো অসম্ভব। মূলত: যারা কেবল অন্যের ইচ্ছায় চলাফেরা ও ওঠাবসা করে, তারাই কায়ামানুষ। কোন ব্যক্তি বা পরিবারকে পরাধীন করে রাখার মাধ্যম হল কায়ামানুষ বানানো।
যেকোন উপায়ে যেকোন প্রকারে নিজের পরিবারকে বিপদে ফেলাই কটকটিদের কাজ। এজন্য তারা ঘরের ভিতরে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যেমন উষ্কানী ও কুমন্ত্রণা দিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে ও ফেতনা-ফ্যাসাদ লাগিয়ে রাখে, তেমনি প্রয়োজনে বাইরের কোন অশুভ শক্তির সাথেও এদের যোগাযোগ থাকতে পারে। বাইরের কোন দুষ্ট লোককে যেমন নিজের স্বামী-সন্তানের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে পারে, তেমনি স্বামীকেও বাইরের কোন ভেজাইল্লা টাইপের বন্ধু বা ব্যবসায়িক পার্টনারের সাথে কারবারে জড়াতে এবং বিবাদে লিপ্ত হতে প্ররোচনা দিতে পারে, যাতে করে স্বামী-সন্তানকে বাইরের কোন সন্ত্রাসীর প্রতিহিংসার খোরাকে পরিণত করা যায়। আবার অনেক সময় নিজের কোন ঘনিষ্ঠ লোককে (প্রধানত নিজের শয্যাসঙ্গী নাং-কে) দিয়ে বাইরের কোন উৎপাতকারী ব্যক্তিকে পাকড়াও করবার নাটক সাজিয়ে সেই বীরপুরুষ নায়ককে স্থায়ীভাবে ঘরে ঠাঁই দেবার বন্দোবস্ত করে। রাক্ষসী কটকটির এই পাতানো খেলায় বিভ্রান্ত হয়ে রাজা বিজয় নতুন করে আরেকটা ট্রয়ের ঘোড়াকে (trojan horse) প্রাসাদের ভিতর স্থান দিয়ে বসেন। ফলে কটকটি নিজের পরকীয়া শয্যাসঙ্গীর পাশাপাশি চক্রান্ত ও নাশকতার কাজে একজন সঙ্গীও লাভ করে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)