নাগরিক সেবার নবদিগন্ত - ‘মডেল ফার্মেসি’

 

সরকার সম্প্রতি ‘মডেল ফার্মেসি’ চালু করেছে। এই ফার্মেসিগুলোতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করা হয় না, রয়েছেন
ফার্মাসিস্টরা। তাই ভালো মানের ওষুধের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়, পাওয়া যায় ওষুধ
সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা। সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের
মধ্যে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে একটি আস্থার স্থান তৈরি হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন ওষুধ বা ভেজাল ওষুধ ক্রয়-

বিক্রয়
ও বিতরণ প্রতিরোধে ‘মডেল
ফার্মেসি’ ব্যবস্থা
চালু করেছে ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। ‘পাইলট’ প্রকল্পের
আওতায় প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে ৪০-৫০টি, প্রতিটি বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০টি এবং জেলায় ২ হাজার মডেল ফার্মেসি স্থাপন করা
হবে। এরই অংশ হিসেবে গত ২২ ডিসেম্বর মডেল ফার্মেসি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ঐ দিন রাজধানীর ধানমন্ডির লাজ ফার্মা এবং গ্রীন রোডের বায়োমেড
ফার্মেসিকে নতুন আঙ্গিকে চালু করার মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো মডেল ফার্মেসির কার্যক্রম
শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মডেল
ফার্মেসি ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রেতারা ওষুধের গুণগতমান, কার্যকারিতা
ও সঠিক ব্যবহারবিধি  সম্পর্কে
ধারণা পাবেন। এতে করে দেশে ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতের চিন্তা দূর হবে। ফার্মেসিগুলোও
সাধারণ মানুষের আস্থায় পরিণত হবে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সূত্র মতে, তিনটি ক্যাটাগরিতে
মডেল ফার্মেসিকে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে
সফিসটিকেটেড ওষুধ থাকবে, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে
সাধারণ ওষুধ থাকবে। এক্ষেত্রে এ গ্রেড ফার্মেসিগুলোকে স্নাতক সম্পন্ন করা
ফার্মাসিস্ট এবং বি গ্রেড ফার্মেসিগুলোকে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেয়ার
পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাতে করে ওষুধ ক্রয় করতে গিয়েও রোগীরা ওষুধ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন। এজন্য
তাদের যথাযথ সম্মানির ব্যবস্থাও করা হবে। প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের
(পিপিপি) মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। ওষুধের দোকানগুলোকে ফার্মেসি ও মেডিসিন শপ
হিসেবে দুই ভাগে চিহ্নিত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার। সূত্র
মতে, মডেল
ফার্মেসিকে কমপক্ষে ৩০০ বর্গফুটবিশিষ্ট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। ফার্মেসিগুলোতে
কেমন ডেকোরেশন থাকবে, কতগুলো
ফ্রিজ বা এসি থাকবে, ক্রেতাদের
ব্রিফ করার জায়গা কোথায় কতটুকু থাকবে তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক
রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগসহ সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা মেনে মডেল
ফার্মেসি কাজ করবে। ওষুধ নীতি অনুযায়ী প্রত্যেক মডেল ফার্মেসিতে ৩৯টি প্রয়োজনীয়
ওষুধ ছাড়া সব ধরনের ওষুধ বিনা প্রেসক্রিপশনে বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে অযথা
এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ হবে। রোগীদের জন্য নিরাপদ ওষুধ নিশ্চিত করা সম্ভব
হবে। এ দেশের বিদ্যমান ফার্মেসি সেবা বাজার থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে ব্যবস্থাপত্র
অনুযায়ী রোগীর কাছে হস্তান্তর করাতেই সীমাবদ্ধ। তবে নাগরিক
সেবার নবদিগন্ত - ‘মডেল
ফার্মেসি’
ব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের সম্পৃক্ত করায় চিকিৎসার জন্য ওষুধ ব্যবহার সংক্রান্ত
জটিলতার সমাধান, ওষুধের
সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নজরদারি ও প্রতিরোধকরণে
বিশেষ পারদর্শীতা কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি হওয়াতে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় চমকপ্রদ
অগ্রগতি সূচিত হতে চলেছে। বর্তমান জনবান্ধব সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের
ধারাবাহিকতায় দেশে অচিরেই স্বাস্থ্য পেশাজীবী হিসেবে ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট,  মেডিক্যাল
টেকনোলজিস্ট এবং নার্স - এই চার শ্রেণীর পেশাজীবীর পূর্ণাঙ্গ টিম গঠনের মাধ্যমে জনগণের
জন্য কল্যাণকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None