ট্রানজিট শুরু এবার নৌপথে

বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা পরিবর্তনশীল। বর্তমানে যে অবস্থা দেখতে পারছি তা দীর্ঘ সময়ে পরিবর্তিত রূপ। যে গতিতে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উন্নত-পরিবহন ব্যবস্থার দেশে পরিণত হবে। নদী-মাতৃক দেশ হওয়ার কারণে প্রাচীন বাংলায় পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ছিল জল পথ। এ দেশে ৫,১৫০ থেকে ৮,০৪৬ কিলোমিটার জল পথ রয়েছে, এর মধ্যে ২,৫৭৫ থেকে ৩,০৫৮ কিলোমিটার সাধারণ পরিবহণে উপযোগী এবং ১,৬০০ থেকে ১৯০০ মাইল জল পথ বড় জাহাজ চলাচলে উপযোগী। সারা পৃথিবীর পণ্য পরিবহণের শতকরা ৮০ ভাগই সমুদ্র পথের মাধ্যমে হয়। ফলে সরকার এ খাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে নৌ প্রটোকল চুক্তি অনুযায়ী স্থায়ী ট্রানজিট প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। নৌপথে ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রানজিট শুরু হচ্ছে ১৬ জুন। ট্রানজিটের বিনিময়ে বাংলাদেশ পাবে মাশুলসহ অন্যান্য চার্জ। দু'দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। এর আগেও দু-একটি ক্ষেত্রে নৌ ট্রানজিট দেওয়া হয়েছিল ভারতকে, তবে সেটা ছিল অনানুষ্ঠানিক। আনুষ্ঠানিকভাবে মাশুলের বিনিময়ে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশের নৌ সীমানায় প্রবেশ করেছে এবারই প্রথম। আজকালের মধ্যে পণ্যবাহী ভারতীয় জাহাজটি আশুগঞ্জ বন্দরে ভিড়বে। উদ্বোধনের পর জাহাজের পণ্য খালাস করা হবে। এর মধ্যে এক হাজার টন স্টিলশিট (রড) নিয়ে একটি জাহাজ ভারতের কলকাতা বন্দর ছেড়ে বাংলাদেশের সীমানায় পৌছেছে। মাশুল আরোপের পর বাণিজ্যিকভাবে এটিই হলো ট্রানজিটের প্রথম চালান। জাহাজটি বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দরে পৌছাবে। সেখানে পণ্য খালাস শেষে বাংলাদেশের সড়কপথ দিয়ে সে পণ্য যাবে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। অর্থাৎ ভারতের এক রাজ্যের পণ্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের অপর রাজ্যে যাবে। নৌ ট্রানজিট কার্যকরের ফলে দু'দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None