গৃহকর্মী নির্যাতনের দিন শেষ। তাদের সুরক্ষায় নীতিমালা

গৃহকর্মীদের কর্মঘণ্টা, কাজের পরিবেশ, কাজের ধরন, পারিশ্রমিক ইত্যাদি বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত
হচ্ছেন গৃহকর্মীরা। গৃহকর্মীদেরও যে ন্যূনতম অধিকার আছে, এ কথা ক’জন নিয়োগকর্তা মনে
রাখেন? এতদিন নিয়োগকর্তার ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করত গৃহকর্মীর ভাগ্য।
গৃহকর্মীদের সুরক্ষা বিষয়ক নীতিমালা অনুমোদনের ফলে গৃহকর্মীদের ন্যায্য অধিকার ভোগ
করার জন্য আর নিয়োগকর্তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। এখন থেকে দেশে
গৃহকর্ম শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এ নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হল, দেশের গৃহকর্মীরা ১৬
সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন এবং তাদের এ সময়ের পাপ্য বেতন নিয়োগকর্তাকেই
দিতে হবে।গৃহকর্মী নিয়োগ ও অপসারণ বিষয়ে নীতিমালায় বর্ণিত নিয়ম অমান্য করা হলে
কিংবা কোনো গৃহকর্মী ন্যায্য অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত হলে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের
মনিটরিং সেল, মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠনের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। তাৎক্ষণিকভাবে
গৃহকর্মীদের চাকরি থেকে বাদ দেয়ার রীতি সমাজে বহুদিন ধরে প্রচলিত। এ ধরনের
অব্যাহতির ফলে অনেক গৃহকর্মী পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে বাধ্য হন। নীতিমালায় এ
ধরনের অব্যাহতির ক্ষেত্রে গৃহকর্মীকে এক মাসের মজুরি প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
এতে তাদের আর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। গৃহকর্মীরা যাতে নীতিমালায় বর্ণিত
সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান
করেছেন। এখন সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলের উচিত নীতিমালাটির বাস্তবায়নে জনগণের
মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None