বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ২০১৫ সাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে

 এক সময় আমরা স্বপ্ন দেখতাম বড় দলগুলিকে  হারাব। 
স্বপ্ন দেখতেও তখন বুকে জোর লাগত। ১৯৯৯ সালের ৩১ মে পাকিন্তানকে
৬২ রানে হারানোর পর ২০০৪ সালের ১০ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়, মাঝে টানা ৪৭ ম্যাচ জুড়ে কেবল হতাশার গল্প। ম্যাচ হারতেই যেন মাঠে
নামত তখন বাংলাদেশ। থাকত হারটাকে একটু ভদ্রস্থ করার চেষ্টা। ১৯৯৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ
ক্রিকেট দল আইসিসি ওয়ানডে খেলুড়ে দেশ হিসেবে ওয়ানডে খেলে আসছে। সাফল্যের
হাতছানি পেতে মাঝখানে উল্টাতে হয়েছে ১৭ টি বছরের ক্যালেন্ডার। গত বছরের শেষ দিকে জিম্বাবুয়েকে
হারিয়ে সাফল্যধারা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে, তা এখন
উত্তাল এক ঢেউ। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে
নিজেদের আধিপত্যের প্রভাব বিস্তারের ঘোষণা দেন মাশরাফি বাহিনী। সাফল্যের সোনায়
মোড়ানো বছর শুরু হয় বিশ্বকাপ থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ওয়ানডেতে ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তানের মত দলকে টপকে সফল দলের
তালিকায় এশিয়ায় শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। মাশরাফির দল এরপর দেশের মাটিতে
দৈত্যবধ করে পর পর। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারতের বিপক্ষে
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচ হেরেও
সিরিজ জয়-অকল্পনীয় বললেও ভুল হয় না। এরই ধারাবাহিকতায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩-০
ব্যবধানের জয় বড্ড অনুমেয়; একেবারে প্রত্যাশিত। ২০১৫ সাল
দুহাত ভরে দিয়ে গেল বাংলাদেশকে। এ বছরটা দারুণ স্মরণীয় হয়ে থাকবে দেশের ক্রিকেট
ইতিহাসে। এর আগে এত সাফল্যের দেখা কখনও পায়নি মাশরাফিরা। এতো আনন্দে ভাসেনি এ
দেশের ক্রিকেট পাগল সমর্থকরা।

 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None