ফারুকী যদি ব্লগার হত!

 

চলছে শোকের মাস আগষ্ট! ১৫ ই আগষ্ট স্ব-পরিবারে
বঙ্গবন্ধু হত্যা, ২১ শে আগষ্ট বর্তমান প্রধান মন্ত্রী কে হত্যা চেষ্টা ও
আইভি রহমান সহ অন্যান্যদের হত্যা এবং ২৭ শে আগষ্ট মওলানা নুরুল ইসলাম
ফারুকী কে হত্যা করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই বাংলার বুকে আমরা
যারা দেশ প্রেমিক, নাস্তিকববাদী ব্লগার সবাই খুনের বিচার পায়। সব খুনিকে
গ্রেফতার করা হচ্ছে! কেবল মাত্র ইসলামি চিন্তাবিদ মওলানা নুরুল ইসলাম
ফারুকী ছাড়া। হয়তো তার খুনিকে ও এতদিন বিচারের মুখোমুখি করা হত, যদি তিনি ও
ইসলামি চিন্তাবিদ না হয়ে ব্লগার হত। শক্তি শালী আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশ
খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করে ইসলামি চিন্তাবিদদের নিরাপত্তা
জোরদার করার আহবান জানাতো। আমি এই জন্যই নামের পাশে কবি,সাংবাদিক, ব্লগার ও
স্বাধীন লেখক পদবী লাগিয়ে রাখি। যেন মরার পরে হলে ও সাংবিধানিক আইনের
অধিকার পায়। আসুন আমরা মওলানা শহীদ ফারুকী সাহেব কে ইসলামি চিন্তাবিদ না
বলে ব্লগার বলি,তবেই তার খুনের বিচার বাংলাদেশে আশা করা যায়। আশা করি আগামী
২৭ শে আগষ্ট মওলানা ফারুকী হত্যার এক বছর উপলক্ষে সরকার এই মামলার খুনিদের
গ্রেফতার এর অগ্রগতি জনগনের সামনে তুলে ধরবেন।


আমি নিচে ইসলামি চিন্তাবিদ মওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী ( ইন্টারনেট অবল্মবনে) এর সংক্্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরলাম।
_________________________
মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী (রহঃ)
___________________________
মাওলানা
শায়েখ নুরুল ইসলাম ফারুকী ১৯৫৯ সালের ২৪ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলার বড়শশী
ইউনিয়নের নাউতারী নবাবগঞ্জ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত আলেম মাওলানা জামসেদ আলীর
পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দুই সংসারে ২ মেয়ে ৪ ছেলে রয়েছেন। নিহত
হওয়ার সময়
তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে রাজবাজার নিজ বাসায় ছিলেন।
তার পরিবার সূত্র জানায়, গ্রামের স্কুলে প্রথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
শিক্ষাঅর্জন করেন ফারুকী। নীলফামারী জেলাধীন ডোমার থানার অন্তর্গত তিনিহাটি
জামেউল উলুম সিনিয়র মাদরাসা থেকে ১৯৭৫ সালে দাখিল
পরবর্তীতে আলিম পাস করেন। ১৯৭৯ সালে প্রাচীনতম ঐতিহাসিক সারসিনা দারুন সুন্নাত আলীয়া মাদরাসা (বরিশাল) থেকে কামিল
(হাদিস
বিভাগ) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালে নীলফামরী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক
বিভাগে উচ্চমাধ্যমীক পার করে জগন্নাথ কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক করেন।
উল্লেখ্য, ছাত্র জীবনে লেখা-লেখি, বক্তৃতা এবং কোরআন তেলাওয়াতে পরথম
স্থান অধিকার করতেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। সে সময় পুরনা
ঢাকার রায়শাহবের বাজার জামে মুসজিদের খতিব হিসেবে যোগদান করেন তিনি। তার
কিছুদিন পর ঢাকা কেরানীগঞ্জের নুরনিয়া ছিসতিয়া আলীয়া মাদরাসার প্রধান
হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
এছাড়া ১৯৮৯ সালে প্রথম হজ গমনের উদ্দেশে
মক্কায় যান তিনি। সে বছর জেদ্দা বিমানবন্দর মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পান
শায়খ ফারুকী। কিছুদিন সেখানে কাটিয়ে আবার ঢাকায় ফেরত আসেন। এসময় ঢাকাসহ
বিভিন্নমসজিদে ৩৩ বছর ইমাম ও খতিবের দায়ত্ব
পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আলীয়া মাদরাসায় ১৫ বছর শিক্ষকতা, রেডিও, টেলিভিশনে ২৫ বছর ওয়াজ নসিয়তে অনুষ্ঠান করেন।
তার
উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে কাফেলার জন্য ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন
তিনি। এ অনুষ্ঠানটির জন্য তিনি মুসলিম বিশ্বের ১০টি দেশে ভ্রমণ করেন।
এছাড়া বাংলাদেশের মানুষের সুন্দর ও সঠিক নিয়মে পবিত্র হজ পালনে ২৫ বছর হজ
কার্যক্রম চালিয়েছেন। মাওলানা ফারুকী মক্কা মোয়াজ্জামায় আল্লামা সায়েদ
মোহাম্মদ মালিকি আলাদি (রা.) রওজায় ১০ বছর দায়িত্ব প্রালন করেন। এছাড়া
সারসিনার পীর আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহর মাজারে খেদমত করেন। শেষ জীবনে খাজা
হযরত শরফুদ্দিন চিশতির মাজারে খাদেম ও
সুপ্রিমকোর্ট জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়ত্ব পালন করেন। বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। তার বইগুলো সুফিবাদ ভিত্তিক। সর্বশেষে
‘মারেফুল হারামাইন’ বইটি লিখেছেন। বইগুলোতে ইসলামের আদি বা অবিক্রিত রূপগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন বলে তার ভক্তরা জানিয়েছেন।

মাওলানা
ফারুকী সংসার জীবনে দুই বিয়ে করেন। তার দুই সংসারে ২ মেয়ে ৪ ছেলে
রয়েছেন। ছেলেরা হলেন- মাসুদুর ফারুকী, আহমেদ রেজা ফারুকী, ফয়সাল ফারুকী,
মো. ফুয়াদ ফারুকী। মেয়েরা হলেন- হুমায়রা তাবাচ্ছুম তুবা, লাবিবা লুবা।
এদের মধ্যে মাসুদ
এবং দুই মেয়ে প্রথম সংসারের। তার প্রথম স্ত্রী
রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় থাকেন বলে জানা গেছে। আরো জানা যায়, মাওলানা
ফারুকী ইসলামী মিডিয়া জনকল্যাণ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন।
পূর্ব রাজাবাজার জামে মসজিদের সেক্রেটারিও ছিলেন
তিনি। এছাড়া মেঘনা ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাওলানা ফারুকী। উল্লেখ্য, ১৭৪ পূর্ব রাজাবাজার
মুন্সীবাড়ীর
একটি চার তলা ভবনের দুই তলায় দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার নিয়ে থাকতেন
মাওলানা ফারুকী। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হজে যাওয়ার কথা বলে দুই জন
তার সঙ্গে সাক্ষাৎকরতে আসেন। এরপর ১৫/২০ মিনিট পর আরো তিনজন ভক্ত পরিচয়
দিয়ে বাসায়
আসেন। কিছুক্ষণ পর এরা অস্ত্রের মুখে স্ত্রী-সন্তানদের ও
পরিবারের অন্য সদস্যদের একটা কক্ষে আটকে রেখে ডাইনিং রুমে ফরুকীকে গলাকেটে
হত্যা করে চলে যায়। [1]
তথ্যসূত্র
↑ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বাংলামেইল২৪ডটকম

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)