ক্ষমাহীন নিষ্ঠুরতা

 আগুন তো! আগুন বলে কথা!
জলজ্যান্ত মানুষের গায়ে কেউ আগুন ধরিয়ে দিতে পারে? চিরচেনা এই বাংলায়, এই স্বজন সুহৃদের দেশে মানুষ হয়ে
মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে কেউ? অথচ তাই হলো। যে জনগণের নামে
রাজনীতি, সে জনগণকে পুড়িয়ে কাঠকয়লা করা হলো। এখনও চোখ বন্ধ
করলে বার্ন ইউনিট। চোখ বন্ধ করলে একদলা থু সেই রাজনীতিকে। সময়টি পার করে এসেছে বটে
বাংলাদেশ। ক্ষত শুকোয়নি। কলঙ্কের ইতিহাসটিকে আবারও সামনে এনেছে দগ্ধ দিনের
আলোকচিত্র। আর সব প্রদর্শনীর মতো নয়। একদম আলাদা। একদমই যা সত্যি, হুবহু তুলে ধরা হয়েছে। গত বছর ঠিক এই সময় অবরোধ
ডাকে বিএনপি-জামায়াত। রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে, আহা, কী পৈশাচিক হত্যাকান্ড চালানো হয়েছিল তখন!
সাধারণ যাত্রীবাহী বাসে ছোড়া হয় পেট্রোলবোমা। চলন্ত বাস। সারাদিনের
ক্লান্তি শেষে বাড়ি ফেরার জন্য ব্যাকুল মানুষ। অবলীলায় তাদের পুড়িয়ে মারা হয়।
কর্মচঞ্চল যে মানুষটি সকালে সুস্থ, অফিস করতে বের হয়েছে,
বিকেলে সে ভস্ম! ছাই! সকালে
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আচড়ে ঘর থেকে বের হওয়া কলেজছাত্রীটি দুপুরেই আর নিজেকে
চিনতে পারে না। মিষ্টি মুখ পুড়ে প্লাস্টিকের মতো গলে গেছে। বিএনপি-জামায়াতের দেয়া আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে এমনকি গবাদিপশুদের। মুরগি ভর্তি খাঁচা
আগুনে পুড়ে ছাই হয়েগেছে। পণ্যপরিবহন বাধাগ্রস্ত করতে আগুন দেয়া হয়েছে চালের
ট্রাকে। পেঁয়াজ ভর্তি ভ্যানে। পুলিশ সদস্যদের উপরও আগুন দেয়া হয়েছিল। ককটেল মেরে
রক্তাক্ত করা হয়েছিল। এমন
অসংখ্য আগুন সন্ত্রাসের খন্ডচিত্র মনে হলে এখনও গাঁ শিউরে উঠে। একত্রিত করলে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির চেহারাটিও দেখা
হয়ে যায়। রাজনীতিতে স্খলন ছিল। আছে। রাজনীতি খারাপ হয়।
পথভ্রষ্ট হন নেতারা। কর্মীরা উশৃঙ্খল হন। পতনের এই ইতিহাস নতুন নয় বাংলাদেশে। তাই
বলে যে মানুষের নামে রাজনীতি, সে মানুষকেই পুড়িয়ে মারতে হবে?
এও সম্ভব? এতটা বর্বর কী করে হয় রাজনীতি?
দেশ ও দেশের মানুষকে পুড়িয়ে মারার এই খেলা বন্ধ চিরতরে বন্ধ হোক। এমনটাই
চাওয়া দেশের সকল নাগরিকের।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)