অস্তিত্ত্ব বাঁচানোর অপকৌশল

চলছে ভোল
পাল্টানোর নানা প্রস্তুতি ও প্রচরনা। চারদিক থেকে
নানামুখী চাপের মুখে
খোলস ও ভোল
পাল্টাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী দল
জামায়াতে ইসলামী। এরই
মধ্যে দলের শীর্ষ
পদে পরিবর্তন আনা
হয়েছে এবং দলটির
নতুন আমির শপথ
নেওয়ার পরপরই এক
বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি
শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা
জানিয়েছেন। জামায়াতের গঠনতন্ত্রে
সংশোধনী এনে স্বাধীন,
সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়
মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ
অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে
সুস্পষ্ট ঘোষণা যোগ
হতে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জামায়াতের
শ্রদ্ধা জানানো কোনো
আদর্শিক অবস্থান নয়;
এটি তাদের অস্তিত্ব
রক্ষার রাজনৈতিক কৌশল। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী
অপরাধের বিচারে জামায়াতের
শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ফাঁসির
দণ্ড হওয়া, নাশকতার
মামলায় সব স্তরের
নেতাদের ধরপাকড়ে কার্যত
বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে
দলটি। তার ওপর
উচ্চ আদালতের রায়ে
নির্বাচন কমিশন দলটির
নিবন্ধন বাতিল করেছে।
এ ছাড়া মানবতাবিরোধী
অপরাধের অভিযোগে সংগঠন
হিসেবে জামায়াতের বিচারের
দাবিও রয়েছে দেশবাসীর।
এমন নাজুক অবস্থায়
অপেক্ষাকৃত তরুণদের দলটির
নেতৃত্বে এনে নতুন
করে রাজনীতির মাঠে
নামার ছক কষছেন
জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা। এর
ফলে জামায়াতের বিরুদ্ধে
ওঠা মানবতাবিরোধী অপরাধের
অভিযোগ অনেকটাই ম্লান
হয়ে যাবে। একই
সঙ্গে তরুণদের নেতৃত্বে
উজ্জীবিত হবে দলটি।
এ ছক নিয়ে
গোপনে আলোচনা ও
নানা হিসাব-নিকাশ
চলছে দলের। জামায়াতের মূল
আদর্শ মওদুদীবাদ। সেই
আদর্শে অবিচল থেকে
দলের গঠনতন্ত্রে শুধু
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি
সম্মান জানানোর বিষয়টি
তাদের চতুরতার প্রকাশ।
এটা জামায়াতের বর্তমান
প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে
ওঠা এবং মুক্তিযুদ্ধপ্রেমী নতুন প্রজন্মকে
ধোঁকা দেওয়ার কৌশল।
আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে
তারা কেবল রং
বদল করছে সুবিধা
নেওয়ার জন্য। দেশের মানুষ তাদের এই রুপ ধরতে পেরেছে, তাই এই দলটি এখন দেশের
মানুষের কাছে উপেক্ষিত ও ঘৃণিত। 

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None