মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভুলে যাবেন না আপনি বঙ্গবন্ধুর সন্তান

Normal
0

false
false
false

EN-US
X-NONE
BN-BD

MicrosoftInternetExplorer4

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ থেকে শুরু করে পাঁচজন
ব্লগারকে হত্যা করা হলো। প্রথম হত্যা রাজিব হায়দার। তার হত্যার পরে তার বাড়িতে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে যান। আশ্বাস দেন খুনিদের ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীর
হস্তক্ষেপে খুনিদের অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যেই ধরা হলো
। রাজীবকে সরকারের অনেক
বড় বড় নেতারা আখ্যা দেন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে।

পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে দ্রুত। ইসলামী
মৌলবাদের মুখপাত্র আমার দেশ পত্রিকা রাজিবের লেখা প্রকাশ করতে থাকে। দর্শনে রাজীব
নাস্তিক হওয়ার কারণে স্বভাবতই তার লেখা প্রচলিত ধর্মের দর্শনের বিরুদ্ধে যায়। এই
বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে পত্রিকাটি সফলভাবেই রাজীব হায়দারকে মৌলবাদী বাংলাদেশের
জনগোষ্টির কাছে হেয় করে। সরকার উভয়শঙ্কটে পড়ে। একদিকে নিজেদের প্রগতিশীলতার দর্শন
বাঁচিয়ে রাখতে হলে রাজীবের পক্ষ নিতে হবে অপরদিকে ভোটব্যাংক বাঁচাতে হলে পক্ষ নিতে
হবে ধর্মীয় মৌলবাদের।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব চালাক মানুষ। তিনি
শেষ পর্যন্ত নিলেন উভয়পক্ষ। বললেন, ধর্মের নামে হত্যা করা যাবে না। রেফারেন্স
টানলেন নানান কোরআনের আয়াতের। আবার হেফাজতকে চুপ করাতে গ্রেফতার
করালেন চার ব্লগারকে

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে কাজ হলো না। ২৬
ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে হত্যা করা হয় বর্তমান সময়ে বিশ্বে অন্যতম সেরা মুক্তচিন্তক অভিজিৎ
রায়কে। তিনি এবার শতর্ক। আগে খোঁজ করলেন অভিজিৎ কি লিখতেন। দেখলেন অভিজিৎও ছিলেন
নাস্তিক দার্শনিক। এদিকে মেধার কদর তিনি করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত কোনও উপায় না দেখে
লুকিয়ে লুকিয়েই ফোন করলেন পর্বতসম বাঙালি দেশপ্রেমীক অজয় রায়কে। সন্তান হত্যার
উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দেন তিনি। উড়ে আসলো এফবিআই। এখনও হলো না কিছুই

এর ঠিক ৪৩ দিন পর হত্যা করা হলো আরেকজন তরুণ
মুক্তচিন্তক ওয়াশিকুর
বাবুকে
। হত্যাকারীরা ধরা খেলো হাতেনাতে। বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা হলো। এখনও
বিচারকাজে কোনও অগ্রগতি আছে কী না কে জানে। সরকারের পক্ষথেকে কোনও বিবৃতি এবার
চোখে পড়লো না।

মজা পেয়ে গেলো খুনিরা। ওয়াশিকুর বাবু হত্যার
ঠিক ৪৩ দিনের মাথায় সিলেটে হত্যা করা হলো আরেক মুক্তমনা অনন্ত বিজয় দাশকে। দোষ
দেওয়া হলো তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লিখেছেন। যদিও তার কোনোও প্রমাণ
মেলেনি। যেটুকু পাওয়া গেছে তা তার স্বীয় দর্শনের ব্যাখ্যা বৈ কিছু নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
এবারো চুপ করে দেখলেন। টু শব্দটিও করলেন না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি গুরুত্ব
হারাতে থাকে। গদির নড়বড়ে কাঠামো ঠিক রাখতেই ব্যাস্ত থাকলেন তিনি।

এরপর হত্যাকারীরা নিজেদের সর্বোচ্চ ক্ষমতার
জানান দিতে মরিয়া। ব্লগাররা ব্যক্তিগতভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে থাকে। এবার তাদের
টার্গেট হয় ব্লগারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলা। তারা বেছে
নিলেম ঘরের ভেতর ঢুকে হত্যা। টার্গেট নিলয় নীল। ৭ আগস্ট শুক্তবার নিলয়
নীলকে নিজ বাসায় ঢুকে হত্যা করা হয়
। এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এভাবে প্রশাসনের
স্বাভাবিক কাজে বাধা সহ্য করা যায় না। ব্লগার হত্যা বিষয়টি তাদের কাছে বিরক্তির
পর্যায়ে চলে গেছে। তাই আইজিপি ঘোষণা দিলেন, লেখায়
সীমা রাখুন
। আপত্তিকর কিছু লিখলে অভিযোগ করার আহ্বান জানালেন। বললেন এই
অপরাধের জন্য ১৪ বছরের সাজার বিধান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবার আবার বললেন ধর্মের
নামে হত্যা করা যাবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার নিকট আমার
অনুরোধ; জয় বাংলার পর আপনি আর বাংলাদেশ চিরজীবী হোক না বলে বলুন, ‘ইসলামী মৌলবাদী
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’।

আপনি চাইলেই আমাদের বাঁচাতে পারতেন। আপনার একটি
কথা আমাদের মেরুদণ্ড শক্ত করতে পারতো। এমন নয় যে আমাদের মেরুদণ্ড এখন বাঁকা। মনে
রাখবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই আমরাই কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে বাধ্য
করেছিলাম। এই আমরাই আপনার পক্ষে দিনের পর দিন লিখে গেছি। এই আমরাই আপনার শেষ ভরশা (যদি
আপনি ধর্মীয় নেতা না হয় যান)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আগামী বাংলাদেশ সোনার বাংলা
হবে নাকি লোহুর বাংলা হবে সিদ্ধান্ত আপনার। পতাকার রঙ সবুঝের মাঝে লাল হবে নাকি কালোর
মাঝে লাল হবে সিদ্ধান্ত আপনার। এখনও আপনার ওপরেই ভরশা আছে। একবার ভাবুন, বঙ্গবন্ধু
বেঁচে থাকলে তিনি কী করতেন। ভুলে যাবেন না আপনি বঙ্গবন্ধুর সন্তান...

/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-priority:99;
mso-style-qformat:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin-top:0in;
mso-para-margin-right:0in;
mso-para-margin-bottom:8.0pt;
mso-para-margin-left:0in;
line-height:107%;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:11.0pt;
mso-bidi-font-size:14.0pt;
font-family:"Calibri","sans-serif";
mso-ascii-font-family:Calibri;
mso-ascii-theme-font:minor-latin;
mso-fareast-font-family:"Times New Roman";
mso-fareast-theme-font:minor-fareast;
mso-hansi-font-family:Calibri;
mso-hansi-theme-font:minor-latin;
mso-bidi-font-family:Vrinda;
mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None