তসলিমা নাসরিনের আইডেনটিট ক্রাইসিস

তসলিমা নাসরিন, নির্বাসিত লেখক হিসেবেই যিনি পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি নারীবাদী। শালীন লেখেন কী অশালীন সে বিতর্কে যাবো না। বিতর্কটা হচ্ছে তিনি আসলে কতোখানি মানসিকভাবে স্থির সেটি। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি মিডিয়া তার লেখা প্রকাশ করে। তার মধ্যে বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলাদেশ প্রতিদিন অন্যতম। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে তার হতাশার শেষ নেই। বাংলাদেশ শেষ হয়ে গেছে মৌলবাদের আঘাতে তিনি তা'ই মনে করেন। তার ধারণা যে খুব অসত্য সেটাও বলার অবকাশ নেই। তবে সেই ধারণা করাও যে রকেট সায়েন্স সেটাও বলা যাবে না। কারণ বাংলাদেশের বাচ্চাকাচ্চাও এখন জানে বাংলাদেশে বিশাল ধর্ম ও রাজনৈতিক মৌলবাদের উত্থান হয়েছে। এখানে ধর্মীয় মৌলবাদ মানুষের মজ্জাগত বিষয়। এটিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে কলাগাছ থেকে তালগাছ বানিয়েছে এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোই। যাকগে এসব কথা। 

তাহলে তসলিমা নাসরিনের স্পেশালিটি কী? তিনি নারীবাদী লেখক। তার লেখার ক্ষুরধার শব্দগুচ্ছ মৌলবাদীদের গায়ে হুলের মতো বিঁধে। এ কারণেই তিনি দেশান্তরী হয়েছেন। আর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের প্রোটোকলে থেকে দেশের বিষধগার করেন। নিজেকে আন্দোলনকারী ও আপোষহীন বলে পরিচয় দিলেও তিনি সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আপোষ করেছেন প্রতিনিয়ত। তাকে যখন দেশত্যাগের কথা বলা হয় তখন তিনি সাগ্রহে দেশ ছেড়েছেন। তিনি কতোখানি এই দেশকে পরিবর্তন করতে চান তা নিয়ে আমি সন্দেহ পোষণ করি। যে দেশের ৯৫ ভাগ মানুষের মানসিক পরিপক্কতা এখনও ০ ও ১ এ মাঝামাঝি তাদেরকে লেখনী দিয়ে রাতারাতি পরিবর্তনের ধারণা করা দিবাস্বপ্নের মতো বলেই আমার মানে হয়। বাংলাদেশের অনলাইন কমিউনিটির সঙ্গে চলাফেরা থাকার সুবাদে দেখেছি একটি লেখা গড়ে সর্বোচ্চ ৫-৬ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছায়। ১৬ কোটির দেশে এই সংখ্যা কতোখানি বিবেচ্য? মূলত বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের জন্য যে কাজগুলো করার প্রয়োজন ছিলো তা ধরতে তসলিমা সহ সব প্রথাবিরোধী লেখকরাই ধরতে ভূল করেছেন। আবেগী জাতিকে আবেগ দিয়েই পরিবর্তন করতে হয়। ধর্মের মধ্যেই ধর্মকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ঠ যুক্তি রয়েছে সেগুলো ব্যবহার না করে তসলিমা নারীবাদ বলতে পুরুষের সকল অভ্যাস নারীতে প্রচলনকেও মনে করেছেন। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পেচ্ছাব করার মতো কুচ্চিত অভ্যাসকেও তিনি নারীদের করতে পরামর্শ দিয়েছেন। 

রুবেল-হ্যাপি বিষয়ে যখন দেশের মানুষ ও তরুণ্যে উদ্বেল তখন তিনি হ্যাপিকে পরামর্শ দিয়েছেন রুবেলের মতো লম্পটকে বিয়ে না করার। তিনি সহ বাংলাদেশ তথা সারা পৃথিবীর সব মানুষের জীবনেই প্রেম আসে। কিছু গোপনীয় কথা থাকে। দুইজনের পার্টিসিপেশন থাকে প্রতিটি ইনসিডেন্টে। সেগুলো বিবেচনায় না নিয়েই তিনি রুবেলকে একতরফা দোষী সাব্যস্ত করেন। এই একই মানুষ যখন হ্যাপির যোনিতে মাল্টিপল কন্টাক্টের আলামত দেখেন তখন চুপ থাকেন। যৌনতা যদি নারী স্বাধীনতা হয়ে থাকে তাহলে তা পুরুষের স্বাধীনতা কেন নয়। আর পুরুষের স্বাধীনতাও যদি তিনি মেনে নেম তাহলে রুবেলকে কেন চিটার বলা হবে? আর রুবেলকে যদি চিটার বলা হবে তাহলে হ্যাপিকে কেন দুধে ধোয়া তুলসি পাতা বলা হবে? এসব প্রশ্ন বিবেচনায় না নিয়েই তিনি লিখে ফেলেন। একতরফা দোষ দেন রুবেলকে। হয়তো তার এমন মন্তব্য রুবেলের প্রতি বর্ণবাদ থেকেই তিনি করেছেন। কিন্তু মিডিয়ায় হ্যাপির হিজাব নিয়ে আসাটা নিয়েও তিনি কোনও মন্তব্য করেন নি। একেবারেই স্ববিরোধী অবস্থান নিয়ে তিনি চুপ থেকেছেন। 

কাল থেকে কালান্তরে এসব ডুয়েল কারেক্টারই তসলিমা নাসরিনকে কখনও তার কাঙ্খিত যায়গায় পৌঁছাতে পারেনি পারবেও না। সর্বশেষ তিনি কেপলার টেলিস্কোপে ধরা পড়া গ্রহ সম্পর্কে লিখেছেন নতুন পৃথিবী। এই লেখাটি তিনি শেষ করেন "এই অন্তহীন মহাশূন্যে আমরা একা, এটার চেয়ে আমরা একা নই, এটাই হয়তো অনেক ভয়ের" এই বাক্য দিয়ে। যা একেবারেই অন্তসার শূন্য কথা বলেই আমি মনে করি। তিনি এখানেও অ্যাভোয়েট করে গেছেন পৃথিবীর বাহিরে একটিমাত্র এককোষি জীবের অস্তিত্বও সকল ধর্মের ধাজ্জিয়া উড়িয়ে দেবে। যার জন্য তিনি লড়াই করেছেন। 

ভজরঙ্গি ভাইজান নিয়েও তিনি কলাম লিখেছেন। লেখার সময় তার চোখে ধর্মের লিবারেলনেসের বিষয় তার চোখে পড়েছে। কিন্তু এই ভারতই যখন ফেলানী হত্যার বিচার করতে পারে না তখন তিনি নীরব থাকেন। হয়তো তিনি নুনের সঙ্গে বেঈমানী করতে চাননা বলেই। 

আমার বিবেচনায় ডুয়ালিটি তসলিমা নাসরিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তিনি প্রগতিবাদী থাকবেন। কিন্তু চুড়ান্ত সময়ে ভীতুর মতো পালাবেন। 

প্রিয় তসলিমা নাসরিন, প্লিজ, ফাইন্ড সাম আইডেনটিটি। বি শিওর হোয়্যার ইউ বিলং... 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

তসলিমা নাসরিনের কলাম পড়তে দেখুনঃ http://www.banglatribune.com/news/show/105615

ও মন্তব্য করুন.......

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)