মাদরাসার কিছু দুষ্ট ছেলে এবং ইবলীশের ব্যবহার!!!

এমন একটা সময় ছিল বর্তমানেও কিছু
মানুষ আছে যারা মনে করে
মাদরাসায় পডুয়ারা কিছুই
পারেনা কিছুই বুঝেনা! কিন্তু
আমরা যারা এর অন্তর্ভুক্ত তারা
মনে করি মানুষের সামর্থের মধ্যে
দুনিয়াতে প্রয়োজনীয়
অপ্রয়োজনীয় এমন কোন জ্ঞান
নাই যা মাদরাসায় পডুয়ারা
রাখেনা!
কথা হচ্ছে,দরকার বিহীন তারা
এগুলো ব্যবহার করেনা। একটু
ইংগিত দেই দুনিয়াতে
স্পর্শকাতর জ্ঞান সম্পর্কে
টিভিতে রেডিওতে অনেক
বুজাইতে চায় কিন্তু মাদরাসা
পডুয়াদের এটি প্রত্যেক
ক্লাশের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত
(বলছিলাম ফিকহ বিষয়ের কথা)।
আর দুষ্টামী! ঐ ব্যপারে আর বলা
লাগেনা…সবার আগে…
যেমন গত কালকে এশার নামাজ পডতে
যাচ্ছি এমন সময় প্রায় দশজন আলিম
পরীক্ষার্থী একসাথে ঘিরে ধরলো
সুফিয়ান ভাই একটা প্রশ্নের
উত্তর দিয়ে যান (মাদরাসায়
দুষ্টামীর ক্ষেত্রে মূলহোতা
এরা)।আমি বললাম,বলেন।
একজন বলে ভাই, মাদরাসার ডাবগুলো
(নারিকেল)আমরা খাওয়া জায়েজ
হবেনি? (যদিও এর আগে দুইবছর ধরে
খাচ্ছে,এখন চলে যাওয়ার সময় শেষ
মিশন)।
আমিতো কি বলবো খুজে পাচ্ছিনা
কিরে কি জিজ্ঞাসা করতাছে
আমারে! বলি,দুনিয়াতে আর কোন
প্রশ্ন পাওনাই? এই প্রশ্ন
জিজ্ঞাসা করতে আসছ। এমন সময়
পিছনে চেয়ে দেখি আমাদের
মাদরাসার প্রধান মুফতি সাহেব
আসতেছেন।আমি সরে গিয়ে
বললাম,হুজুরকে জিজ্ঞাসা করেন
আপনাদের এই মাসয়ালা (হুজুর
আবার একটু মিশুক টাইপের)।
সাহস করে একজন জিজ্ঞাসা করে
ফেলল হুজুর, আমরা মাদরাসার
ডাবগুলো খাওয়া জায়েজ
হবেনি? হুজুর আস্তে করে জোoযাব
দিয়ে চলে গেলেন যে কবীরা
গুনাহ।
শেষ তারাতো শেষ!! না তারা শেষ
হবার মত নয়!
ঐযে শেষ মাথার একজন আছেন না
যিনি হেফজখানা থেকে ফারেগ(?)
(সবার বুদ্ধি শেষ হলে যার প্রকৃত
দুষ্টামীর বুদ্ধি মাত্র শুরু হয়)!
সে এসে বলতেছে তুমি হুজুরকে
বুজাইতে পারনাই? হুজুরকে বলতে
হবে হুজুর তলেবে এলেমেরা খেতে
চায়!
আমরা শুনেতো হাসতে হাসতে শেষ!
>>কোন মাদরাসা ছাত্রদের কটাক্ষ
করার জন্য নয়,শুধু বুজাইতে চাইছি
মাদরাসার ছাত্ররা সব ভালো
খারাপ জ্ঞান যে রাখে তার
ছোট্ট একটা ফাইজলামীর নমুনা। আর
হেফজখানার দুষ্ট বলতেছি এই
কারনে আমার কাছে দুষ্ট বলতে
(জ্ঞানী এবং চতুর)।
সর্বশেষ একটা কথা বলতে চাই,
মাদরাসায় পডুয়ারা নিজেদের
বাসস্থানেই এইসব করে থাকে
নির্দ্দিষ্ট সময় পরে সব বাদ হয়ে
যায়। বাহিরে এগুলোর
বিন্দুমাত্র ব্যবহার নাই!
আর আমি যাদের কথা বলছিলাম,আসলে
আমাদের মাদরাসায় এই ছেলেগুলো
থাকাতে গত দুইবছর খুব আনন্দে
কেটেছে আমাদের সকলের।আমরা
একেকজন একেক এলাকার হলেও এক
মায়ের পেটের ভাইয়ের মত
চলছিলাম।কিন্তু আগামীকাল এদের
জীবনের দ্বিতীয় ধাপ তথা আলিম
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পথে।যার ধরুন
খুব খারাপ লাগতেছে এরা সব চলে
যাবে।আবার হোষ্টেল মরে যাবে।
কেননা এইবারের আলিমের
ছেলেগুলো ছিলো সবগুলো এক
সাইজের,প্রায় অর্ধেকের বেশী
মেধাবী ছাত্র তথা এ+ ধারী,আবার
বেশী ছিলো সাইন্স গ্রুপের, আর
সবচেয়ে বড গুন ছিলো সবাই ছিলো
মিশুক।
আমরা উপরের ক্লাশের হলেও তাদের
সাথে মিশেছি সমবয়রী হিসেবে।
বিশেষ করে আমি। কাল তারা
অনেকেই চলে যাবে,হয়তোবা
জীবনে আর দেখা হবেনা তাদের
সাথে!খুব মন কাঁদে!
তারপরেও মনকে বুজাই,বড মাদরাসায়
কত ছেলেরা আসবে যাবে।
তবে এরকম একটা ব্যাচ আসতে আরো
অনেক সময় লাগবে!
আর প্রিয় পাঠক আপনাদেরকে
আরেকটা জিনিস বুজাইতে
চেয়েছিলাম মাদরাসায়
পডুয়ারা ইবলীশকে শুধু নিজেদের
নির্ধারিত এলাকায় এবং
নির্ধারিত কাজেই ব্যবহার করে। বড
ধরনের বা বাহিরের কোন কাজে
ইবলীশকে তারা ব্যবহার করেনা।
তবে যারা হোষ্টেলে থাকেন
তারা জানেন এরকম ছেলেরা না
থাকলে হোষ্টেল বা
প্রতিষ্ঠানের প্রান থাকেনা।
এরাই প্রতিষ্ঠানের প্রান। যদি হয়
এদের মত সংখ্যাধিক্য!

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.5 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.5 (2টি রেটিং)