গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের পরিসর বাড়ছে

সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের
আওতায় প্রথমে ১০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করার কথা থাকলেও তা সংশোধন করে ৫০ হাজারে
উন্নীত করা হয়েছে। ভূমিহীন এসব পরিবারকে সরকারী খাসজমিতে পুনর্বাসন করা হবে। গুচ্ছগ্রামের
সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে কয়েকগুণ। ৩৪০টির পরিবর্তে এখন গুচ্ছগ্রামের সংখ্যা হবে ২ হাজার
৫০০টি। এজন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা। মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রকল্পের পরিসর বাড়ানো হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলার বাইরে ভূমি
মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে ২০২০ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনা কমিশন ও
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রথম পর্যায়ের সাফল্যের পর গুচ্ছগ্রাম
২য় পর্যায় (ক্লাইমেট ভিকটিমস রিহ্যাবিলিটেশন) শিরোনামের এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু
হয় গত বছরের অক্টোবর মাসে। তখন এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫৮ কোটি টাকা। গুচ্ছগ্রাম
প্রকল্পের সার্বিক লক্ষ্য হলো জলবায়ু দুর্গত ভূমিহীন পরিবারকে সরকারী খাস জমিতে পুনর্বাসন
করা। এজন্য নির্মিত ইকোভিলেজে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে এবং বিধবাদের ক্ষেত্রে একক
নামে বসত-ভিটার কবুলিয়াত প্রদান করা হয়। এতে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা মিলবার পাশাপাশি
৪ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত জমির নিষ্ককণ্টক মালিকানা, সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ আর
সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি হয়। প্রকল্পের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো- মানব সম্পদ
উন্নয়নে পুনর্বাসিত পরিবারসমূহের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও দক্ষতা
বৃদ্ধির প্রশিক্ষণসহ আয়বর্ধক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার
উন্নয়ন সাধন করা, যা দেশের দারিদ্র্য নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা সংশোধিত প্রকল্পের
প্রধান প্রধান কার্যক্রম অনুযায়ী নির্মিত গুচ্ছগ্রামের প্রতিটি পরিবারের জন্য ৩০০ বর্গফুট
ফ্লোর স্পেস বিশিষ্ট আরসিসি পিলারসহ দুইকক্ষ বিশিষ্ট ঘর এবং ৫ রিং বিশিষ্ট স্যানিটারি
ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পুনর্বাসিত প্রতিটি পরিবারকে ১টি করে মোট ৫০ হাজার
উন্নত চুলা সরবরাহ করা হবে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় হবে বসতভিটা উঁচুকরণ,
পুকুর খনন, পুনঃখনন, সংযোগ রাস্তা ইত্যাদি নির্মাণ। নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণের
লক্ষ্যে স্থাপন করা হবে বিভিন্ন প্রকারের ১০ হাজার গভীর-অগভীর নলকূপ/রিংওয়েল/পন্ডস্যান্ড
ফিল্টার ইত্যাদি। এর বাইরে উন্নত জীবনমান সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে গুচ্ছগ্রামগুলোতে
নির্মাণ করা হবে ৩৪০টি মাল্টিপারপাস হল, ৩৩৭টি গোসলখানা এবং ২৫০টি ঘাটলা। প্রাথমিকভাবে
৩০০ গুচ্ছগ্রামবাসী পাবেন বিদ্যুত সরবারহ সুবিধা।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None