এখলাস রক্ষা বনাম সামাজিক চাপ

সূরা কাহাফের শেষ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "যে ব্যক্তি তার প্রভুর সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার প্রভুর এবাদতে কাউকে শরীক না করে।।" সুতরাং, যে কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার কথা বা ইসলামের নামে করা হয়, সেই কাজ মানুষের ভয়ে বা মানুষের মন রক্ষার্থে কিংবা সামাজিকতার খাতিরে করাটাই শিরক ও রিয়াকারিতা। আমাদের সমাজে এই শিরক শুধু করাই হয় না, বরং শিরক করতে রীতিমত উৎসাহিত ও বাধ্য করা হয়। কিভাবে? যেমন ধরুন, নতুন বউকে বলা হলো, "আমাদের পরিবারে আসতে হলে বা থাকতে হলে কিন্তু নামাজ পড়তে হবে।" (নিজেদের ছেলে নামাজ পড়ে কিনা সেই প্রসঙ্গ অপ্রাসঙ্গিক হওয়ায় এখানে নাই বা বললাম।) কিন্তু কথা হলো, নামাজ তো আল্লাহর বান্দা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে পড়তেই হবে। নামাজ কি কোন পরিবারের সম্পত্তি? নামাজটা কি কোন পরিবারের আভিজাত্য ও ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়? আবার ধরুন, পর্দার বিষয়ে বউয়ের মধ্যে কোন গাফলতি মনে হলে মানুষ বলে, "বাপের বাড়িতে যেভাবে চলে চলুক, শ্বশুরবাড়িতে কি যেমন তেমন ভাবে চলা যায়?" অথচ পর্দা যেটুকু আল্লাহ ফরয করেছেন, সেটুকু পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক পালন করতে হবে। আর যদি পর্দার নামে অতিরিক্ত মনগড়া কিছু কোন পরিবারে নিয়ম চালু করা থাকে, সেটাও মেনে চলা জরুরী নয়। আবার অনেকে আছেন, ছেলেরা মসজিদে না গেলে বলেন, "তোরা যে মসজিদে যাস না, মানুষ কি মনে করে?"
হয়তোবা সামাজিক চাপের মুখেও এখলাস বজায় রাখতে পারাটাই পরীক্ষা। অর্থাৎ, সমাজের মানুষদের রিয়া-বান্ধব মানসিকতার মাঝেই নিজের সব এবাদত ও আমল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাধিত করাটাই এখলাসের উন্নত স্তর বলে গণ্য হবে।
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)