ভালবাসায় সিক্ত দিনগুলো..

আমার একটি অনন্য
ক্ষমতা হলো, আমি
মানুষকে অনেক অনেক আপন করে নিতে পারি। কিন্তু কখনো বলি না কাউকে আমার ভাল
লাগার
কথা। ভালবাসি, ভালবাসা, এই সব বলার কোন প্রয়োজন আমি অনুভব করিনি। যদি কেউ
আমার
আচরণ থেকে বুঝে নেয় ভাল কথা, না হলে নাই। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি,
যেভাবে
মানুষকে ভালবাসব সেভাবেই আল্লাহ আমাকে ভালবাসবেন। এ ভালবাসা এক এক সময় আমার
নিউরনে
অনুরণন তোলে। হৃদয় জুড়ে হাসি কান্নার অনুভুতি যোগায়।

এক একজন মানুষ আমার
হৃদয়ের এক একটা
জায়গা দখল করে আছে। না, ভুল বললাম, আমার মস্তিষ্কের বিভিন্ন জায়গা দখল করে
আছে।
যাকে কম ভালবাসি তার জন্য কম জায়গা। আবার যাকে বেশি ভালবাসি তার জন্য বেশি
জায়গা। কি
অদ্ভুত তাই না?

মানুষের সাথে সম্পর্ক
ছিন্ন করার ব্যাপারটা
আমার কাছে একেবারেই অপছন্দের। এবং এটা অনেক অনেক কষ্টেরও। তাই সব সময়
চেষ্টা করি
নিজের যত ক্ষতিই হোক না কেন সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে।সে দিক দিয়ে বিচার করলে
আমি
সবাইকেই ভালবাসি। তাহলে মনের মানুষকে ভালবাসার ব্যাপারটা কোথায় গেল? আমি
মনে করি, মনের
মানুষ হওয়ার জন্য প্রয়োজন বৈধ কোন সম্পর্ক, যেমন বিয়ে।

কে আমাকে কত টুকু
ভালবাসে সেটা আমি কেন
যেন বুঝতে পারি। অনেক সময় মানুষের কপটতা দেখে কষ্ট পাই। তারপরও কাউকে কেয়ার
করি
না। কারণ কেয়ার করতে গেলে দুনিয়াতে একা একা থাকতে হবে। তবে মাঝে মাঝে এমন
কিছু করি,
যা দিয়ে সেই সব মানুষগুলোর বন্ধুত্বের পরীক্ষা হয়ে যায়। নিজে কোন দুঃখ পেলে
অন্যকে
বলা সেই রকমই একটা বিষয়। 

এতদূর যখন এসেছেন,
একটা গল্প শুনে
যান। আমার এক মেয়ে স্টুডেন্ট এর গল্প। তার সাথে পরিচয় শিক্ষক হিসাবে। আমাকে
 খুব পছন্দ করতো ও। বিভিন্ন সময় এটা ওটা জিজ্ঞাসা
করে। সবগুলো যে পড়াশুনার মধ্যে তাও না। কথায় কথায় জানলাম,তার ভাইয়ের বিয়ে
হবে। আমি
বললাম, আমার ছোট বোন আছে। যদি পছন্দ হয় তাহলে বিয়ে হবে। না হলে কিন্তু
সম্পর্ক
নষ্ট করা যাবে না। আমাদের সম্পর্ক যে রকম ছিল সে রকমই থাকবে। মেয়েও রাজি।
এরপর সিভি
দেয়া, দেখাদেখি। ওর ভাইকে দেখতে গেলাম, ভাইয়াটা অনেক ভাল। ছোটবোনের সাথে
ওনার ম্যাচ
হবে কিনা সেটা নিয়ে আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে গেলাম। আমার বোনের পজেটিভ ও
নেগেটিভ
দিকগুলো তার সামনে তুলে ধরলাম। বললাম, আমার বোনের এই দোষ আছে আর এই এই গুণ
আছে।
ভাইয়া, আমার বোনের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবলেন। প্রথম পর্যায়ে প্রোপ্রোজালটা বাদ
হয়ে
গেল। তবে আমার সাথে স্টুডেন্ট এর সম্পর্ক আগের মতোই রইল। এর মধ্যে আবার অর
এর বিয়ে
ঠিক। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দিয়েছিল, ইচ্ছে থাকার পরেও যেতে পারিনি।
ওর হ্যাসবেন্ড
কিছুদিন আমাদের ক্যাম্পাসের কাছেই বাসা নিয়েছিলেন। সেখানে দাওয়াত পেলাম।
কেন যেন
একদিন ছাত্রীটি বলে বসল, আপনার সাথে স্যার স্যার করে কথা বলতে ভাল লাগেনা।
বললাম,
স্টুডেন্টশিপ শেষ করো তখন ভাইয়া বলে ডেক। সেই পরিবারের সাথে আমার সম্পর্কটা
বড়
ভাইয়ার মত সম্পর্কই হয়ে উঠল। তাদের বিভিন্ন বিষয় আমার সাথে শেয়ার করত। আমি
বিভিন্ন
সময় তাদের পরামর্শ দিতাম। অর ভাইয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় মেয়ে দেখা হচ্ছিল,
কিন্তু
ম্যাচ হচ্ছিলনা কোথাও। ঘুরেফিরে আবার প্রস্তাব আমার বোনের কাছেই। হয়ত এই
ভাইয়ার
সাথেই আমার বোনের বিয়ে হবে। হয়ত হবে না। কিন্তু তাদের সাথে আমার সম্পর্ক
সারা জীবন
থাকবে সেই প্রত্যাশা আমি করি।

আমার মানুষের সাথে
সম্পর্ক রাখাতে
চাওয়ার আরেকটা কারণ আছে। মানুষের দোয়া। মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে করা
দোয়াগুলো
আমার প্রয়োজন। আমি জানি, তাদের দোয়া আমার জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। আমি
এতদুর
আসতে পেরেছি তাদের দোয়ার বরকতেই। আমি জানি, আমার জন্য প্রত্যন্ত গ্রামের
সেই মা টি
দোয়া করেন। হয়ত সেই মায়ের সাথে আমার কোন দিন দেখা হবে না। কিন্তু দোয়াটি
থেকে যাবে
আমার সাথে চিরদিন.............

 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (6টি রেটিং)

ভালো লাগলো।

লিখেছেন বেশ। ভাল লাগল।

ভাইজান মস্তিষ্ক একদম খালি কইরা ফ্যালান! দ্যাখেন কত হালকা লাগছে।

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

মস্তিস্ক হালকা করা যাবে  না। তবে সে জায়গায় অন্য কিছু ঢুকানোর চেষ্টা করছি।

 কোন এক জায়গায় পড়ে ছিলাম ---বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। স্টাডি টাকে বন্ধুর মত ভালবাসার চেষ্টা করছি।

আপনার লেখা বেশ সাবলীল! 'সহায়ক' ভালো বলেছেন! Smiling

একটা ভাল সম্পর্ক  বেহেশতকে পৃথিবীতে নিয়ে আসে আর তার সাথে সাথে আখেরাতে বেহেশতকে নিশ্চিত করে। মুমিনের প্রত্যেকটি কাজই আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার স্বার্থে হয়ে থাকে।

 

 

একটা জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি। যা কিছু পাই নি, তার একটি হল মানুষের পছন্দ। আমি কিছুটা বিরক্তিকর স্বভাবের বলে মানুষের কাছ থেকে তাচ্ছিল্য, বিরক্তি আর উপহাস অনেক পেয়েছি। সেটা বাস্তব জীবন এবং ভার্চুয়াল জীবন - দুটোতেই সত্য। আল্লাহর কাছে ক্ৃতজ্ঞতা ও শোকর আমার জীবনের যত পাওয়া তার জন্য এবং সবর যা না পাওয়া তার জন্য।

আপু,
কে বলল আপনাকে কেউ পছন্দ করে না? এই যে, আমি করি।

আব্দুল্লাহ কেমন আছে??

আড্ডার চেয়ে মজাদার পাওয়া কি কিছু আছে? Laughing out loud

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

কেন যেন একদিন ছাত্রীটি বলে বসল, আপনার সাথে স্যার স্যার করে কথা বলতে ভাল লাগেনা। বললাম, স্টুডেন্টশিপ শেষ করো তখন ভাইয়া বলে ডেক।
হাহাহাহা এটা পড়ে খুব মজা পেলাম। লেখাটা সুন্দর।

-

shetu

খুব ভালো লাগলো ভাইয়া লেখা পড়ে...

আল্লাহ আপনাকে আরো অনেকদূর যাবার তৌফিক দিন... মা এর সাথে সাথে আরও অনেক মানুষের দোয়া আপনার সঙ্গী হোক...

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.8 (6টি রেটিং)