সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমুন্নত হোক

 

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বাঙালি তথা বাংলাদেশের মানুষ উৎসবপ্রিয় জাতি সেই আদিকাল থেকেই। পয়লা বৈশাখ বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে আপন মহিমায়। মঙ্গল শোভাযাত্রা এতে আরো একটি সংযোজন। মূলত মোগল সম্রাট জালালুদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের শাসনামলে শুরু হয় পয়লা বৈশাখ উদযাপন। সে সময় ফসলি সন হিসেবে বাংলায় বর্ষ গণনা শুরু হয়। চৈত্রের শেষ দিনের মধ্যে খাজনা পরিশোধ করতে হত।
খাজনাকে কেন্দ্র করে জমির মালিকরা বছরের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখে উৎসবের আয়োজন করতেন, মিষ্টান্ন বিতরণ করতেন। ব্যবসায়ীরা পয়লা বৈশাখে ব্যবসার হিসাব হালনাগাদ করতেন নতুন খাতা বা হালখাতা খুলে। এদিন ব্যবসায়ীরা কারবারি ও গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করাতেন। ধীরে ধীরে এটি সামাজিক উৎসবের রূপ পায় এবং বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে ওঠে।বাংলা নববর্ষ উদযাপনে আধুনিকতার ছোঁয়া প্রথম লাগে ১৯১৭ সালে। সে বছর পয়লা বৈশাখে পূজা ও কীর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৬৭ সালের পর থেকে পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে উৎসব হিসেবে নতুন গতি পায়। ঢাকায় রমনার বটমূলে পয়লা বৈশাখের ভোরে ছায়ানটের সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন বর্ষবরণ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ১৯৮৯ সালে পয়লা বৈশাখে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে প্রথম বের করেন মঙ্গল শোভাযাত্রা। এর পর থেকে প্রতিবছরই মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিসর বেড়েছে। প্রতিবছরই এতে যোগ দিয়েছেন গণ্যমান্য ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ। এখন প্রতি পয়লা বৈশাখে দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা সদরে এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়ে থাকে। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে এতে যোগ দেন সর্বস্তরের মানুষ। ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বলেছে, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা অশুভকে দূর করা, সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতীক। বাঙালির জাতিগত সব বৈশিষ্ট্য এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমাদের সংস্কৃতি আরো উচ্চতা পেল, মর্যাদায় আসীন হলো। বাংলার সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক। সমুন্নত হোক আমাদের ঐতিহ্য।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None