আজব এক সম্প্রদায়!

আল্লাহর দুনিয়ায় এমন এক সম্প্রদায় আছে, যারা ভালো কিছু করতে জানে না, যাদের দ্বারা কারো কোনদিন কোন উপকার হয়নি, কিন্তু কেউ ভালো কিছু করতে গেলে তাকে শেরেক-বেদাত আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা করে।

# দুনিয়ায় নারী ও শিশু সহ শত কোটি মুসলমান যেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়, সেখানে এনাদের কোন দেখা পাওয়া যায় না। [কিংবা পাওয়া গেলেও তাদেরকে শত্রুর মোকাবেলার চেয়ে মুসলিমদের মাঝেই ফেরকাগত ও দলগত হানাহানির দিকে বেশি উৎসাহী দেখা যায়। আর শত্রুর মোকাবেলা বলতে শত্রু  সম্প্রদায়ের জনগণের মধ্যে কোন নিরীহ গোবেচারার শিরোচ্ছেদ ছাড়া আর কিছুই করতে দেখা যায় না।] কিন্তু যেখানে মুসলিম জনগণ মোটামুটি নির্বিঘ্নে ধর্ম-কর্ম ও রুজি-রোজগার করে স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ পাচ্ছে, সেখানে অযথা 'তাওহীদ' 'তাগূত' 'আল্লাহর আইন' ইত্যাদি জিগির তুলে কিংবা সুন্নত-বেদাতের ইস্যু নিয়ে মুসলমানদের রক্তপাত ঘটানোর কাজে এনারা ঠিকই যত্নবান ও অকৃপণ ভূমিকা পালন করেন। অপরদিকে যারা সত্যিকারভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে মজলুম মুসলমানদের রক্ষায় সংগ্রাম করে আসছেন, তাদেরকেও এদের কারণে বিপদে পড়তে হচ্ছে এবং ভুল বুঝাবুঝির শিকার হতে হচ্ছে।

# নারী ও শিশু সহ দুনিয়ার শত কোটি মানুষ যেখানে যাদুকর ও ডাইনীদের কুফরী কালাম ও বদনজরের কবলে পড়ে ধুকে ধুকে মরছে, তা নিয়ে এনাদের কোন মাথাব্যথা চোখে পড়ে না। কুফরের বিরুদ্ধে তাদের ঈমানী অনুভূতিও জাগ্রত হয় না। কিন্তু কেউ এই বিপন্ন মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ালে তখন এ নিয়ে তাদের গবেষণা শুরু হয় যে, পদ্ধতিটা সুন্নত নাকি বেদাত। এমনকি যাদুকর শয়তানদের হিংস্র থাবা থেকে মানুষকে রক্ষায় যারা কাজ করছেন, তাদেরকেই এরা উল্টো যাদুকর আখ্যা দিয়ে হত্যা করে থাকে। যেখানে এনারা রাজসিংহাসনে (অর্থাৎ, শাসন ক্ষমতায়) আছেন, সেখানে ইসলামী আইনে বিচারের নামে গলা কাটছেন, আর যেখানে ক্ষমতায় নেই সেখানে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে গুপ্তহত্যার দ্বারা এ কাজটি করছেন। কারো ঘরে নিছক তাবিজ বা মোমবাতি পেলেই তাকে যাদুকর আখ্যা দিয়ে শিরোচ্ছেদ করা হচ্ছে। অথচ এসব উপকরণ শুধু যাদুতে ব্যবহৃত হয় না, বরং যাদু দূরীকরণেও ব্যবহার করা হয়। তাবিযে যদি কুফরী বা শেরেকী মন্ত্র ব্যবহার করা না হয়, কোরআন-হাদীস বা যেকোন বৈধ ও শালীন বাক্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা কুফর বা শিরক হবার কোন কারণ নেই। মোমবাতিও অনেকে ব্যবহার করে থাকেন আগুন বা গন্ধ দিয়ে খারাপ জিনকে তাড়ানোর জন্য, কিংবা কাফের জিনদের মোকাবেলায় মুমিন জিনদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য, তাই মোমবাতি মানেই আগুন পূজা নয়। তাবিজ বা মোমবাতি নিয়ে নাহয় মতভেদ আছে, কিন্তু নির্ভেজাল কোরআনের আয়াত দিয়ে যাদুর চিকিৎসা বা যাদুকর শায়েস্তা করবার পদ্ধতি নিয়েও এনারা প্রশ্ন তোলেন, এমনকি কুফর ও শেরেকের গন্ধ খুঁজে পান। তাদের যুক্তি হলো, রসূলুল্লাহ (সা.) যে আয়াতকে যে কাজে ব্যবহার করেননি, সে আয়াতকে সে কাজে ব্যবহার করা বেদাত। অথচ কোরআনকে আল্লাহতাআলা সামগ্রিকভাবেই মানুষের জন্য শেফা বলেছেন এবং কোন্ আয়াত কখন কার জন্য শেফার উছিলা হবে, তা সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়নি। প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে রসূলুল্লাহ (সা.) কেন সেসব আয়াত ব্যবহার করেননি? এর কারণ সম্ভবত এই যে, যদি রসূলুল্লাহ (সা.)-কে দিয়ে উক্ত সূরা বা আয়াতগুলোকে এসব উদ্দেশ্য পূরণে ব্যবহার করা হতো, তাহলে সংশ্লিষ্ট সূরা বা আয়াতের মূল উদ্দেশ্য চাপা পড়ে যেত। কিন্তু সম্ভবত আল্লাহ তাআলা এ আয়াতগুলোর বহুবিধ ব্যবহার সরাসরি রসূলুল্লাহ (সা.)-কে দিয়ে প্রচলন না করে পরবর্তীতে কোন আলেম বা স্কলারের দ্বারা আবিস্কার করিয়েছেন, যাতে আয়াতের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না হয়। যেমন- সূরা যিলযালের প্রকৃত উদ্দেশ্য কিয়ামতের ভয়াবহতা বর্ণনা করা। কিন্তু এ সূরাকে যদি ডেলিভারি সহজ করার কাজে তখনই ব্যবহার করা হতো, তাহলে মানুষ ভাবত, ডেলিভারি সহজ করবার জন্যই বুঝি এ সূরাটি নাযিল হয়েছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে (অর্থাৎ, কিয়ামতের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে) এ সূরাটি নাযিল হয়েছে, সেই আসল উদ্দেশ্যটাই মানুষ ভুলে যেত। আবার সূরা মুলকের ৪র্থ ও ৫ম আয়াত নাযিল হয়েছে আল্লাহর সৃষ্টির কুদরত ও নিপুণতা বোঝানোর জন্য। কিন্তু বদনজর ঠেকানোর কাজে যদি শুরুতেই ব্যবহার করা হতো, তাহলে মানুষ এ আয়াতসমূহকে শুধু বদনজর ঠেকানোর আমল মনে করে বসতো, ফলে আসল উদ্দেশ্যটা (অর্থাৎ, আল্লাহর সৃষ্টির কুদরত নিয়ে চিন্তা করাটা) ঢাকা পড়ে যেত। অনুরূপভাবে, সূরা আহযাবে বর্ণিত লানতের আয়াতটি নাযিল হয়েছে নেতা বা অভিভাবকদের দ্বারা মিসগাইডেড ব্যক্তিদের কিয়ামতের দিন স্ব স্ব নেতা বা অভিভাবকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অভিসম্পাতের দৃশ্য তুলে ধরবার মাধ্যমে দুনিয়াতে অন্ধ আনুগত্য থেকে মানুষকে বিরত থাকতে সতর্ক করবার জন্য। কিন্তু অনিষ্টকারী যাদুকরদের শায়েস্তা করবার জন্য এ আয়াত ব্যবহারের আমলটি যদি নবীজী (সা.)-এর দ্বারাই প্রবর্তিত হতো, তাহলে আয়াতের মূল বিষয়টি চাপা পড়ে যেত। এ কারণেই সম্ভবত মহান আল্লাহ এ আয়াতগুলোর নিত্য নতুন ব্যবহার নবীকে দিয়ে না করে তাঁর উম্মতদেরকে দিয়ে পরবর্তীকালে চালু করিয়েছেন।
ভেবে দেখুন, যাদু ও কুফরী কালামের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা শয়তানদের কাজ। আর শয়তানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা মানুষকে সাহায্য করছেন, তাদের এই কাজে বিরোধিতা তো মূলত শয়তানেরই পক্ষে যায়। কথিত কুফর বা শেরেক-বেদাত ঠেকাতে গিয়ে একেবারে শয়তানের সহযোগীতে পরিণত হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক নয়কি? মুসলিম নির্যাতনকারী ও মুসলমানদের উপর আগ্রাসন পরিচালনাকারী কাফেরদের ব্যাপারে উদাসীন থেকে মুসলিম দেশগুলোতে অযথা ঠুকনো অযুহাতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দ্বারা তারা যেমন মুসলমানদের স্বার্থের বিপক্ষে কাফেরদের স্বার্থের অনুকূলেই কাজ করছেন, এই যাদু বনাম রুকিয়া ইস্যুতেও তারা রাকীদের খুঁত ধরবার মাধ্যমে ও কোন কোন ক্ষেত্রে রাকীগণকে হত্যা করবার মাধ্যমে শয়তানদের অনুকূলেই কাজ করছেন, শয়তানেরই সার্ভিস আঞ্জাম দিচ্ছেন। যাদুটোনা ও কুফরী কালামের কবল থেকে অসহায় মানুষকে বাঁচনোর কোন মুরোদ নেই, শুধু যারা মানবতাকে এগুলোর কবল থেকে মুক্ত করবার এবং যাদুকর ও শয়তানদের নির্মুলে কাজ করছেন তাদের দোষ খুঁজে বেড়ানো!
শেরেক-বেদাত ঠেকানোর নাম করে যাদুকর শয়তানদের রক্ষার প্রয়াস কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। শয়তানদের পক্ষে যুদ্ধ করবে তো কাফেররা (সূরা নিসা)! আশ্চর্যের বিষয় হলো, মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে বিপন্ন ও মজলুম মানবতার সেবায় শয়তানের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত এ রাকীদের বিরুদ্ধে অমুসলিমদের তরফ থেকে কোন আপত্তি বা বিরোধিতা আসছে না, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মুসলিম নামধারী একশ্রেণির পরচর্চাকারীর দিক থেকে হুমকি ও বাধা আসছে। চৌকস রাকীদের কাছে পর্যুদস্ত শয়তানেরাই প্রতিশোধ নেবার জন্য মুসলিম নামধারী চরমপন্থী খুঁতখুঁতে স্বভাবের দলগুলোর লোকদের ঘাড়ে চেপে বসল কিনা, তাই বা কে জানে?
হালাল-হারাম ও সুন্নত-বেদাত বিষয়ে ঢালাও প্রচারণা না চালিয়ে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। আল্লাহ বলেছেন, আন্দাজে বলো না এটা হারাম ওটা হারাম। বেদাত বলতে বুঝায় সওয়াবের নিয়তে ফযীলতের আশায় আল্লাহ ও রসূল যা বলেননি এমন কোন আমলের উদ্ভাবন করা। কিন্তু কোন বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবেলা, সমস্যা সমাধান বা প্রয়োজন পূরণে নিত্য নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার ও গ্রহণ করা এবং এসবের প্রয়োজনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বাণী থেকে সহায়তা নেয়া বেদাতের মধ্যে পড়ে না। কোরআনের আয়াত থেকে ধারণা নিয়ে নিত্য নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করার ব্যাপারে কি কারো কোন আপত্তি আছে? "তারা কি উড়ন্ত পক্ষীকুলকে দেখে না?" এ আয়াত থেকে ধারণা নিয়ে বিমান আবিষ্কার করাটা কি অন্যায় হয়েছে?
মানুষ অনেক সময় পানিতে পড়ে গিয়ে হাবুডুব খেয়ে সাঁতার শেখে। যেকোন বিপদ-মুসিবতে পড়ে মানুষ নিজে নিজে আত্মরক্ষার নিত্য নতুন অজানা কৌশলও বের করে নিতে পারে। বাস্তব অভিজ্ঞতার দ্বারা ভুক্তভোগী মানুষ নিজেকে ও অপরকে বাঁচানো এবং ক্ষতিকারক দুশমনদের প্রতিহত করবার উপায় উদ্ভাবন ও রপ্ত করে থাকে। এ বিষয়টাকে সুন্নত-বেদাত বিতর্কে ফেলা অর্বাচীনতারই নামান্তর।

সরল মনে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবার সুস্থ-স্বাভাবিক চিন্তা ও প্রেরণার দ্বারা তাড়িত হবার পরিবর্তে এরা শুধু নিজেদের গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের অসুস্থ প্রবণতার দ্বারাই তাড়িত হয়ে থাকে সবসময়। এদের প্রত্যেকটা কথাবার্তা ও আলোচনা, লড়াই-সংগ্রাম ও পদক্ষেপ হয়ে থাকে কেবল নিজেদের গোষ্ঠীকে জেতানো ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ঘায়েল করবার বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে।  এরা যে বিষয়ে আলোচনা করে, সে বিষয়ে প্রাসঙ্গিক ও উপযোগী বক্তব্য পেশ ও তথ্য পরিবেশনের চাইতে ফেরকাগত বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাছায় বাঁশ দেবার ধান্ধাতেই মেতে থাকে।

# এরা যখন কারবালার ঘটনা আলোচনা করে, তখন একজন মুসলমান ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে ইমাম হোসাইনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের স্বাভাবিক ধর্মীয় ও মানবিক মনোভাবের পরিচয়দানের পরিবর্তে এজিদকে নির্দোষ প্রমাণের এবং সম্ভব হলে ইমাম হোসাইনের খুঁত বের করার ধান্ধাটাই এদের মূল লক্ষ্য বলে মনে হয়।

# এনারা যখন যাদুটোনা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন, তখন যাদুতে আক্রান্ত হবার লক্ষণসমূহ সঠিকভাবে আলোচনা করলেও যাদুকর চেনার লক্ষণ আলোচনা করতে গিয়ে শঠতার পরিচয় দেন। সেক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে কুফরী কালামের দ্বারা মানুষের অনিষ্ট সাধনকারী অপরাধী দুর্বৃত্তদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে চিনিয়ে দেবার পরিবর্তে ফেরকা ও মতাদর্শগত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করবার ধান্ধাটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। যাদুকর চেনার লক্ষণ হিসেবে তারা এমন সব লক্ষণ বর্ণনা করেন, যা মূলত যাদুকরের লক্ষণ নয়, বরং যাদুর চিকিৎসা ও যাদুকরদের চিহ্নিত ও শায়েস্তা করবার কাজ যারা করে থাকেন তাদের লক্ষণ। ফেরকাগত সংকীর্ণতায় অন্ধ হয়ে এনারা যাদুর কবল থেকে মানুষকে বাঁচানোর বিষয়েও মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যাদুকর ধরবার পরিবর্তে যাদুর বিরুদ্ধে সংগ্রামকারীদেরকে যাদুকর সাব্যস্ত করতে লেগে যান। যাদুকরের লক্ষণ হিসেবে এনারা যেসব লক্ষণ বর্ণনা করেন তার মধ্যে রয়েছে রোগীর মায়ের নাম জানতে চাওয়া, রোগী বা ভিকটিমের রোগ বা সমস্যার কথা না দেখেই বলে দেয়া ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে রোগ বা সমস্যা না দেখে বলে দেয়ার দ্বারা জিনের সাথে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলেও যাদু নিশ্চিত নয়। জিনের সহায়তা নেয়া মানেই যাদুকারিতা নয়। জিনের সাহায্য গ্রহণ করাটা যাদু বলে গণ্য তখনই হবে, যখন জিনের সাহায্য লাভ করার জন্য জিনকে খুশী করতে গিয়ে কুফরী তথা ধর্ম অবমাননার কাজ, শেরেকী তথা জিনকে আরাধনা করা বা জিনের উদ্দেশ্যে কোরবানি দেয়া, বা কোন পাপ কাজ করা হয়; অথবা জিনের সাহায্যে নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি ও অনিষ্ট সাধন করা হয়। কিন্তু যখন কোন কুফর বা অপকর্মে লিপ্ত না হয়ে শুধু মানুষকে যাদু থেকে মুক্ত করা ও অনিষ্টকারী যাদুকর জিন ও মানুষ শয়তানদের শায়েস্তা করার কাজে জিনকে ব্যবহার করা হয়, তখন তা দোষনীয় নয়। রোগ বা অন্যায় শত্রুতা মোকাবেলায় জিনের মাধ্যমে ডায়াগনোসিস ও নিরাময়কারীদের অনেকে গণক বা জ্যোতিষীর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেন এবং এ সংক্রান্ত হাদীস দ্বারা তাদেরকে কাফের ও অভিশপ্ত সাব্যস্ত করেন। তারা একে গায়েবের চর্চা মনে করেন এবং আল্লাহ তাআলার 'আলেমুল গায়েব' সিফাতের উপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন। কিন্তু জিনের সাহায্যে ঊর্ধ্বজগতে আড়ি পেতে ভবিষ্যতের তথ্য জানা, আর জিনকে ভূপৃষ্ঠে পরিভ্রমণ করিয়ে শত্রুর উপর গোয়েন্দাগিরি করিয়ে শত্রুতা ও অনিষ্টের তথ্য সংগ্রহ করা কিংবা রোগীর চিকিৎসার জন্য রোগের ধরন ও কারণ নির্ণয় করা এক জিনিস নয়। চিকিৎসক ও রাকীগণ কেউ গায়েব জানার দাবি করেন না। গায়েবের জ্ঞান আর বিষয়ভিত্তিক বিশেষ জ্ঞান- এ দু'য়ের মাঝে যারা পার্থক্য বোঝেন না, তারা হয় মূর্খ নয়তো মতলববাজ জ্ঞানপাপী।
আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যেভাবে তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করছে।" আমার শত্রু  যদি বন্দুক হাতে নেয়, আমাকেও বন্দুক হাতে নিতে হবে। আমার শত্রু  যদি কামান ব্যবহার করে, তাহলে আমিও কামান ব্যবহারে বাধ্য (যদি পাওয়া যায়)। এখন আপনি যদি আমাকে বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সা.) যেহেতু তীর-তলোয়ার ছাড়া আর কোন অস্ত্র ব্যবহার করেননি, তাই আমাকেও তীর-তলোয়ারের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, এগুলো ছাড়া অন্য কোন হাতিয়ার হাতে নেয়া বৈধ হবে না, বন্দুক-কামান ধরলে বেদাত হবে; তাহলে বুঝব, আপনি হয় অর্বাচীন বেকুব মূর্খ, অথবা আমার শত্রুর অনুচর। অবশ্য  রুকিয়া নিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও রুকিয়ার পদ্ধতি নিয়ে মতভেদের একটি বড় কারণ। যেহেতু কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে চিকিৎসা সাধারণ মানুষ নিজেরাই করতে পারে এবং এর জন্য রাকীর কাছে যাওয়া খুব বেশি জরুরী হয় না, তাই যে সমস্ত রাকীগণ কোরআনের আয়াত দিয়ে ঝাঁড়ফুকের পাশাপাশি জিনের সহায়তা গ্রহণ করেন, তারা ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকায় অন্যরা পদ্ধতির সঠিকতা ও বৈধতা নিয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হন।
যাদুকর শয়তানরা যেখানে জিনদের শক্তিকে ব্যবহার করছে, সেখানে সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষ এই কাফের শয়তান জিনদের মোকাবেলায় মুমিন ও বিবেকবান জিনদের সাথে পারস্পরিক সহায়তা করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই সুযোগকে গ্রহণ করতে পারবে না, করলে ঈমান চলে যাবে- এ ধরনের প্রচারণা যাদুকর শয়তানদেরকে সহযোগিতা করারই নামান্তর। যাদুকর শয়তানরা নিশ্চয়ই এ ধরনের ফতোয়া দানকারীদের আশীর্বাদ করছে, অভিনন্দন জানাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, যাদুকররা যে পন্থাতে জিনদের ব্যবহার করে থাকে, অর্থাৎ কুফরী কাজের দ্বারা শয়তানদেরকে সন্তুষ্ট ও জিনদেরকে বশ করে থাকে, সে পদ্ধতি মুমিনদের জন্য নয়। ঠিক যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে 'তারা যেভাবে যুদ্ধ করছে' এর মধ্যে শত্রুপক্ষের অনুসৃত সব পদ্ধতি (যেমন- নিরীহ মানুষ হত্যা করা, ধর্ষণ করা ইত্যাদি) মুমিনদের জন্য গ্রহণযোগ্য বা অনুসরণযোগ্য নয়।

চিন্তা করে দেখুন, যাদের দ্বারা ইসলাম ও মানবতার বিন্দুমাত্র কল্যাণ হচ্ছে না, বরং শুধু অকল্যাণই হচ্ছে, আর একতরফাভাবে শুধু কাফের ও শয়তানদেরই লাভ হচ্ছে, তারাই কিনা জোরালোভাবে নিজেদেরকে একমাত্র সহীহ ফেরকা বলে দাবি করেন। কোন কোন ক্ষেত্রে বরং বিবেকহীনতার দিক থেকে এরা কাফেরদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে। ভেবে দেখুন, যেখানে অমুসলিমরাও ইয়াজিদকে ঘৃণা করে ও ইমাম হোসাইনের (রা.) প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, যেখানে অমুসলিমরাও যাদুকর শয়তানদের বিরুদ্ধে রাকীদের সমর্থন করে, সেখানে মুসলমানদেরই একটা গোষ্ঠী কিনা ধর্মের নাম দিয়েই এজিদকে সম্মান করে, হোসাইন (রা.)-কে তাচ্ছিল্য করে, রাকীদের নামে কুৎসা গেয়ে যাদুকর শয়তানদেরকে সুবিধা করে দেয়।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

জিনদেরকে তাদের আদি পিতার দোয়ার কারণে আল্লাহতাআলাই এ ক্ষমতা দিয়েছেন যে, তারা মানুষকে দেখতে পারে, কিন্তু মানুষ তাদেরকে দেখতে পারে না। আমাদেরকে এও জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, হাশরের দিন এর বিপরীত অবস্থা ঘটবে, অর্থাৎ আমরা তাদেরকে দেখব, কিন্তু তারা আমাদের দেখবে না। একটা জাতি বা মাখলুকের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামত বা বিশেষত্বকে স্বীকৃতি প্রদান করার অর্থ কি উক্ত সম্প্রদায়কে গায়েবের জ্ঞানধারী বলে মান্য করা? তাদের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত এ সুবিধাকে ব্যবহার করে তাদের মধ্যকার কেউ যাদুকর শয়তান ও অসৎ লোকদের ক্রীড়নক হয়ে মানুষের অনিষ্ট সাধনে নিয়োজিত হয়, আবার কেউ এ অনিষ্টকে প্রতিরোধ করা ও অনিষ্টকারীদের দমন করায় এগিয়ে আসে।
অনেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে শয়তান সংক্রান্ত আয়াতগুলোকে আমভাবে জিন জাতির উপর প্রয়োগ করে থাকে এবং শয়তানের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সংক্রান্ত আয়াতকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে জিনের সহায়তা গ্রহণকারী রাকীদের উপর আরোপ করে। প্রশ্ন হলো, মানব জাতির সম্পর্কে কি আল্লাহ তাআলা কোন নেতিবাচক কথা বলেননি? কোরআনে কি মানুষকে বড় অকৃতজ্ঞ বলে আখ্যায়িত করা হয়নি? এজন্য কি মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক স্থাপনকেও নিষিদ্ধ বলবেন? তা যদি করতে চান, তাহলে আপনি নিজে কি? আপনি তো সেই মানুষই, যার সম্পর্কে কোরআনে 'অকৃতজ্ঞ' বিশেষণ আরোপ করা হয়েছে।
একশ্রেণির মানুষের ভাব দেখে মনে হয়, মানুষ মানেই আল্লাহর প্রিয় ও মুসলমান, আর জিন মানই আল্লাহর অভিশপ্ত ও শয়তান। এটা কি ইহুদী জাতির জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ববোধের অনুরূপ নয়? (অর্থাৎ, তারা যে শুধু নিজ জাতিকেই একমাত্র মুক্তিপ্রাপ্ত জাতি মনে করে, সেরূপ নয়?)
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তোমরা ঈমানদারদের ছেড়ে কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।" মজার ব্যাপার বা দু:খের ব্যাপার যাই বলি, একশ্রেণির মানুষ নির্দ্বিধায় মানুষের মধ্যকার ইসলামবিদ্বেষী কাফেরদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছেন, অথচ জিনদের মধ্যে কেউ ঈমানদার ও মুসলিম হলেও তার সাথে সম্পর্ক রাখাকে শয়তানের সাথে সম্পর্ক রাখার সাথে একাকার করে দেখাচ্ছেন। সৃষ্টিগতভাবে মানুষের চামড়া থাকলেই সে কাফের হলেও গ্রহণযোগ্য হবে, আর সৃষ্টিগতভাবে জিন বা জিনের সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী ব্যক্তিরা মুসলিম হলেও বর্জনীয় ও নিন্দনীয় হবে- এটা কি সাম্প্রদায়িক বর্ণবাদী মনোভাবের পরিচায়ক নয়?

পরিশেষে বলা যায়, বেদাত ঠেকানোর নাম করে সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে মুসলিম জাতিকে পিছিয়ে দেয়া এবং জিন-মানুষ নির্বিশেষে শয়তানদের কাছে পরাজিত ও পদানত করে রাখার বিশেষ এজেণ্ডা নিয়ে কাজ করছে ইহুদী-খ্রীস্টানদের সৃষ্ট এক বিশেষ ফেরকার সদস্যরা। খুত-খাত বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও লাফালাফি করে এরা মুসলিম জাতিকে বড় বড় সাফল্য ও বিজয় থেকে বঞ্চিত করার প্রয়াসে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরা মুসলমানদের জন্য ক্যান্সারতুল্য। These guys are probably the Trojan Horse working for Stabbing the Muslims from the back.

কোরআনের আয়াতের সাহায্যে রুকিয়ার মাধ্যমে কেবল নিরপরাধ ভিকটিমকেই মুক্ত করা যায় এবং সত্যিকার অনিষ্টকারী শয়তান যাদুকরকেই শায়েস্তা করা যায়। ঠুনকো অযুহাতে যাকে তাকে (এমনকি যাদুর চিকিৎসাকারীকে) যাদুকর সাব্যস্ত করে গলা কাটার কোন ব্যবস্থা এতে নেই। অতএব, যারা এই বেইনসাফির উপর প্রতিষ্ঠিত, দুষ্টের পালন আর শিষ্টের দমন যাদের স্বভাব, তাদের কাছে এ পন্থা পছন্দ হবে কেন?

জিন বা যাদুতে আক্রান্ত রোগীকে রুকিয়া বা ঝাঁড়ফুক করতে গিয়ে কোরআনের আয়াত দ্বারা আগ্রাসী জিনকে পাকড়াও করা এবং স্বীকারোক্তি আদায় করার বিষয়ে কোন কোন মতলববাজ নাদান 'জিনের সাথে যোগাযোগের বৈধতা' নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক ফতোয়াবাজি করে থাকেন। অথচ এ কমন সেন্সটা তারা মানতে চান না যে, অস্ত্র উদ্ধার করতে হলে তো গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়েই যেতে হবে! একে কি সন্ত্রাসীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা বলা চলে? যদি তাই বলে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে সন্ত্রাসীর সাথে প্রকৃত যোগাযোগকারী অর্থাৎ সন্ত্রাসের মূল হোতা হচ্ছেন আপনি। আগুন সন্ত্রাস চলাকালে টহল পুলিশের জন্য গুলি করা আইনসিদ্ধ কিনা সেই বিতর্ক যদি জুড়ে দেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি বা আপনার সমর্থিত কেউ উক্ত সন্ত্রাসে লিপ্ত। একইভাবে বলা যায়, যারা শেরেক-বেদাতের ধুয়া তুলে সুন্নত ও সহীহ হাদীসের দোহাই দিয়ে 'জিন ব্যবহার' বা 'জিনের সাথে যোগাযোগ' শরীয়তসম্মত কিনা এ জাতীয় অহেতুক বিতর্ক জুড়ে দেবার মাধ্যমে রুকিয়ার কাজে বাধা সৃষ্টি করেন, তারা নিজেরাই হয়তো জিনের সাহায্যে মানুষের অনিষ্ট করবার ন্যায় কুফরী কাজে লিপ্ত, তাই ধরা পড়ার ভয়ে রুকিয়া বিঘ্ন করবার অযুহাত খুঁজে বেড়ান। কথায় বলে, "ওঝাকে কি শাকচুন্নীর সহ্য হয়!"
সুন্নত-বেদাতের দোহাই দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে যারা মানুষের জীবন-মরণের ব্যাপারে জরুরী কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তারা কিন্তু শৌখিন বিনোদনমূলক কাজে এমনকি নোংরা ও কুরুচিকর কাজেও সুন্নতের পরিপন্থী কাজকে জায়েয ফতোয়া দিতে কুণ্ঠিত হয় না। জিনদের সাথে negotiation জায়েয কিনা, যাদুকরদের অভিশাপ দেয়ার জন্য কোরআনের বিশেষ আয়াত পাঠ করা বৈধ কিনা, এসব নিয়ে এনারা খুঁতখুঁতে ভাব প্রদর্শন করলেও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থান চুম্বনের কাজকে এরা হালাল বলে ফতোয়া দেয় কোরআনে বর্ণিত হারামের তালিকায় এর নাম উল্লেখ না থাকার অযুহাতে। অথচ সুন্নত এর সম্পূর্ণ বিপরীত। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, "আমিও তাঁর লজ্জাস্থান দেখিনি, তিনিও আমার লজ্জাস্থান দেখেননি।" কী আশ্চর্য কথা! লজ্জাস্থান চুম্বনের ন্যায় একটি বেহুদা কাজ শুধুমাত্র কোরআনে সুনির্দিষ্টভাবে হারাম উল্লেখ না থাকাতেই হালাল হয়ে গেল, আর রুকিয়াতে জিন ও জাদুকরকে পাকড়াও করবার উদ্দেশ্যে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত সুন্নত না হবার অযুহাতে হারাম হয়ে গেল! শুধু তাই নয়, রাজতন্ত্রের ব্যাপারেও এনাদের বক্তব্য হলো, যেহেতু রাজতন্ত্রকে কোরআনে হারাম ঘোষণা করা হয়নি, সেহেতু রাজতন্ত্র হালাল, এমনকি রাজতন্ত্রকে কেউ হারাম মনে করলে সে কাফের হয়ে যাবে।
এসব দৃষ্টান্ত থেকে এই বিশেষ রাজভক্ত সম্প্রদায়টির এই নগ্ন সুবিধাবাদী ও মতলবি চরিত্রটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্টভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, নিজেদের (বা নিজেদের প্রভুদের) গদি ও সিংহাসন, জৈবিক ভোগবিলাস এবং ধন-সম্পদের প্রয়োজনে যে ব্যবস্থা বা কর্মপন্থা দরকার হয়, সেগুলোকে তারা শুধু কোরআনে নিষেধ না থাকার অযুহাতে হালাল করে নেয়। অপরদিকে জনকল্যাণ ও আর্ত-মানবতার সেবায় যখন কোন পদ্ধতি বা কর্মপন্থা দরকার হয়, তখন সেটা কোরআন-হাদীসে আদেশ না থাকার অযুহাতে হারাম করে দেয়। অর্থাৎ, কোন বিষয় কোরআন-হাদীসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকার সুযোগটি নিজেদের পছন্দনীয় বিষয়কে হালাল করার এবং নিজেদের অপছন্দনীয় বিষয়কে হারাম করার দলীল হিসেবে গ্রহণ করে।
কোরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট উল্লেখিত না হবার দোহাই দিয়ে নিজেদের অপছন্দনীয় কাজকে ঢালাওভাবে হারাম, কুফর ও শেরেক-বেদাত ঘোষণা করলেও নিজেদের প্রয়োজনে এরা কোরআনের সুস্পষ্ট আয়াতের বিরুদ্ধাচরণ করতে এবং আল্লাহর আয়াতকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে এতটুকু দ্বিধা করে না। কোরআনে ইহুদী-খ্রীস্টান ও কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করে দেয়া হলেও সেই আয়াতগুলোকে জেনেশুনে এড়িয়ে যায় এবং অমুসলিমদের মধ্যে যারা মুসলমানদের কোন ক্ষতি বা শত্রুতামূলক আচরণ করেনি তাদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন সংক্রান্ত আয়াতকে দলীল হিসেবে দাঁড় করিয়ে 'অমুসলিমদের সাহায্য গ্রহণকে জায়েয' ফতোয়া দেয়। আর এই ফতোয়ার আওতায় ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে প্রকাশ্য শত্রুতা ও জিঘাংসা চরিতার্থকারী কাফেরদেরকেই জামাই আদরে ডেকে আনে। কোরআনে সংসারত্যাগী ধর্মপরায়ণ খ্রীস্টান ও অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন খ্রীস্টানদের কথা উল্লেখ করে খ্রীস্টানদেরকে ইহুদী ও কাফের-মুশরিকদের তুলনায় মুসলমানদের বন্ধুত্বের অধিকতর নিকটবর্তী উল্লেখ করার দলীলটি দিয়ে এরা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু  ক্রুসেডার খ্রীস্টানদেরকেও বন্ধু বানিয়ে নেয়, এমনকি বন্ধুত্বের পরিসীমা শুধু খ্রীস্টানদের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে ইহুদীদেরকেও সক্রিয়ভাবে মুসলিম নিধনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। অপরদিকে মুসলমানদের কোন দল যখন নিছক কূটনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শন করতে গিয়ে ইহুদীদের প্রতি ধর্মীয় কারণে শত্রুতা পোষণ না করার ঘোষণা দেয়, তখন সেটা দেখে তাদেরকে ইহুদীদের দালাল সাব্যস্ত করে বগল বাজাতে শুরু করে। এ যেন চালুনি কর্তৃক সূচের ছিদ্র অন্বেষণের মতই হাস্যকর ও বিরক্তিকর প্রয়াস।
বিশেষ রাজপরিবারের উচ্ছিষ্টভোগী অন্ধ ভক্তদের দ্বিমুখী নীতিটা আরো নোংরাভাবে ফুটে ওঠে এটা দেখে যে, তাদের প্রিয় রাজপরিবার ও শাসকদের কোন অন্যায় কাজকেই অন্যায় বলে স্বীকার করতে রাজি নয়, বরং যেকোনো অন্যায়কে যেকোন উপায়ে শর্তহীনভাবে সর্বদা সমর্থন করে যেতে সংকল্পবদ্ধ। ইসলামের পবিত্র ভূমিতে নতুন করে সিনেমা হল ও নাইট ক্লাব চালু করার বিরোধিতা কেউ করলে তখন তাদেরকে এরা নিজের চরকায় তেল দিতে বলে এবং পরের দেশ বাদ দিয়ে নিজের দেশের দিকে নজর দানের উপদেশ দেয়। অথচ কোন পাপ বাংলাদেশে হওয়া আর মক্কা-মদীনায় হওয়া কোনক্রমেই সমান হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ...... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন: “মদিনা হচ্ছে- হারাম (পবিত্রস্থান)। যে
ব্যক্তি মদিনাতে কোন অন্যায় করবে, কিংবা কোন অন্যায়কারীকে আশ্রয় দিবে তার
উপর আল্লাহর লানত, ফেরেশতাদের লানত এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন
আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল আমল কবুল করবেন না।”[সহিহ বুখারী (১৮৬৭) ও
সহিহ মুসলিম (১৩৭০)]

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)