কমছে টাকার মান বাড়ছে রপ্তানি আয়

বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী থাকা স্থানীয় মুদ্রা টাকার মান কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে আবার ঘুরে দাঁড়াবে প্রবাসী আয়, বাড়বে রপ্তানি আয়ও। টাকার মান কমানো হলে বেশি অর্থ পাবেন প্রবাসীদের স্বজন ও রপ্তানিকারকরা। ইতোমধ্যে এই উদ্যোগের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মুদ্রা বাজারে। গত কয়েক দিন ধরেই একটু একটু করে বাড়ছে ডলারের মান। ডলারের সঙ্গে টাকার

বিনিময় হার ৮০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত কয়েক মাস ধরে প্রবাসী আয় হুন্ডির মাধ্যমে আসা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। গত
জুলাই মাস
থেকে
ডলারের বিনিময় হার
৭৮
টাকা
৪০
পয়সার আশপাশে অবস্থান করছে। অথচ কার্ব মার্কেটে (খোলা বাজারে) এই হার ৮২ টাকার ওপরে। খোলা বাজারে বেশি অর্থ পাওয়ায় প্রবাসীরা গত চার-পাঁচ মাস ধরে অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত করার জন্যই টাকার মান কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে
সরকার। এতে রপ্তানিকারকরাও উপকৃত হবেন। কারণ তারা রপ্তানি থেকে বেশি অর্থ পাবেন যা বাড়াবে দেশের রপ্তানি আয়। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রেমিট্যান্স এসেছে ৪২৫ কোটি ৫৭ লাখ (৪.২৫ বিলিয়ন) ডলার। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ কম।
২০১৫-১৬ অর্থ-বছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৫০৩ কোটি ২১ লাখ (৫.০৩ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
আগস্ট মাসে
তা
বেড়ে
১১৮
কোটি
৩৬
লাখ
ডলার
হয়েছিল। তারপর থেকেই কমছে রেমিটেন্স। সেপ্টেম্বরে তা কমে ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে নেমে আসে।
অক্টোবরে তা
আরও
কমে
১০১
কোটি
ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ কমে যাওয়ার জন্য হুন্ডিকে দায়ী করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাই
দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির স্বার্থে ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী থাকা
স্থানীয় মুদ্রা টাকার মান
কমানো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None