একজন আমি

গত ৫ বছর ধরে দেশে যাওয়া হয়নি । এবার ছুটির অ্যাপ্লিকেশন দিলাম ছুটি মঞ্জুরও হল । leave salary  গুলো পেলাম গতকাল রাতে । ১৫০ দিনের ছুটি । নাহ আমি দেশে যাইনি । !!!!! জানি না কেন যাইনি । কি করবো দেশে গিয়ে ? ২ দিন থাকলে আর ভালো লাগবে না আমি জানি । আমার কোনও বন্ধু নেই দেশে । ভাবছি কাল যাব অফিসে । ছুটি cancel  করে rejoin করবো কাল থেকেই । গত কাল সারাটা দিন কেটেছে ঘুমিয়ে আর টিভি দেখে । তাই আজকের দিন আর বুঝি কাটতেই চায় না । তাই উদাস বসে আজ অনেকদিন পর আমার অনেক পুরাতন একটা ফেসবুক আইডি ওপেন করলাম । আজ থেকে প্রায় বছর দুই আগে শেষ লগ ইন করছিলাম। তারপর আর ইছছে করেই খুলিনি। আইডি টা খুলতেই এমন একটা অনুভুতি কাজ করল যেমন শত বছর পর সাগরের বুকে ডুব দিয়ে টাইটানিকের অস্তিত্ব খুজে পেলাম । পুরনো chatting  এর মেসেজ গুলো দেখছিলাম আর হাসছিলাম । কতক মেসেজ দেখে মনে মনে আফসুস করছিলাম। ভাবছিলাম এটা না লিখলেই মনে হয় ভালো ছিল !!! যদি এরকম না বলে অরকম বলতাম তাহলে মনে হয় সুন্দর হত। আসলে যা কিছু গত হয়ে যায় তা ফিরে পেতে সকলেরই মন উন্মুখ । কিন্তু সময় চলমান । একটা মানুষ কতদিন বাঁচে আজকাল গড়ে ??? ৬০-৭০ বছর । জীবনের অর্ধেক সময় তো শেষ । বাকি অর্ধেক ও অর্ধেক হয়ে যাবে ঘুমে খেলায় সংসারে আর অবহেলায় । বাকি রইবে কি? কি হবে পরপারের সদাই ?? 

এমনি এমনি েই পেজ ওই পেজ ঘুরতে ঘুরতে একটা মেয়ের আইডি থেকে দেখলাম একটা পোস্ট । তখনও আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম না । আল্লাহ বিল্লাহ আর মসজিদের জন্য ছিল না কোনও টান ( নাউজুবিল্লাহ) । মিথ্যা বলতাম, ফালতু কাজে সময় ব্যয় করতাম । কিন্তু তার ওই পোস্ট টা তে এমন কিছু কথা ছিল যা আমার মনে একটা ভাবনা ঢুকিয়ে দিল এই যে , " তোমরা নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো ধৈর্য সহকারে এবং নামাজের পর কিছু এস্তেগফার পড়ো যা অত্যন্ত ফযিলত্ময় । " আরও কিছু ব্যাখ্যা ও ছিল । 

আল্লাহ সত্য প্রকাশ করতে লজ্জা বোধ করেন না । তাই আমিও করি না । সত্যি বলতে তখন আমার আব্বা আর আম্মা এর মাঝে সাংসারিক কিছু বিষয় নিয়ে কিছুটা ঝগড়া চলছিল। তাই আমারও মন মেজাজ খুব খারাপ ছিল । আমি তখন আমিরাতেই ছিলাম । তো আমার আম্মু তখন আমাকে জানাল যে তারা আর একসাথে থাকতে চান না তো বড় ছেলে হিসেবে আমাকে তিনি সেটা জানালেন । আমি অনেক বুঝালাম তারা কিছুতেই কিছু মানলেন না । এদিকে আমি তখন সব আশা ছেড়ে দিয়ে মন খারাপ করে ছিলাম । আমার কিছুই ভালো লাগছিল না । আমার মনে হতে লাগলো । এই ব্যাপারে কি আমার কিছুই করার নেই? আমি জানি আমার কিছুই করার নেই তবুও আমি যেন নিজেকে অপরাধী ভাবতে লাগ্লাম । ভাবলাম বড় ছেলে হিসেবে আমি কিছুই করতে পারি না? অনেকেই বলতে লাগলো এতো বড় ছেলে থাকতে ও কি আবার ঘরে বাইরের মানুষ এসে ঝগড়া মিটাতে হয়? 

তখন আমি খুজে পেলাম সেই পোস্ট টি । আমি এম্নিতেও কাউকে খুজছিলাম যাকে আমি এই প্রশ্ন টা করবো যে এই মুহূর্তে আমার করনীয় কি? তখন আমি তার পোস্টটি তে কমেন্ট করি কিছু প্রশংসা সূচক বাক্যে এবং মেসেজ দিলাম যে আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই । 

তারপর সে আমার মেসেজের জবাব দিলে আমি তাকে সব কিছু বলে জিজ্ঞেস করলাম যে এই মুহূর্তে আমার কি করা উচিত? তো সে এতো ভালো মনের একটা মানুষ (আল্লাহ তাকে সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করুন) যে কি বলব সে আমার আম্মুর ফোন নাম্বার নিলেন এবং আমার আম্মার সাথে কিছুক্ষন কথা বললেন । তার আধ ঘণ্টা পর আম্মু আমার সাথে অনেক কান্না কাটি করলেন । আমিও কাঁদলাম । আমি আম্মুকে বললাম ," কি হয়েছে? " 

আম্মা বলল, " এমন একটা মেয়ে যদি আমার পেটে জন্ম নিত"! । 

আমাকে বললেন তুই আর কোনও চিন্তা করিস না । ইনশা আল্লাহ আজ থেকে আর কিছু হবে না। 

তখন থেকে ওই মেয়েটা আব্বা আম্মার খোঁজ খবর নিত মাঝে মাঝে আমাকেও সালাম কালাম জানাত । তো এভাবে তার সাথে আমার অনেক ভালো একটা বন্ধুত্ব তৈরি হল । শুধুই ফেসবুকের মেসেজের মাধ্যমে । ১ বছর পর্যন্ত তার সাথে আমার ফেসবুকিং । সে তখন HSC exam শেষ করেছে । কথায় আছে , " দুজন পর নরনারীর সাথে তৃতীয় জন হল শয়তান। " 

আমি কি করে যে তার প্রতি দুর্বল হয়ে গেলাম!!! আল্লাহ্‌র বানী যে চিরন্তন সত্য এটা ছিল তাঁরই একটি উধাহরন । এই যে মুক্তমনা কন অথবা নারী স্বাধীনতা এগুলা ফাও , সবই হইসে নষ্টামির ধান্দা । যাই হোক আমি তার কাছে নাম্বার চাইলাম । সে দিল। তার সাথে কেন জানি আমি ২-৩ মিনিটের বেশি কিছুই বলতে পারতাম না । কারন বলার কিছুই খুজে পেতাম না । অথচ chatting  এর সময় আমরা এক টানা ৫৬ ঘণ্টা masaging করেছি । আমি টানা ৩ দিন অফিসে যাইনি । অফিস থেকে ওয়ার্নিং লেটার পেয়েছি । আমার কিছু খেতে ইছছা করত না । কিছু না । কিছু না মানে একেবারেই না। নিজেরে কেমন জানি পাগল ছাগল মনে হতে লাগত মাঝে মাঝে । অফিসে গেলে মোবাইল এর সাথে সারা দিন চারজার আর এক্সট্রা ব্যাটারি নিয়া ঘুরতাম । Blackberry মোবাইল এর নোটিফিকেশন এর ওই ধিংইইইইইইইইইইই শব্দ টা আজও আমার কানে বাজে। 

ও আমাকে সব সময় বলতো প্রতিদিন তার পড়া একটা হাদিস ।( chatting এ )

আমাকে নামাজ পড়তে বলতো । এখানকার সময়ের সাথে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য টা সে জেনে নিয়েছিল আমার কাছ থেকে । তারপর প্রতি নামাজের ওয়াক্তে সে আমাকে বলতো , " This time for pray to allah who creat us only for only his worship.

একদিন আমাকে যখন জিজ্ঞেস করলো আমি নামাজ পরেছি কিনা, আমি কেন যেন মিথ্যাটা ওকে বলতে পারলাম না । আমার নিজের ভিতরে এমন একটা অবস্থা তৈরি হল যে আমার মনে হল আমি কার সাথে মিথ্যা বলতে যাচ্ছি । আমি তাকে সত্যি টা বললাম । সে আমাকে বলল " কাফের আর মুস্লিমের মাঝে পার্থক্য হল নামাজ।" আমি তো কোনও কাফের এর সাথে কথা বলতে চাই না। বলে সে অফ্লাইন হয়ে চলে গেলো। আমি নিজের মাঝে বার বার ধ্বংস হতে লাগ্লাম । আমার এতো কষ্ট লাগলো যে আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না । আমি ওজু করে নামাজে গেলাম। হাত বাধার আগে আমার মনে একটা ভাবনা আসলো।

আমি নিজেকে নিজে একটা প্রশ্ন করলাম!!!! আমি কি আল্লাহ কে খুশি করার জন্য নামাজ পড়ছি নাকি কোনও বিশেষ ব্যাক্তি কে ? আমার এখন নামাজে আসা এবং সঠিক ভাবে নামাজ পড়ার পড়েও এটা প্রশ্নবিদ্ধ যে আমি কি আল্লাহ্‌র জন্য এসেছি নাকি কোনও নারীর মন পাওয়ার জন্য। !!!!!!!!!! 

আমি নিজের মনকে শুধরে নিলাম । নাহ !!!!! আমি অবশ্যই কোনও সৃষ্টির জন্য নয় এসেছি শুধু মাত্র আল্লাহ্‌র জন্য । এবং অবশ্যই এটা আমার এই মুহূর্তে সঠিক পথে আসা মনের সাক্ষী যে আমি আমার রবের কাছেই ফিরে এসেছি । আমি নামাজ পড়লাম এবং শেষে আল্লাহ্‌র নিকট দুয়া করলাম , " আল্লাহ আমার এই পরিবর্তন এর তুমিই মালিক । তুমিই অন্তর সমুহের পরিবর্তনকারী । তুমি আমাকে ক্ষমা করো আমার পূর্ববর্তী অপরাধ সমুহ এবং আমাকে বিরত রাখ ওই সকল কাজ থেকে যা তোমার অপছন্দনীয় আর রহমত বর্ষণ করো তাদের উপর যারা আমার হিতাকাঙ্ক্ষী । "

আমি তাকে নক করলাম উপরের দুয়াটি সহ এবং বললাম নামাজের পর এই দুয়া পড়ে দুয়া করছি তাদের জন্য যারা আমাকে ভালবাসে এবং আমি যেন তাদের হতাশ না করি। 

আমি একটা কথা শুনেছি যে " সমবয়সী একটা ছেলের চেয়ে একটা মেয়ের বাস্তববাদী জ্ঞান বেশি থাকে। "

হয়তো আমার থেকে তার বাস্তববাদী জ্ঞান অনেক বেশি ছিল এবং নিঃসন্দেহে বেশি ছিল তার ঈমান। তাই সে কৌশলে আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। আমার দোষে নষ্ট হয়েছে এত সুন্দর একটা বন্ধুত্ব ।

সে আমাকে জানাল , " সে আর ফেসবুকে আসবে না । কারন তার মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা । যদি সময় পায় তো আসবে । আমি ভালো থাকি। নামাজ পড়ি । "

আমি কিছুই বললাম না । সে লিখে যাচ্ছে ...... Mobile screen এ ভাসছে ...... 

.......... she is Typing. 

শোনো , আল্লাহ মানুষকে ইমানী দৃঢ়তা অনুসারে বিপদে ফেলেন। যার ইমান যত দৃঢ় / strong তার বিপদ / xm তত tough. নবী রাসুলদের কথা চিন্তা করো, তাদের কে আল্লাহ যেভাবে বিপদে ফেলেছেন দুনিয়াতে আমাদের সেভাবে ফেলেন না। কারন তাদের ইমান আমাদের থেকেও অনেক বেশি strong ছিল। আর আল্লাহ তার প্রিয় মুমিন বান্দাকেই সবচেয়ে বেশি tough situation এ রাখেন দুনিয়াতে। আমাদের নবীদের মাঝে নবীজী (সাঃ) আল্লাহ্‌র সব থেকে প্রিয় বান্দা so আল্লাহ ওনাকেই বেশি ভালবাসতেন বলেই বেশি কষ্ট দিসেন দুনিয়াতে। আল্লাহ এসব বান্দার জন্য আখিরাতে পুরস্কার রাখসেন। so তাদের মত তুমিও ধৈর্য ধরে থাকো আর ভুল করেও নামায, রোজা , কুরআন বাদ দিও না। এতে শয়তান খুশি হবে। ইন শা আল্লাহ আল্লাহ আখিরাতে তোমার এই কষ্টের প্রাইজ দিবেন। দেখো , মৃত্যুর সাথে সাথে দুনিয়ার সকল কষ্ট , আনন্দ শেষ। But , মৃত্যুর পরের কষ্ট/ আনন্দ বা জান্নাত/ জাহান্নাম এর কোনও শেষ নেই এটা তুমিও জানো। আমাদের নবীজী (সাঃ) এটাই চিন্তা করে দুনিয়ার কষ্ট মেনে নিতেন। আমাদের ও তাই করা উচিত। U will be Happy 1 Day In sha allah. 
----
 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None