গণপিটুনির দায় সাধারণ মানুষও এড়াতে পারে না !!!

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী আলিফ পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের সাঁথিয়া উপজেলাধীন করমজা চতুর হাট নামক স্থানে থামে। বাস থেকে ৭-৮ ব্যক্তি তিনজনকে টেনেহিঁচড়ে নামাতে থাকে। তাদের নামানো হলে বাসটি চলে যায়। তারা ওই তিনজনকে করমজা চতুর হাটে প্রতিভা বিপণন নামের একটি দোকানের সামনে নিয়ে পেটাতে থাকে। পেটানোর সময় তারা ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করতে থাকে। তাদের চিৎকারে হাটের লোকজন তাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে গণপিটুনিতে অংশ নেয়।

জনতা বাঁশ ও লাঠি দিয়ে তাদের বেধড়ক পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে ওই তিন ব্যক্তিকে অর্ধনগ্ন করা হয়। জনতা তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পর তারা পানি খেতে চান। তখন কেউ কেউ তাদের পদদলিত করে। একপর্যায়ে তারা মারা যান। পরে গণপিটুনিতে অংশ নেয়া লোকজন ও যারা তাদের বাস থেকে নামিয়েছিল তারা পালিয়ে যায়।

পাবনার সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বীকার করেছেন, ওই তিন ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে বাস থেকে নামিয়ে ছেলেধরা বা অপহরণকারী নাটক সাজিয়ে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। পুলিশ বা অন্যান্য সূত্র বলছে, নিহতদের সকলেই গরু ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরেই তাদের এই কৌশলে হত্যা করা হয়।

প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে গণপিটুনির অস্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ জগতের লোকেরা ব্যবহার করে আসছে। সাঁথিয়ার করমজার চতুর হাটের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। এ সব ঘটনায় যারা মারা যান তারা গরু ব্যবসায়ী না ভাল মানুষ না অপরাধী, এভাবে যতদিন দেখা হবে ততদিন গণপিটুনির নামে মানুষ খুন বন্ধ হবে এমনটি আশা করার কোনে কারণ নেই। তা ছাড়া এমন নজিরও তো পাওয়া যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়া অপরাধী পালাতে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা যাচ্ছে। সে সব ঘটনা যদি বৈধতা পায় তাহলে সাঁথিয়ার ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটা যুক্তিযুক্ত?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধ দমনে কোন ঘটনাকে কোনভাবে দেখবে সেটা না হয় থাক। আবার অপরাধীরা কোন কৌশলে কোন অপরাধ কিভাবে ঘটাবে সেটাও থাক। কিন্তু কোনো একজন অন্য একজনকে ছেলেধরা, ছিনতাইকারী, চোর-ডাকাত বলে চিহ্নিত করামাত্র যারা গণপিটুনি দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তারা কারা? তারা তো আমাদের মতোই সমাজের কথিত নিরপরাধ ভাল মানুষ। তারাই তো কথিত অপরাধীকে হত্যা করে তার জিঘাংসা মেটায়, যে মানুষটিকে সে কখনো দেখেনি বা চেনে না, যে মানুষটি জীবনে তার কোনো ক্ষতিও করেনি। অর্থাৎ আমাদের মতো কথিত ভাল মানুষরা নিজের ভেতরে একটি খুনীকে লালন করে চলেছে। সুযোগ পেলে যে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার মতোই একজন মানুষের ওপর। অপরিচিত জায়গায় যে কেউ তাকেও সন্দেহ করে গণপিটুনিতে মেরে ফেলার অধিকার রাখে।
সূত্র- দ্য রিপোর্ট২৪

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

হুম ...... এই ব্যাপার টা ঠিক বলেছেন । কেউ একজন কি বলে দিল ব্যাস , " কিছু জানার দরকার নাই। " মানুষ কমন সেন্স টাও use kore na . অথচ ব্যাপারটা সেই লোকের জীবনের প্রশ্ন । কোনও সন্তানের ইয়াতিম হবার প্রশ্ন আর কোনও স্ত্রীর বিধবা হবার প্রশ্ন । কিন্তু যে অপরাধের যে শাস্তি না ( যদি অপরাধ করেই থাকে )  তাকে সেই শাস্তি দিয়ে অন্যকে ইয়াতিম বা বিধবা করার অধিকার কোথা থেকে আসলো !!!!! তবে কি আমাদের আইন শৃঙ্খলা কে জনগন তোয়াক্কা করে না সঠিক বিচার পাবে না বলে ? নাকি এই আইনকে জনগন মানেই না ? 

-

তুমি যেই হও , " মৃত্যু অনিবার্য " । 

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)