আসুন রোহিঙ্গা ও উইঘুর মুসলমানদের সমর্থনে এক মাস চীনা পণ্য আমদানি বন্ধ রাখি

পৃথিবীর দুইটি কমুনিষ্ট শাসিত ও বৌদ্ধ অধ্যুষিত রাষ্ট্র দুটি মুসলিম জনপদের উপর যে আচরণ করে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের সাধারণ জনগণের তেমন একটা কিছু করার না থাকলেও ব্যবসায়ী সমাজ ইচ্ছে করলে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে পারেন। আমি জানি, কাজটা বেশ কঠিন ও আত্মত্যাগের বিষয়। কারণ, বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সবগুলো দেশ চীনা পণ্যের উপর নির্ভরশীল, যেহেতু চীনারা সবচেয়ে সস্তা দামে যেকোন মাল সাপ্লাই দিতে ওস্তাদ। কিন্তু আমরা যদি আল্লাহর ওয়াস্তে দ্বীনী ভাইদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে এই ত্যাগটুকু স্বীকার করি, তাহলে আল্লাহর কাছ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতে ইতিবাচক প্রতিদান পেতে পারি। বিশেষ করে কোরবানীর মূল শিক্ষাই তো আল্লাহর হুকুম, দ্বীনের স্বার্থ ও মানবতার স্বার্থে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ ও পারিবারিক স্বার্থকে sacrifice করা।
চীনা শাসকরা শুধু জিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমানদের উপরই নির্যাতন করছে না, বরং আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নৃশংস আচরণ পরিচালনার কাজেও বার্মার সামরিক জান্তাকে সক্রিয়ভাবে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। এমন খবরও শোনা গেছে যে, আরাকানে সংঘটিত নিধনযজ্ঞের পিছনে মূল কারণ হলো চীনের ব্যবসায়িক স্বার্থ। সেখানকার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করে সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও উর্বর ভূমিতে চীনা শিল্প স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যই পরিচালিত হচ্ছে এই জঘন্য নরহত্যা। এমতাবস্থায় চীনা শাসকগোষ্ঠীকে সংযত রাখতে হলে ব্যবসায়িকভাবে তাদেরকে কিছুটা চাপে ফেলতে পারলে মন্দ হয় না।
বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষিতে এখন আমাদের করণীয় হলো, অন্তত এক মাসের জন্য হলেও চীনা পণ্যের আমদানি স্থগিত রাখা। বাংলাদেশের সকল আমদানিকারক ও ইনডেন্টারগণ সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে, আগামী এক মাস চীন থেকে কোন নতুন পণ্য আমদানির অর্ডার place করা হবে না— নতুন করে কোন এলসি খোলা হবে না, নতুন করে কোন টিটি প্রেরণ করা হবে না। আর এই সিদ্ধান্তের কথা প্রত্যেকে নিজ নিজ চীনা বন্ধু ও সাপ্লাইয়ারদের ই-মেইল মারফত জানিয়ে দিন। এরূপ একটি ই-মেইলের নমুনা নিম্নে দেয়া হলো:-

Subject: Postponding of all new orders of Chinese Products because of Rohinga Crisis

Dear Mr. Andy/Zhang,
Sorry to inform you that, we, all Bangladeshi importers and indenters have decided to postpond all new orders of Chinese Products because of the events which have happened on our brothers in Arakan (Rakhain) and Xingzian.

আমাদেরকে ভেবেচিন্তে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখবেন, পোড়া শিশুদের ছবি দিয়ে ফেসবুক পেজ ভর্তি করে ফেললে কোন কাজ হবে না, তার চেয়ে বরং অর্থনৈতিক বয়কট কিছুটা কাজ দিলেও দিতে পারে। তবে যদি নিজেরা দারিদ্রতা বা অনাহারে নিপতিত হবার ভয় করেন, তাহলে চীনা পণ্য আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রাখতে না পারলেও যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন। যে মালটির অর্ডার প্রতি মাসে ৫০ হাজার পিস দিতেন, সেই মালটির অর্ডার ৫ হাজারে নামিয়ে আনুন, শুধুমাত্র নিজের পরিবার-পরিজন নিয়ে পেটে-ভাতে চলার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তার বেশি উপার্জন এই পথে করা বন্ধ রাখুন। তাতেও ওদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু ঘাতকদের মদদকারীদের ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নিজে কোটিপতি হবার চেষ্টা কখনো করবেন না। যদি এটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে না পারেন, তাহলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য আপনার ক্রন্দন সবই মিথ্যা প্রমাণিত হবে। অবশ্য যারা ইতিমধ্যে কোন অর্ডারের টাকা টিটির মাধ্যমে পাঠিয়ে ফেলেছেন কিংবা এলসিও প্রত্যাহারযোগ্য অবস্থায় নেই, সেক্ষেত্রে মাল হাতে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন। পুরাতন অর্ডারের মাল হাতে পেয়ে যাবার পর ব্যবসা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ইমেইল পাঠাতে আর দেরি করবেন না।
আমাদের বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য, বস্ত্র ও ঔষধের দিক থেকে মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। শুধুমাত্র নির্মাণ সামগ্রী ও কম্পিউটার সামগ্রীর জন্য আমরা এখনো আমদানিনির্ভর। আমাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব এসব পণ্যের বিকল্প সাপ্লাইয়ার খুঁজে বের করতে হবে। চীনের পরিবর্তে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, জাপান কিংবা অন্য কোন তুলনামূলক নিরপেক্ষ বা মুসলিমবান্ধব দেশ খুঁজে নিতে হবে। মুসলিম দেশগুলোকে সংশ্লিষ্ট পণ্য কম মূল্যে মান বজায় রেখে উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় চীনাদের সমকক্ষতা অর্জন করতে হবে। কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশও রপ্তানির যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমদানি-রপ্তানির কাজটি যতটা সম্ভব নিপীড়ক দেশগুলোকে বাদ দিয়েই সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া আমরা যদি আমদানিনির্ভর বাণিজ্য থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদনভিত্তিক বাণিজ্যে প্রবেশ করতে পারি, তাহলে তা আমাদের নিজ দেশের অর্থনীতির জন্যও ভালো হবে এবং আমাদের মজলুম ভাইদের জন্যও উত্তম হবে। মনে করুন, আপনার অর্থ যদি আমদানির কাজে বিনিয়োগ না করে দেশের কৃষি, খামার ও শিল্পে বিনিয়োগ করেন— মৎস্য চাষ ও গরুর খামার গড়ে তোলেন, তাহলে তা দেশের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে এবং দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। দেশের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা অসহায় আশ্রয়প্রার্থীদেরকেও শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত করতে পারবেন। সত্যি বলতে কি, আমদানি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে খুব একটা ভূমিকা রাখে বলে মনে হয় না, যতটা ভূমিকা রাখে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন।
যদি ভুলেও কখনো মনের মধ্যে এই চিন্তা আসে যে, "আমি চীনের সাথে ব্যবসা করছি তো কি হয়েছে, এই ব্যবসায়ের লাভ থেকেই তো রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাহায্য করতে পারি"- তাহলে বুঝবেন এটা শয়তান ও নাফসের ধোকা আর আত্মপ্রবঞ্চনা মাত্র। ঘাতককে হাজার টাকা মুনাফা দিয়ে ভিকটিমকে দশ টাকা সাহায্য দানে কোন ফায়দা নেই।

আপনার রেটিং: None

এবার এই আহবানটি ব্যবসায়ী মহলে পৌঁছানোর কাজটি কিভাবে করা যায়, সে বিষয়ে আলোকপাত করা যাক:-

  • বিসর্গ ব্লগে তেমন কোন ভিজিটর আসে না বললেই চলে, অনেকটা নিজের লেখা নিজেকেই পড়তে হয়, কপাল ভালো থাকলে একজন বা দু'জন পাঠক, যে কিনা হয়তো আমার মাইক্রোফোনটা নেবার জন্য দাঁড়িয়ে আছে, তাকে পাঠক হিসেবে পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় ব্লগার ভাইদের প্রতি অনুরোধ, আপনাদের মধ্যে যারা কোন জনপ্রিয় পাঠকবহুল ব্লগে প্রথম পাতায় লেখা প্রকাশের সুযোগ লাভ করেছেন, তারা আমার এ ব্লগ পোস্টটি কপি পেস্ট করে দিন।
  • লিফলেট আকারে ছাপিয়ে নবাবপুর, নয়াবাজার, গুলিস্তান, ইমামগঞ্জ ও নিউমার্কেট সহ চীনা পণ্যের আমদানি ও বিক্রয় হয় এমন সব এলাকায় সকল অফিস ও দোকানে বিলি করুন। এছাড়া বাংলাদেশের সকল মসজিদে বিশেষত শহর এলাকার মসজিদসমূহে লিফলেটটি বিলি করুন।
  • পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এ আহবানটি বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং মুসলিম দেশগুলোর ব্যবসায়ী সমাজকে চীনা পণ্য বর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নমুনা ই-মেইলটিও ফরওয়ার্ড করে দিতে হবে সংশ্লিষ্ট সবখানে।

Rate This

আপনার রেটিং: None