রপ্তানির তালিকায় পানি

 

নদীমাতৃক
বাংলাদেশ পানির এক অফুরন্ত উৎস, কিন্তু বিশ্বে অনেক দেশকেই পানি আমদানি করতে হয়। প্রকৃতির
বদান্যতাকে কাজে লাগিয়ে শোধনকৃত পানি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের করতে
পারে বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইনোভেশন টিমের ২২তম সভায়  আলোচিত এই সম্ভাবনার বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা খতিয়ে
দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। রপ্তানির জন্য পানি একটি নতুন
পণ্য। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পানিবিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতের মতে প্রাকৃতিকভাবেই জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে যথেষ্ট
পানি থাকে। দেশে ঐ পানি ধরে রাখার কোন
সুযোগ সৃষ্টি না থাকায় বাংলাদেশ বছরের উল্লেখিত চার মাস  পানি রপ্তানির কথা ভাবতেই পারে। পৃথিবীর মোট
পানির মাত্র ৩ শতাংশ সুপেয়, অবশিষ্ট ৯৭ শতাংশই লোনা পানি। লোনা পানি মানুষের
প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা যায় না। ৩ শতাংশ সুপেয় পানি থেকেই  কৃষি, শিল্প, সেবা খাত ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা হয়। নদ-নদী,
খাল-বিল-ভূগর্ভস্থ উৎস
থেকে সংগ্রহ করা সুপেয় পানির ৭০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় সেচ কাজে, ১০ শতাংশ গৃহস্থালি
কাজে আর বাকি ২০ শতাংশ শিল্প খাতে। ফলে বিশ্বব্যাপী সুপেয় পানির চাহিদা দিন দিন
বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই সুযোগটিই নিতে পারে সুপেয় পানির ভাণ্ডার বলে খ্যাত বাংলাদেশ।
এ দেশ থেকে পানি নিতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর। ৭১০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপ দেশটিকে
মালয়েশিয়ার জোহর নদী থেকে পাইপ লাইন দিয়ে বিশুদ্ধ পানি এনে জীবন-জীবিকা পরিচালন করতে হয়। সিঙ্গাপুরের মোট পানির চাহিদার ৪০ শতাংশই আসে
জোহর নদীর জলাধার থেকে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন,
চীন, জাপান, ইতালি,
মেক্সিকোসহ অনেক দেশই ফ্রেশ পানি আমদানি করে থাকে। বিশ্বের ষষ্ঠ
বৃহত্তম পানি আমদানিকারক দেশ ব্রিটেন নিজস্ব উৎস থেকে মোট চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারে। ৬২ শতাংশ পানিই তারা আমদানি করে স্পেন, মিসর, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা,
পাকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো বিশুদ্ধ
পানি আমদানি করে কানাডা থেকে। তাই পানি রপ্তানিতে নদীমাতৃক বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল
বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। এ
দেশের ৩১০টির বেশি নদী আছে, যার ৫৭টিই আঞ্চলিক নদী। নদ-নদীর পানি পরিশোধন করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে রপ্তানি করে বাংলাদেশ অর্জন
করতে পারে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। এ
ধরণের নব নব সম্ভাবনার সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দিবে দৃঢ়তর ভিত্তি,
সমৃদ্ধির পথে আমাদের অগ্রযাত্রাকে করবে বেগবান – এটাই সকলের প্রত্যাশা।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None