বহুমুখী চাপের মুখোমুখি- ‘মুক্তবুদ্ধি’

বর্তমান
প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধিচর্চা এখন দু’দিক থেকেই বিপদের মুখে
পড়ছে বলে মনে হচ্ছে। একদিকে যারা চরম ধর্মান্ধ, প্রতিক্রিয়াশীল,
কুসংস্কারাচ্ছন্ন তারা যেমন মুক্তবুদ্ধির চর্চা পছন্দ করছে না,
মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারীদের, যুক্তিবাদীদের
বিরুদ্ধে মারমুখী হয়ে একের পর এক চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করছে; অন্যদিকে যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজসেবী ও
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবি করেন তারাও মাঝে মধ্যে
মুক্তবুদ্ধিচর্চাকারীদের প্রতি অসহিষ্ণু মনোভাব দেখাচ্ছেন। বর্তমানে কেউ কারও কথা
সহ্য করতে চাচ্ছে না। কারও কথা অপছন্দ হলেই তার জীবন বিপন্ন করার মতো পরিস্থিতি
তৈরি করা হচ্ছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ছাড়াও আমরা দেখছি, যারা
জনগণের কথা বলে রাজনীতি করে, যারা কথায় কথায় বুলি আওড়ায় ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’ তারাও ভিন্নমতের বিশিষ্ট
মানুষদের মত বা বক্তব্য সহ্য করতে পারে না। ভিন্ন দৃষ্টিতে মুক্তবুদ্ধি চর্চাকে
দেখা যাক। মুক্তবুদ্ধি মানে কি যা ইচ্ছে তাই লেখা নাকি কোন নিয়মের ভেতরে শালীনতার
মাধ্যমে কোন কিছু প্রকাশ করা? মুক্তবুদ্ধি চর্চা হওয়া উচিত
শুধুই দেশের জন্য, যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে সামনের দিকে। আমরা আজ সারা বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করা একটি জাতি। অথচ
এই দেশের সুশীল সমাজ বলে যাদেরকে আমরা বিচার বিশ্লেষণ করি, সম্মান
করি, আজ তারাও কঠিন চাপের মুখে দিন যাপন করছে। দেশ নিয়ে সঠিক
কথা বলতে পারছে না, পারছে না তাদের মুক্তমত প্রকাশ করতে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা তাদের মত প্রকাশ করতে পারছেন
না। তাহলে আমরা কোন মুক্তবুদ্ধি চর্চা করব? বর্তমান সময়ের
প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বহুমুখী চাপের মুখোমুখী আছে মুক্তবুদ্ধি। যা থেকে উত্তরণের
জন্য আমাদের বিবেক বোধকে জাগ্রত করতে হবে।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None