ঈদের নামায ও ঈদের মুস্তাহাবসমূহ

ঈদ, ইবাদত ও খুশি-আনন্দ প্রকাশ এবং বৈধ খাদ্য গ্রহণের মাঝে
সমন্বয় ঘটিয়েছে। এ কারণেই ঈদ খুশি-আনন্দ ও খাওয়া দাওয়ার পর্ব। তবে ঈদের দিন এমন
কোনো গর্হিত কাজ করা যাবে না, যা ইসলামের
শিক্ষা ও আদর্শের সাথে মিলে না। যেমন নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ। নামাজ থেকে গাফেল
হওয়া। হারাম পানীয় গ্রহণ করা। হারাম খেলায় মেতে উঠা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ যা
হারামের আওতাভুক্ত।

আল্লাহ
তাআলা ঈদের দিন একটি নামাজ বিধিবদ্ধ করেছেন, যার নাম ঈদের নামাজ। এ নামাজটি হলো ঈদের প্রধান বাহ্যদৃশ্য।

ঈদের নামাজের হুকুম

ঈদের
নামাজ ওয়াজিব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঈদের
নামাজ দু রাকাত, যাতে আযান ইকামত নেই। ঈদের
নামাজের কিরাত প্রকাশ্যে পড়তে হয়।

ঈদের নামাজ আদায়ের জায়গা

ঈদের
নামাজ
 মসজিদে নয় বরং মাঠে পড়া সুন্নত। প্রয়োজনে যদি মসজিদে পড়া হয় তবে কোনো সমস্যা
হবে না।

ঈদের মুস্তাহাবসমূহ

ইমাম
ব্যতীত অন্যান্য মুসুল্লীরা সকাল সকাল ঈদগাহে আসবে এবং প্রথম কাতারের দিকে আগাবে।

যদি
সম্ভব হয় তাহলে পায়ে হেঁটে এক পথে যাবে এবং অন্য পথে ফিরে আসবে। জাবির রাযি.
বর্ণনা করে বলেন, ‘ঈদের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাওয়া-আসার রাস্তায় পার্থক্য
করতেন।’ [বর্ণনায় বুখারী]

ঈদুল
ফিতরের নামাজের উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বে বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খাওয়া মুস্তাহাব। (তিনটি অথবা পাঁচটি)।

ঈদুল
ফিতরের নামাজ দেরিতে আদায় করা মুস্তাহাব; যাতে মানুষ সদকায়ে ফিতর আদায় করতে ও হকদারদের কাছে তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।

ঈদের আহকাম

ঈদগাহে, ঈদের নামাজের পূর্বে ও পরে, নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। কিন্তু যদি ঈদের নামাজ মসজিদে আদায় করা হয়, তাহলে মসজিদে প্রবেশের সময় তাহিয়াতু মসজিদ পড়া শুদ্ধ রয়েছে।

নিম্নবর্ণিত
শব্দমালা দ্বারা ঈদের মুহূর্তে আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা তথা তাকবীর দিতে হয়:

الله
أكبر، الله
أكبر، لا
إله إلا
الله، والله
أكبر، الله
أكبر، ولله
الحمد

পুরুষদের
জন্য উঁচু আওয়াজে তাকবীর দেয়া সুন্নত। আর নারীরা দেবে গোপনে। কেননা নারীদেরকে
আওয়াজ নিচু রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তাকবীর
শুরু হবে ঈদের রাতে সূর্যাস্তের পর থেকে ঈদের নামাজ শুরু হওয়া পর্যন্ত।
সূর্যাস্তের পর থেকে তাকবীর শুরু হবে যদি পরদিন ঈদ হবে বলে সূর্যাস্তের পূর্বেই
নিশ্চিত হওয়া যায়, যেমন রমজান মাস
ত্রিশ দিন পূর্ণ হয়ে গেল অথবা ঈদের চাঁদ উঠার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেল।

ঈদের সময়
মুসলমানদের মাঝে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় মুস্তাহাব।

ঈদে
আনন্দিত হওয়া এবং আনন্দ প্রকাশ করা মুস্তাহাব। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও মুসলিম ভাই বেরাদরকে শুভেচ্ছা বিনিময়ও
মুস্তাহাব।

ঈদ একটি
সুযোগ,
যা আত্মীয়তা-সম্পর্ক জোড়া লাগানো এবং যাদের মধ্যে ঝগড়া
হচ্ছে তাদেরকে মিলিয়ে দেয়ার সর্বোত্তম সময়।

ঈদের নামাযের মাসায়েল গুলো এবং ঈদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে,

•••►   http://bit.ly/295eXKB

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None