অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা

চীন ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে
দেশের অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে ২৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি, যা বিগত সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ ঋণ সহায়তা। বাংলাদেশে
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের অর্থনীতিতে
নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। পদ্মা সেতু নিয়ে
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতার নিরসন হয়েছে এ সফরের মধ্য দিয়ে। পাশাপাশি
আগামীতে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন হয়েছে।
বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে ২০০ কোটি ডলার
দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জিম ইয়ং কিম। আগামী তিন বছরে এ অর্থ পাবে বাংলাদেশ।
শিশুপুষ্টি খাতে আরও ১০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া নিম্ন-মধ্যম আয়ের
দেশে উন্নীত হওয়ায় বিশ্বব্যাংকের ঋণে সুদের হার না বাড়ানোর কথাও বলেছেন। আগামী তিন
বছর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে নমনীয় শর্তে ঋণ দেয়ার
প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা
আগামীতে আরও বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ ঋণ সহায়তা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর আশ্বাস
দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সহায়তার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
মোকাবেলার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ এবং জলবায়ু খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে বলে
বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের জন্য
২৪০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ
সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছেন। এ দুই প্রধানের সফরে বাংলাদেশের অর্জন বেশি, যা আগামীতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ
প্রশস্ত করবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নেয়ায় সামনের
দিনগুলোতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে
অর্জনের পথও মসৃণ হবে। এ সহায়তা বাস্তবে রূপ দিতে হলে বাংলাদেশকে আরও বেশি দক্ষ ও
বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলী হয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতি পরিচালনা করতে হবে। কারণ পুরো প্রতিশ্র“তি পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতি বছর
বাংলাদেশকে প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাজ করতে হবে। তাহলেই বৈদেশিক সহায়তার
সুফল দেশের মানুষ পাবে।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None