ফিরে আসছে জঙ্গিরা

উত্তরাঞ্চলের বগুড়া জেলার একাধিক চরাঞ্চলে জঙ্গীরা আস্তানা গেড়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার সঙ্গে জড়িত একাধিক জঙ্গীর বাড়িও বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চল জেলার বিভিন্ন এলাকায়। মাদ্রাসা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত তরুণরা জঙ্গী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার কঠোর নজরদারি ও অভিযানের কারণে জঙ্গীরা তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে বাধ্য হয়। এমনকি সামাজিকভাবে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হয়। এ কারণে অনেক তরুণ জঙ্গীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি আরও অনেক জঙ্গী সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃপক্ষকে। বুধবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা দিয়ে রংপুরে জেএমবির ৩ জঙ্গী আত্মসমর্পণ করেছে। এর আগে গত অক্টোবর মাসে বগুড়ায় দুই জঙ্গী আত্মসর্মপণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আহ্বান ও কঠোর অভিযানের ফলে জঙ্গীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য তাদের পরিবারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। গত অক্টোবর মাসে গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গী খায়রুলের দুই সহযোগী জঙ্গীবাদ ছেড়ে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তারা হলেন বগুড়ার আব্দুল হাকিম ও গাইবান্ধার মাহমুদুল হাসান বিজয়। এই দুজনই উত্তরাঞ্চলের জেএমবির সদস্য। গত ৫ অক্টোবর র‌্যাব-১২র আয়োজনে বগুড়া শহরের শহীদ স্মৃতি মিলনায়তনে জঙ্গী বিরোধী সমাবেশ ও জঙ্গীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী  প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় আত্মমর্পণকারী দু’জনই নিজেদের ভুল স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তারা ভালো হওয়ার সুযোগ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। একজন পথভ্রষ্ট মানুষকে সঠিক পথে আনার জন্য সরকারের যে পদক্ষেপ তা নিশ্চিতভাবে প্রশংসার দাবি রাখে।কিন্তু তার সাথে সাথে লক্ষ্য রাখা জরুরী যে সাধারণ বোধহীন মানুষগুলো যেন অর্থের লোভে সেই পথে ধাবিত না হয়।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.5 (2টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.5 (2টি রেটিং)