বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভুতপুর্ব উন্নতি

 

স্বাধীনতা
লাভের পরপর বাংলাদেশে মোট ১১টি ইউনিটবিশিষ্ট ৭টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছিল। এগুলি কাপ্তাই, শাহজীবাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী
এবং বগুড়ায় অবস্থিত। পরবর্তীকালে আশুগঞ্জ, সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জ,
ঘোড়াশাল, হরিপুর, রাউজান, বাঘাবাড়ি, ভেড়ামারা, সৈয়দপুর, বরিশাল, রংপুর, ভোলা, চট্টগ্রাম
ও শিকলবাহায় সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। তবে
নববই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সরকার শিল্প-কারখানাগুলিতে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা
গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছে যাতে লোড শেডিং-এর সময়ও কারখানাগুলিতে বিরতিহীন উৎপাদন চলতে
পারে। প্রাইভেট পাওয়ার কোম্পানিগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয়
গ্রিডে সরবরাহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ নীতির সুযোগ নিয়ে
ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলি বাঘাবাড়ি, হরিপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ
ও মেঘনাঘাটে অবস্থিত। বিদ্যুত উৎপাদন আট হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াটে
উন্নীত করে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে দেশের সর্বোচ্চ
বিদ্যুত উৎপাদন হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট ৮ হাজার ১৭৭ মেগাওয়াট। ২০০৮
সালে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুত উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট। গত
সাত বছরে বিদ্যুত উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে।  দেশের উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে বিদ্যুতের
অবদান এবং প্রয়োজনীয়তা অবর্ননীয়। বর্তমানে ৭৪ শতাংশের
বেশি মানুষ বিদ্যুৎ-সুবিধা প্রাপ্তির আওতায় এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন
বাড়ানোর লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের
ফলে বিদ্যুৎ খাতে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ
নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ
নেয়া হয়। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের সারিতে নিয়ে
যাওয়ার লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৪ হাজার মেগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার
পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। 


 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None