বিকল্প জ্বালানি নিয়ে ভাবতে হবে এখনই

 

দেশে গ্যাসের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসায়
বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই গ্যাসের সংকট
সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে আবিষ্কৃত গ্যাসের মজুদের পরিমাণ ২০ দশমিক
৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট, ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে ১২
দশমিক ৪১ টিএফসি। দেশে গড়ে প্রতিবছর  গ্যাস
ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ১ টিসিএফ, সে হিসেবে মজুদ গ্যাসে আর ৮/৯ বছরের মতো চলতে পারে। স্বাভাবিক নিয়মে নতুন করে
গ্যাস অনুসন্ধান থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১০ বছর।
যদি আগামী ১০ বছরের মধ্যে কোনো নতুন গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব না হয় তাহলে দেশে
জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরে দেশে নতুন করে গ্যাসের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। এমতাবস্থায়, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ ও বিচলিত
হওয়ার যথেষ্ট অবকাশ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকট নিরসন করে অর্থনীতি ও নাগরিক
জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে বিকল্প
জ্বালানির ব্যবস্থা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তাই আগামীর সংকট মোকাবিলায়
একদিকে কয়লা উত্তোলন ও ব্যবহার বৃদ্ধি এবং এলএনজি গ্যাস আমদানির ওপর জোর দিতে হবে, অন্যদিকে যত দ্রুত সম্ভব স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস
অনুসন্ধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের দেশে অন্ততঃ ৭৫ শতাংশ বিদ্যুৎ
উৎপাদিত হচ্ছে গ্যাস থেকে, রাসায়নিক সার উৎপাদনের মূল
উপকরণও গ্যাস। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা এবং 
গৃহস্থালী কাজেও গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। গ্যাসের জোগান নিঃশেষ হয়ে গেলে দেশে
বিদ্যুৎ, শিল্পোৎপাদন ও নাগরিক জীবনযাত্রায় মহাসংকট নেমে আসবে।
সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় এখন থেকেই প্রয়োজনীয় চিন্তাভাবনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে
হবে। বিকল্প জ্বালানির সন্ধান ও ব্যবহারে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি
গ্যাসের পরিমিত ও সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং অপচয় নিরোধের দিকে এখনই দৃষ্টিপাত করতে হবে।
গৃহস্থালী কাজে এলপিজি’র ব্যবহার প্রচলন করা গেলে
গ্যাসের অনেক সাশ্রয় এবং অপচয় হ্রাস পাবে। শিল্পকারখানাগুলোকে এলএনজি নির্ভর করে
গড়ে তোলা হলে সেখানেও যথেষ্ট সুফল পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সমন্বিত জ্বালানি নীতি ও
ব্যবস্থাপনা এবং সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় তার শতভাগ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None