সময় এসেছে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার

বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হচ্ছে জঙ্গিবাদ। জাতি-ধর্ম
নির্বিশেষে পৃথিবীর সবপ্রান্তে, সব রাষ্ট্রে, সব সমাজেই এখন সক্রিয়-সম্মিলিত
প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। পৃথিবীব্যাপী এখন জঙ্গি হামলা আর
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান চলছে। আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশও আজ জঙ্গিবাদের আগ্রাসনে আক্রান্ত।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি এবং তাদের তাবেদার এদেশীয় একটি
স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মের নামে যেভাবে সহিংসতা ঘটিয়ে চলেছে তাতে এদেশে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি
হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলাগুলো হয়েছে এমন
পৈশাচিক তান্ডব এদেশে আগে কখনো ঘটেনি। আমাদের দেশে গত বছর গুলশানের হলি আর্টিজন
এবং শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলা দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অশনিসংকেত
ছাড়া আর কিছুই নয়। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড,
সিলেট এবং মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ-র‌্যাব-সোয়াত-সেনাবাহিনীর
যৌথ অভিযান, আত্মঘাতী হামলায় শিশুসহ ৪ জঙ্গির দেহ ছিন্নভিন্ন
হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেরই অংশ। দেশব্যাপী জঙ্গিদের এসব কর্মকান্ডের
কারণেই বিশ্ববাসীর মনে এদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খারাপ ধারণার সৃষ্টি
হয়েছে। চিহ্নিত রাজনৈতিক অপশক্তি বিগত দিনগুলিতে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়েও যে
ক্ষতি করতে পারেনি সেখানে জঙ্গিবাদীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, জবাই
করে মানুষ হত্যা করে দেশের ভাবমুর্তির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। জঙ্গি তৎপরতার
কারণে দেশ আজ ইমেজ সংকটের সম্মুখীন। স্বার্থান্বেষী মহলের ধর্মের অপব্যবহার আর ভুল ব্যাখ্যায় মানুষ
ধর্মীয় গোঁড়ামির আগ্রাসনে পরকালে জান্নাতে যাওয়ার অলীক ইস্যুতে জঙ্গিবাদের সহিংস,
আত্মবিধ্বংসী পথে পা বাড়াচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতির বিবেচনায় মনে হয় দেশ বোধহয় অচিরেই ধ্বংসের
দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবে। স্বার্থান্বেষী মহলটি পূর্বাপর বিবেচনা না করে জঙ্গিবাদকে
যেভাবে আশ্রয়-প্র্রশ্রয় দিচ্ছে তাতে জঙ্গীদের অপ-তৎপরতা আর সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের
যুগলবন্দীতে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশও হয়ে যেতে পারে ইরাক-সিরিয়া-আফগানিস্তান।
স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজো এদেশে স্বার্থের রাজনীতি, দোষারোপের রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের নামে দলাদলি
ও হানাহানির ঐক্যবিনাশী জাতিবিনাশী অপরাজনীতির আগ্রাসন থামেনি। এমনকি
এদেশের আলেম সমাজ, পীর সাহেবরাও বিভক্ত।
এ কারণেই সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিসমূহ আজও এদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু
এভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্বে প্রিয় স্বদেশকে ইরাক-সিরিয়ার মতো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে
উপনীত করা কতটুকু যৌক্তিক? তাই আজ সময় হয়েছে দেশের ১৬ কোটি বাঙালিকে বিভক্তির
প্রাচীর ভেঙে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইস্পাতকঠিন প্রতিজ্ঞায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জঙ্গিবাদ, অপরাজনীতিসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘এক জাতি
একদেশ এই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ হতে  পারলেই কোনো শয়তানি শক্তি প্রিয় জন্মভূমির উপর
একটা আঁচড়ও দিতে পারবে না, অন্যথায় দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পায়ের নিচের
মাটিটুকু হারানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই দেশের
পথভ্রষ্ট মানুষগুলোকে আজ জানাতে-বোঝাতে হবে জিহাদ আর কিতালের প্রকৃত অর্থ। মনে
রাখতে হবে, আল্লাহর রাসূল (স.) একেধারে নবী, রাষ্ট্রনায়ক, বিচারক আর সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। একজন
সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রয়োজনেই তিনি
যুদ্ধ করেছেন। তাই বর্তমানে জঙ্গিরা গোষ্ঠির সিদ্ধান্তে যা করছে তা নিতান্তই ভুল।
ইসলামের সঠিক আদর্শ দিয়ে যদি জঙ্গিবাদকে ভুল প্রমাণ করা যায় তাহলে কোনো মানুষই
উগ্রপন্থা বা জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হবে না, তবে এজন্য প্রয়োজন সমাজের সকলের
সম্মিলিত প্রয়াস, সময় এসেছে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার। আগামীতে
সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জঙ্গীবাদের আগ্রাসনমুক্ত সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
অগ্রযাত্রা অব্যাহত হবে - এটাই সকলের প্রত্যাশা।


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None